ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

সকাল থেকে টানা ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়


সকাল থেকে টানা ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত এবং বিদ্যুৎ লাইনের আশপাশের গাছের ডালপালা কাটার কারণে দেশের কিছু এলাকায় সকাল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। কোথাও কোথাও টানা ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর সদর দফতর থেকে জানানো হয়েছে, বড়াইগ্রাম-১ (বনপাড়া) উপকেন্দ্রের ৬, ৭ ও ৮ নম্বর ফিডারে গাছের ডালপালা কাটা ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাসের চাপায় অটোরিকশার যাত্রী নিহত, স্বামী ও সন্তান আহত

এ সময় কালিকাপুর, ফজলিতলা, আহম্মেদপুর বাজার, পার আহম্মেদপুর, কায়েম কোলা, খৌদ্দকাচুটিয়া, কুমরুল, বৃকাচুটিয়া, ভবানীপুর, রামাগাড়ি, কামারদহ, আটঘরিয়া, সুইচগেট, হাট গোবিন্দপুর ও শেখ পাড়া এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকবে না। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাজের পরিস্থিতি অনুযায়ী এ সময়সূচি কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।

নেসকোর চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ বিদ্যুৎ সরবরাহের আবাসিক প্রকৌশলী মো. জুলফিকার আলী জানিয়েছেন, শিবগঞ্জ ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের আশপাশের গাছের ডালপালা কাটার জন্য শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। সাময়িক অসুবিধার জন্য নেসকো কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সিলেট বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ জানিয়েছে, জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত এবং বিদ্যুৎ লাইনের আশপাশের গাছের ডালপালা কাটার জন্য লাকাতুরাস্থ ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। তবে কাজ শেষ হলে নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হতে পারে।

এ সময় ১১ কেভি কাকুর্যাপাড়, এয়ারপোর্ট থানা, বাইশটিলা, ওসমানী বিমানবন্দর এক্সপ্রেস, ধোপাগুলা, বনশ্রী, বাদামবাগিচা (আংশিক), পাহাড়িকা, বড় বাজার ও লাকাতুরা স্টেডিয়াম ফিডারের আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না। এসব এলাকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে লাকাতুরা বাজার, মুসলিম পাড়া, মালনীছড়া, বাঁশবাড়ী গলির মুখ, বাদাম বাগিচা, আব্দুরমিয়ার গলির মুখ, রূপসা আ/এ, খাসদবীর প্রাইমারী স্কুল, ইসরাইল মিয়ার গলি, দারুস সালাম মাদ্রাসা রোড, বড় বাজার, আবাদানি, বড়শালা বাজার মসজিদের পাশের আংশিক এলাকা, পর্যটন, ফরিদাবাদ, সিলভার সিটি, কেওয়াছড়া, হিলুয়াছড়া চা-বাগান, ধোপাগুল, মহালদিক, উমদারপাড়া, আলাইবহর, লিলাপাড়া, দাপনাটিলা, সাহেবের বাজার, কালাগুল, লালবাগ, পীরেরগাঁও, ছালিয়া, রঙ্গিটিলা ও সালুটিকর ঘাট এবং আশপাশের এলাকা।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলনের ওপর নজর রাখছে ভারত: রণধীর জয়সওয়াল

অন্য এক বিজ্ঞপ্তিতে সিলেট বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ জানিয়েছে, আম্বরখানাস্থ ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও গাছের ডালপালা কাটার জন্য সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। কাজ শেষ হলে নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হতে পারে।

এ সময় ১১ কেভি আই.জি.ডি ওভারহেড ফিডারের আওতাধীন আম্বরখানা মসজিদ, দত্তপাড়া, আম্বরখানা সরকারি কলোনী, মজুমদারী, কমলা বাগান, প্রভাতী, পূর্ব পীরমহল্লা, হাউজিং এস্টেট সম্পূর্ণ, ফরিদাবাদ আ/এ ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না।

ঝিনাইদহের মহেশপুরে ওজোপাডিকোর বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগ জানিয়েছে, ৩৩/১১ কেভি মহেশপুর সাব-স্টেশনে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের পাশাপাশি বিদ্যুৎ লাইনের সংস্পর্শে থাকা গাছের শাখা-প্রশাখা কাটা হবে। এ কারণে শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মহেশপুরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। নির্ধারিত কাজ শেষ হলে যেকোনো সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হতে পারে।

অন্যদিকে, নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর শিবপুর জোনাল অফিস জানিয়েছে, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, নরসিংদীর অধীনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও ইটাখোলা-মঠখোলা আঞ্চলিক মহাসড়ক সম্প্রসারণের কাজ চলছে। এ জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক লাইন স্থানান্তর করা হবে। ফলে শনিবার সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত শিবপুর উপজেলার ১১ কেভি লাইনের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে ড্যাবের বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে খড়িয়া, বাজনাবো, ইটাখোলা, সৈয়দনগর, বন্যারবাজার, গোবিন্দি, তেলিয়া, কুমড়াদি, পুরানদিয়া, বাড়ৈআলগী, জামতলা, পালপাড়া, বড়কান্দা, ব্রাহ্মন্দি, শাষপুর, চন্দনদিয়া, হিজলিয়া, ত্রিশা, নোয়াদিয়া, লামপুর, চাঁদপাশা, ইটনা, খৈনকুট, শানখোলা, খড়কমাড়া, ঘাশিরদিয়া, কুন্দারপাড়া, শ্রিফুলিয়া, বিরাজনগর, জয়মঙ্গল, কুতুবেরটেক ও হলুদেরটেকসহ সংশ্লিষ্ট এলাকা।

গোপালগঞ্জে ওজোপাডিকোর বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগ জানিয়েছে, জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হতে পারে। বিশেষ করে আরামবাগ, নিচুপাড়া, গুল্লিবাড়ির মোড়, নবীনবাগ, মেডিকেল কলেজ ও তেঘরিয়া এলাকায় এক ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হতে পারে।

সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো।

আরও পড়ুন: ধামইরহাটে বিদ্যুৎ তারে ট্রাকের আগুন নেভাতে বিজিবির তৎপরতা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে যুবসমাজকে বাঁচাতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: হেমায়েত হোসেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:০৮ এম


মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে যুবসমাজকে বাঁচাতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: হেমায়েত হোসেন

মাদকের ভয়াবহ থাবা ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে নিয়মিত খেলাধুলার চর্চা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, তরুণদের আইকন, শিক্ষানুরাগী, ক্রীড়াপ্রেমী ও বিশিষ্ট সমাজসেবক অ্যাডভোকেট হেমায়েত হোসেন।

তিনি বলেন, যুবসমাজকে ক্রীড়ামুখী করতে পারলে মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠন করা সম্ভব। সুস্থ ও সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টায় আলফাডাঙ্গা উপজেলার ৫ নম্বর বানা ইউনিয়নের বানা হাইস্কুল মাঠে উপজেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত ছয় ইউনিয়নব্যাপী ছয়টি ডে-নাইট ফুটবল (মিনিবার) টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর অংশ হিসেবে বানা ইউনিয়ন পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট হেমায়েত হোসেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসীম। মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে যুবসমাজকে বাঁচাতে তরুণদের খেলাধুলায় এগিয়ে আসতে হবে। ক্রীড়াচর্চা তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি ও ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি করে। মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে নিয়মিত খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের বিকল্প নেই।

টুর্নামেন্ট আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করেন বানা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী আলহাজ মো. সিরাজুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আ. মান্নান মিয়া আব্বাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. নিয়ামত হোসেন পারভেজ ও আলফাডাঙ্গা সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব মো. সুজন হোসেন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান দাউদ, পৌর বিএনপির প্রচার সম্পাদক কামরুজ্জামান কদর, বিএনপি নেতা লিটন মোল্লাসহ বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, কৃষক দল ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আলফাডাঙ্গা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি আ. জব্বার। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা ছাত্রদল নেতা মো. জিসান মিয়া এবং সঞ্চালনা করেন আলফাডাঙ্গা আদর্শ ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শেখ মাজহারুল ইসলাম লিমন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউরোপে ৮৭ কোটি ডলারের বেশি অস্ত্র রপ্তানি করেছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১১ এম


ইউরোপে ৮৭ কোটি ডলারের বেশি অস্ত্র রপ্তানি করেছে ভারত

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইউরোপের বিভিন্ন দেশের জন্য ভারতের অস্ত্র ও গোলাবারুদ রপ্তানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যুদ্ধের প্রথম চার বছরে, ভারত ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ৮৭ কোটি ২০ লাখ ডলারের গোলাবারুদ ও সংশ্লিষ্ট পণ্য রপ্তানি করেছে। পূর্ববর্তী চার বছরে এই রপ্তানির পরিমাণ ছিল মাত্র ৪ কোটি ৯২ লাখ ডলার।

ভারতের প্রতিরক্ষা খাতের এই অগ্রগতির পেছনে ইউরোপের দেশগুলোর সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের চাহিদা বৃদ্ধি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণের পর, ইউরোপের দেশগুলো নিজেদের সামরিক মজুত বাড়াতে এবং ইউক্রেনকে সহায়তা অব্যাহত রাখতে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ বৃদ্ধি করেছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্লুমবার্গের প্রকাশিত বাণিজ্যসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে ডিফেন্স নিউজ এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে।

প্রতিরক্ষা রপ্তানিতে ভারতের রেকর্ড

ভারত মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের ১৩টি দেশে গোলাবারুদ ও সংশ্লিষ্ট পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার পরেই অবস্থান করছে। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানির এই সম্প্রসারণ ইউরোপের অস্ত্র বাজারে দেশটির উপস্থিতি বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলা শুরু হওয়ার পর ইউরোপের দেশগুলো সামরিক প্রস্তুতি জোরদারে মনোযোগ দেয়। এর ফলে কামানের গোলা ও অন্যান্য গোলাবারুদের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে নিজেদের মজুত পুনর্গঠন এবং ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রয়োজনও রয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘রিআর্ম ইউরোপ’ উদ্যোগ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টাকে আরো ত্বরান্বিত করেছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিরক্ষা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন রপ্তানি বাজার তৈরি হয়েছে।

ভারতের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা রপ্তানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিংয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের প্রতিরক্ষা পণ্য রপ্তানি বেড়ে রেকর্ড ৩৮ হাজার ৪২৪ কোটি রুপি হয়েছে। আগের অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ২৩ হাজার ৬২২ কোটি রুপি।

বর্তমানে ৮০টির বেশি দেশে প্রতিরক্ষা পণ্য রপ্তানি করে ভারত। দেশটির নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে এই সম্প্রসারণের সম্পর্ক রয়েছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউরোপে সামরিক সরঞ্জামের চাহিদা বৃদ্ধি ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য বড় রপ্তানি সুযোগ তৈরি করেছে। তবে, এই বাজারে ভারতের অবস্থান কতটা শক্তিশালী হবে, তা নির্ভর করবে উৎপাদন সক্ষমতা, সরবরাহের ধারাবাহিকতা এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাহিদা ধরে রাখার ওপর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আসছে বিদেশি শ্রমিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৩৮ এম


রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আসছে বিদেশি শ্রমিক

বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে পুলিশ। ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগসহ একাধিক দপ্তর এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের প্রতারণা, কর ফাঁকি ও অর্থপাচার রোধ করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিদেশি কিছু নাগরিক এ দেশে নানামুখী প্রতারণায় জড়িত। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা স্ক্যামিং, অনলাইন জুয়া ও সাইবার প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাধে তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে। অনেকে অন-অ্যারাইভাল ভিসা অথবা ট্যুরিস্ট ভিসায় এসে অনুমোদনহীনভাবে এ দেশে কাজ করছেন। এসব বিদেশি শ্রমিক বিপুল অঙ্কের কর ফাঁকি দিচ্ছেন এবং অবৈধভাবে বিপুল অর্থ বিদেশে নিয়ে যাচ্ছে। এসব প্রতারণা, কর ফাঁকি ও অর্থপাচার প্রতিরোধে বিদেশি নাগরিকদের কিউআর কোড সংবলিত নিবন্ধনের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

গত ২৯ আগস্ট রাজারবাগ পুলিশ লাইনে পুলিশ সদর দপ্তর আয়োজিত কোয়াটারলি কনফারেন্সে প্রথম এই প্রস্তাব করেন বিশেষ শাখার (এসবি) তৎকালীন প্রধান। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, এসবি, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো। তবে এখনো কাজটি প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসবির একজন ডিআইজি বলেন, ‘কিউআর কোড সংবলিত রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম চালুর বিষয়ে কাজ চলছে। এতে বিদেশিদের নিরাপত্তা দেওয়া সহজ হবে এবং কেউ কোনো অপরাধে জড়ালে তাকে সহজে শনাক্ত করা যাবে।’

জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়া উদ্দিন আহমেদ আমার দেশকে বলেন, ‘দেশে কর্মরত বিদেশি শ্রমিক ও নাগরিকদের রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনার কাজটি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। এটা খুবই জরুরি।’

বর্তমানে কত বিদেশি শ্রমিক ও নাগরিক বাংলাদেশে অবস্থান করছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হালনাগাদ তথ্য আমাদের কাছে নেই। হালনাগাদ তথ্য চেয়ে আমরা পুলিশের বিশেষ শাখাসহ সংশ্লিষ্টদের চিঠি দিয়েছি। চিঠির জবাব পেলে জানা যাবে।’

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, ভারত, চীন ও নাইজেরিয়াসহ কয়েকটি দেশের নাগরিকরা বৈধ-অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ এলাকায় পুলিশ অভিযান চালায়। সেখানে চীন ও তাইওয়ানের কয়েকজন নাগরিক চারটি আবাসিক হোটেল ভাড়া নিয়ে রীতিমতো ল্যাব বানিয়ে সাইবার প্রতারণা ও অনলাইন জুয়ার ব্যবসা চালিয়ে আসছিল।

পুলিশ ওই চক্রের সদস্যদের মধ্যে চীনের ছয় নাগরিককে আটক করে। তাদের কাছ থেকে ১,৯৩৮টি আইফোন, ৪০টি ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, স্টারলিংক ডিভাইসসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ করে। তবে চক্রের অপর সদস্যরা গা ঢাকা দেয়। পরে তদন্তের মাধ্যমে ২৮০ বিদেশি নাগরিকের তালিকা করে ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে পাঠিয়ে তাদের পাসপোর্ট ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। এভাবে বিভিন্ন সময়ে নানা অপরাধের অভিযোগে বিদেশি নাগরিকরা গ্রেপ্তার হচ্ছে।

কাজের অনুমতি দেয় কারা

বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছে। তাদের অনেকেরই কাজের বৈধ অনুমতি নেই। কিন্তু এসব বিদেশির মাধ্যমে বিপুল অর্থ দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। আবার কর ফাঁকির কারণে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। বাংলাদেশে পাঁচটি কর্তৃপক্ষ বিদেশি শ্রমিকদের কাজের অনুমতি দিত। বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, বিদেশি কোম্পানির শাখা ও লিয়াজোঁ অফিসে কাজের অনুমতি দিত বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ড (বিডা)।

এছাড়া রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা), এনজিওতে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের জন্য এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো, অর্থনৈতিক অঞ্চলের আওতাধীন প্রযোজ্য বিনিয়োগ ও প্রতিষ্ঠানের বিদেশি কর্মী নিয়োগের অনুমতি দেয় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। আর হাইটেক পার্কের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি বিডা, বেজা ও পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ) এই তিনটি সংস্থা মিলে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ নামে নতুন দপ্তর গঠন করা হয়েছে। এখন বিডা ও বেজার পরিবর্তে আইবি বিদেশি নাগরিকদের কাজের অনুমতি দিয়ে থাকে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ বিদেশি কর্মীর নিরাপত্তা ছাড়পত্র (সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স) পরিচালনা করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর ভিসা ও অভিবাসনসংক্রান্ত কাজ করে। বাংলাদেশের বিদেশ দূতাবাস বা মিশন বিদেশি নাগরিকের ভিসা ইস্যু করে। বিজনেস ভিসা (বি-ভিসা) ও ট্যুরিস্ট ভিসায় (টি-ভিসা) আসা বিদেশিদের বাংলাদেশে কাজের সুযোগ নেই। এরপরও কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই এ দেশে অবস্থান করে অনেকেই কাজ করছেন। সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার না থাকায় তাদের সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।

হালনাগাদ তথ্য নেই

বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা কত—এ বিষয়ে হালনাগাদ পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের একজন কর্মকর্তা কিছুদিন আগের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আমার দেশকে জানান, বাংলাদেশে অবস্থানরত বৈধ বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ১ লাখ ৭১৬৭। এর মধ্যে ব্যবসা ও বিনিয়োগসংক্রান্ত ভিসায় এসেছেন ১০ হাজার ৪৮৫ জন, এমপ্লয়ি ভিসায় ১৪ হাজার ৩৯৯, স্টাডি ভিসায় ৬,৮২৭ এবং ট্যুরিস্ট ভিসায় এসেছেন ৭৫ হাজার ৪৫৬ জন। বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় নাগরিক। তাদের সংখ্যা ৩৭ হাজার ৪৬৪। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চীনের নাগরিক আছেন ১১ হাজার ৪০৪ জন।

ইনভেস্ট বাংলাদেশ-এর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘অনেকে বলে থাকেন, বাংলাদেশে ৪-৫ লাখ বিদেশি আছেন। যেহেতু অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা বা সংখ্যা আমাদের হাতে নেই, তাই বলা চলে এটা নিছক অনুমাননির্ভর।’

কারা কত অনুমতি দিয়েছে

সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, গত অর্থবছরে বিডা থেকে ১৫ হাজার ৮৯৮ বিদেশি নাগরিক নতুন অনুমতি ও নবায়ন করেছে। বেপজা থেকে ১,৮০০-এর বেশি এবং বেজা থেকে ১,৩৫০ জন অনুমতি নেন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি শ্রমিকের বর্তমান সংখ্যা ২০ হাজার ৯৮৮ জন। তবে সর্বশেষ আপডেট তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিদেশিদের আয়কর দেওয়া বাধ্যতামূলক

আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশে অবস্থান করে কাজ করলে আয়কর প্রদান ও কাজের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। এ-থ্রি ভিসায় বহু বিদেশি বাংলাদেশে এসে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করেন। ২০০৬ সালে করা ভিসা নীতিমালায় কাজের অনুমতি গ্রহণের শর্ত না থাকায় এ-থ্রি ভিসাধারীরা কাজের অনুমতি নেন না। এতে তাদের জন্য আয়কর ফাঁকি দেওয়া সহজ হয়। কাজের অনুমতিবিহীন বা মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসায় অবস্থানকারীরা যতদিনই অবস্থান করেন না কেন, মাত্র ৩০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে বাংলাদেশ ত্যাগ করতে পারেন। প্রদেয় করের চেয়ে জরিমানার হার কম হওয়ায় কেউ অনুমতি নেওয়ার প্রতি আগ্রহী হচ্ছে না।

সমন্বয়হীনতার সুযোগ নিচ্ছে

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর বা সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের সুযোগ সীমিত থাকা ও সমন্বয়হীনতার কারণে কাজের অনুমতিবিহীন বিদেশিরা দীর্ঘদিন বাংলাদেশে অবস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন। তারা পুরোনো পাসপোর্টের স্থলে নিজ নিজ দেশের ঢাকা দূতাবাস থেকে নতুন পাসপোর্ট নিয়ে দেশ ছাড়ছে এবং পুনরায় আসার সুযোগ পাচ্ছেন। কালো তালিকাভুক্ত বিদেশিরাও নতুন পাসপোর্ট ব্যবহার করে নতুনভাবে ভিসা নিয়ে প্রবেশ করছেন।

যা বললেন এসবি প্রধান

এসবি প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি কামরুল আহসান আমার দেশকে বলেন, ‘এসবিতে যোগ দিয়েছি ১৮ সেপ্টেম্বর। আগের এসবি প্রধান বিদেশি শ্রমিকদের নিবন্ধনের বিষয়ে প্রস্তাব করে থাকতে পারেন। বিষয়টি খোঁজ নিতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ বিদেশি শ্রমিকদের কাজের অনুমোদন দেয়। তারা এ বিষয়ে কাজ করছে। সেখানে রেগুলেশনে কিছু ঘাটতি আছে, সেই ঘাটতিগুলো পূরণে আমরা কাজ করছি। বিদেশিদের রেজিস্ট্রেশনের বিষয়টি অনেক জটিল। এটা চাইলেই হয়ে যাবে না।’

রেজিস্ট্রেশনের বিষয়টি ইতিবাচক

বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিদের রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনার পরিকল্পনাটি ইতিবাচক উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক আমার দেশকে বলেন, ‘অনেক দিন থেকেই এ ধরনের উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিলাম। বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশিদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য রেজিস্ট্রেশন থাকাটা জরুরি। একটি কিউআর কোড সিস্টেম থাকলে সেখানে তার প্রাথমিক বায়োডাটা সংযুক্ত করা যায়। এতে তিনি কোন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, কোথায় অবস্থান করেন সহজেই তা জানা সম্ভব।

তিনি আরো বলেন, রেজিস্ট্রেশন থাকলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও সহজে নিরাপত্তা বিধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারবে। আবার বিদেশি নাগরিকদের কেউ অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তাকেও সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। রেজিস্ট্রেশনের মধ্যে থাকলে বিদেশিরাও অপরাধ করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন।

এই সমাজবিজ্ঞানী আরো বলেন, ‘বিদেশি নাগরিকরা একাই সহজে অপরাধে জড়াতে পারেন না। তাদের সঙ্গে দেশীয় চক্র বা সহযোগী থাকে। বিদেশিরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরদারির মধ্যে থাকলে তাদের বাংলাদেশি সহযোগীরাও সতর্ক হয়ে যাবে। সুন্দর রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম থাকলে দুপক্ষই উপকৃত হবে।’

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘ফ্রম রাশিয়া উইথ লাভ’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৩৯ এম


‘ফ্রম রাশিয়া উইথ লাভ’

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার আগ্রাসনে বাংলাদেশসহ ২৯টি দেশের নাগরিকদের ব্যবহার করা হচ্ছে বলে সম্প্রতি জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন তথ্য প্রকাশ করেছে। এই পরিস্থিতিতে আমাদের নীরবতা আশ্চর্য।

কিছু বলারও সাহস নেই। রাশিয়াকে কিছু বলা যেন নিষিদ্ধ।

কালের পরিবর্তন কতটা আশ্চর্যজনক! আশি ও নব্বই দশকে বাংলাদেশের কিছু ধর্মপ্রাণ তরুণ ফিলিস্তিনিদের পক্ষে লেবাননে এবং মার্কিন ও রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে আফগানিস্তানে জনগণের জন্য লড়াই করেছিলেন। রাষ্ট্র, মিডিয়া এবং সুশীল সমাজ তাদের ‘জঙ্গি’ ও ‘মৌলবাদী’ আখ্যা দিয়েছিল। দেশে ফিরে আসার পর তাদের জেলে যেতে হয়েছিল। তাদের পরিবারগুলোকে সামাজিকভাবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

বর্তমানে সমাজ, অর্থনীতি এবং নৈতিকতার পরিবর্তনে আমরা অস্থির সময় পার করছি। বেকারত্বের হাত থেকে বাঁচতে প্রবাসী হওয়ার স্বপ্নে বিপর্যয় ঘটতে শুরু করেছে। বাংলাদেশিরা ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে প্রাণ হারাচ্ছেন। মালয়েশিয়ার জঙ্গলে আটকে আছেন; ইউরোপের বন্দিশিবিরে বন্দি, মধ্যপ্রাচ্যে নারী প্রবাসীরা শোষণের শিকার হচ্ছেন। প্রতিদিন এয়ারপোর্টে প্রতারণার শিকার প্রবাসীরা ফিরে আসছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন। প্রবাসীদের পাঠানো টাকায় রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ডলারের বড় মজুত তৈরি হচ্ছে, গ্রামে গ্রামে পাকা বাড়ি উঠছে। অনেক পরিবার তাদের দ্বারা টিকে আছে।

রাশিয়ায় বাংলাদেশিদের চাকরির নামে নিয়ে গিয়ে যুদ্ধে পাঠানোর কিছু রিপোর্ট সামনে এসেছে। তবে জাতিসংঘের ইউক্রেনবিষয়ক স্বাধীন তদন্ত কমিশনের চলতি সপ্তাহের প্রতিবেদনে ৪৮টি দেশের নাগরিকদের রুশ সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে ২৯টি দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রতারণা বা জোরাজুরির প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের চাকরি এবং উঁচু বেতনের লোভ দেখিয়ে রাশিয়া নেওয়া হয়েছিল। তাদের বহিরাগমনে সরকারও অনাপত্তি সার্টিফিকেট দিয়েছে। সংবাদপত্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত তিন বছরে ৫৪ বাংলাদেশি রণাঙ্গনে নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৭ জনের মৃত্যু ঘটেছে যুদ্ধের প্রথম দিনে। মাত্র কয়েক দিনের সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের সম্মুখসারিতে পাঠানো হয়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও প্রবাসী মন্ত্রণালয় প্রবাসীদের স্বার্থরক্ষায় যথেষ্ট তৎপর। কিন্তু প্রবাসীরা সন্তুষ্ট নন। মধ্যপ্রাচ্যসহ অনেক দেশে প্রবাসীদের দুর্ভোগে আমরা সোচ্চার। বিশেষত মুসলিম দেশগুলোর ক্ষেত্রে আমরা সচেতন। ত্রিশ লাখেরও বেশি প্রবাসী যেই সৌদি আরবে, সেখানে সম্প্রতি দুই বাংলাদেশি নাগরিকের শিরশ্ছেদ নিয়ে মিডিয়া ও সুশীল সমাজের উদ্বেগে আমরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে জিজ্ঞেস করা হয়, তাদের বিষয়ে বাংলাদেশকে কেন আগে জানানো হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোতে নারী কর্মীদের নিয়ে আমাদের উৎকণ্ঠা যুক্তিসংগত। মিডিয়াতে এর প্রতিফলন ঘটে। কিন্তু রাশিয়ার ব্যাপারে আমাদের নীরবতা কেন? সেখানে বাংলাদেশিদের জোর করে যুদ্ধে নামানো হচ্ছে। কিন্তু আমরা প্রতিবাদ বা রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করছি না কেন? বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়া সফর শেষে বলেছিলেন, সে দেশে জনশক্তি রপ্তানির উল্লেখযোগ্য বাজার আছে। মনে পড়ে যায়—জেমস বন্ডের একটি নামকরা সিনেমা ছিল! ফ্রম রাশিয়া উইথ লাভ।

বাংলাদেশে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অনুগামী একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠী রয়েছে। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারকে পুতিন শুধু সহায়তা করেননি; বরং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে নজিরবিহীন দুর্নীতি ঘটাতে সাহায্য করেছেন। এর অর্ধেক খরচে রাশিয়া ভারতে একই ক্ষমতার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেছে। রূপপুর অচিরেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে, সেখানে অনেক রুশ বিশেষজ্ঞ কর্মরত। সেজন্যই কি রাশিয়ার অমানবিকতা নিয়ে আমরা প্রশ্ন তুলছি না? সৌদি আরবের মতো ঘনিষ্ঠ বন্ধুর রাষ্ট্রদূতকে তলব করতে পারলে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত কেন তলবের অযোগ্য হয়ে পড়লেন? ওই বাংলাদেশিদের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরানোর কাজটি জরুরি ভিত্তিতে করা উচিত। নিহতদের লাশও আমরা পাই না। ইসলাম ধর্মে জীবিত বা মৃত উভয়ের গুরুত্ব ও মর্যাদা সমান। আজ যদি ইউক্রেন-রাশিয়া সীমান্তে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন থাকত এবং বাংলাদেশি কোনো সৈন্যের প্রাণহানি ঘটত, তবে তার প্রত্যাবর্তন ও দাফন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় হতো।

ইসরাইল, আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে মুসলমানদের যুদ্ধে একসময় ধর্মপ্রাণ বাংলাদেশের তরুণরা জান বাজি রেখে লড়েছিল। পূর্ববঙ্গের বাংলাভাষী মুসলিম সমাজ যে ‘মার্শাল রেইস’ তার প্রমাণ সিপাহি বিদ্রোহে ‘বেঙ্গল ল্যানচার্স’-এর ভূমিকা, প্রথম যুদ্ধে বাঙালি পল্টন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তাদের রণ-নৈপুণ্য, ১৯৪৮ সালে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের পত্তন, ১৯৬৫ সালে ভারতের বিরুদ্ধে বেঙ্গল টাইগারদের বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধ, একাত্তর সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল শক্তি হিসেবে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের নেতৃত্ব।

বাংলাদেশের বীর সৈনিক সাবেক এমপি গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) সাইফুল আযম ইসরাইলের ওপর বিমান হামলায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশকে গর্বিত করে গেছেন। কিছু পশ্চিমা সরকার মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য কয়েকজনের নাগরিকত্ব বাতিল করেছে।

কথা হচ্ছে, নৈতিক ও স্বেচ্ছা যুদ্ধের পাশাপাশি জোর করে অনৈতিক যুদ্ধে ঠেলে দেওয়া এক নয়। একসময় নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘হরকাতুল জিহাদ’-এর কিছু তরুণ ওইসব যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তাদের তখন বলা হতো মুজাহিদ—অর্থাৎ যারা জিহাদ করেন। জিহাদ শব্দটি জুহদ ধাতু থেকে এসেছে। অর্থ হচ্ছে পরিশ্রম ও কষ্ট স্বীকার করা। তাই জিহাদের সংজ্ঞা হচ্ছে, প্রকাশ্যে কিংবা অপ্রকাশ্যে দুশমনের আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য নিজের পূর্ণ শক্তি ব্যয় করা। ইসলামের মূল উদ্দেশ্য দুনিয়ায় সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা এবং অসত্য ও অন্যায়ের বিলোপ সাধন। আমর বিল মা’রুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার।

প্রতিটি আনুগত্যের জন্য একটি বিদ্রোহ, প্রতিটি মিত্রতার জন্য একটি শত্রুতা এবং প্রতিটি বিনয়ের জন্য একটি দাম্ভিকতা ও অহংকার অপরিহার্য। আপনি কোনো এক মালিকের চাকর হতেই পারেন না, যতক্ষণ অন্যসব মালিকের মালিকানা অস্বীকার না করেন। সুতরাং আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর আনুগত্যের জন্য প্রথম কাজই হচ্ছে, যা ছাড়া আর যত শক্তি তাদের আনুগত্যের জন্য ডাকছে, সবার সঙ্গে বিদ্রোহ ঘোষণা করা। (যে সত্যের মৃত্যু নেই : ভারতের অন্যতম বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মরহুম মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, ভাষান্তর : আখতার ফারুক)।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মৌলবাদী রাজনীতির গ্রহণযোগ্যতা নেই, তেমনি ‘হরকাতুল জিহাদ’-এর অনেক কর্মকাণ্ড সমর্থনযোগ্য ছিল না। আশ্চর্যের বিষয় হলো, হরকাতুল জিহাদ প্রতিষ্ঠার সময় যেসব কারণ উল্লেখ করা হয়েছিল, সেসবের একটি ছিল, হাইকোর্ট কর্তৃক ফতোয়াকে নিষিদ্ধ করা। ওই বিতর্কিত রায়টি দিয়েছিলেন এমন এক মরহুম বিচারপতি, যার পূর্বকালের রাজনীতি ছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের আদর্শকেন্দ্রিক। এই মানসিকতার অভিজাত সমাজ এখনো আছে। তাদের গ্যাঁড়ামি এমন ছিল যে, বিলুপ্ত জাতীয় দৈনিক ‘দৈনিক বাংলা’য় কাজ করতেন ওই সময় এক সিনিয়র সহ-সম্পাদক। সোভিয়েত নেতা গর্বাচেভ যেদিন ‘পেরেস্ত্রোইকা’ ও ‘গ্লাসনস্ত’-এর ঘোষণা দিলেন, ওই খবরটি আর পরদিন দৈনিক বাংলায় ছাপা হলো না। কী ব্যাপার? অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো ওই সিনিয়র সাংবাদিকের হাতে পড়েছিল টেলিপ্রিন্টারে আসা খবরটির স্লাগ বা কাগজটি। তিনি মনে করলেন, মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি সাম্রাজ্যবাদী প্রচারণার অংশ হিসেবে গর্বাচেভের বরাতে ভুয়া নির্দেশ করেছে। গরবাচেভ তো তাদের চোখে সোভিয়েতের বেঈমান। অতঃপর আমাদের ওই ভাই বোগাস বলে স্লাগটি ছিঁড়ে ফেলে দিলেন। কাউকে কিছু জানালেন না।

লেখক: জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও

উইকলি ইকোনমিক টাইমস সম্পাদক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%