বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:১২ পি.এম
ইসলামপুরের একটি আদালত সোমবার জামিন প্রদান করেছে ৬৬ বছর বয়সী জলিল আখতারকে, যিনি পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে প্রায় তিন মাস আগে আটক হয়েছিলেন। মঙ্গলবার তাকে ইসলামপুর সংশোধনাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
জলিল আখতার উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘি ব্লকের বাজারগাঁও ২ পঞ্চায়েতের বাঘড়ুই গ্রামের বাসিন্দা। রাজ্য পুলিশ ১৬ জুন তার নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করে। প্রথমে তাকে শিলিগুড়ির উপকণ্ঠে অবস্থিত ফুলবাড়ির একটি হোল্ডিং সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়ার নিজামপুরের অপর একটি হোল্ডিং সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়।
২২ জুলাই আখতারকে বিদেশি নাগরিকত্বের অভিযোগে ইসলামপুর আদালতে হাজির করা হলে তাকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। তার পরিবারের সদস্যরা দাবি করে আসছিলেন যে তিনি একজন ভারতীয় নাগরিক। তারা আদালতে ১৯৬৭ সালে তার বাবার নামে জমি কেনার বৈধ কাগজপত্রও উপস্থাপন করেন।
সোমবারের শুনানিতে বিচারক কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা আখতারকে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। আদালত তার জন্মস্থান, পরিবারের সদস্যদের পেশা এবং প্রতিবেশীদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছিল।
আদালতে উপস্থিত আখতারের স্ত্রী তোফা বিবি এবং মেয়ে কুলসুম বেগমের পরিচয়ও যাচাই করা হয়। আখতার বিচারকের সমস্ত প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় নথি আদালতে জমা দেওয়া হয়। কাগজপত্র ও তথ্যাদি পর্যালোচনার পর আদালত কিছু শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করে।
আখতারের আইনজীবী শাহিদ রেজা জানান, "তিনি পুলিশকে না জানিয়ে তার বাসস্থানের বাইরে যেতে পারবেন না এবং তদন্তের স্বার্থে পুলিশকে সব ধরনের সহযোগিতা করবেন। তাকে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে হবে এবং কোনো শারীরিক জরুরি অবস্থায় চিকিৎসার জন্য অন্য কোথাও যেতে হলে আগেই স্থানীয় থানাকে অবহিত করতে হবে।" এই জামিনের আদেশে আখতারের পরিবার এবং প্রতিবেশীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
আখতারের ভাই মতিউর রহমান ক্ষোভ ও স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, "সব কাজ ফেলে দীর্ঘ তিন মাস ধরে এক প্রশাসনিক দফতর থেকে অন্য দফতরে এবং আদালতে দৌড়াদৌড়ি করে আমরা মানসিকভাবে বিধ্বস্ত ও শারীরিক ভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। আইনি লড়াই চালাতে গিয়ে আমাদের যা ফসল ছিল সব বিক্রি করতে হয়েছে। অবশেষে তিনি জামিন পেলেন। সমস্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও একজন বয়স্ক ও দরিদ্র মানুষকে অনর্থক হয়রানি করা হলো।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রোহিঙ্গাদের দেশে দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি) বাংলাদেশের পাশে থাকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সংস্থাটির নবনির্বাচিত মহাসচিব ইসমাইল ওউল্দ শেখ আহমেদ। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘায়িত এই রোহিঙ্গা সংকট সমাধান না হলে এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য একটি হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে এবং সকলের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হতে পারে।
আজ জেদ্দায় ওআইসিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত এম জে এইচ জাবেদের সাথে এক বৈঠকে নবনির্বাচিত মহাসচিব এসব কথা বলেন। বৈঠকের সময় রাষ্ট্রদূত জাবেদ নতুন মহাসচিবের হাতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের পক্ষ থেকে পাঠানো শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন বার্তা হস্তান্তর করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নবনির্বাচিত ওআইসি মহাসচিবের প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন এবং তাঁর দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশ সরকারের পূর্ণ সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। নতুন ওআইসি মহাসচিব বাংলাদেশে সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রশংসা করেন এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের নেতৃত্বে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নতুন গতি লাভ করবে।
মহাসচিব ওআইসির অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশে অবস্থিত ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) অবদানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি ওআইসিভুক্ত সদস্য দেশগুলোর প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির শিক্ষা প্রসারে অনন্য ভূমিকা পালন করছে। তিনি আইইউটি-র গবেষণা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মতো আধুনিক ক্ষেত্রে পরিধি আরও বাড়ানোর বিষয়ে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন যে, তাঁর সফরসূচিতে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ রয়েছে।
বৈঠকে উভয়পক্ষ একমত হয় যে, ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর সম্পদে বৈচিত্র্য থাকায় তারা বিভিন্ন কর্মসূচিতে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে। চুক্তিভিত্তিক চাষাবাদ (কনট্রাক্ট ফার্মিং), স্বাস্থ্যসেবা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, আতিথেয়তা (হসপিটালিটি), শিক্ষাসহ একাধিক উৎপাদনশীল খাতে পারস্পরিক সুবিধাজনক (উইন-উইন) ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ এবং এর নেতৃত্ব ও জনগণের বিষয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণের জন্য নতুন মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রদূত জাবেদ বলেন, আগামী দিনগুলোতে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ওআইসি সচিবালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশ আরও নিবিড়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে যে, অনুমোদনহীন মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের পেমেন্ট সেবা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও অন্যান্য পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে। একই সঙ্গে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) অনুরোধ করেছে এসব অবৈধ ঋণদাতা অ্যাপ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, বিশেষ করে গুগল প্লে স্টোর থেকে সরিয়ে নিতে।
সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পৃথক চিঠি পাঠিয়ে এসব নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এসব অ্যাপের বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি, অ্যাপগুলোর বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস সুপারভিশন বিভাগকে জানাতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, অনলাইনে পরিচালিত কিছু মোবাইল অ্যাপ উচ্চ সুদে ঋণ প্রদান করছে, যার ফলে ঋণগ্রহীতারা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এসব অ্যাপ ব্যবহারকারীর অজান্তেই মোবাইল ফোনের যোগাযোগ নম্বর, ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য, ছবি, ভিডিও এবং খুদে বার্তার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।
পরে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে এসব তথ্য ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের হুমকি, ব্ল্যাকমেইলসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানিয়েছে, পেমেন্ট ও সেটেলমেন্ট সিস্টেমস আইন, ২০২৪-এর ১৫(২) ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া বিনিয়োগ সংগ্রহ, ঋণ প্রদান, অর্থ সংরক্ষণ বা আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত অনলাইন বা অফলাইন প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করা যাবে না। কিন্তু চিহ্নিত অ্যাপগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া ঋণ কার্যক্রম চালাচ্ছে, ফলে এসব কার্যক্রম অবৈধ এবং আইনের ৩৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এসব অবৈধ ঋণের টাকা লেনদেনে সহায়তা করা ব্যাংক, এমএফএস, ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও অন্যান্য পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানও ওই অপরাধের সঙ্গে জড়িত হিসেবে বিবেচিত হবে। তাই চিহ্নিত অ্যাপ পরিচালনাকারী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পেমেন্ট সেবা অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) অনুমোদনহীন মোবাইল অ্যাপ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঋণ নেওয়ার বিষয়ে জনসাধারণকে সতর্ক করেছে। একই সঙ্গে ৩১টি অবৈধ অ্যাপের নাম প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
অ্যাপগুলোর নাম হলো—সাথী লোন, পপক্যাশ, ফিনক্যাশ, কুইক লোন, কুইক টাকা, ঢাকা ফিন, লোনভাইব, দোস্ত লোন, টাকা ক্যাশ লোন, কেওয়নজা লোন, এসএসএইচ মানি, লোনবাডি, সাথি লোন, ক্যাশহোরা, আলো ক্যাশ, ফাস্ট লোন, ইজি টাকা, ধৈর্য লোন, ফিন ডট ডু, বঙ্গক্যাশ, আশা লোন, সুবিধা লোন, স্মার্ট লোন বিডি, অনলাইন লোন বিডি, সিটি অনলাইন লোন, বিডি সহজ লোন, ক্যাশ লোন, সোনালী, লোনহাট ও টাকানাও।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : চীনের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান জুলং গ্রুপ বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
আজ বুধবার, জুলং গ্রুপের চেয়ারম্যান বেন ওয়াং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসানের সঙ্গে তার দপ্তরে সাক্ষাৎ করেন।
এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাংলাদেশে আধুনিক নৌযান নির্মাণ ও মেরিটাইম খাতের উন্নয়ন নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
বেন ওয়াং বৈঠকে জানান, বাংলাদেশে তার প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের অত্যাধুনিক নৌযান ও জাহাজ নির্মাণ করতে চায়, যা দেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং দক্ষ জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে সম্ভব হবে। জুলং গ্রুপের এই উদ্যোগের মাধ্যমে উৎপাদিত আন্তর্জাতিক মানের নৌযানগুলো দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য রয়েছে।
নৌপরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী চীনের এই বিনিয়োগ প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সরকার বিদেশি বিনিয়োগের জন্য চমৎকার এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
চীনের এই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত জাহাজ নির্মাণ শিল্পের জন্য অত্যন্ত সময়োপযোগী বলেও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি আরো আশ্বাস দেন, আন্তর্জাতিক মানের জাহাজ নির্মাণ এবং তা বিদেশে রপ্তানির এই উদ্যোগে সরকারের পক্ষ থেকে নীতিগত এবং প্রশাসনিকসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে। যদি এই যৌথ উদ্যোগ সফল হয়, তাহলে বাংলাদেশের মেরিটাইম সেক্টরে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে এবং দেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ইউক্রেন সংকটের জন্য পশ্চিমা বিশ্বের সম্প্রসারণবাদী নীতিকে দায়ী করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেছেন, বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রক্রিয়া পশ্চিমা অভিজাতদের দ্বারা কঠোরভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাশিয়ার ইয়েকাতেরিনবুর্গে অনুষ্ঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ইয়ুথ-২০২৬’ এ অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ল্যাভরভ বলেন, ইউক্রেন সংকট সেই ধারার সঙ্গে যুক্ত, যারা এই বছর একাই নিজেদের অধরা আধিপত্য রক্ষার নামে ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়েছে, বৈধভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে অপহরণ করেছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছে এবং সাধারণভাবে অবশ্যই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আগ্রাসন চালিয়েছে।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রক্রিয়া পশ্চিমা অভিজাতদের কাছ থেকে কঠোর প্রতিরোধের সম্মুখীন হচ্ছে। তারা যা ঘটছে তা নিজেদের আধিপত্যের জন্য হুমকি হিসেবে দেখতে পায়; যে আধিপত্য তারা দাসত্ব ও ঔপনিবেশিক যুগে অর্ধ সহস্রাব্দ ধরে ভোগ করেছে। কিন্তু তারা সবচেয়ে নির্লজ্জ পদ্ধতি অবলম্বন করে এই অধরা আধিপত্য ধরে রাখার চেষ্টা করছে, যার মধ্যে রয়েছে অবৈধ একতরফা নিষেধাজ্ঞা, সরাসরি চাপ, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং সংঘাত উসকে দেওয়া।
ফেস্টিভ্যালে বিশ্বের ১৯১টি দেশের ১০ হাজারের বেশি যুব প্রতিনিধি, খাতভিত্তিক বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবী, বক্তা, গবেষক, উদ্যোক্তা এবং গণমাধ্যমকর্মী অংশ নিচ্ছেন। ‘ফলো ইওর ড্রিমস’ বা ‘তোমার স্বপ্নকে অনুসরণ করো’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এবারের আসরে বাংলাদেশ থেকে ৭০ জন যুব প্রতিনিধি আমন্ত্রণ পেয়েছেন। এ ছাড়া ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরীরাও উৎসবে অংশ নিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক এই যুব সমাবেশে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে ঘিরে ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। উৎসব চলবে আগামমিকাল পর্যন্ত। এতে তরুণদের জন্য বিভিন্ন সেশন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নেটওয়ার্কিং ইভেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ