বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৩৭ পি.এম
খুলনা, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ডেঙ্গু প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে ৪শ’ পরিবারের মাঝে মশারি বিতরণ করা হয়েছে। আজ বুধবার, দুটি পৃথক অনুষ্ঠানে দরিদ্র জনগণের মধ্যে এই মশারি বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
ওয়ার্ল্ডভিশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় আজ সকালে নগরীর ২৭নং ওয়ার্ড অফিসে ৩শ’ পরিবারের মধ্যে মশারি বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, "ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে কেসিসি নগরীতে বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফলে সড়ক সংলগ্ন বড় বড় ড্রেনগুলিতে মশার উপস্থিতি নেই বললেই চলে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "যদি বাড়ি, অফিস এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা যায়, তাহলে ডেঙ্গু জ¦রের প্রকোপ কমে আসবে।"
কেসিসি প্রশাসক আশা প্রকাশ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ৩ মাসের পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তিনি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রতি জনগণকে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতন করার আহবান জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেসিসি’র প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলাম, ওয়ার্ল্ডভিশন বাংলাদেশের এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার সুরভী বিশ্বাস, সাবেক কাউন্সিলর মো. শমসের আলী মিন্টু ও মাজেদা খাতুন, সমাজসেবক মহিবুল্লাহ শামীম, শীতলা বাড়ি মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুজিত সাহা এবং ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অমিত কান্তি ঘোষসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক কল্যাণমূলক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘হাসিমুখ ফাউন্ডেশনের’ উদ্যোগে দুপুরে নগরীর দৌলতপুরস্থ শহিদ জিয়া কলেজ অডিটরিয়ামে ১শ’ দরিদ্র পরিবারের মাঝে মশারি বিতরণ করা হয়।
কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, "কেসিসি নগরীর ৮টি রেড জোনে ৮টি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করেছে।" তিনি আরও জানান, "খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৃথক ডেঙ্গু ইউনিট চালু করা হয়েছে। প্রয়োজনে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উম্মুক্ত জায়গায় বৃহৎ পরিসরে মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন এবং ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা টীম গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।"
‘হাসিমুখ ফাউন্ডেশনে’র সভাপতি সৈয়দ নওসুদুজ্জামান পল্টু’র সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ জিয়া মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. তারিকুল ইসলাম, সমাজসেবক প্রকৌশলী শাহীর হোসেন জাম্বু, দারুল হুদা জামে মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা আবুল কাশেম, ২ নং ওয়ার্ডের নাগরিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক চমন আক্তার প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সঞ্চিতা দে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মোংলার তিন শতাধিক তরুণ ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা পরিবেশ সুরক্ষা ও প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার নিয়ে বিশেষ শপথ গ্রহণ করেছেন। শপথ গ্রহণের পর একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র্যালি ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে মোংলা উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে পরিবেশ অধিদপ্তর ও জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থার (ইউনিডো) "ইন্টিগ্রেটেড এ্যাপ্রোচ টুওয়ার্ডস সাসটেইনেবল প্লাস্টিক ইউজ এন্ড মেরিন লিটার প্রিভেনশন ইন বাংলাদেশ" প্রকল্পের আওতায় এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সহ-আয়োজক হিসেবে পশুর রিভার ওয়াটারকিপার, বিডি ক্লিন ও প্রথম আলো বন্ধুসভা ছিল।
উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মোংলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শারমিন আক্তার সুমীর নেতৃত্বে উপস্থিত সবাই প্লাস্টিক দূষণমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ার জন্য বিশেষ শপথ গ্রহণ করেন। শপথ গ্রহণের পর অতিথিরা এবং স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা একটি সুনির্দিষ্ট 'অঙ্গীকার বোর্ডে' স্বাক্ষর করেন।
এর আগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তর বাগেরহাটের উপপরিচালক আসাদুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও শারমিন আক্তার সুমী বলেন, "প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও দায়িত্বশীল আচরণের বিকল্প নেই।" তিনি পরিবেশ রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ও যুবসমাজের অগ্রণী ভূমিকা রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
স্বাগত বক্তব্যে ইউনিডো বাংলাদেশের ন্যাশনাল কনসালটেন্ট মোঃ সহিদুল ইসলাম (সিয়াম) প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, "এ ধরনের সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান মানুষের দৈনন্দিন জীবনশৈলী ও পরিবেশ সচেতন দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখবে।"
সভাপতির বক্তব্যে পরিবেশ অধিদপ্তর বাগেরহাটের উপপরিচালক আসাদুর রহমান টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ জনগণের টেকসই সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য প্রদান করেন জাতিসংঘ শিল্প ও উন্নয়ন সংস্থার ন্যাশনাল কনসালটেন্ট মোঃ মহিদুল ইসলাম, 'সুন্দরবন রক্ষায় আমরা'-র সমন্বয়কারী ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মোঃ নূর আলম শেখ, প্রথম আলো বন্ধুসভার ধীমান মন্ডল এবং 'ইয়ুথ ফর সুন্দরবন'-এর প্রতিনিধি জান্নাতুল সাদিয়া। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জানে আলম বাবু।
আলোচনা সভা ও শপথ গ্রহণ পর্বের পর অডিটোরিয়াম থেকে একটি সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা বের হয়ে মোংলা শহরের প্রধান সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে। পরে অংশগ্রহণকারীরা শহরের মেরিন ড্রাইভ রোড এলাকায় সরাসরি পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন এবং প্লাস্টিকসহ অন্যান্য ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন। দিনব্যাপী এই পুরো কর্মসূচিতে তিন শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রেক্ষাপটে নাটকীয় পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। নিউইয়র্কে পৌঁছানোর সাথে সাথে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা তাকে ঘিরে ধরেছে। এই কারণে, সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে নিউইয়র্কের ঐতিহ্যবাহী জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামবে না রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ ‘উইং অব জায়ন’ যা তাকে বহন করছে।
ইসরায়েলি জনপ্রিয় দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনোথ-এর প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার নেতানিয়াহুর বহনকারী ভিআইপি বিমানটি নিউইয়র্কে অবতরণ না করে পার্শ্ববর্তী রাজ্য নিউজার্সির একটি বিমানবন্দরে নামতে পারে।
কেন এই আকস্মিক পথবদল?
নিউইয়র্কের নতুন মেয়র জোহরান মামদানির কঠোর অবস্থান এবং একাধিক উদ্বেগের কারণে এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইতোমধ্যে গাজা হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। মেয়র মামদানি বারবার সতর্ক করেছেন যে, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে পা রাখলেই তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এছাড়া, বিমানটি বিমানবন্দরে পার্কিং করার বিষয়ে নিউইয়র্ক নগর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিভিন্ন 'সমন্বয়হীনতা' দেখা দিয়েছে। ইসরাইলি গোয়েন্দা ও সফরসঙ্গীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে যে, মেয়র মামদানি বিমানটিকে জেএফকে বিমানবন্দরে অবতরণের পর দ্রুত রানওয়ে ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন। এই পরিস্থিতি এড়াতে, বর্তমানে নিউজার্সির কোনো সামরিক ঘাঁটি অথবা নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘উইং অব জায়ন’ অবতরণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে রাত কাটাবেন না, সফর সংক্ষিপ্ত হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, মার্কিন মুলুকে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও বিশাল বিক্ষোভের আশঙ্কায় ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। নিউইয়র্কে অবস্থানের সময়সীমা তিনি অনেকটাই কমিয়ে এনেছেন। বিক্ষোভকারীদের তোপ থেকে বাঁচতে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, নিউইয়র্কে রাত কাটাবেন না। সফরসূচি এতটাই সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে যে, কাজ শেষ করেই তিনি দ্রুত প্রস্থান করবেন।
বাতিল মাস্কের সঙ্গে হাই-প্রোফাইল বৈঠক।
নিউইয়র্কের কর্মসূচি ছাড়াও, নেতানিয়াহুর বহুল আলোচিত টেক্সাস সফরও ভেস্তে গেছে। সেখানে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের সঙ্গে তার একটি পূর্বনির্ধারিত বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেটিও বাতিল করা হয়েছে।
এক ইসরাইলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দীর্ঘ যাত্রাপথে বিমানে জ্বালানি নেওয়ার বিরতি এবং মার্কিন পক্ষের সঙ্গে শেষ মুহূর্তের সমন্বয় জটিলতার কারণে মাস্কের সঙ্গে বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত আর আলোর মুখ দেখেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ৩ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের একটি বড় ইলিশ মাছ ১০ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার চেয়ারম্যানঘাট মাছঘাটে শাহজাহান ব্যাপারীর আড়তে নিলামে মাছটি সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে কিনে নেন স্থানীয় ব্যবসায়ী বিষু ব্যাপারী। নিলামে অংশগ্রহণকারী অন্তত ১৭ জন ব্যবসায়ী ছিলেন।
জানা গেছে, উপজেলার হরণী ইউনিয়নের জেলে জাহেদ মাঝির জালে ইলিশটি ধরা পড়ে। রোববার সকালে ১২ জন জেলেকে নিয়ে সাঙ্গু গ্যাসফিল্ডের কাছে নদীতে মাছ ধরতে যান জাহেদ মাঝি। সোমবার রাতে জাল ফেলার পর মঙ্গলবার তা তোলার সময় জালে বড় ইলিশটি আটকা পড়ে। পরে মাছটি চেয়ারম্যানঘাট মাছঘাটে নিয়ে এসে আড়তে বিক্রি করা হয়।
ইলিশের ক্রেতা বিষু ব্যাপারী বলেন, "আমি ১০ হাজার ৯০০ টাকায় ইলিশটি কিনেছি। মাছটি ঢাকার মোকামে পাঠাব। সেখানে ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারব। রাজধানীতে বড় ইলিশের বিশেষ চাহিদা রয়েছে।"
জেলে জাহেদ মাঝি বলেন, "জালে বড় ইলিশটি পাওয়ার পর আমরা খুব খুশি হয়েছি। মাছটি ছাড়াও আরও মাছ ধরেছি। সব মিলিয়ে চেয়ারম্যানঘাট মাছঘাটে প্রায় পৌনে তিন লাখ টাকার মাছ বিক্রি করেছি।"
আড়তদার শাহজাহান ব্যাপারী বলেন, "জাহেদ মাঝি সাগর থেকে বড় ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নিয়ে তার আড়তে আসেন। এর মধ্যে ৩ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশটির দাম নিলামে ১০ হাজার ৯০০ টাকা ওঠে। পরে সর্বোচ্চ দরদাতা বিষু ব্যাপারীর কাছে মাছটি বিক্রি করা হয়।"
স্থানীয় ব্যবসায়ী মাঈন উদ্দিন বলেন, "এবার ইলিশ কম পাওয়ায় জেলেরা হতাশ। তবে মাঝেমধ্যে বড় আকারের কিছু ইলিশ ধরা পড়ছে। বড় ইলিশ দেখে ভালো লাগছে, যদিও অনেকেই তা কিনতে পারছেন না।"
এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও হাতিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মো. ফয়জুর রহমান বলেন, "এবার তুলনামূলকভাবে কম মাছ ধরা পড়ছে। এর মধ্যে দু-একটি বড় ইলিশ ধরা পড়ায় জেলেরা কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন। আশা করছি, ভরা পূর্ণিমায় আরও বেশি মাছ ধরা পড়বে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু কিংবা স্বাভাবিক শিশু, কোনো শিশুকেই শিক্ষার বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নবজাতক থেকে শুরু করে সমাজের প্রবীণ নাগরিক পর্যন্ত সকলকে একত্রিত করা হবে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ইসফেনদিয়ার জাহেদ হাসান মিলনায়তনে ‘লিডো বাংলাদেশ’ আয়োজিত ‘ইয়াং জার্নালিস্ট চেঞ্জমেকার্স: ভয়েস ফর ভালনারেবল চিলড্রেন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, শিশুকে মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন একজন সত্যিকারের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য পরিবার থেকেই নৈতিক শিক্ষার চর্চা শুরু করা প্রয়োজন। পরিবারহীন শিশুদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের জন্য সরকার বিভিন্ন ছোটমণি নিবাস ও শিশু নিবাস পরিচালনা করছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিশুদের আশ্রয় ও শিক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তুলতে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণও প্রদান করা হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, যেকোনো জনকল্যাণমূলক সামাজিক উদ্যোগ ও কার্যক্রমকে পৃষ্ঠপোষকতা করা সরকারের দায়িত্ব। সরকার কারও প্রতিপক্ষ নয়; বরং সরকার ও জনগণ একে অপরের পরিপূরক ও সম্পূরক।
এ সময় সংকীর্ণ সমালোচনা পরিহার করে বিদ্যমান সামর্থ্য ও সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে সবাইকে দেশসেবায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আয়োজিত মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে সুবিধাবঞ্চিত ও অভিভাবকহীন শিশুরা সরাসরি মন্ত্রীর কাছে তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির কথা তুলে ধরে। বিশেষ করে অভিভাবকহীন শিশুদের জন্মনিবন্ধন সনদ সংগ্রহ এবং বিভিন্ন নাগরিক সেবা পেতে প্রশাসনিক জটিলতার বিষয়টি উঠে আসে।
শিশুদের এসব সমস্যার কথা সহমর্মিতার সঙ্গে শোনেন মন্ত্রী। তিনি বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘লোকাল এডুকেশন অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন’ (লিডো) শিক্ষক ও মানবাধিকারকর্মীদের উদ্যোগে পরিচালিত একটি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। পথশিশু, নির্যাতিত শিশু ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের সুরক্ষায় সংস্থাটি নিরাপদ আশ্রয় ও জরুরি সেবা প্রদান করে আসছে।
শিশুদের সার্বিক বিকাশকে দেশের অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে লিডো শিক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার মাধ্যমে পথশিশুদের মানবিক মর্যাদা পুনরুদ্ধার এবং তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব, এসওএস চিলড্রেন ভিলেজের কান্ট্রি ডিরেক্টর, সেভ দ্য চিলড্রেন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ