প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নিষেধাজ্ঞার ২২ দিনের পর চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ শিকারে নেমে পড়েছেন হাজার হাজার জেলে। ইলিশ পাওয়ার আশায় চাঁদপুরের ৭০ কিলোমিটার নৌ এলাকায় জেলেরা বিচরণ করছেন। কিছু জেলে আড়তে নিয়ে আসছেন ইলিশ, পাঙাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।
এতে নদী উপকূলীয় আড়ত ও শহরের সব বাজার সরগরম হয়ে উঠেছে। তিন সপ্তাহের অবসর সময় কাটিয়ে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা এখন ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তবে ইলিশের দাম আগের মতোই রয়েছে। বড় সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে আগের দামে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সদর উপজেলার হরিণা মাছঘাটে জেলেদের ইলিশ আহরণ ও কেনাবেচার দৃশ্য দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে অনেক জেলে ইলিশ ধরার জন্য পদ্মা-মেঘনায় নেমে পড়েন। ভোরের আলো দেখা দিতেই তারা মাছঘাটে ভিড় করতে শুরু করেন। হরিণা ফেরিঘাটসংলগ্ন মাছঘাটে একের পর এক জেলে নৌকা এসে ভিড় করছে। জেলেরা প্লাস্টিকের ট্রেতে করে ইলিশসহ অন্যান্য মাছ নিয়ে আসছেন।
এই মাছঘাটে প্রায় ২০টি ইলিশের আড়ত রয়েছে। জেলেরা এসব আড়তে এসে মাছের স্তূপ করছেন এবং কিছু সময়ের মধ্যে হাঁকডাকে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। এখানে সংরক্ষণ করে ইলিশ বিক্রি করা হয় খুবই কম। শহরে বিক্রির জন্য এক ধরনের খুচরা ব্যবসায়ী এবং বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে বিক্রির জন্য আরেক ধরনের ব্যবসায়ী এই ঘাট থেকে তাজা ইলিশ ক্রয় করে নিয়ে যান।
গোবিন্দপুর গ্রামের জেলে লিটন তপাদার জানান, রাতের নদীতে নেমে ভোরে ঘাটে এসে ১২ হাজার টাকার ইলিশ বিক্রি করেছেন। তিনি আশা করছেন, এভাবে ইলিশ পাওয়া গেলে কয়েক দিনের মধ্যে তাদের ঋণ পরিশোধ হবে।
আরেক জেলে আবুল কালাম খান জানান, তারা ৭ জন মিলে মধ্যরাতে নদীতে নেমেছেন। তাদের পাওয়া ইলিশ বিক্রি হয়েছে ১৫ হাজার টাকায়। তিনি জানান, কিছু সময় পর আবারও ইলিশ শিকারে নামবেন। তিনি মনে করেন, কয়েক দিন পরে ইলিশের প্রাপ্যতা কমে আসবে।
ঘাটের আড়তদার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ইলিশের দাম কমবে না। কারণ চাহিদা বেশি। এক কেজি ওজনের ইলিশ ২৫০০ থেকে ২৬০০ টাকা, ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা এবং ছোট সাইজের অর্থাৎ ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, কিছু জেলে ইলিশের পাশাপাশি পাঙাশ মাছ পাচ্ছেন। বড় সাইজের পাঙাশ প্রতি কেজি ১২০০ টাকা এবং ছোট সাইজের পাঙাশ ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের আমদানি ভালো থাকলে দাম কমবেশি হতে পারে।
আরেক আড়তদার মো. সেলিম বলেন, সকাল থেকে মাছ আসা শুরু হয়েছে। আজ এবং আগামীকাল পর্যন্ত বোঝা যাবে ইলিশের আমদানি কেমন। কারণ বিগত বছরগুলোতে দুই দিন পরে ইলিশের আমদানি কমে গেছে।
এই ঘাটের আড়তদার ইব্রাহীম মিয়া জানান, নিষেধাজ্ঞার পরে বড় সাইজের ইলিশ বেশি আসছে। ছোট সাইজের ইলিশের সংখ্যা খুবই কম। ইলিশ পরিমাণে কম পাওয়া গেলেও পাঙাশ মাছ পাওয়ায় জেলেরা লোকসান কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পারবেন।
হরিণা মাছঘাটের প্রবীণ মাছ ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম সৈয়াল বলেন, এই সময় নদীতে ইলিশ ভরপুর থাকত; কিন্তু অভিযান দিয়ে লাভ হয়নি। কারণ এক শ্রেণির জেলে মা ইলিশ মেরেছে। প্রশাসন তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি।
শুক্রবার শহরের বিভিন্ন বাজারে ব্যাপক ইলিশের আমদানি দেখা যায়। তবে বেশ কিছু মাছ নিষেধাজ্ঞার সময়ে ধরা ইলিশ হিসেবে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বিকালের বাজার হিসেবে পরিচিত শহরের বিপণীবাগ বাজারে এমন চিত্রই দেখা যায়।
চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষায় দুটি অভিযান কঠোর থাকায় জেলেরা সুফল পাচ্ছেন। তারা ইলিশের পাশাপাশি পাঙাশ পাচ্ছেন। সরকারিভাবে পাঙাশ বেড়ে ওঠার জন্য প্রকল্প দেওয়া হলে এটি ইলিশের মতো জাতীয় অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন