মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৩১ পি.এম
রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে প্রথমবারের মতো সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনকারী একটি নতুন সেতু চালু হয়েছে। তুমেন নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন আরও সহজ হবে।
তবে ইউক্রেনভিত্তিক অনুসন্ধানী সংস্থা ট্রুথ হাউন্ডসের দাবি, বাণিজ্য ও পর্যটনের পাশাপাশি সেতুটি মূলত রাশিয়াকে ইউক্রেন যুদ্ধে সহায়তার জন্য একটি গোপন সামরিক সরবরাহ করিডর হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
সোমবার সেতুটির উদ্বোধন করা হয়। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সেতুটি দুই দেশের মধ্যে ‘জনবল বিনিময়, পর্যটন ও বাণিজ্য’ সম্প্রসারণে ব্যবহার করা হবে।
রুশ প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন সেতুটিকে দুই দেশের বন্ধুত্বের ‘নতুন প্রতীক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী পাক থায়ে সং একে ‘ঐতিহাসিক ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেছেন।
রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩০০টি যানবাহন এবং ২ হাজার ৩২৩ জন মানুষ এই সেতু দিয়ে পারাপার করতে পারবেন।
ইউক্রেন যুদ্ধে সামরিক সহযোগিতার নতুন পথ?
নতুন সেতুটি চালুর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতা। ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক দ্রুত ঘনিষ্ঠ হয়েছে।
২০২৪ সালে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উত্তর কোরিয়া সফরের সময় দুই দেশ একটি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি সই করে। ওই চুক্তিতে কোনও পক্ষ ‘আগ্রাসনের’ শিকার হলে একে অপরকে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
এই প্রেক্ষাপটে নতুন সড়ক যোগাযোগকে সামরিক ও কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ইউক্রেনভিত্তিক অনুসন্ধানী সংস্থা ট্রুথ হাউন্ডস এক বিবৃতিতে বলেছে, ২০২৪ সালের কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তির সুযোগ কাজে লাগিয়ে সেতুটি উত্তর কোরিয়ার সামরিক সদস্য, নির্মাণশ্রমিক এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের সরাসরি রাশিয়ায় পাঠাতে ব্যবহৃত হতে পারে।
সংস্থাটির মতে, একই পথে রাশিয়ার প্রযুক্তি, সরঞ্জাম ও অন্যান্য সম্পদ উত্তর কোরিয়ায় যাওয়ার সুযোগও তৈরি হবে।
উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র সরবরাহ বাড়তে পারে
সেতু চালুর পর সবচেয়ে তাৎক্ষণিক প্রভাব হতে পারে রাশিয়ায় উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ আরও সহজ হওয়া।
দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার গবেষকদের হিসাবে, উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যে জাহাজের মাধ্যমে রাশিয়াকে প্রায় ৭ থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র ও কামানের গোলা সরবরাহ করেছে।
এছাড়া আনুমানিক ১১ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা বর্তমানে রাশিয়ায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে বলে বিভিন্ন গোয়েন্দা ও গবেষণা সূত্রের দাবি।
নতুন সড়ক সেতু চালুর ফলে এত দিন সমুদ্রপথে যেসব সরবরাহ পরিবহন করা হতো, তার একটি অংশ স্থলপথে আরও দ্রুত ও তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিতে স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি হতে পারে। যদিও সেতুটি সামরিক সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে—এমন কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা রাশিয়া বা উত্তর কোরিয়া দেয়নি।
দুই দেশের মধ্যে একমাত্র সড়ক যোগাযোগ ছিল অস্থায়ী
রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে আগে থেকেই আকাশ ও রেল যোগাযোগ রয়েছে। কিন্তু এত দিন দুই দেশের মধ্যে কোনও স্থায়ী সড়ক যোগাযোগ ছিল না।
রয়টার্সের তথ্যানুযায়ী, বিশেষ ব্যবস্থায় রেলসেতুর ওপর কাঠের পাটাতন বসিয়ে গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করা হতো। সেটিই ছিল কার্যত দুই দেশের মধ্যে একমাত্র সড়ক যোগাযোগ।
নতুন সেতু চালুর ফলে সেই অস্থায়ী ব্যবস্থার অবসান হলো।
স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে বিবিসি জানিয়েছিল, প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন সেতুটির পাশাপাশি বেশ কয়েকটি নতুন সংযোগ সড়ক, সীমান্ত চৌকি, সহায়ক অবকাঠামো এবং পার্কিংয়ের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
রুশ সরকার জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে সেতুটি মূলত পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হবে। চলতি বছরের শেষ দিকে যাত্রী পরিবহনও শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় শক্তিশালী গতি
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে মিশুস্তিন বলেন, নতুন সেতু দুই দেশের বাণিজ্য, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার আরও বিকাশে ‘শক্তিশালী গতি’ সৃষ্টি করবে।
মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের বর্তমান সম্পর্ককে তিনি ‘অভূতপূর্ব উচ্চতায়’ পৌঁছেছে বলেও উল্লেখ করেন।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়ানোই এই সেতুর গুরুত্বের একমাত্র কারণ নয়। ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে যে অস্ত্র, সেনা ও শ্রমিক বিনিময় গড়ে উঠেছে, নতুন সড়ক যোগাযোগ সেটিকে আরও কার্যকর করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) ভিক্টর চা মে মাসে বিবিসি ভেরিফাইকে বলেন, সেতু নির্মাণের গতি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের পরিমাণের একটি প্রতিফলন।
তার মতে, এই তৎপরতার বড় অংশই রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য উত্তর কোরিয়ার সেনা, অস্ত্র, গোলাবারুদ ও শ্রমিক সরবরাহের সঙ্গে সম্পর্কিত।
ভিক্টর চা বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের আগে উত্তর কোরিয়া ও তার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এই যোগাযোগ ছিল অন্যতম নিষ্ক্রিয় সীমান্ত সংযোগ।
রাশিয়ায় উত্তর কোরীয় শ্রমিকের উপস্থিতি
নতুন সড়কপথের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার হতে পারে উত্তর কোরীয় শ্রমিকদের রাশিয়ায় যাতায়াত।
দক্ষিণ কোরিয়ার একটি হিসাব অনুযায়ী, রাশিয়ার নির্মাণ প্রকল্প ও বনাঞ্চলের কাঠ কাটার কাজে প্রায় ১০ হাজার উত্তর কোরীয় নাগরিক কাজ করছেন।
উত্তর কোরিয়ার শ্রমিকদের বিদেশে পাঠানোর ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু শ্রমিক শিক্ষার্থী ভিসাসহ বিভিন্ন বৈধ কাগজপত্রের আড়ালে রাশিয়ায় প্রবেশ করছেন।
নতুন সড়ক যোগাযোগ চালু হওয়ায় শ্রমিকদের যাতায়াত এবং দুই দেশের মধ্যে জনবল বিনিময় আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পর্যটনেও নতুন সম্ভাবনা
সেতুটি শুধু বাণিজ্য ও শ্রমিক পরিবহনের জন্য নয়, পর্যটন খাতেও নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
২০২৪ সালে রাশিয়ার নাগরিকদের উত্তর কোরিয়া ভ্রমণের অনুমতি দেওয়ার পর দেশটিতে ধীরে ধীরে রুশ পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ং এবং উপকূলীয় পর্যটনকেন্দ্র ওয়ানসান-কালমায় তাদের জন্য পর্যটন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
তবে অন্যান্য দেশের পর্যটকদের ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়ার কঠোর বিধিনিষেধ এখনও বহাল রয়েছে।
৪৯৫ দিনে নির্মাণ শেষ
২০২৪ সালে পুতিনের উত্তর কোরিয়া সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে সেতু নির্মাণের চুক্তি হয়। ২৪ বছর পর সেটিই ছিল পুতিনের প্রথম উত্তর কোরিয়া সফর। ওই সফরেই দুই দেশ কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তিতে পৌঁছায়।
এর পর ২০২৫ সালে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কিছুটা বিলম্বের পর মাত্র ৪৯৫ দিনে এর নির্মাণ শেষ করা হয়েছে।
সেতুটি চালুর ফলে এখন রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে স্থলপথে পণ্য, মানুষ ও সম্ভাব্য শ্রমিক পরিবহনের একটি নতুন ও স্থায়ী রুট তৈরি হলো।
বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সীমান্ত যোগাযোগ কেবল বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ই খুলবে না; ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে মস্কো-পিয়ংইয়ংয়ের সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতাকেও আরও গভীর করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। সূত্র: বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠপন্থী নেতাদের সমর্থন এবং অঞ্চলটিতে ওয়াশিংটনের প্রভাব আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে মঙ্গলবার কলম্বিয়ায় পৌঁছেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
এটি তার লাতিন আমেরিকা সফরের প্রথম গন্তব্য।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা নির্বাচিত হওয়ার পর ওয়াশিংটন-বোগোতা সম্পর্কে বড় পরিবর্তন এসেছে। এর আগে বামপন্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ছিল বেশ উত্তেজনাপূর্ণ।
৪৮ বছর বয়সী কোটিপতি আইনজীবী দে লা এসপ্রিয়েলা জুনে প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরোধিতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনে জয়ী হন।
মঙ্গলবার ক্যারিবীয় বন্দরনগরী বারানকিয়ায় নতুন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করবেন রুবিও। শহরটি কূটনীতির চেয়ে পপ তারকা শাকিরার জন্মস্থান হিসেবে বেশি পরিচিত।
জুনের দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে দে লা এসপ্রিয়েলা বামপন্থী প্রার্থীকে পরাজিত করেন। তিনি মাদক ব্যবসায় জড়িত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে শান্তি আলোচনা বন্ধ এবং অপরাধ দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
এরপর কলম্বিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বিমান হামলা বাড়িয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযান পরিচালনার অনুমোদন দিয়েছে।
কলম্বিয়া ট্রাম্পের নেতৃত্বে মাদক পাচারবিরোধী দেশগুলোর জোট ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’-এও যোগ দিয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সফরের অন্যতম লক্ষ্য হলো ‘মাদক-সন্ত্রাসবাদের’ বিরুদ্ধে যৌথ লড়াইয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
বারানকিয়ায় রুবিও গত ১০ আগস্ট দেশটির কফি উৎপাদনকারী অঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর পুনর্গঠন নিয়েও আলোচনা করবেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানিয়েছেন, ওই ভূমিকম্পে ৩৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়।
ভূমিকম্পে বেশ কয়েকটি শহর, স্কুল, হাসপাতাল ও বহু আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়েছে।
নতুন প্রেসিডেন্ট পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছেন। বিশেষ করে পুনর্গঠনকাজে সহায়তার জন্য শুল্ক স্থগিতের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
লাতিন আমেরিকায় প্রভাব বিস্তারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা
লাতিন আমেরিকাজুড়ে একের পর এক ডানপন্থী প্রার্থী নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কলম্বিয়া, ইকুয়েডর ও পেরু সফর করছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক রুবিও।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, চিলি, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ইকুয়েডর ও হন্ডুরাসসহ কয়েকটি লাতিন আমেরিকান দেশ রক্ষণশীল রাজনৈতিক অবস্থানের দিকে ঝুঁকেছে বা তা নিশ্চিত করেছে।
‘ডনরো ডকট্রিন’ নামে পরিচিত নীতির আওতায় ওয়াশিংটন দক্ষিণ আমেরিকায় নিজেদের প্রভাব বা আধিপত্য প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ্যে তুলে ধরছে।
এটি ট্রাম্পের প্রথম নাম ‘ডোনাল্ড’ ও যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম প্রেসিডেন্ট জেমস মনরোর নামের সমন্বয়ে তৈরি একটি শব্দ। দুই শতাব্দীরও বেশি আগে মনরো লাতিন আমেরিকাকে যুক্তরাষ্ট্রের একচেটিয়া প্রভাববলয় হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন।
নতুন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলেও এই উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
কিউবান বংশোদ্ভূত রুবিও এই নীতির অন্যতম প্রধান রূপকার।
রুবিওর এই সফরের শেষ গন্তব্য পেরু। জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে দেশটির নেতৃত্বে রয়েছেন ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট কেইকো ফুজিমোরি, যিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতির সঙ্গেও একমত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : শহীদ জিয়ার হাতে গড়া বিএনপিকে যেকোনো অপশক্তির হাত থেকে রক্ষা করতে দলের সব নেতা-কর্মীরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং কোনো অপশক্তিই দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ এবং বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল আয়োজিত বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে শহীদ জিয়ার অবদান শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
হুইপ বলেন, শত প্রতিকূলতার পরেও বিএনপিকে কেউ দমাতে পারেনি বরং বিএনপি দিন দিন আরো জনপ্রিয় হয়েছে। দেশে যতবার নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে, বিএনপি ততবারই জয়লাভ করেছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে বিএনপি সক্ষম হবে।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে কাজ করতে পারা তার জন্য অত্যন্ত গর্বের এবং সম্মানের বিষয়। তিনি আমৃত্যু এই দলের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখে কাজ করতে চান বলে মন্তব্য করেন।
তিনি পলায়নকারী ফ্যাসিস্ট হাসিনার গুম, খুন, জেল, জুলুম, নির্যাতনের নিন্দা করে বলেন- হাসিনার শাসনামলে যারা গুম, খুন, জেল-জুলুম, নির্যাতন ও গণহত্যার শিকার হয়েছে; তারাই একদিন তার এসব অপরাধের বিচার নিশ্চিত করবে এবং খুনী হাসিনার অপরাধের বিচার এই দেশের মাটিতেই হবে।
শহীদ জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দেশ গড়ার নতুন প্রত্যয় নিয়ে যে সংগ্রাম করে যাচ্ছে এবং মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য যে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে; সেই যাত্রায় দলের সব নেতা-কর্মীর আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।
আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন- বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বাবুল আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন- বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী রফিক। সভায় সভাপতিত্ব করেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হুমায়ুন কবীর বেপারী। অনুষ্ঠানে দলের বিভিন্ন সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরাও বক্তৃতা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মহাকাশে নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে ইউরোপের নতুন পরিকল্পনা আরিয়েন ৬ নিয়ে কাজ শুরু করেছে।
ইউরোপ বর্তমানে অন্য দেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের তৈরি আরিয়েন ৬ রকেটের উৎক্ষেপণ বৃদ্ধি করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা এবং রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আরিয়েন গ্রুপ একত্রে কাজ করছে।বার্তা সংস্থা এর একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
আরিয়েন গ্রুপের প্রধান নির্বাহী ক্রিস্তফ ব্রুনো জানিয়েছেন, আগামী কয়েক বছরে আরিয়েন ৬-এর উৎক্ষেপণের সংখ্যা বৃদ্ধি করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে বছরে যতগুলো উৎক্ষেপণ করা হয়, তার চেয়ে অধিক উৎক্ষেপণের সক্ষমতা তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা জানায়, আগামী বছরগুলোতে আরিয়েন ৬ এবং ভেগা-সি রকেটের বার্ষিক উৎক্ষেপণের হার বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এর পেছনে কারণ হলো, ভবিষ্যতে উপগ্রহ উৎক্ষেপণের চাহিদা বৃদ্ধি পেতে পারে, যা উৎক্ষেপণ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
আরিয়েন গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আরিয়ানেস্পেস বর্তমানে ফরাসি গায়ানা থেকে আরিয়েন ৬ রকেটের উৎক্ষেপণ পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য হলো, ২০২৭ সাল থেকে প্রতি বছর ৯ থেকে ১০টি আরিয়েন ৬ উৎক্ষেপণ করা।
আরিয়েন গ্রুপ ইতোমধ্যে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা এবং রকেট তৈরির সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৬০০টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।
তবে, উৎক্ষেপণের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে বড় ধরনের বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। বিশেষ করে আরিয়েন ৬-এর জন্য প্রয়োজনীয় কঠিন জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি করা অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ব্রুনো।
আরিয়ানে স্পেসের প্রধান নির্বাহী ডেভিড কাভাইয়োলেস মন্তব্য করেন, "মহাকাশ এখন ইউরোপের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত।"
তিনি আরও বলেন, মহাকাশে প্রবেশের জন্য অন্য পক্ষের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল থাকা উচিত নয়।
ইউরোপীয় দেশগুলো ২০১৪ সালে আরিয়েন ৬ তৈরির উদ্যোগ নেয়। এর একটি প্রধান উদ্দেশ্য ছিল মহাকাশে বাড়তে থাকা প্রতিযোগিতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের সক্ষমতা তৈরি করা।
তবে, রকেটটির উন্নয়ন ও উৎক্ষেপণ বারবার পিছিয়ে যাওয়ার ফলে ইউরোপকে মার্কিন প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে উপগ্রহের ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। যোগাযোগ, আবহাওয়া, নেভিগেশন, নিরাপত্তা ও বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক কাজে উপগ্রহের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। ফলে আগামী বছরগুলোতে উপগ্রহ উৎক্ষেপণের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপ নিজেদের উৎক্ষেপণ সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে চায়। আরিয়েন ৬-এর উৎক্ষেপণ সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে ইউরোপের নিজস্ব রকেট ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে এবং মহাকাশে প্রবেশের ক্ষেত্রে অন্য দেশের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা নিয়ে আগামী ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর ফ্রান্সে একটি মহাকাশ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইউরোপের মহাকাশ খাতে স্বাধীনতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই সম্মেলনের অন্যতম লক্ষ্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আগামী তিন দিন দেশের অভ্যন্তরে উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে বলে আবহাওয়া সংস্থাসমূহের তথ্য অনুযায়ী জানিয়েছে পাউবো। এছাড়া গড়াই নদীর পানি বেড়ে সতর্কসীমায় পৌঁছার আভাস রয়েছে। ফলে তিন জেলায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এমন তথ্য জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানির সমতল বেড়েছে। অপরদিকে যমুনা নদীর পানির সমতল স্থিতিশীল রয়েছে, যা আগামী পাঁচ দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। গঙ্গা নদীর পানির সমতল বেড়েছে ও পদ্মা নদীর পানির সমতল স্থিতিশীল রয়েছে। এ ছাড়া গঙ্গা নদীর পানির সমতল আগামী দুদিন বাড়তে পারে ও পরবর্তী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে।
অপরদিকে পদ্মা নদীর পানির সমতল আগামী পাঁচ দিন বাড়তে পারে এবং আগামী ৭২ ঘণ্টায় গঙ্গা নদী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কিছু স্থানে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় গড়াই ও মাথাভাঙা নদীসমূহের পানির সমতল বেড়েছে, যা আগামী তিন দিন বাড়তে পারে। এ সময়ে গড়াই নদী ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও মাগুরা জেলার কিছু স্থানে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে।
এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলীয় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীসমূহের পানির সমতল বেড়েছে। ধরলা ও দুধকুমার নদীসমূহের পানির সমতল আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। অপরদিকে তিস্তা নদীর পানির সমতল আগামী তিন দিন হ্রাস পেতে পারে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীসমূহের পানির সমতল হ্রাস পেয়েছে। সুরমা নদীর পানির সমতল আগামী তিন দিন হ্রাস পেতে পারে। অপরদিকে কুশিয়ারা নদীর পানির সমতল স্থিতিশীল থাকতে পারে আগামী তিন দিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ