বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:২৩ পি.এম
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী রহমতপুর এলাকায় রামগড় ব্যাটালিয়নের (৪৩ বিজিবি) অধীনস্থ নবনির্মিত ‘রহমতপুর বিওপি’ উদ্বোধন করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে বিওপিটি উদ্বোধন করেন।
এ সময় বিজিবি মহাপরিচালক মন্তব্য করেন, ফেনী নদীর অববাহিকা ও পার্বত্য ভূপ্রকৃতির কারণে রহমতপুর সীমান্ত এলাকা ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, এ এলাকায় বিজিবির স্থায়ী উপস্থিতি ও নজরদারি জোরদারের মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা আরো সুসংহত হবে।
নতুন এই বিওপি প্রতিষ্ঠার ফলে ফেনী নদীপথ ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি, চোরাচালানের সম্ভাব্য রুট নিয়ন্ত্রণ এবং মাদক, অস্ত্রসহ অবৈধ পণ্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলেও জানান তিনি।
বিওপি উদ্বোধন শেষে বিজিবি মহাপরিচালক পানছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩ বিজিবি) পরিদর্শন করেন এবং চট্টগ্রাম বিজিবি রিজিয়নের আওতাধীন সব সেক্টর, ব্যাটালিয়ন, বিওপি ও ক্যাম্পে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও টেলিকনফারেন্সের (ভিটিসি) মাধ্যমে মতবিনিময় করেন।
এ সময় তিনি বিজিবির অপারেশনাল, প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।
বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলসহ দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সদস্যরা দিনরাত অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিকূল পরিবেশ ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দক্ষতা, সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল বিজিবি সদস্যকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি মাদক ও অস্ত্রসহ অবৈধ পণ্যের চোরাচালান, অবৈধভাবে সার মজুদ ও পাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশ-ইন প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নভেম্বর মাস থেকে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণের জন্যও তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে বিজিবি মহাপরিচালক জামিনীপাড়া ব্যাটালিয়ন (২৩ বিজিবি) এর অধীনস্থ বগাপাড়া বিওপি ও রাঙ্গামাটি সেক্টরের অধীনস্থ রাজনগর ব্যাটালিয়ন (৩৭ বিজিবি) পরিদর্শন করেন এবং দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করে তাদের দায়িত্ব ও সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
বিজিবি মহাপরিচালকের এ পরিদর্শনকালে বিজিবি সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন ও প্রশিক্ষণ), চট্টগ্রাম রিজিয়ন কমান্ডার, বিজিবি গুইমারা, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি সেক্টরের সেক্টর কমান্ডাররা, সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়নসমূহের অধিনায়ক এবং বিজিবির অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটিতে কুয়েতে হামলা করেছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, তারা ওই ঘাঁটির কমান্ডার এবং তার আবাসিক এলাকা ও কমান্ড পোস্টে সফলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে
তাসনিম নিউজ এজেন্সির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার ভোরে আলী আল-সালেম ঘাঁটিতে পরিচালিত এই হামলা ইরানের বৃহত্তর সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আইআরজিসি দাবি করেছে যে, এই হামলার মাধ্যমে তারা ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর গতিবিধি সম্পর্কে সম্পূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য অর্জন করেছে। তবে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটির কমান্ডারের বর্তমান অবস্থান বা হামলায় তিনি হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে যুব উন্নয়ন বিভাগের ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে।
এই তথ্য বুধবার বিকালে সংস্থাটির মুখপাত্র আকতারুল ইসলাম গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করেছেন।
এদিকে, আজ বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্যরা হলেন- যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য ইতোমধ্যে একটি চার সদস্যের টিম গঠন করা হয়েছে।
দুদকের মুখপাত্র প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেছেন যে, তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
এর আগে, আসিফ মাহমুদের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করেছে দুদক। ক্ষমতার প্রভাব খাঁটিয়ে তদবির-বাণিজ্য এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে প্রায় ১১ মাস অনুসন্ধানের পর গত ফেব্রুয়ারিতে অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হায়দরাবাদের ১৫টি বিধানসভা আসনে সম্প্রতি পরিচালিত ‘স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন’ (এসআইআর) বা বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন কর্মসূচির পর খসড়া তালিকা থেকে ১৯ লাখ ৪১ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য একটি প্রাথমিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে, যা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সাবাড় ইনস্টিটিউট’-এর দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। সাবির আহমেদ, সৌপ্তিক হালদার ও আশিন চক্রবর্তীর যৌথ পরিচালনায় এই সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে ৪০.৭ শতাংশই মুসলিম নামধারী।
গবেষণায় উঠে এসেছে যে, তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের ৯২ শতাংশই বাস্তবে জীবিত। এদের মধ্যে ৬৯.৩ শতাংশের ক্ষেত্রে ‘স্থায়ীভাবে বাসস্থান পরিবর্তন’ এবং ১৭.৭ শতাংশের ক্ষেত্রে ‘অনুপস্থিত বা সন্ধানহীন’ হিসেবে কারণ দেখানো হয়েছে।
হায়দরাবাদের প্রতিটি পোলিং বুথ থেকে গড়ে ৫ শতাধিক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ইয়াকুতপুরা বিধানসভা কেন্দ্রের ২৯৭ নম্বর বুথে সর্বোচ্চ ১,০৬৯ জন ভোটারের নাম বাদ পড়ে, যার মধ্যে ৫৩৫ জনই নারী এবং এদের ৫২৭ জনই জীবিত।
সমীক্ষা অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে ইয়াকুতপুরা ও মালাকপেট অন্যতম। এই দুটি আসনে ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মোট প্রদত্ত ভোটের চেয়েও বেশি সংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে—যা মালাকপেটে ১১২% এবং ইয়াকুতপুরায় ১১০%। উল্লেখ্য, দুটি আসনই 'অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন' (এআইএমআইএম)-এর দখলে রয়েছে।
সমীক্ষায় দেখা যায়, ১৫টি আসনে বাদ পড়া মোট ভোটারের ৪০.৭% মুসলিম নামধারী। সিকান্দারাবাদ ক্যান্টনমেন্টে এই হার সর্বনিম্ন ১২.১% হলেও বাহাদুরপুরায় তা সর্বোচ্চ ৮৫.৯%। তবে গবেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন থেকে ধর্মভিত্তিক আলাদা কোনো সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হয় না; ফলে নামের ওপর ভিত্তি করেই তারা এই বিন্যাস করেছেন। বাদ পড়া মুসলিম ভোটারদের মধ্যে ৬৩.৮% ‘স্থানান্তরিত’ এবং ১৯.৮% ‘অনুপস্থিত/সন্ধানহীন’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।
এছাড়া, মোট ১৯.৪১ লাখের মধ্যে ৯.২৮ লাখ নারী ভোটারের নাম কাটা গেছে, যা মোট বাদ পড়া সংখ্যার প্রায় ৪৭.৮ শতাংশ।
কেবল হায়দরাবাদেই নয়, পুরো তেলেঙ্গানা রাজ্যজুড়েই এই ভোটার তালিকা সংশোধন কর্মসূচির বড় প্রভাব পড়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশোধিত খসড়া তালিকা থেকে রাজ্যজুড়ে প্রায় ৭৩ লাখ ৩৯ হাজার ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা রাজ্যের মোট ভোটার সংখ্যার প্রায় ২১.৭০ শতাংশ।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, এই বাদ পড়াদের মধ্যে ৯.২২ লাখ মৃত, ১১.২৫ লাখ অনুপস্থিত, ৪৫.১৮ লাখ স্থানান্তরিত এবং ৬.৭০ লাখ একাধিক স্থানে নিবন্ধিত ভোটার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর হাতিয়ায় ঘূর্ণিঝড়প্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর দুর্যোগ প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে (ইভিসিআর) প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাসেল ইকবাল।
সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান , উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুদল জাব্বার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সালাউদ্দিন শিকদারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়াও প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস) এবং পার্টিসিপেটরি রিসার্চ এন্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক- প্রান এর কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।
অবহিতকরণ সভায় জানানো হয় যে, চর কিং ইউনিয়ন এবং চর ইশ্বর ইউনিয়নে প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন দুর্যোগ প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চর ইশ্বর ইউনিয়নের ৩টি এবং চর কিং ইউনিয়নের ৩টিসহ মোট ৬টি সাইক্লোন শেল্টারের ক্ষুদ্র মেরামত কার্যক্রম, ওয়াশ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার মেরামত, শেল্টারভিত্তিক সোলার ব্যবস্থা এবং ৪টি সাইক্লোন শেল্টার সংলগ্ন সংযোগ সড়ক মেরামত করা হবে।
এছাড়াও যুব সদস্যকে নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল পুনঃগঠন করা হবে এবং তাদের দুর্যোগ প্রস্তুতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা, স্থানীয় পর্যায়ে ঘূর্ণিঝড়ের আগাম সতর্কতামূলক বার্তা প্রচারের জন্য বিলবোর্ড স্থাপনসহ বেশকিছু কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হবে।
সভায় বক্তারা বলেন, ঘূর্ণিঝড়প্রবণ হাতিয়া উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগাম প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশের সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস) এবং পার্টিসিপেটরি রিসার্চ এন্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক- প্রান। সভায় সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা প্রকল্পের কার্যক্রম সফল বাস্তবায়নে সহযোগিতা ও সমন্বয়ের আশ্বাস প্রদান করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ