বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:২৩ পি.এম
লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীর তীরে নির্মিত রামগতি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, উদ্বোধনের মাত্র দুই বছরের মধ্যে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এ কেন্দ্রটি প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল এবং এটি দ্রুত পুনরায় চালু করার দাবি জানিয়েছেন এ অঞ্চলের মাছ সংশ্লিষ্ট পেশার সঙ্গে জড়িতরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে উদ্বোধনের পর কেন্দ্রটির কার্যক্রম চলছিল দুই বছর। এরপর ২০২৪ সালের পর থেকে এটি বন্ধ হয়ে যায়। উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন কর্তৃক মৎস্যজীবীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে রামগতির চরগাজী ইউনিয়নের বয়ারচরের ব্রিজঘাট এলাকায় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। দুই একর ৭০ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত কেন্দ্রটির উদ্দেশ্য ছিল জেলেদের শিকার করা মাছ মানসম্মত উপায়ে সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাত ও বাজারজাত করা।
সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ১৫ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় রামগতি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বিল অনুমোদন পায়। ২০২১ সালের শেষের দিকে নির্মাণকাজ শেষ হলে ২০২২ সালের মাঝামাঝিতে এর কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম ব্যবস্থাপক হিসেবে মো. আলমগীর হোসেন যোগদান করেন। তিনি ২০২৪ সালের শুরুতে বদলি হয়ে গেলে এখানে আর কোনো কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়নি।
এরপর থেকেই কেন্দ্রটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। স্থানীয় জেলে, আড়তদার ও মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, রামগতি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় জেলে, তেল ব্যবসায়ী, বরফকল, আড়তদার এবং পাইকারি ও খুচরা বেপারীসহ মাছ সংশ্লিষ্ট পেশায় নিয়োজিত সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এখানে মাছের সঙ্গে জেলে ছাড়াও পরিবহন শ্রমিক, বরফকল, জ্বালানি ও মুদি ব্যবসাসহ নানা ধরনের ব্যবসা বাণিজ্য জমজমাট ছিল।
ইলিশকেন্দ্রিক কেন্দ্রটিতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বেচাকেনাও ছিল সরগরম। কিন্তু বর্তমানে সেখানে সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। মানুষের আনাগোনা নেই। এতে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ও ভবন নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে এবং ইলিশ সংশ্লিষ্ট পেশায় জড়িতরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রটি নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল সাগর ও মেঘনা নদী থেকে ট্রলারে মাছ নামানোর জন্য পন্টুন ও গ্যাংওয়ে, এক হাজার বর্গফুটের নিলাম ছাউনি এলাকা, প্যাকেজিং এলাকা, আড়তদার কক্ষ, বরফকল, জেনারেটর কক্ষ, অফিস ভবন, পয়নিষ্কাশনের সুবিধা এবং মাছ পরিবহনের জন্য সাত হাজার বর্গফুটের একটি ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণ করা। আবাসিক ভবনও নির্মিত হয়েছে। বর্তমানে ১০ জন লোকবলের জায়গায় নৈশপ্রহরীসহ কর্মরত মাত্র দুজন রয়েছেন। কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কেন্দ্রটি দেখাশোনা করছেন।
জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির রামগতি উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মীর হাছান মাহমুদ মামুন বলেন, “কী কারণে মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন ১৮ কোটি টাকা ব্যয় করে অবতরণ কেন্দ্রটি স্থাপন করেছে? দীর্ঘ দুই বছর ধরে এর কার্যক্রম বন্ধ। এ সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। কোটি কোটি টাকার সম্পদ অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। আমরা দ্রুত এর কার্যক্রম শুরু করার দাবি জানাই।”
রামগতি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র (বিএফডিসি)-এর দায়িত্বে থাকা ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম জানান, “রাজনৈতিক ও সামাজিক দিক বিবেচনায় এর কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পর কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। অবতরণ কেন্দ্রটি আবার চালুর বিষয়ে আমাদের প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ চলছে।”
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. বদরুদ্দৌজা বলেন, ৫ আগস্টের পর এর কার্যক্রম নেই। বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান একাধিকবার বদলি হওয়ায় এমন হয়েছে। কিছুদিন আগে নতুন চেয়ারম্যান যোগদান করেছেন। এখন থেকে সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরের কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পুকুরপাড় থেকে সরকারি নিয়ম না মেনে পাঁচটি মূল্যবান গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হান্নান দাড়িয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও গাছ কাটার দায় নিয়ে অধ্যক্ষ ও পুকুরের ইজারাদার সুরাত আলী সিকদার পরস্পরকে দায়ী করছেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে কলেজ প্রাঙ্গণে গিয়ে পুকুরপাড়ে কেটে রাখা গাছের গুঁড়ি ও ডালপালা দেখা যায়। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি পুকুরপাড়ের চারটি বড় মেহগনী ও একটি চাম্বুল গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।
গাছ কাটার বিষয়ে পুকুরের ইজারাদার সুরাত আলী সিকদার বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের নির্দেশেই তিনি গাছগুলো কেটেছেন। তাঁর দাবি, অধ্যক্ষের অনুমতি ছাড়া কলেজের গাছ কাটার কোনো সুযোগ তাঁর নেই।
তবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হান্নান দাড়িয়া গাছ কাটার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি আংশিক স্বীকার করলেও পাঁচটি গাছ কাটার দায় নিতে রাজি নন। তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মৌখিক নির্দেশনা নিয়ে তিনি ইজারাদারকে একটি নির্দিষ্ট গাছ কাটতে বলেছিলেন। কিন্তু তাঁর অজান্তে কীভাবে আরও চারটি গাছ কাটা হলো, তা তিনি জানেন না।
এদিকে, কলেজের মতো একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গাছ কাটার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি সম্পদ কাটার ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কিশোর কুমার দাশ বলেন, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সরকারি গাছ কাটার ক্ষেত্রে শুধু মৌখিক নির্দেশনার ভিত্তিতে একাধিক গাছ কাটার সুযোগ নেই। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিজিবি সীমান্তে অভিযান পরিচালনা করে ৪২ কোটি টাকার ইয়াবা জব্দ করেছে।
কক্সবাজারের টেকনাফে মিয়ানমার থেকে পাচারের সময় ১৪ লাখ ইয়াবাসহ দুই পাচারকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
গতকাল মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার হ্নীলা সীমান্তের জেলেপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবার এই বিশাল চালানটি জব্দ করা হয়।
বিজিবির দাবি, এটি তাদের আটক করা এখন পর্যন্ত অন্যতম বৃহৎ ইয়াবার চালান।
আটক দুই পাচারকারী হলেন টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের ফুলের ডেইল এলাকার জহির হর দাশ ও মো. হোসাইন।
আজ বুধবার বিকেলে টেকনাফ সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম। এ সময় কক্সবাজার রামু সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মো. আনোয়ার উল-আলম ও ৬৪ বিজিবির ক্যাপ্টেন মাহরাফ জামান উপস্থিত ছিলেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশের খবর পেয়ে বিজিবি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সীমান্তে অবস্থান নেয় বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল। পরে থার্মাল প্রযুক্তির মাধ্যমে গভীর রাতে হ্নীলা সীমান্তে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় একটি নৌকায় থাকা দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১৪ লাখ ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়।
জব্দ করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪২ কোটি টাকা।
সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে বিজিবি অধিনায়ক বলেন, জনবল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নানা প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও পেশাদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে বিজিবি। চোরাচালান শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।
কক্সবাজার রামু সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মো. আনোয়ার উল-আলম বলেন, চোরাচালানসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে অত্যাধুনিক ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে। তাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত প্রায় আট কিলোমিটার।
তিনি জানান, চোরাকারবারিরা নানা কৌশলে সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা করছে। বিভিন্ন সময়ে চোরাকারবারিদের আটক করে থানায় হস্তান্তর করা হয়। এরপর তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি পুলিশের এখতিয়ার।
বিজিবি সূত্র জানায়, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) মোট ১ কোটি ৪৩ লাখ ইয়াবা বড়ি এবং ২৪৩ জন আসামিকে আটক করেছে। সীমান্তে মাদকসহ সব ধরনের অপরাধী শনাক্ত ও আটকে বিজিবির নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানার তালাইমারী এলাকায় অভিযান চালিয়ে গাঁজাসহ মোসাঃ লিলি বেগম (৬০) নামে এক পেশাদার নারী মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার দুপুরে তাকে গ্রেফতার করে আরএমপি পুলিশের বিশেষ মাদক বিরোধী টিম।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করেছেন।
গ্রেফতার মোছাঃ লিলি বেগম (৬০), তিনি মতিহার থানার তালাইমারী পাওয়ার হাউজ পাড়া এলাকার মৃত আব্দুল খালেকের মেয়ে এবং মোয়াজ্জেম হোসেনের স্ত্রী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আরএমপির বিশেষ মাদকবিরোধী টিম মতিহার থানার তালাইমারী পাওয়ার হাউজ পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে লিলি বেগমকে করে। পরে তার কাছ থেকে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রাখা ১৫ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার জব্দ করা হয়।
অভিযান শেষে লিলি বেগমকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাকে গাঁজা রাখার অপরাধে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।#
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীর কাটাখালী সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৫৯৬ পিস ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বুধবার সকালে ১ বিজিবি, সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিজিবি জানায়, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর খিদিরপুর বিওপির একটি আভিযানিক দল কাটাখালী থানার পূর্ব বাতান এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৫৯৬ পিস ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করে। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
বিজিবি জানিয়েছে, জব্দকৃত মাদকদ্রব্য কাটাখালী থানায় হস্তান্তর করা রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত চোরাকারবারিকে শনাক্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বিজিবির গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।#
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ