সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৫৬ এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মো. রুবেল (৩৯) নামে নোয়াখালীর এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে দোকানের মালামাল কিনে ফেরার পথে এক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত রুবেল নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মধুপুর গ্রামের চুন বেপারী বাড়ির মৃত শাহ আলমের বড় ছেলে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, ২০২৩ সালে জীবিকার সন্ধানে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান তিনি। সেখানে ফুফাতো ভাইয়ের দোকানে চাকরি করতেন। শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে দোকানের মালামাল কিনে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনাস্থলেই মারা যান রুবেল। দেশে তার স্ত্রী, দুই সন্তান ও বৃদ্ধ মা রয়েছেন। রুবেলের মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা স্বজনেরা তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারি সহযোগিতা চেয়েছেন।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোমায়রা ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিবেন। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল থেকে আট নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় মিছিলে ব্যবহৃত ব্যানার ও লাঠি জব্দ করা হয়।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান। এর আগে, গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার একলাশপুর বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. রাসেল (২৫), রাকিব (১৯), আব্দুল আলিম (১৯), মো. কামরুল ইসলাম (১৯), মো. জিহান (১৮), নিশান (১৮), মো. সিয়াম (১৮) ও জিসান (১৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একলাশপুর ইউনিয়নের টার্ফের পাশের সড়ক দিয়ে ঝটিকা মিছিল বের করেন। পরে তারা মহাসড়কে ওঠেন। মিছিল থেকে ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মিছিল থেকে আটজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। পরে রোববার (২৫ অক্টোবর) নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পলাতক নেতাকর্মীরা ফেসবুকে মিছিলের ১ মিনিট ১৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়ান।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, মিছিলে ব্যবহৃত ব্যানার ও লাঠি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরাইলের নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তেল আবিবে পরমাণু বিস্ফোরণের একটি ছবি পোস্ট করেছেন। তিনি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি দুই বছরকে ইরানের কাছ থেকে ‘অস্তিত্বের জন্য হুমকি’ মোকাবিলার কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
নেতানিয়াহুর পোস্ট করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ঘনবসতিপূর্ণ একটি শহরের ওপর বিশাল মাশরুম আকৃতির ধোঁয়ার মেঘ। বিস্ফোরণে শহরের বেশ কয়েকটি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেখা যায়। ছবিটির সঙ্গে তিনি ইসরাইলি লেখক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার ইউভাল ব্লুমবার্গের একটি বক্তব্যও শেয়ার করেছেন।
নেতানিয়াহু পোস্টে উল্লেখ করেন, ইসরাইল বর্তমানে একটি বাস্তব ও স্পষ্ট অস্তিত্বগত বিপদের সম্মুখীন। তিনি বলেন, "ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করলে সবকিছু বদলে যাবে। ইরান ও শিয়া অক্ষের কাছ থেকে আসা হুমকির তুলনায় অন্য সব বিষয়ই তুচ্ছ।"
তিনি আরও বলেন, মাঝে মাঝে যেসব সাজানো ও বানোয়াট বিতর্ক তৈরি হয়, সেগুলো ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান সম্পন্ন করার মূল লক্ষ্য থেকে মানুষের দৃষ্টি সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা। এই বিষয়টি ইসরাইলের প্রতিটি মানুষের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত।
নেতানিয়াহু লেখেন, "ইরানে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করার জন্য ট্রাম্পের হাতে আরও দুই বছর সময় রয়েছে। এরপর কে ক্ষমতায় আসবেন, তা নিশ্চিত নয়। কমলা হ্যারিস কিংবা অন্য কোনো ‘মাঝারি মানের’ ব্যক্তি ক্ষমতায় আসতে পারেন। আগামী বছরগুলোতে ইসরাইলের অস্তিত্ব নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার এটাই সুযোগ।" তিনি রাষ্ট্রের সব প্রয়োজনীয় সম্পদ বিনিয়োগের আহ্বানও জানান।
তবে নেতানিয়াহুর এই পোস্টের তীব্র সমালোচনা করেছেন তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা। ডেমোক্র্যাটস পার্টির চেয়ারম্যান ইয়ার গোলান অভিযোগ করেন, নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, নেতানিয়াহু ততই নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন।
গোলান বলেন, "ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী তেল আবিবের ওপর পারমাণবিক বোমার ছবি প্রকাশ করেছেন। তাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে রাখা উচিত। নেতানিয়াহু ও তার আশপাশের লোকজন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন।"
ইয়াশার পার্টির চেয়ারম্যান গাদি আইজেনকোটও নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "নেতানিয়াহু আবারও ভয় ছড়ানোর ভিডিও প্রকাশ করেছেন। প্রতিটি নির্বাচনি প্রচারের মতো এবারও তিনি মিথ্যা ও আতঙ্ক ছড়ানোর একই কৌশল নিয়েছেন।"
আগামী মঙ্গলবার ইসরাইলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দেশটিতে জাতীয় পর্যায়ে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে সংসদে আসন বণ্টন করা হয়। ১২০ আসনের সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে কোনো দল বা জোটকে অন্তত ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যদি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ছাত্র বা ছাত্রী শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার হন, তাহলে অভিযোগ আসার সঙ্গে সঙ্গে তার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া আবশ্যক। যদি ঘটনা সত্য প্রমাণিত হয় এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষী হন, তাহলে তার জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। অভিযোগের তদন্ত কিভাবে হবে এবং কে করবে, সেই বিষয়ে সুস্পষ্ট নিয়ম থাকা প্রয়োজন।
বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষাবিদ ড. মির্জা গালিব সোমবার তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এই বিষয়গুলো তুলে ধরেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটির রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।
তিনি তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, ‘এই কথা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা—সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্যই সমভাবে প্রযোজ্য। তবে, মাদ্রাসা দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ায়, মাদ্রাসার ক্ষেত্রে এই ধরনের অভিযোগ আসলে ইসলামপন্থি সকল মানুষের দায়দায়িত্ব অন্যদের তুলনায় বেড়ে যায়। ইসলাম শুধু মুসলমানদের মুক্তির জন্য নয়, বরং সমগ্র মানবতার মুক্তির জন্য এসেছে। ইসলামী রাজনীতির ধারণা সেকুলার সিস্টেমের শোষণ নিপীড়নের বিপরীতে ইসলামী সিস্টেম মানুষের মুক্তির পথকে সুগম করতে পারে—এই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে। আর যদি ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হন এবং এরপর ন্যায়বিচার না পান, তাহলে এর চাইতে দুঃখজনক কিছু হতে পারে না।
যেকোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ সত্য না মিথ্যা, সেই আলোচনায় না গিয়েও বলা যায় যে, বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় এই ধরনের অভিযোগের তদন্ত এবং বিচারের জন্য একটি কার্যকর সিস্টেম নেই। অথচ বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় অনেক বড় বড় আলেম আছেন এবং দেশে অনেক ইসলামি রাজনৈতিক দল রয়েছে। তাই, যদি আপনারা সবাই মিলে ইসলাম শেখার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারেন, তাহলে মানুষ কেন বিশ্বাস করবে যে আপনারা যে ধর্ম প্রচার করেন এবং যে রাজনীতি করেন, তা মানুষের মুক্তির জন্য কার্যকর হবে?
ইউসুফ (আ.)কে মিশরের রাজা জেলখানা থেকে বের করে এনে ক্ষমতা দিয়েছিলেন, কারণ তিনি রাজার স্বপ্ন ব্যাখ্যা করে বলেছিলেন যে, সাত বছর পরে মিশরে দুর্ভিক্ষ হবে। এবং সেই দুর্ভিক্ষের সময় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে যাবতীয় ব্যবস্থা কিভাবে করতে হবে, তার বিস্তারিত গাইডলাইনও তিনি দিয়েছিলেন।
দুনিয়াতে ফিতনা ফ্যাসাদ তৈরি না করে মানুষের সমাজে কিভাবে ইনসাফ কায়েম হবে এবং কিভাবে মানুষের বাস্তব সমস্যার সমাধান হবে—সেই বিষয়গুলো দেখানোই নেতৃত্বের মূল কাজ। ঘরের সমস্যা সমাধান না করতে পারলে, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমস্যা সমাধান কিভাবে হবে?
ইসলামপন্থি সকল রাজনৈতিক দল এবং দেশের সম্মানিত আলেমগণ—আপনারা মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ এবং শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে এখনই সিরিয়াস হন। এখন আর দেশ আওয়ামী লীগ চালায় না, আপনাদেরকে কেউ মার্জিনালাইজড করে রাখে না। সমস্যাকে উপেক্ষা করবেন না, অস্বীকার করবেন না, বরং সমস্যাকে স্বীকার করুন, কারণ আইডেন্টিফাই করুন, সমাধান করুন এবং সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট করুন। নিজেদের সততা এবং সক্ষমতা জাতিকে দেখান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ