বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:২১ পি.এম
সীসা-অ্যাসিড ব্যাটারি অনিরাপদভাবে পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ সীসা দূষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সীসাযুক্ত রং, খেলনা, রান্নার বাসনপত্র ও প্রসাধনসামগ্রীর মাধ্যমে মানুষ এ বিষাক্ত ধাতুর সংস্পর্শে আসতে পারে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে আন্তর্জাতিক সীসা দূষণ প্রতিরোধ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তারা এ বিষয়গুলো তুলে ধরেন। খুলনার শিববাড়ি মোড়ে ইয়ুথনেট গ্লোবাল ও পিওর আর্থ বাংলাদেশের উদ্যোগে এ মানববন্ধন, র্যালি ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
‘সীসা দূষণ প্রতিরোধে, আমরা আছি একসাথে’ এই প্রতিপাদ্যে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচিটি দেশের আট বিভাগে পরিচালিত হচ্ছে। পিওর আর্থ বাংলাদেশের সহযোগিতায় যুব সংগঠন ইয়ুথনেট গ্লোবাল কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করছে। সহ-আয়োজক হিসেবে ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ, ইউক্যান ও আর্থ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন রয়েছে। কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থী, তরুণ, শিক্ষক, সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সীসার স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা। এ ছাড়া দূষণের উৎস চিহ্নিত করা, কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে দূষণ রোধে তরুণদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জাতীয় সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৩৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ শিশুর রক্তে সীসার মাত্রা নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি। অর্থাৎ, প্রতি ১০ জন শিশুর মধ্যে প্রায় চারজন সীসার ঝুঁকিতে রয়েছে। সীসার সংস্পর্শে আসা শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ, শেখার ক্ষমতা, স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। গর্ভবতী নারীদের জন্যও সীসার বিষক্রিয়া গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
অনুষ্ঠানে পিওর আর্থ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিতালী দাশ বলেন, "শিশুদের সীসার বিষক্রিয়া থেকে সুরক্ষিত রাখতে সীসার উৎস শনাক্ত ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিরাপদ ভোগ্যপণ্য নিশ্চিত করা, পরিবেশসম্মত ব্যাটারি পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।"
তিনি আরও জানান, এ লক্ষ্যে পিওর আর্থ বাংলাদেশ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে যৌথভাবে সম্প্রসারিত উৎপাদক দায়বদ্ধতা (ইপিআর) নির্দেশিকা প্রণয়নে কাজ করছে। এই নির্দেশিকা সীসা-অ্যাসিড ব্যাটারির কার্যকর সংগ্রহ, ট্র্যাকিং ও পরিবেশসম্মত পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণে সহায়তা করবে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ইয়ুথনেট গ্লোবালের নির্বাহী সমন্বয়ক সোহানুর রহমান, খুলনা সচেতন নাগরিক কমিটির (সানক) সভাপতি অধ্যাপক রমা রহমান, বেসরকারি সংস্থা আইসিডির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আশিকুজ্জামান, দৈনিক ইনকিলাবের খুলনা ব্যুরো ও সচেতন নাগরিক কমিটি (সানকÑ) সদস্য আসাফুর রহমান কাজল, পরিবেশ দূষণ প্রতিরক্ষা কমিটির আহবায়ক মোসলেহ উদ্দিন তুহিন, ইয়ুথনেট গ্লোবালের বিভাগীয় সহ-সমন্বয়কারী ফারহানা ইয়াসমিন আয়েশা, ইয়ুথনেট গ্লোবালের বিভাগীয় সমন্বয়কারী এস এম শাহিন সিরাজ, ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইভানা হক, আর্থ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের খুলনা জেলা সমন্বয়কারী মাহজাবিন খানসহ বিভিন্ন তরুণ সংগঠক। কর্মসূচিতে খুলনার স্থানীয় প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য, যুব প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নেন।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, সীসা দূষণ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিরাপদ ভোগ্যপণ্য নিশ্চিত করা, পরিবেশসম্মত উপায়ে ব্যাটারি কারখানা পরিচালনা এবং আইন ও নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি। পুরোনো ও ব্যবহৃত সীসা-অ্যাসিড ব্যাটারির পরিবেশসম্মত পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ, দূষিত স্থান শনাক্ত করে মাটি পরিশোধন এবং ভোগ্যপণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি সরকার, শিল্পখাত ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানান।
এদিকে, সিসামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকার ২০২৬–২০৩৫ মেয়াদের একটি জাতীয় কৌশল ও বহুবছরভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। এই পরিকল্পনায় ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ৯৫ শতাংশ শিশুর রক্তে সীসার মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত সীমার নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা র্যালিতে অংশ নেন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সীসা দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব ও প্রতিরোধের উপায় তুলে ধরে লিফলেট বিতরণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বলিউডের অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন এবং অভিনেতা বরুণ ধাওয়ান হলিউডের সুপারন্যাচারাল থ্রিলার সিনেমা ‘অবসেশন’-এর হিন্দি ডাবিংয়ে কণ্ঠ দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সিনেমাটির একটি জনপ্রিয় দৃশ্য পুনর্নির্মাণ করে তারা প্রশংসা অর্জন করছেন। তবে কৃতির অভিনয় দর্শকদের মধ্যে বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
জিওহটস্টারের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওটিতে ‘অবসেশন’ সিনেমার ‘নো নো নো নো...’ সংলাপের আলোচিত দৃশ্যটি অভিনয় করে দেখান কৃতি ও বরুণ। ভিডিওটি প্রকাশের পর নেটিজেনরা কৃতির অভিনয়দক্ষতা ও বৈচিত্র্যের প্রশংসা করেছেন।
এক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, ‘কৃতি শ্যাননের অভিনয়ের বৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণা করা উচিত।’ অন্য একজন বলেছেন, ‘ভারতীয় সংস্করণে অবসেশনের রিমেকের জন্য তারা একেবারে উপযুক্ত।’
এক দর্শকের মতে, বলিউড এখনও কৃতির অভিনয়প্রতিভার পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারেনি। এক ভক্ত কৃতির অভিনয়ের প্রশংসা করে তার পরবর্তী সিনেমাগুলো দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
‘অবসেশন’ সিনেমাটি আগামী ৩০ অক্টোবর জিওহটস্টারের ‘দ্য পিকক হাব’-এ মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। বক্স অফিসেও সিনেমাটি ভালো সাড়া পেয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের কালীগঞ্জে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকে চাপা দেওয়ার ঘটনায় পুলিশ ঘাতক পিকআপ ভ্যানটি উদ্ধার করেছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত পিকআপের হেলপারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৩ অক্টোবর কালীগঞ্জ থানার এসআই মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একটি টিম রাত্রিকালীন টহল ডিউটির সময় সন্দেহভাজন তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় ফিরছিল। সরকারি কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজের সামনে পৌঁছালে পৌর ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মোল্লা (৪৫) পুলিশ গাড়িটি দাঁড় করাতে বলেন। রাত সাড়ে তিনটার দিকে টঙ্গী থেকে ঘোড়াশালগামী একটি বেপরোয়া গতির পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুলিশ টিম ও বিএনপি নেতাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বিএনপি নেতার মৃত্যু ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় এসআই (নিরস্ত্র) মো. মিজানুর রহমানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁরও মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও দুই পুলিশ সদস্য—পিএসআই জাবেদ ওমর এবং চালক কনস্টেবল ফজলে রাব্বি গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনার পর ২৫ অক্টোবর কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা (নম্বর-২৬) দায়ের করা হয়। পরে থানা পুলিশের একটি চৌকস দল সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২৮ অক্টোবর রাতে নরসিংদীর পলাশ থানার ডাঙ্গা গ্রামের কনফিডেন্স সিমেন্ট ফ্যাক্টরির সামনে থেকে ঘাতক পিকআপ ভ্যানটি (ঢাকা মেট্রো-ম-১২-০৫৮২) উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে পিকআপের হেলপার গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার দক্ষিণ ফুকরা গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে রাজু শেখকে (২৯) গ্রেপ্তার করা হয়।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, হেলপার রাজু জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন যে পিকআপ ভ্যানটির মূল চালক ছিলেন মাজহারুল ইসলাম। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার রাজু শেখকে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাহিদ রানা ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করতে সক্ষম। বাংলাদেশের এই গতিশীল পেসারকে দীর্ঘ সময় ধরে সার্ভিস পাওয়ার জন্য এখনই তাঁর শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ক্যারিবীয় ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপ। তিনি সতর্ক করেছেন যে, তাৎক্ষণিক সাফল্যের আশায় যেন ‘সোনার ডিম পাড়া হাঁসটিকে’ মেরে ফেলা না হয়।
বিশপের অভিমত, চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাহায্যে নাহিদকে যত্নে রাখতে হবে, যাতে সময়ের সাথে সাথে তাঁর শরীর পেস বোলিংয়ের কঠিন চাপ সহ্য করার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্সের অভিজ্ঞতার প্রতি তাঁর আস্থা রয়েছে। বিশপ সিমন্সকে নিজের বড় ভাইয়ের মতো উল্লেখ করে বলেন, তিনি অত্যন্ত চমৎকার একজন কোচ এবং বিষয়টি ভালোভাবে উপলব্ধি করবেন।
নিজের ক্যারিয়ারে একাধিক স্ট্রেস ফ্র্যাকচারের অভিজ্ঞতা থেকে বিশপ জানেন পেস বোলিং কতটা কঠিন। তাঁর মতে, কিছু খেলোয়াড়ের শরীরে চোটের প্রবণতা অন্যদের তুলনায় বেশি থাকে। সুতরাং, নাহিদের ফিটনেস এবং কন্ডিশনিং ট্রেনারদের সতর্ক থাকতে হবে। যথাযথ অনুশীলনের মাধ্যমে তাঁর শরীরকে চোট প্রতিরোধে সক্ষম করে তুলতে হবে। একই সঙ্গে মেডিকেল দলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
এ ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের উদাহরণ দেন বিশপ। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট বোর্ডের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় মিচেল স্টার্ক, চোট কাটিয়ে ফেরা প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডরা নিজেদের ভালোভাবে সামলেছেন। ফলে ৩৩, ৩৫, ৩৬, এমনকি ৩৭ বছর বয়সেও তাঁরা দুর্দান্ত বোলিং করছেন। স্কট বোল্যান্ডের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
চোটের কারণে নাহিদ সম্প্রতি কিছু সিরিজের পাশাপাশি চলমান ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেও নেই। বিশপের বার্তা পরিষ্কার, এই মুহূর্তের সাফল্যের চেয়ে নাহিদের দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকার ব্যাটারিচালিত তিন চাকার স্বল্পগতির রিকশা বা ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিমালা জারি করেছে। সিটি করপোরেশন এলাকায় এই বিধিমালার আওতায় ই-রিকশার নিবন্ধন ও নবায়ন ফি, গতিসীমা, যাত্রী ধারণক্ষমতা, চলাচলের রুট, পার্কিং এবং ব্যাটারি চার্জিং সংক্রান্ত বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। নিবন্ধন ছাড়া ই-রিকশা চালানো, অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা এবং নিষিদ্ধ সড়কে চলাচলকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে। এই বিধিমালাটি ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ নামে পরিচিত এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
নতুন বিধিমালার অধীনে, দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার জন্য নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা। সব ধরনের ই-রিকশার ফিটনেস সনদের জন্য ১ হাজার টাকা দিতে হবে।
ই-রিকশার নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের সত্যায়িত ছবি, নিবন্ধন ফি জমার রসিদ এবং নির্ধারিত ফিটনেস সনদসহ আবেদন করতে হবে। কর্তৃপক্ষ আবেদন যাচাই-বাছাই করে সন্তুষ্ট হলে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন প্রদান করবে। আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে কারণ জানাতে হবে। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
প্রতিটি নিবন্ধিত ই-রিকশার জন্য কিউআর কোডযুক্ত স্বতন্ত্র নিবন্ধন নম্বর, নম্বর প্লেট এবং বিস্তারিত তথ্যসংবলিত ব্লু-বুক প্রদান করা হবে। নিবন্ধনের মেয়াদ পাঁচ বছর হবে। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন থেকে সর্বাধিক পাঁচটি ই-রিকশা নিবন্ধন করা যাবে। তবে এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চালানো যাবে না।
বিধিমালায় ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং জনবহুল এলাকায় সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার হবে। আকারভেদে চালক ছাড়া সর্বাধিক দুই বা চারজন যাত্রী বহন করা যাবে। যাত্রীর হাতে বহনযোগ্য মালামাল ছাড়া অন্য কোনো বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন করা যাবে না। হর্নের শব্দের তীব্রতা ৪০ ডেসিবেলের বেশি হতে পারবে না।
ই-রিকশা জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বিআরটি করিডোর, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকা সড়ক এবং ফুটপাতে চলাচল করতে পারবে না। চালকদের সড়কের বাম লেন অনুসরণ করতে হবে। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, নিয়মবহির্ভূত ওভারটেকিং এবং অনিয়ম করে লেন পরিবর্তন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য রুট নির্ধারণ করবে। সিটি করপোরেশন এলাকায় বিভিন্ন জোনে ভাগ করে প্রতিটি জোনে ই-রিকশার সংখ্যা, চলাচলের সড়ক এবং নির্দিষ্ট রং নির্ধারণ করা হবে। এক জোনে চলাচলের অনুমতি পাওয়া ই-রিকশা অন্য জোনে চলতে পারবে না। প্রতিটি ওয়ার্ডে বা উপযুক্ত স্থানে প্রয়োজনীয় পার্কিং এলাকা নির্ধারণের ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি ই-রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নিবন্ধনের তারিখ থেকে ১২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময় শেষ হলে সংশ্লিষ্ট ই-রিকশার নিবন্ধন ও নম্বর প্লেট বাতিল করতে হবে। প্রতিটি গাড়িতে স্পিডোমিটার বা ওডোমিটার স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য অনুসারে গাড়ির নকশা ও ফিটনেস নিশ্চিত করতে হবে। যান্ত্রিক বা নিরাপত্তাজনিত ত্রুটিযুক্ত এবং নিবন্ধনবিহীন ই-রিকশা সড়কে চালানো যাবে না।
ব্যাটারি চার্জের ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত ও সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্জিং পয়েন্ট বা নির্দিষ্ট গ্যারেজে ব্যাটারি চার্জ করতে হবে। চার্জিং অবকাঠামোয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ করলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
পরিবেশ সুরক্ষায় পুরোনো বা অকার্যকর ব্যাটারি খোলা জায়গা, মাটি, জলাশয় কিংবা সাধারণ বর্জ্যে ফেলা বা পোড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নতুন ব্যাটারি বিক্রির সময় বিক্রেতাকে ক্রেতার কাছ থেকে একটি পুরোনো ব্যাটারি সংগ্রহ করে অনুমোদিত পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় পাঠানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া ব্যাটারি ভাঙা বা গলানোর কাজও করা যাবে না।
বিধিমালায় ই-রিকশা চালকদের ট্রাফিক আইন, সড়ক নিরাপত্তা, ব্যাটারি এবং যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। দুর্ঘটনা ঘটলে চালককে তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ি থামিয়ে আহত ব্যক্তিদের সহায়তা করতে হবে এবং পুলিশকে জানাতে হবে।
নিবন্ধন ছাড়া ই-রিকশা চালানো, অনুমোদিত গতিসীমা অতিক্রম করা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা, অননুমোদিত ব্যাটারি ব্যবহার করা, মোটর বা কাঠামো পরিবর্তন করা, নিষিদ্ধ এলাকায় চলাচল করা, বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানো, সিগন্যাল অমান্য করা এবং দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এসব অপরাধের ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
এ ছাড়া ই-রিকশার উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ ও প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের সুপারিশ দিতে একটি কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। বুয়েটের নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যাচাই-বাছাইয়ের পর সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে উৎপাদন লাইসেন্স দেওয়া হবে।
নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর জারি করা ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৫’ বাতিল করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ