প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইউরোপের বিভিন্ন দেশের জন্য ভারতের অস্ত্র ও গোলাবারুদ রপ্তানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যুদ্ধের প্রথম চার বছরে, ভারত ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ৮৭ কোটি ২০ লাখ ডলারের গোলাবারুদ ও সংশ্লিষ্ট পণ্য রপ্তানি করেছে। পূর্ববর্তী চার বছরে এই রপ্তানির পরিমাণ ছিল মাত্র ৪ কোটি ৯২ লাখ ডলার।
ভারতের প্রতিরক্ষা খাতের এই অগ্রগতির পেছনে ইউরোপের দেশগুলোর সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের চাহিদা বৃদ্ধি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণের পর, ইউরোপের দেশগুলো নিজেদের সামরিক মজুত বাড়াতে এবং ইউক্রেনকে সহায়তা অব্যাহত রাখতে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ বৃদ্ধি করেছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্লুমবার্গের প্রকাশিত বাণিজ্যসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে ডিফেন্স নিউজ এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে।
প্রতিরক্ষা রপ্তানিতে ভারতের রেকর্ড
ভারত মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের ১৩টি দেশে গোলাবারুদ ও সংশ্লিষ্ট পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার পরেই অবস্থান করছে। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানির এই সম্প্রসারণ ইউরোপের অস্ত্র বাজারে দেশটির উপস্থিতি বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলা শুরু হওয়ার পর ইউরোপের দেশগুলো সামরিক প্রস্তুতি জোরদারে মনোযোগ দেয়। এর ফলে কামানের গোলা ও অন্যান্য গোলাবারুদের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে নিজেদের মজুত পুনর্গঠন এবং ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রয়োজনও রয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘রিআর্ম ইউরোপ’ উদ্যোগ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টাকে আরো ত্বরান্বিত করেছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিরক্ষা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন রপ্তানি বাজার তৈরি হয়েছে।
ভারতের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা রপ্তানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিংয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের প্রতিরক্ষা পণ্য রপ্তানি বেড়ে রেকর্ড ৩৮ হাজার ৪২৪ কোটি রুপি হয়েছে। আগের অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ২৩ হাজার ৬২২ কোটি রুপি।
বর্তমানে ৮০টির বেশি দেশে প্রতিরক্ষা পণ্য রপ্তানি করে ভারত। দেশটির নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে এই সম্প্রসারণের সম্পর্ক রয়েছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউরোপে সামরিক সরঞ্জামের চাহিদা বৃদ্ধি ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য বড় রপ্তানি সুযোগ তৈরি করেছে। তবে, এই বাজারে ভারতের অবস্থান কতটা শক্তিশালী হবে, তা নির্ভর করবে উৎপাদন সক্ষমতা, সরবরাহের ধারাবাহিকতা এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাহিদা ধরে রাখার ওপর।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন