ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বর্জ্য অপসারণে অতিরিক্ত টাকা নিলে ঠিকাদারদের টেন্ডার বাতিল: ডিএসসিসি প্রশাসক


বর্জ্য অপসারণে অতিরিক্ত টাকা নিলে ঠিকাদারদের টেন্ডার বাতিল: ডিএসসিসি প্রশাসক

বাসাবাড়ির বর্জ্য অপসারণে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং অনিয়ম হলে ঠিকাদারদের টেন্ডার বাতিল হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।

শুক্রবার (৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর শান্তিনগর বাজারে অনুষ্ঠিত ‘ক্লিনিং ডে’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

অক্সিজেন গ্রহণের জন্য গাছ রোপণের ওপর তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘যার যার বাড়ির সামনে রাস্তা পরিষ্কার রাখতে হবে। মার্কেটগুলোর কাছে রাস্তার মাঝখানে আবর্জনা ফেলতে দেওয়া হবে না। তাদেরকে বিনামূল্যে ময়লা ফেলতে নির্দেশনা দিয়েছি। আমরা একটি সময় নির্ধারণ করে দিয়েছি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ময়লা ফেলতে হবে।’

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী আজ খুলনা ও বাগেরহাট সফরে, অংশ নেবেন সরকারি কর্মসূচিতে

তিনি এই প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে আজ হকার বসছে, কিন্তু তারা ময়লা পরিষ্কার করছে না। তাদেরও নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলতে হবে।’

বাসাবাড়ির ময়লা নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ পেয়েছেন উল্লেখ করে আবদুস সালাম বলেন, ‘আবার কোথাও কোথাও অভিযোগ এসেছে যে তারা বেশি টাকা নিচ্ছে। যারা এমন কর্ম ഇന്ന് অব্যাহত রাখবে, আগামীতে তাদের টেন্ডার দেওয়া হবে না।’

ডেঙ্গুর বিষয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ডে জরিপ করার কথা জানিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘জরিপে ৬৫ শতাংশ বাড়িতে লার্ভা পাওয়া গেছে। আমরা নতুন ওষুধ সরবরাহ করছি। এই নতুন ট্যাবলেট যেসব জায়গায় সম্ভব হচ্ছে না সেখানে সরবরাহ করা হচ্ছে। ডেঙ্গু রোগীদের সেবা প্রদান করার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে প্রস্তুতি নিয়েছি।’

আরও পড়ুন: ইশরাক ‘পোষ্য কোটায়’ রাজনীতিতে এসেছেন, অভিজ্ঞতা কম: নিলোফার মনি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুর সিটি নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ফজলুর রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫৮ এম


গাজীপুর সিটি নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ফজলুর রহমান

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী হিসেবে মাওলানা ফজলুর রহমান-এর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয়েছে। তিনি দলের গাজীপুর মহানগরের সহ-সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য।

এই ঘোষণা দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, যিনি দলের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম ও পীর সাহেব চরমোনাই-র পক্ষে এই নির্দেশনা দিয়েছেন।

মাওলানা ফজলুর রহমান হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ, গাজীপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক।

তিনি জামিয়া খালিকিয়্যাহ দারুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম এবং শায়খুল হাদীস হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি তামাশা করার চেষ্টা করছে: মামুনুল হক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:০২ এম


জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি তামাশা করার চেষ্টা করছে: মামুনুল হক

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেখা যাচ্ছে দেশে এক নতুন বিএনপিকে, যারা বিপ্লবের সুবিধাভোগী হয়েও উল্টো সেই বিপ্লবের পিঠে ছুরিকাঘাত করতে উদ্যত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন যে, বিএনপি জুলাই সনদকে তামাশায় পরিণত করার চেষ্টা করছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত একটি নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কুমিল্লা মহানগর ও পূর্ব জেলা শাখা যৌথভাবে এই সমাবেশের আয়োজন করে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ‘প্রতিটি বৈষম্যবিরোধী ও ফ্যাসিবাদবিরোধী ধারার সঙ্গে নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত দিয়ে বিএনপি জুলাই সনদকে তামাশায় পরিণত করার চেষ্টা করেছে। দীর্ঘ নয় মাস পর যে সনদ চূড়ান্ত হয়েছে, সেখানে বিএনপির আপত্তির কারণে তাদের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডাগুলো নোট অব ডিসেন্টে চলে গেছে, মূল সনদে স্থান পায়নি। দেশের সব দলের ঐকমত্য থাকলেও কেবল একটি দলেরই সব ধারা-উপধারার সঙ্গে দ্বিমত রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা চেয়েছিল ২০০৬ সালের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে, যেন বাংলাদেশের মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলার আর কোনো মুখ না থাকে। আমরা যখনই এসব সত্য জাতির সামনে তুলে ধরছি, তখন বর্তমান সরকার আমাদের পেছনে আমাদেরই ভাইদের লেলিয়ে দিচ্ছে। জনগণের পক্ষে আমাদের এই জোরালো অবস্থানকে দুর্বল করার পাঁয়তারা চলছে। আপনাদের এই ষড়যন্ত্র সফল হবে না, জনগণ তা ব্যর্থ করে দেবে।’

কুমিল্লা পূর্ব জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা অলিউল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কুমিল্লা মহানগর খেলাফত মজলিসের সহ-সভাপতি মাওলানা আমানুল্লাহ মুন্সী, সহ-সভাপতি মাওলানা আবুল বাশার, খেলাফত ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম, দেবিদ্বার উপজেলা খেলাফত মজলিসের সহ-সভাপতি মো. মোফাজ্জল হোসেন, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাবিদ নওরুজ শাহ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘আমেরিকার মৃত্যু’ ও ‘প্রতিশোধের’ স্লোগানে উত্তাল তেহরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:০৩ এম


‘আমেরিকার মৃত্যু’ ও ‘প্রতিশোধের’ স্লোগানে উত্তাল তেহরান

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে জড়ো হওয়া হাজারো শোকাহত মানুষের কণ্ঠে ‘আমেরিকার মৃত্যু’ এবং ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ স্লোগান ধ্বনিত হচ্ছে।

খামেনির জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। আজ শনিবার (৪ জুলাই) সকালে রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্স ও এর আশপাশের এলাকায় জনসমুদ্র তৈরি হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সমবেত হওয়া শোকাহত ইরানিরা লাল পতাকা বহন করছেন। উল্লেখ্য, ইরানে লাল পতাকাকে সাধারণত প্রতিশোধের আহ্বানের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

অনুষ্ঠান শুরুর আগে আজ শনিবার (৪ জুলাই) ভোর থেকেই কমপ্লেক্সের প্রধান প্রাঙ্গণ মানুষের ঢলে ভরে যায়। এ সময় শোকাহত ইরানিরা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী এবং প্রতিশোধের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

এদিকে তেহরানের বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনের বাইরে হাজারো মানুষকে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। এরপর, মেট্রো চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা গ্র্যান্ড মোসাল্লার উদ্দেশে রওনা হন, যাতে খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন।

৮৬ বছর বয়সি খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আগ্রাসনের প্রথম দিন নিহত হন। ওই হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান। ওই সময় তিনি তেহরানে তার আবাসিক ভবনে ছিলেন।

গত মার্চে খামেনির দাফন হওয়ার কথা ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে তীব্র সংঘাতের কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। যুদ্ধবিরতির অবসরে চার মাস পর রাষ্ট্রীয়ভাবে তার জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। খামেনির দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সাত দিন ধরে চলবে যা গত শুক্রবার (৩ জুলাই) শুরু হয়েছে।

খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে যারা অংশ নিচ্ছেন তাদের মধ্যে যথেষ্ট বিশাল সংখ্যক শোকাহত মানুষের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারাও রয়েছেন।

ইরানি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে ইরাকের প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্টের স্পিকার, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, সিনেট চেয়ারম্যান ও সেনাপ্রধান, আফগানিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট তেহরানে উপস্থিত হয়েছেন।

আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী, কাতারের শুরা কাউন্সিলের স্পিকার, ওমানের স্টেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, ইয়েমেনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মিসরের সিনেট স্পিকার শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন।

এছাড়া আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের মধ্যে রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান (বিশেষ দূত হিসেবে), চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, বেলারুশের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার, জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট, সার্বিয়ার তথ্য ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী, তুর্কমেনিস্তানের জাতীয় নেতা, উজবেকিস্তানের পার্লামেন্ট স্পিকার, কাজাখস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, কিরগিজস্তানের পার্লামেন্ট স্পিকার, ভারতের একটি অঙ্গরাজ্যের গভর্নরের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার, মালয়েশিয়া ও মিয়ানমারের বিশেষ দূত, থাইল্যান্ডের শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, বুরকিনা ফাসো, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, নামিবিয়া এবং নিকারাগুয়ার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত রয়েছেন।

আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর মধ্যে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও), ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং ডেভেলপিং-৮ (ডি-৮)-এর প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছেন।

এছাড়া ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ, হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের বিভিন্ন গোষ্ঠী, লেবাননের রাজনৈতিক দল, ফিলিস্তিনি ধর্মীয় আলেমদের সংগঠন এবং বুলগেরিয়ার রাজনৈতিক প্রতিনিধিদলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতারাও খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানে উপস্থিত হয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যাত্রীসেবা বাড়াতে রেলে কোচের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:০৭ এম


যাত্রীসেবা বাড়াতে রেলে কোচের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে

বাংলাদেশ রেলওয়ের লোকোমোটিভ ও কোচ (ক্যারেজ) সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে নতুন রেলপথ নির্মাণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত লোকোমোটিভ ও ক্যারেজ সংগ্রহের মাধ্যমে যাত্রীসেবা সম্প্রসারণে সরকার সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে রেলওয়েকে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও জনবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থায় রূপান্তরের লক্ষ্যে বিভিন্ন স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে রেলওয়ের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো লোকোমোটিভ ও ক্যারেজের ঘাটতি। এ কারণে যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। নতুন রেললাইন নির্মাণ হলেও পর্যাপ্ত ইঞ্জিন ও কোচের অভাবে অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে নতুন লোকোমোটিভ ও ক্যারেজ সংগ্রহের বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ক্রয় প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান। তিনি জানান, ভারত থেকে প্রায় ২০০টি ব্রডগেজ কোচ ও লোকোমোটিভ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এগুলো হাতে আসলে ব্রডগেজ লাইনে বিদ্যমান সংকট অনেকটাই দূর হবে। তবে মিটারগেজ অঞ্চলে এখনও বড় ধরনের চাপ রয়েছে। মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহ না হওয়া পর্যন্ত ওই অঞ্চলে যাত্রীসেবায় কাঙ্ক্ষিত উন্নতি সম্ভব হবে না। আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে নতুন লোকোমোটিভ সংগ্রহের উদ্যোগ বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেন। হাবিবুর রশিদ বলেন, ভবিষ্যতে নতুন রেললাইন নির্মাণের সঙ্গে সমন্বয় করেই লোকোমোটিভ ও কোচ সংগ্রহ করা হবে, যাতে রেলপথ চালুর সঙ্গে সঙ্গেই পূর্ণাঙ্গ যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা যায়। নারায়ণগঞ্জ-কুমিল্লা কর্ড লাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) চলছে। একইসঙ্গে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া নতুন রেললাইন প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার কাজও চলমান রয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মধ্যে যাতায়াতের সময় ও দূরত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। তিনি আরও জানান, রাজধানী ঢাকার সঙ্গে আশপাশের জেলার রেল যোগাযোগ জোরদারে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও ভাঙ্গাসহ আশপাশের এলাকায় কমিউটার ট্রেন সার্ভিস সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে মানুষ সকালে ঢাকায় এসে কাজ শেষে আবার বিকেলে নিজ গন্তব্যে ফিরতে পারেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, পূর্বে আমদানিকৃত ডেমু ট্রেনগুলোর ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়েও সরকার নতুনভাবে চিন্তা করছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় মেরামতের পরিকল্পনা থেকে সরে এসে বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে এগুলো সচল করার সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। রেলওয়ের আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্টেশনকে বাণিজ্যিকভাবে আরও উন্নত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ বিভাগীয় ও গুরুত্বপূর্ণ জংশন স্টেশনগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে আধুনিক যাত্রীসেবা, উন্নত অপেক্ষাকক্ষ, বাণিজ্যিক সুবিধা এবং স্টেশন ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করা হবে। ভবিষ্যতে নতুন লোকোমোটিভ ও কোচে যাত্রীদের জন্য ইন্টারনেট সুবিধা চালুর বিষয়েও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রেলওয়ের অব্যবহৃত জমি ও অবকাঠামো ব্যবহার করে বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে প্রথমে রেলের নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করা হবে এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে আয় ভাগাভাগির ব্যবস্থা করা হবে। সারাদেশের রেল লেভেল ক্রসিং আধুনিকায়নের কাজ শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। এ ছাড়া যানজট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ রেলক্রসিংগুলোতে আন্ডারপাস ও ওভারপাস নির্মাণের জন্যও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হচ্ছে ধীরে ধীরে পুরো রেল নেটওয়ার্ককে ব্রডগেজে রূপান্তর করা। যেখানে প্রয়োজন সেখানে ডুয়েল গেজ রাখা হবে। এতে পরিচালন ব্যয় কমবে এবং রেল পরিচালনা আরও সহজ ও কার্যকর হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার দাঁড়িয়ে যাতায়াতের (স্ট্যান্ডিং টিকিট) এ ব্যবস্থাকে সমর্থন করে না। কিন্তু অতিরিক্ত যাত্রীচাপের কারণে বাধ্য হয়ে অনেক সময় স্ট্যান্ডিং টিকিট দিতে হয়। একজন যাত্রী এসি চেয়ারে বসে যাবেন, আর তার মাথার ওপর আরেকজন দাঁড়িয়ে থাকবেন, এটি কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত নয়। কিন্তু বর্তমানে চাহিদা এত বেশি যে অনেক সময় এ ব্যবস্থা রাখতে হচ্ছে। নতুন লোকোমোটিভ, ক্যারেজ ও ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হলে যাত্রীসেবা আরও বিস্তৃত হবে, অতিরিক্ত চাপ কমবে এবং স্ট্যান্ডিং টিকিটের প্রয়োজনও ধীরে ধীরে হ্রাস পাবে। একইসঙ্গে রেলসেবা নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। আমাদের লক্ষ্য শুধু নতুন রেললাইন নির্মাণ নয়; বরং আধুনিক প্রযুক্তি, পর্যাপ্ত লোকোমোটিভ, উন্নত স্টেশন, নিরাপদ অবকাঠামো এবং মানসম্মত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করে বাংলাদেশ রেলওয়েকে একটি সময়োপযোগী ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন ব্যবস্থায় পরিণত করা। সূত্র: বাসস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%