০৩:৫৭ এম
চট্টগ্রাম মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বর্তমানে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৬৬ হাজার ৪১৮ এ পৌঁছেছে। অথচ, এই বিপুল সংখ্যক মামলার বিচারকাজ পরিচালনার জন্য নিযুক্ত রয়েছেন মাত্র আটজন বিচারক। ১৬টি থানার বিপরীতে আদালতের সংখ্যা রয়েছে মাত্র আটটি। দীর্ঘ সময় ধরে আদালতের সংখ্যা না বাড়ানোর ফলে মামলার জট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি বিচারকদের ওপরও অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সীমিত জনবল নিয়ে বিপুলসংখ্যক মামলার শুনানি, আদেশ ও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে আদালত কার্যত হিমশিম খাচ্ছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ১৫ হাজার ১০৬ এ পৌঁছালে ২০০৮ সালে সর্বশেষ চট্টগ্রাম মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সংখ্যা বাড়িয়ে আটটি করা হয়। এরপর টানা ১৮ বছর ধরে মহানগরের জনসংখ্যা ও অপরাধের পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে গেলেও নতুন কোনো চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত গঠন করা হয়নি।
আরও পড়ুন: মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে যুবসমাজকে বাঁচাতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: হেমায়েত হোসেন
ফলে ক্রমবর্ধমান মামলার চাপ সামলাতে বিদ্যমান আদালতগুলোকে প্রতিনিয়ত বেগ পেতে হচ্ছে। আদালত সংশ্লিষ্ট তথ্য বলছে, বর্তমানে প্রতিজন মহানগর ম্যাজিস্ট্রেটের কাঁধে গড়ে ৮ হাজার ৩০০টিরও বেশি মামলার দায়িত্ব রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিচারিক কার্যক্রমের গতি নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ৫৯ হাজার ৯৪৯টি। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৬ হাজার ২৪৯টিতে। ওই বছর ৩৯ হাজার ৮১৫টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে ৭ হাজার ৮৬০টি, আগস্টে ১৪ হাজার ২০৬টি এবং সেপ্টেম্বরে ১৩ হাজার ৪৮৯টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। অক্টোবর পর্যন্ত বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৬ হাজার ৪১৮টিতে।
আদালত সংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে দুই শতাধিক নতুন মামলা যুক্ত হচ্ছে। ফলে পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির পাশাপাশি নতুন মামলার চাপও সামলাতে হচ্ছে বিচারকদের। আদালতের সংখ্যা ও বিচারক না বাড়ায় মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
আবেদনের পরও বাড়েনি আদালত
আরও পড়ুন: বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির গলাচিপা থানা পরিদর্শন
আদালত সূত্র জানায়, ২০১৩ সাল থেকে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ গত জানুয়ারিতে অতিরিক্ত তিনটি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও ২০টি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রতিষ্ঠার জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। তবে এখনো এ বিষয়ে কার্যকর অগ্রগতি হয়নি বলে জানান আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৯ সালের নভেম্বরে একজন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও তিনজন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে চট্টগ্রাম মহানগরে ম্যাজিস্ট্রেসির কার্যক্রম শুরু হয়। জনসংখ্যা ও অপরাধপ্রবণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহানগরে থানার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬টিতে। কিন্তু থানার সংখ্যা বেড়ালেও সেই অনুপাতে বিচারিক আদালত বাড়েনি।
১৯৯২ সালে চট্টগ্রাম মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ৮,৫৬৭। মামলা বাড়তে থাকায় ওই বছর ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা পাঁচজনে উন্নীত করা হয়। ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারিতে অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিমের একটি পদ বাড়ানো হয়। এরপর ২০০৭ সালে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বেড়ে ১৫ হাজার ১০৬টিতে পৌঁছালে পরের বছর একটি আদালত বাড়িয়ে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সংখ্যা আটটিতে উন্নীত করা হয়।
এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আদালতের সংখ্যা বাড়েনি। অথচ ২০০৭ সালের তুলনায় বর্তমানে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বেড়েছে তিনগুণেরও বেশি। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, থানার সংখ্যা সম্প্রসারণ এবং মামলার ক্রমবর্ধমান চাপের বিপরীতে বিচারিক অবকাঠামো একই অবস্থায় থাকায় বিদ্যমান আদালত ও বিচারক দিয়ে বিপুলসংখ্যক মামলার চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: তালাশ বিডি নিউজের সংবাদে তৎপর পুলিশ, বাকেরগঞ্জে জোরদার মাদকবিরোধী অভিযান
চট্টগ্রাম মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মফিজুল হক ভূঁইয়া জানান, বিচারক ও আদালত বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের সদিচ্ছা রয়েছে। তবে এখনো অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে। বিচারক ও জনবল নিয়োগের পাশাপাশি আদালতের অবকাঠামো সম্প্রসারণও প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকায় সীমিত সংখ্যক বিচারকের ওপর বিপুলসংখ্যক মামলা পরিচালনার দায়িত্ব রয়েছে। নতুন আদালত প্রতিষ্ঠা ও বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে মামলার জট এবং বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এমই
আরও পড়ুন: লাকসামে লরির চাপায় মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত নিহত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন