বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:১০ পি.এম
অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগের কারণে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) কর্তৃপক্ষ পাঁচ শিক্ষক, এক কর্মকর্তা এবং এক কর্মচারীকে বরখাস্ত করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) কুয়েটের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আনিছুর রহমান ভূঁইয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৫তম সিন্ডিকেট সভায় তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বরখাস্তের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর আগে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাতজনকে দীর্ঘদিন ধরে সাময়িক বরখাস্ত রাখা হয়েছিল।
বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকরা হলেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের অধ্যাপক ড. পিন্টু চন্দ্র শিল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (আইইএম) বিভাগের অধ্যাপক ড. সুব্রত তালুকদার, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (ইএসই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিবিড় মণ্ডল এবং হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড বিজনেস বিভাগের অধ্যাপক ড. মাসরুরা মোস্তফা ও সহকারী অধ্যাপক শাহরিয়ার রোমান।
এছাড়া উপ-রেজিস্ট্রার নিমাই চন্দ্র মিস্ত্রী এবং অফিস সহকারী সত্যজিৎ কুমার দত্তকেও বরখাস্ত করা হয়েছে।
রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আনিছুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, তদন্ত শেষে কয়েকজনের কাছে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ জবাব দিয়েছেন, আবার কেউ দেননি। পরে সিন্ডিকেট সর্বসম্মতিক্রমে পাঁচ শিক্ষক, এক কর্মকর্তা ও এক কর্মচারীকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বর্তমানে চীন সবচেয়ে বেশি এবং দ্রুত গতিতে নতুন শ্রেণির সাবমেরিন তৈরি করছে। সাগরের তলদেশে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে একাধিক উচ্চাভিলাষী প্রকল্প বাস্তবায়নে এগিয়ে রয়েছে দেশটি। हालই में চীনা নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হওয়া একটি বিশেষ সাবমেরিন প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। এটি সাধারণ একটি ডুবোজাহাজ নয়, বরং তিন-হাল বা ‘ট্রাইমারান’ নকশার একটি অনন্য সাবমেরিন, যা বিশ্বে প্রথমবারের মতো দেখা যাচ্ছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মত অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে এই যুদ্ধজাহাজ শুধুমাত্র একটি স্নোরকেল মাস্ক ভাসিয়ে সাগরের তলদেশে নীরবে টহল দেবে। স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত এনক্রিপ্টেড বার্তার মাধ্যমে শত্রুর অবস্থান জানার পরপরই এটি সাগরের উপরে ভেসে উঠবে। এর ইউনিক ‘ট্রাইমারান’ বা তিন-হালি বিশিষ্ট বডি সাবমেরিনটিকে অসাধারণ ভারসাম্য প্রদান করবে।
ভেসে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে এর মূল কাঠামোর মধ্যে থাকা দুটি বিশাল হ্যাঙ্গার খুলে যাবে এবং সেখান থেকে ১৬টি মিসাইল টিউব বের হয়ে আসবে। প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার (৯৩০ মাইল) দূরে থাকা কোনো শত্রু বিমানবাহী রণতরী দল মুহূর্তের মধ্যে এর নিশানা হয়ে উঠতে পারে।
রহস্যময় অবস্থান ও অদ্ভুত নকশা
পূর্বে এই সাবমেরিনটিকে 'সেমি-সাবমার্সিবল আর্সেনাল শিপ' হিসেবে বর্ণনা করা হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে এর কোনো নাম বা পশ্চিমা কোড দেওয়া হয়নি। বর্তমানে চীনের বোহাই সাগরের হুলুদাও নৌঘাঁটিতে অত্যন্ত গোপনে এর পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ট্রায়াল চলছে। এই বছরের শুরুতে চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর গুয়াংঝুতে নির্মিত এই যানটি দালিয়ান বন্দর হয়ে উত্তরে নিয়ে আসা হয়।
গবেষকরা খোলা উৎসের গোয়েন্দা তথ্য (ওসনিট) এবং কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটের প্রাপ্ত ছবি বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয়েছেন যে, এটি একটি সম্পূর্ণ নতুন ক্যাটাগরির যুদ্ধজাহাজ। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এটি আসলে একটি ‘সাবমার্সিবল ওয়ারশিপ’ যা মূলত পানির নিচে থেকে গোপন স্থানে পৌঁছাবে, তবে অস্ত্র নিক্ষেপ বা মিসাইল উৎক্ষেপণের জন্য এটিকে পানির উপরিভাগে চলে আসতে হবে।
১৬টি ধ্বংসাত্মক মিসাইল ও নতুন প্রযুক্তি
চীনা এই সাবমেরিনের মধ্যভাগে অন্তত ১৬টি শক্তিশালী মিসাইল টিউব রয়েছে। স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এগুলো দুটি বৃত্তাকার গুচ্ছে ভাগ করে আনুভূমিকভাবে হ্যাঙ্গারের মধ্যে রাখা হয়েছে। অস্ত্র উৎক্ষেপণের জন্য সাবমেরিনটিকে সাগরের উপরিভাগে উঠে হ্যাঙ্গারের দরজা খুলতে হবে এবং মিসাইল টিউবগুলোকে সোজা বা উলম্ব অবস্থায় দাঁড় করাতে হবে।
ধারণা করা হচ্ছে, এতে অ্যান্টি-শিপ বা ভূমিতে আঘাত হানার মতো মারাত্মক মিসাইল বহন করা হবে। যেহেতু মিসাইলগুলো খোলা আকাশে ভেসে উঠে উৎক্ষেপণ করা হবে, তাই এতে অত্যন্ত শক্তিশালী 'ওয়াইজে-২০' হাইপারসনিক মিসাইল ব্যবহারের সম্ভাবনা বেশি, যা সাধারণত চীনের টাইপ-০৫৫ ক্রুজারে দেখা যায়।
চালকহীন ও ট্রাইমারান কাঠামোর রহস্য
নতুন এই সাবমেরিনে কোনো নিয়মিত সেনা বা চালক দল থাকার সম্ভাবনা কম বলে জানান 'কে৩৯ কনসাল্টিং'-এর প্রিন্সিপাল কনসালট্যান্ট এবং জাহাজ নকশা বিশেষজ্ঞ ড. র্যাচেল পলিং। তিনি জানান, 'এই যুদ্ধজাহাজটি ডুবন্ত অবস্থায় প্রায় ৯০০ টন পানি প্রতিস্থাপন করতে পারে। অস্ত্র ও বিশাল হ্যাঙ্গারগুলো জাহাজের বেশিরভাগ স্থান দখল করায় বাকি জায়গায় মানুষের বসবাসের মতো পরিবেশ অসম্ভব। জাহাজের উপরে একটি খোলা ব্রিজ রয়েছে, তবে তা কেবল বন্দরে আসা-যাওয়ার সময় মানুষের দূরবর্তী নিয়ন্ত্রণের কাজে ব্যবহার করা হয়, যা সাধারণত চালকহীন বড় যানে (ইউএসভি) দেখা যায়।'
প্রোফাইল অনুযায়ী, এর ট্রাইমারান বা তিন-হালি বডি পানি ও সাগরের পৃষ্ঠে যাতায়াত ও মিসাইল তোলার সময়ে জাহাজের ভারসাম্য নিশ্চিত করে। পানির নিচে এটি ডিজেল ইঞ্জিনে চালানোর জন্য স্নোরকেল সিস্টেম রাখা হয়েছে এবং এর পাশাপাশি বৈদ্যুতিক স্ক্রু ও পাম্পজেট প্রোপালশন ব্যবহার করা হয়েছে।
ঠান্ডা যুদ্ধের স্মারক ও আধুনিক যুদ্ধকৌশল
ড. পলিংয়ের মতে, এই নতুন যুদ্ধজাহাজটির মূল দর্শন ঠান্ডা যুদ্ধের সময়ের সোভিয়েত ইউনিয়নের ‘জুলিয়েট ক্লাস’ ক্রুজ মিসাইল সাবমেরিনের কথা মনে করিয়ে দেয়। সেটিও একটি ডিজেল সাবমেরিন ছিল যা উপরিভাগে এসে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ত।
তবে চীনা প্রযুক্তির এই নতুন সংস্করণ অনেক বেশি আধুনিক। উন্নত হাইপারসনিক মিসাইলের বিস্তৃত পাল্লার কারণে এটি সমুদ্রের অনেক দূর থেকেই অদৃশ্যভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ছড়াতে পারবে। এটি চীনের কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত একটি ভাসমান ট্রান্সপোর্টার ও লঞ্চার হিসেবে কাজ করবে, যা শত্রুর চোখ ফাঁকি দিয়ে আকস্মিক কিন্তু বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে নিমেষেই সটকে পড়তে সক্ষম।
চীন এখনই এই রহস্যময় প্রজেক্ট নিয়ে বিশ্ব দরবারে মুখ খুলছে না। তবে তাদের এই ব্যতিক্রমী ট্রাইমারান সাবমেরিন যে আধুনিক নৌ-যুদ্ধের কৌশল ও ভারসাম্য পুরোপুরি বদলে দিতে পারে—তা নিশ্চিত করেই বলছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর বারিধারায় নির্মাণ শ্রমিক মেহেদী হাসান মিমের (২৪) মৃত্যুর ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ১৭ বছর বয়সি কিশোরের জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত। দ্রুতগতির প্রাইভেটকারের চাপায় মিমের মৃত্যু ঘটে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) শুনানি শেষে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ এর বিচারক মো. আবদুল মোক্তাদির দুই হাজার টাকার মুচলেকায় জামিনের আদেশ প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শরীফ উদ্দীন জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শুনানির সময় কিশোরটির পক্ষে আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। অপরদিকে, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত কিশোরের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
এর আগে, ২৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশান-১২ নম্বর সড়কের একটি বাসা থেকে ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির করার সময় তার আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। তবে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কিশোরটিকে শিশু-কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন নির্মাণ শ্রমিক মেহেদী হাসান মিম। এ সময় একটি দ্রুতগতির প্রাইভেটকার ফুটপাতে উঠে তাকে পিষে দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার পর চালকের আসনে থাকা কিশোরকে উপস্থিত জনতা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই রাতেই তাকে তার চাচার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
২৩ সেপ্টেম্বর নিহত মেহেদীর ভাই মোক্তাদীর ইসলাম বাদী হয়ে গুলশান থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় গাড়ি চালক হিসেবে আকাশ মারক নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করা হলেও গাড়ির চালকের আসনে থাকা কিশোরের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হলে ২৩ সেপ্টেম্বর গুলশান থানা পুলিশ ওই কিশোরকে পুনরায় নিজেদের হেফাজতে নেয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং জেলেদের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে আকতার হোসেন হাওলাদার (৪০) নামের একজন জেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। এই ঘটনায় আরও চারজন জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত জেলেরা গোপনে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
মা ইলিশ নিধন রোধে অভিযানের শেষ দিনে বুধবার দিবাগত রাতের শেষভাগে হিজলা উপজেলার গৌরবদী ইউনিয়নের শাওড়া অরাকুল মাছঘাটসংলগ্ন এলাকায় সংঘর্ষটি ঘটে।
নিহত আকতার হোসেন হিজলা উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের চর মেমানিয়া গ্রামের সুলতান হাওলাদারের পুত্র। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত তার মরদেহ স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এই ঘটনার বিষয়ে এখনো কোনো বাহিনী বা পক্ষ মুখ খুলছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মা ইলিশ রক্ষায় গত ২১ দিন ধরে মেঘনা নদীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন দল অভিযান চালিয়ে আসছে। কিন্তু ইলিশ শিকার নিষিদ্ধ সময়ের শেষ রাতে আকতার হোসেন এবং তার সহযোগীরা মাছ ধরতে যান। এ সময় অভিযানে থাকা একটি দলের সঙ্গে জেলেদের সংঘর্ষ শুরু হয়। এক পর্যায়ে আত্মরক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ছোড়া এলোপাতাড়ি গুলিতে আকতার হোসেনের বুকে লাগে এবং আরও চারজন জেলে গুলিবিদ্ধ হন।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আকতার হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু ঘটে। ঘটনার পর থেকে আহত অন্যান্য জেলেরা আত্মগোপনে চলে গেছেন।
নিহতের বোন সাথী আক্তার স্থানীয় সংবাদকর্মীদের জানান, বুধবার রাতে আকতার হোসেনসহ অন্যান্যরা মেঘনা নদীতে মাছ শিকারে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে শাওড়া অরাকুল মাছঘাটসংলগ্ন এলাকায় অভিযানে থাকা দলের গুলিতে তার ভাই গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে ঘটনার বিষয়ে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের গণমাধ্যম দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওই সময় মেঘনায় কোস্টগার্ডের কোনো অভিযান ছিল না। বরিশাল অঞ্চলের নৌ-পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও একইভাবে জানান, নৌ-পুলিশেরও কোনো অভিযান ছিল না।
হিজলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘জেলে মৃত্যুর বিষয়টি বৃহস্পতিবার সকালে জানতে পেরেছি। বুধবার রাতে আমাদের কোনো অভিযানিক দল মেঘনা নদীতে যায়নি। আমাদের স্পিডবোট দুই দিন ধরে বিকল থাকায় ছোট ট্রলার নিয়ে সীমিত পরিসরে অভিযান চালানো হয়েছে। অন্য কোনো জেলার অভিযানিক দল সেখানে অভিযান চালিয়ে থাকতে পারে।’
মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে কয়েকজন জেলে তাকে খবর দেন যে মেঘনা নদীতে এক জেলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছেন। খবর পেয়ে তিনি সেখানে গিয়ে ওই জেলেকে উদ্ধার করেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তবে কে বা কারা গুলি করেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
হিজলা থানার ওসি সোলাইমান হোসেন বলেন, ‘পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় তদন্তসাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অনুমোদিত নকশা ও কাঠামো পরিবর্তন করে চলাচল করায় পাঁচটি স্লিপার এসি বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে হাইওয়ে পুলিশ এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। যৌথ অভিযানের মাধ্যমে বাসগুলোর মালিককে মোট ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কীর্তিমান চাকমা এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়ন ও বিআরটিএ কুমিল্লা জোন যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে এভারগ্রীন, গোল্ডেন লাইন, ইম্পেরিয়াল, নীলাচল ও গ্রিন লাইন পরিবহনের একটি করে মোট পাঁচটি স্লিপার এসি বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিআরটিএর অনুমোদিত আকার ও নকশা পরিবর্তনের কারণে বাসগুলোর মালিককে জরিমানা করা হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কীর্তিমান চাকমা বলেন, "সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে অনুমোদনহীন এবং নিয়মবহির্ভূত স্লিপার এসি বাসের বিরুদ্ধে এ ধরনের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।"
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ কুমিল্লা জোনের সহকারী পরিচালক ফারুক আহাম্মদ, ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন এবং মিয়াবাজার হাইওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ নিরঞ্জন কুমার।
এর আগে, গত ১৫ অক্টোবর একই ধরনের অভিযানে সেন্টমার্টিন স্কয়ার, বেঙ্গল পরিবহন, দোয়েল এক্সপ্রেস ও রয়েল কোচ পরিবহনের চারটি স্লিপার এসি বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ওই অভিযানে বাসগুলোর মালিককে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ