ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দৈনিক মানবকণ্ঠের সিনিয়র সহ-সম্পাদক এসএম মুন্না মারা গেছেন


দৈনিক মানবকণ্ঠের সিনিয়র সহ-সম্পাদক এসএম মুন্না মারা গেছেন

দৈনিক মানবকণ্ঠের সিনিয়র সহ-সম্পাদক এবং ঢাকা সাব এডিটরস কাউন্সিলের (ডিএসইসি) সিনিয়র সদস্য এসএম মুন্না মিয়া মারা গেছেন।

তিনি শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর সময় তিনি স্ত্রী ও এক কন্যা সন্তান রেখে গেছেন।

আজ বাদ জোহর বনশ্রীর মেরাদিয়া ভুইয়াপাড়া বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মেরাদিয়া কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

কর্মজীবনে তিনি দৈনিক মানবকণ্ঠ ছাড়াও দৈনিক সমকাল, আমার দেশ, জাগরণ ও নয়া শতাব্দীসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার এই অকালমৃত্যু সাংবাদিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঢাকা সাব এডিটরস কাউন্সিলসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে উৎপাদন ও মুনাফা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিতে জোর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৪ পি.এম


ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে উৎপাদন ও মুনাফা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিতে জোর

ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিদেশ থেকে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম আমদানির ওপর নির্ভরশীল দেশটি এখন নিজস্ব উৎপাদন ও প্রযুক্তি উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারি ক্রয়নীতি, সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং দেশীয় কোম্পানিগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ফলে এ খাতে ব্যবসা ও মুনাফা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিজনেস টুডে ও ডেলয়েটের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতের মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা খাতের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ২৬টি কোম্পানির সম্মিলিত মুনাফা ২০২০-২১ অর্থবছরের ৭ হাজার ৫০৭ কোটি রুপি থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৩ হাজার ১১১ কোটি রুপিতে দাঁড়িয়েছে। পাঁচ বছরে মুনাফা বেড়েছে ২০৮ শতাংশ।

তবে এই প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপে শুধু উৎপাদন বাড়ানো যথেষ্ট হবে না। ভারতীয় কোম্পানিগুলোকে নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরি, জটিল সামরিক ব্যবস্থা নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

মুনাফায় বড় উল্লম্ফন

ভারতের প্রতিরক্ষা খাতের কয়েকটি কোম্পানির মুনাফা গত পাঁচ বছরে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এসিই ইকুইটির তথ্য অনুযায়ী, জেন টেকনোলজিসের নিট মুনাফা ২০২০-২১ অর্থবছরের ২ কোটি ৮০ লাখ রুপি থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২১৭ কোটি ৯০ লাখ রুপিতে পৌঁছেছে। প্রবৃদ্ধির হার ৭ হাজার ৭৫৭ শতাংশ।

একই সময়ে জয়কে এন্টারপ্রাইজেসের মুনাফা বেড়েছে ৭২৭ শতাংশ, অ্যাস্ট্রা মাইক্রোওয়েভ প্রোডাক্টসের ৫৬৯ শতাংশ এবং সোলার ইন্ডাস্ট্রিজ ইন্ডিয়ার ৫০৩ শতাংশ।

বড় কোম্পানিগুলোর মধ্যেও মুনাফা বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেছে। হিন্দুস্থান অ্যারোনটিকসের নিট মুনাফা ৯ হাজার ১১৫ কোটি ৫০ লাখ রুপিতে পৌঁছেছে, যা পাঁচ বছর আগের তুলনায় ১৮১ শতাংশ বেশি। ভারত ইলেকট্রনিকসের মুনাফা বেড়ে হয়েছে ৬ হাজার ২৩ কোটি ৫০ লাখ রুপি। মাজাগাঁও ডক শিপবিল্ডার্সের মুনাফা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪২১ কোটি ৯০ লাখ রুপিতে।

এই প্রবৃদ্ধির পেছনে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের চাহিদা বৃদ্ধি এবং দেশীয় উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সরকারি নীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

দেশীয় কোম্পানিকে অগ্রাধিকার

গত সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রতিরক্ষা ক্রয় পরিষদ প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কোটি রুপি মূল্যের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। এর ৯৮ শতাংশ ভারতীয় কোম্পানির কাছ থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছর থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছর পর্যন্ত এ ধরনের অনুমোদিত প্রস্তাবের মোট মূল্য প্রায় ১৩ লাখ কোটি রুপি।

ভারতীয় প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর জন্য এটি একটি বড় বাজার তৈরি করছে। সরকার দেশীয়ভাবে নকশা করা, উন্নয়ন করা ও উৎপাদিত সরঞ্জাম কেনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং নতুন কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনের মূল্য প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার কোটি রুপি এবং প্রতিরক্ষা রপ্তানি ৩৮ হাজার ৪২৪ কোটি রুপিতে পৌঁছেছে। মোট প্রতিরক্ষা উৎপাদনে বেসরকারি খাতের অবদান বেড়ে প্রায় ২৪ শতাংশ হয়েছে।

গত ১০ বছরে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন বছরে গড়ে ১৩ শতাংশ এবং রপ্তানি ৪০ শতাংশ হারে বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা বাজেট ২০১৩-১৪ অর্থবছরের ২ লাখ ৫৩ হাজার কোটি রুপি থেকে বেড়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৭ লাখ ৮৫ হাজার কোটি রুপি হয়েছে।

চালকবিহীন বিমান, রাডার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগ

আধুনিক যুদ্ধে চালকবিহীন বিমান, সেগুলো প্রতিরোধের ব্যবস্থা, উন্নত রাডার, কৃত্রিম উপগ্রহ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সামরিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। ভারতের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান অপারেশন সিঁদুরেও এসব প্রযুক্তির গুরুত্ব আলোচনায় এসেছে।

সরকারের প্রতিরক্ষা উদ্ভাবন কর্মসূচি এবং উন্নত প্রযুক্তি উন্নয়ন উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, গবেষক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়নে যুক্ত করা হচ্ছে।

২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রতিরক্ষা উদ্ভাবন কর্মসূচির আওতায় ৬৭৬টি নতুন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং উদ্ভাবক যুক্ত হয়েছিল। এ সময় পর্যন্ত নকশা ও উন্নয়নসংক্রান্ত ৫৫১টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এ ছাড়া ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বেসরকারি কোম্পানিগুলোর জন্য উন্নত পরীক্ষার অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ বাড়িয়েছে। এর ফলে নতুন প্রযুক্তি পরীক্ষা এবং উৎপাদনের আগে পণ্যের সক্ষমতা যাচাই করা সহজ হতে পারে।

অ্যাস্ট্রা মাইক্রোওয়েভ প্রোডাক্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. ভি. রেড্ডির মতে, ভারতীয় কোম্পানিগুলো ধীরে ধীরে শুধু যন্ত্রাংশ তৈরি থেকে জটিল উপব্যবস্থা এবং সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির দিকে এগোচ্ছে। এতে দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার ও পণ্যের মূল্য সংযোজন বাড়ার সুযোগ রয়েছে।

অ্যাস্ট্রা মাইক্রোওয়েভ কৃত্রিম উপগ্রহ, রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র ও যোগাযোগব্যবস্থায় ব্যবহৃত উচ্চ কম্পাঙ্কের তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গভিত্তিক প্রযুক্তির সরঞ্জাম তৈরি করে। কোম্পানিটি সম্প্রতি হিন্দুস্থান অ্যারোনটিকসের উত্তম পর্যায়ক্রমিক ইলেকট্রনিকভাবে চালিত রাডার কর্মসূচির জন্য ২ হাজার ২০৫ কোটি রুপি মূল্যের ক্রয়াদেশ পেয়েছে।

বড় ক্রয়াদেশ, তবে সরবরাহে চ্যালেঞ্জ

ভারতের প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর হাতে বড় অঙ্কের ক্রয়াদেশ জমা হচ্ছে। হিন্দুস্থান অ্যারোনটিকসের ক্রয়াদেশের মোট মূল্য প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি রুপি। ভারত ইলেকট্রনিকসের ক্ষেত্রে তা ৭২ হাজার ২৫৮ কোটি রুপি। অ্যাস্ট্রা মাইক্রোওয়েভের নিজস্ব ক্রয়াদেশের মোট মূল্য ২ হাজার ১৫৬ কোটি রুপি।

বড় ক্রয়াদেশ ভবিষ্যৎ ব্যবসার সম্ভাবনা বাড়ালেও তাৎক্ষণিক আয় বা মুনাফার নিশ্চয়তা দেয় না। যুদ্ধবিমান, ডুবোজাহাজ ও জটিল সামরিক ব্যবস্থা তৈরি করতে দীর্ঘ সময় লাগে। উৎপাদনক্ষমতা, যন্ত্রাংশের সরবরাহ, পরীক্ষা এবং নির্ধারিত সময়ে পণ্য হস্তান্তরের ওপর কোম্পানিগুলোর আয় নির্ভর করে।

এরপরও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে। বিজনেস টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে ভারতের প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর শেয়ার নিয়ে গঠিত নিফটি ইন্ডিয়া ডিফেন্স সূচক প্রায় ২২ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে নিফটি সূচক প্রায় ৯ শতাংশ কমেছে।

তবে শেয়ারের দাম বাড়লেই কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি একই হারে শক্তিশালী হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। ক্রয়াদেশ বাস্তবায়নের সময়, উৎপাদন ব্যয়, মুনাফার হার এবং নগদ অর্থের প্রবাহও গুরুত্বপূর্ণ।

আইজি ডিফেন্সের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বোধিসত্ত্ব সংঘপ্রিয়ার মতে, দেশীয় উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দেওয়া, প্রতিরক্ষা উদ্ভাবন কর্মসূচি, দেশেই নকশা ও উৎপাদিত সরঞ্জাম কেনার নীতি এবং জরুরি ক্রয়ের ক্ষমতা ভারতীয় প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।

দেশের বাইরে তৈরি যন্ত্রাংশের ওপর নির্ভরতা কমানোর নীতিও সেই কোম্পানিগুলোকে সুবিধা দিয়েছে, যারা আগে থেকেই দেশীয় সরবরাহব্যবস্থা তৈরি করেছে। আইজি ডিফেন্সের দাবি, তারা আমদানি করা যন্ত্রাংশ জোড়া লাগানোর পরিবর্তে নিজস্ব নকশা ও সফটওয়্যারের ওপর নির্ভর করে।

রপ্তানি হতে পারে প্রবৃদ্ধির পরবর্তী চালক

ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানিতে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর অবদান প্রায় অর্ধেক। অথচ দেশের মোট প্রতিরক্ষা উৎপাদনে তাদের অংশ প্রায় ২৪ শতাংশ। এ ব্যবধান দেখায়, বেসরকারি কোম্পানিগুলো রপ্তানির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অ্যাস্ট্রা মাইক্রোওয়েভের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. ভি. রেড্ডির মতে, আগামী দশকে দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, আরও জটিল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি এবং রপ্তানি সম্প্রসারণ হবে শিল্পটির প্রধান লক্ষ্য।

এ ক্ষেত্রে সরকারি রপ্তানি সহায়তা, প্রতিরক্ষা ঋণসুবিধা এবং বিদেশে ভারতীয় সরঞ্জামের প্রচার নতুন বাজার তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। তবে আন্তর্জাতিক চাহিদা অনুযায়ী রপ্তানির অনুমোদন ও অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করাও প্রয়োজন।

ভারতীয় কোম্পানিগুলোকে প্রথমে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে পর্যাপ্ত উৎপাদনক্ষমতা তৈরি করতে হবে। এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক দামে এবং প্রয়োজনীয় মান বজায় রেখে পণ্য সরবরাহ করতে হবে।

সামনে কী

ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রবৃদ্ধি এখন সরকারি ব্যয় ও ক্রয়াদেশের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ওপরও নির্ভর করছে। দেশীয় কোম্পানিগুলো যদি সময়মতো ক্রয়াদেশের পণ্য সরবরাহ করতে পারে, গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক পণ্য তৈরি করে, তাহলে এ খাতে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকার সুযোগ রয়েছে।

তবে বড় অঙ্কের ক্রয়াদেশ ও অতীতের মুনাফা বৃদ্ধি ভবিষ্যতের সাফল্য নিশ্চিত করে না। উৎপাদন ব্যয়, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা কোম্পানিগুলোর জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সব মিলিয়ে, ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের পরবর্তী পর্যায়ের সাফল্য নির্ভর করবে আমদানি প্রতিস্থাপনের বাইরে গিয়ে নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরি এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা অর্জনের ওপর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিয়ের দাওয়াত দিতে গিয়ে এমদাদুলের গ্রেপ্তার, পুলিশ জানাল নিরপরাধদের হয়রানি হবে না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৫ পি.এম


বিয়ের দাওয়াত দিতে গিয়ে এমদাদুলের গ্রেপ্তার, পুলিশ জানাল নিরপরাধদের হয়রানি হবে না

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনতাইয়ের মামলায় এক গার্মেন্টস কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এমদাদুল হক নামের ওই গার্মেন্ট কর্মীর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। অপরদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, তারা নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করবে না।

গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে পুলিশ নূর আহাম্মদ ওরফে মিলন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। মিলনের বাড়ি থেকেই গার্মেন্ট কর্মী এমদাদুল হককেও গ্রেপ্তার করা হয়। এমদাদুলের পরিবার দাবি করেছে, তিনি বোনের বিয়ের দাওয়াত দিতে ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন।

গত ২৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় উপজেলার সরিষা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের পাশে পুলিশের হাতে আটক হন রিয়াজুল আলম শাহীন। শাহীন নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা বলে জানা গেছে এবং তার বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে শাহীনকে ছাড়িয়ে নেয়।

পরদিন এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে, যেখানে ২৭ আসামির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া মিলন মিয়া ওই মামলার পাঁচ নম্বর আসামি এবং সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। মামলায় অজ্ঞাত আসামি হিসেবে আরো ৩০ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমদাদুল হককে পুলিশ অজ্ঞাত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।

এমদাদুলের মা মনোয়ারা বেগম কালের কণ্ঠকে বলেন, "আমি নিজে আমার ছেলেকে নিয়ে মিলনের বাড়িতে বিয়ের দাওয়াত দিতে নিয়ে গিয়েছিলাম। সেখান থেকেই পুলিশ আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে গেল।"

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, এমদাদুল ঢাকার একটি গার্মেন্টে কাজ করেন। তিনি বোনের বিয়ের জন্য ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসেছিলেন। মাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবেশী মিলনের বাড়িতে বিয়ের দাওয়াত দিতে যান এমদাদুল। সেখান থেকে মিলনের সঙ্গে তাকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এদিকে পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনতাইয়ের মামলায় অজ্ঞাত আসামি করায় সরিষা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে গ্রেপ্তার আতঙ্ক বিরাজ করছে। গ্রামগুলোতে গ্রেপ্তার আতঙ্কে প্রায় পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।

সোহাগী গ্রামের ৭০ বছর বয়সী আবু সিদ্দিক বলেন, এই মামলায় নিরীহ অনেক মানুষকে আসামি করা হয়েছে। গণগ্রেপ্তারের আতঙ্কে বর্তমানে সোহাগিসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে কোনো যুবকের দেখা মিলছে না।

নিরীহ মানুষকে মামলায় জড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, ‘জাল ফেললে তো অন্য কিছু আসবেই।’ তবে তিনি জানান, যাতে নিরীহ মানুষ অভিযুক্ত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীনে ক্রেডিট কার্ডের ঋণখেলাপি বাড়ছে, বিপাকে মধ্যবয়সী চাকরিজীবীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৫ পি.এম


চীনে ক্রেডিট কার্ডের ঋণখেলাপি বাড়ছে, বিপাকে মধ্যবয়সী চাকরিজীবীরা

চীনে ক্রেডিট কার্ডের ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার ঘটনা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঋণখেলাপির এই প্রবণতা এমন এক শ্রেণির মানুষের মধ্যে দেখা যাচ্ছে, যাঁদের সাধারণত আর্থিকভাবে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করা হয়। তাঁদের অনেকের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি রয়েছে এবং সরকারি দপ্তর কিংবা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী চাকরি করছেন। তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ার কারণে তাঁদের একটি অংশ এখন ঋণের কিস্তি ও ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধে অক্ষম হয়ে পড়েছেন।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চীনের ব্যাংকগুলো একসময় এসব গ্রাহককে ঋণ দিতে আগ্রহী ছিল। তাঁদের নিয়মিত আয় ও চাকরির নিরাপত্তার কারণে ব্যাংকগুলোর ধারণা ছিল, তাঁরা সহজেই ঋণ পরিশোধ করতে সক্ষম হবেন। কিন্তু পরিস্থিতি পরিবর্তিত হওয়ায় অনাদায়ি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণের পোর্টফোলিও বিক্রি করে দায় কমানোর উদ্যোগে জোর দিচ্ছে।

চীনের ব্যাংকিং ক্রেডিট অ্যাসেটস রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড সার্কুলেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ওই প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধিত অনাদায়ি ঋণের পোর্টফোলিওর মূল্য আগের প্রান্তিকের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। এটি চীনের একটি সরকারি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ব্যাংক ও ভোক্তা অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলো খেলাপি ঋণের পোর্টফোলিও তালিকাভুক্ত করে এবং বিক্রির জন্য প্রকাশ করে।

তৃতীয় প্রান্তিকে নতুন করে নিবন্ধিত খেলাপি ঋণের পোর্টফোলিওর মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৮১০ কোটি ইউয়ান, যা প্রায় ২২২ কোটি মার্কিন ডলার নয়, বরং ২২২০ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ। এর মধ্যে মূল ঋণ ও সুদ অন্তর্ভুক্ত। এই ঋণের ৩৫ দশমিক ২ শতাংশ ছিল ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া, যা একক শ্রেণি হিসেবে সবচেয়ে বড় অংশ।

অক্টোবরের ২২ তারিখ পর্যন্ত ওই প্ল্যাটফর্মে নতুন করে ৮২টি খেলাপি ঋণের পোর্টফোলিও তালিকাভুক্ত হয়েছিল। অধিকাংশ ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, এসব ক্রেডিট কার্ডধারীর গড় বয়স ৪০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। পিং আন ব্যাংকের মতো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সরাসরি তাঁদের মধ্যবয়সী গ্রাহক হিসেবে বর্ণনা করেছে।

কেন মধ্যবয়সীরা বেশি চাপে

বিশ্লেষক ও ব্যাংকিং খাতের কর্মকর্তাদের মতে, চীনে মধ্যবয়সী ক্রেডিট কার্ডধারীরা এখন তুলনামূলকভাবে বেশি ঋণঝুঁকিতে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতির সঙ্গে এর পার্থক্য রয়েছে। সেখানে ক্রেডিট কার্ডের ঋণখেলাপির ক্ষেত্রে তরুণদের ঝুঁকি দীর্ঘদিন ধরে বেশি বলে দেখা গেছে।

নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকেও যুক্তরাষ্ট্রে ২০ থেকে ৩৯ বছর বয়সীদের গুরুতর ঋণখেলাপিতে পড়ার হার বয়স্কদের তুলনায় বেশি ছিল। এর পেছনে ঋণের বেশি ব্যবহার এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য নগদ অর্থের কম সঞ্চয়কে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

চীনের ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন। দেশটির ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের বড় অংশ মধ্যবয়সী। অন্যদিকে, তরুণদের অনেকে এখন প্রচলিত ক্রেডিট কার্ডের বদলে অনলাইন ঋণসেবা ব্যবহার করেন।

চীনের ক্রেডিট কার্ড খাত নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা স্বাধীন বিশ্লেষক দং ঝেং বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে গেলে চল্লিশোর্ধ্ব মানুষেরা বিশেষভাবে ঝুঁকিতে পড়েন। তাঁদের অনেকের বাড়ির ঋণ রয়েছে। পাশাপাশি সন্তান লালন-পালন, পরিবারের খরচ এবং অন্যান্য আর্থিক দায়িত্বও সামলাতে হয়।

চাকরি থাকলেও কমছে আয়

চীনের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সাংহাই শাখায় ক্রেডিট কার্ড কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা এক ব্যবস্থাপকের ভাষ্য অনুযায়ী, ঋণ আদায়ের সময় অনেক গ্রাহক জানিয়েছেন, তাঁদের বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে অথবা চাকরি চলে গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, এমন পরিস্থিতিতে গ্রাহকেরা সাধারণত বাড়ি হারানোর ঝুঁকি এড়াতে চান। তাই তাঁরা বাড়ির ঋণের কিস্তি ও পরিবারের খরচকে অগ্রাধিকার দেন। ক্রেডিট কার্ডের বিল বকেয়া থাকলে তাঁদের ঋণসংক্রান্ত রেকর্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে বাড়ি হারানোর মতো ঝুঁকি তৈরি হয় না।

তাঁর মতে, খেলাপি গ্রাহকদের অনেকের পেশাগত পরিচয়ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিস্মিত করছে। বাইরে থেকে তাঁদের চাকরি স্থিতিশীল ও আয় ভালো বলে মনে হলেও বাস্তবে তাঁরা আর্থিক চাপে পড়েছেন। এদের মধ্যে সাংহাইয়ের সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি দপ্তরে কর্মরত ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

শিক্ষিত ও স্থিতিশীল পেশার মানুষও খেলাপি

চীনের কয়েকটি ব্যাংকের প্রকাশিত খেলাপি ঋণের বিবরণেও একই চিত্র দেখা গেছে।

আগস্টে বেইজিংভিত্তিক চায়না এভারব্রাইট ব্যাংক ১০০০ কোটি ইউয়ানের বেশি মূল্যের একটি খেলাপি ঋণের পোর্টফোলিও তালিকাভুক্ত করে। ব্যাংকটি জানায়, ওই ঋণগ্রহীতাদের বড় অংশের কলেজ ডিপ্লোমা বা তার চেয়ে উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতা রয়েছে।

পূর্ব চীনের জিয়াংসু লিশুই রুরাল কমার্শিয়াল ব্যাংক তাদের খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের পেশাগত দক্ষতা ভালো বলে উল্লেখ করেছে। ব্যাংকটির মতে, সে কারণে তাঁদের ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের সম্ভাবনাও তুলনামূলক বেশি।

এ ধরনের তথ্য দেখায়, শিক্ষাগত যোগ্যতা বা স্থিতিশীল পেশা থাকলেই ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা নিশ্চিত হয় না। আয় কমে যাওয়া, চাকরি হারানো এবং পরিবারের ব্যয় বহাল রাখার চাপ একজন নিয়মিত ঋণগ্রহীতাকেও খেলাপির দিকে ঠেলে দিতে পারে।

অতীতে সহজে ঋণ দেওয়ার প্রভাব

বিশ্লেষক দং ঝেংয়ের মতে, চীনে ক্রেডিট কার্ডের বর্তমান সমস্যার একটি বড় কারণ ২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে এই খাতে দ্রুত সম্প্রসারণ।

সেই সময় ব্যাংকগুলো দ্রুত গ্রাহক বাড়ানোর জন্য ঋণ আবেদনের শর্ত অনেক সহজ করেছিল। বিশেষ করে সরকারি সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো তুলনামূলক বেশি আস্থা রাখত।

ব্যাংকিং খাতের ওই কর্মকর্তা বলেন, এসব গ্রাহককে ব্যাংক সাধারণত উচ্চমানের বা কম ঝুঁকির গ্রাহক হিসেবে বিবেচনা করত। ফলে তাঁদের পটভূমি যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও শিথিলতা ছিল। তাঁর মতে, সেই সময়ের ঋণ দেওয়ার নীতির ঝুঁকি এখন প্রকাশ পাচ্ছে।

অর্থাৎ, বর্তমান খেলাপি ঋণের সবটাই সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক মন্দার ফল নয়। আগের বছরগুলোতে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার কারণে যে ঝুঁকি জমা হয়েছিল, অর্থনৈতিক চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার প্রভাবও স্পষ্ট হচ্ছে।

খেলাপি ঋণ বিক্রি বাড়াচ্ছে ব্যাংকগুলো

চীনের ব্যাংকগুলো এখন অনাদায়ি ঋণের পোর্টফোলিও বিক্রির উদ্যোগ বাড়িয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধিত খেলাপি ঋণের পোর্টফোলিওর মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ২২০ কোটি ইউয়ান। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।

উহানভিত্তিক হুয়াইউয়ান সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক লিয়াও ঝিমিংয়ের মতে, খেলাপি ঋণ বাড়ার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর শর্তের কারণে চীনের আরও বেশি ব্যাংক নতুন ক্রেডিট কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হচ্ছে।

তবে অতীতে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার কারণে খেলাপি ঋণের অনুপাত আরও কিছু সময় বেশি থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

লিয়াও ঝিমিং বলেন, বিষয়টি এখন সামাজিক সমস্যাতেও পরিণত হয়েছে। মানুষের আয় বা চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়লে ঋণখেলাপির হার বাড়া স্বাভাবিক।

সামনে কী

চীনের ক্রেডিট কার্ডের ঋণখেলাপির ঘটনা দেশটির অর্থনীতিতে আয় ও কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তার প্রভাব সম্পর্কে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে। একসময় যাঁদের স্থিতিশীল চাকরি ও নিয়মিত আয়ের কারণে নিরাপদ ঋণগ্রহীতা মনে করা হতো, তাঁদের মধ্যেও খেলাপি বাড়ছে।

ব্যাংকগুলোর জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো নতুন ঋণ দেওয়ার সময় গ্রাহকের প্রকৃত পরিশোধক্ষমতা যাচাই করা এবং পুরোনো খেলাপি ঋণের ক্ষতি সামাল দেওয়া। অন্যদিকে, চাকরি ও আয় হারানোর ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর জন্য বাড়ির ঋণ, পরিবারের ব্যয় এবং অন্যান্য দেনার মধ্যে ভারসাম্য রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

পরিস্থিতি কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও পরিবারের আয়ের পরিস্থিতির ওপর। তবে বর্তমান প্রবণতা দেখাচ্ছে, স্থায়ী চাকরি বা উচ্চশিক্ষা থাকলেও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়। নিয়মিত আয় কমে গেলে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাও দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএসএফের গুলি, বাংলাদেশিদের হত্যার হুমকি বিজেপি বিধায়কের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৬ পি.এম


বিএসএফের গুলি, বাংলাদেশিদের হত্যার হুমকি বিজেপি বিধায়কের

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী এবং ভারতের কোচবিহারের মেখলীগঞ্জ সীমান্তের সানিয়াজান নদীতে পাথর ও বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সীমান্তে গুলি বা স্টান গ্রেনেড ছোঁড়ার খবর পাওয়া গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) থেকে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন এবং গুলি করে হত্যার হুমকি দিয়েছেন।

মেখলীগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক দধিরাম রায় বাংলাদেশিদের প্রতি বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করে বলেছেন, ‘আমাদের বিএসএফ সচেষ্ট রয়েছে। কোনো বাংলাদেশি জিহাদি হোক আর যে-ই হোক, ইন্ডিয়ার মাটিতে পা রাখলেই তাদের গুলি করে দেওয়া হবে। কালকে কিছুটা তার প্রমাণ দেওয়া হয়েছে এবং এরপর থেকে বিএসএফ আরও সতর্ক।’ তিনি সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য দ্রুত জমি অধিগ্রহণের কথাও উল্লেখ করেছেন এবং জিরো পয়েন্টে কড়াকড়ি আরোপের কথা জানান।

ভারতীয় গণমাধ্যমে বাংলাদেশিদের ‘দুষ্কৃতিকারী’ হিসেবে একতরফাভাবে তুলে ধরা হলেও বাংলাদেশ প্রান্তের পরিস্থিতি ভিন্ন। স্থানীয় বাংলাদেশি গ্রামবাসীরা দাবি করেছেন, তারা নিজেদের ভূখণ্ডের সীমানার ভেতরে থেকেই নদীতে কাজ করছিলেন। উল্টো বিএসএফ মাঝেমধ্যেই জিরো লাইন বা নো-ম্যানস ল্যান্ডের কাছাকাছি এসে অযাচিতভাবে শক্তি প্রদর্শন করে এবং সাধারণ বাংলাদেশিদের ওপর চড়াও হয়।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর পক্ষ থেকে সীমান্তে কড়া নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এই ঘটনার পর। বিজিবি সূত্র ও সীমান্ত এলাকার দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, ভারতীয় বাহিনীর এ ধরনের আগ্রাসী আচরণ এবং বিজেপি নেতার ‘গুলি করে মারার’ মতো প্রকাশ্য হুমকির বিষয়টি তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।

সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে বিজিবি সবসময়ই যেকোনো ধরনের উত্তেজনার কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। নিয়ম অনুযায়ী, সীমান্তে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ফায়ারিং বা উত্তেজনার সৃষ্টি হলে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফকে কড়া প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয় এবং ফ্ল্যাগ মিটিং আহ্বান করা হয়। বিজিবি স্পষ্ট জানিয়েছে, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সীমান্ত এলাকার নিরীহ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তারা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। ভারতীয় বাহিনীর যেকোনো ধরনের আগ্রাসন ঠেকাতে সীমান্তে টহল ও সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%