প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীর তীরে নির্মিত রামগতি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, উদ্বোধনের মাত্র দুই বছরের মধ্যে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এ কেন্দ্রটি প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল এবং এটি দ্রুত পুনরায় চালু করার দাবি জানিয়েছেন এ অঞ্চলের মাছ সংশ্লিষ্ট পেশার সঙ্গে জড়িতরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে উদ্বোধনের পর কেন্দ্রটির কার্যক্রম চলছিল দুই বছর। এরপর ২০২৪ সালের পর থেকে এটি বন্ধ হয়ে যায়। উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন কর্তৃক মৎস্যজীবীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে রামগতির চরগাজী ইউনিয়নের বয়ারচরের ব্রিজঘাট এলাকায় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। দুই একর ৭০ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত কেন্দ্রটির উদ্দেশ্য ছিল জেলেদের শিকার করা মাছ মানসম্মত উপায়ে সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাত ও বাজারজাত করা।
সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ১৫ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় রামগতি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বিল অনুমোদন পায়। ২০২১ সালের শেষের দিকে নির্মাণকাজ শেষ হলে ২০২২ সালের মাঝামাঝিতে এর কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম ব্যবস্থাপক হিসেবে মো. আলমগীর হোসেন যোগদান করেন। তিনি ২০২৪ সালের শুরুতে বদলি হয়ে গেলে এখানে আর কোনো কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়নি।
এরপর থেকেই কেন্দ্রটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। স্থানীয় জেলে, আড়তদার ও মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, রামগতি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় জেলে, তেল ব্যবসায়ী, বরফকল, আড়তদার এবং পাইকারি ও খুচরা বেপারীসহ মাছ সংশ্লিষ্ট পেশায় নিয়োজিত সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এখানে মাছের সঙ্গে জেলে ছাড়াও পরিবহন শ্রমিক, বরফকল, জ্বালানি ও মুদি ব্যবসাসহ নানা ধরনের ব্যবসা বাণিজ্য জমজমাট ছিল।
ইলিশকেন্দ্রিক কেন্দ্রটিতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বেচাকেনাও ছিল সরগরম। কিন্তু বর্তমানে সেখানে সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। মানুষের আনাগোনা নেই। এতে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ও ভবন নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে এবং ইলিশ সংশ্লিষ্ট পেশায় জড়িতরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রটি নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল সাগর ও মেঘনা নদী থেকে ট্রলারে মাছ নামানোর জন্য পন্টুন ও গ্যাংওয়ে, এক হাজার বর্গফুটের নিলাম ছাউনি এলাকা, প্যাকেজিং এলাকা, আড়তদার কক্ষ, বরফকল, জেনারেটর কক্ষ, অফিস ভবন, পয়নিষ্কাশনের সুবিধা এবং মাছ পরিবহনের জন্য সাত হাজার বর্গফুটের একটি ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণ করা। আবাসিক ভবনও নির্মিত হয়েছে। বর্তমানে ১০ জন লোকবলের জায়গায় নৈশপ্রহরীসহ কর্মরত মাত্র দুজন রয়েছেন। কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কেন্দ্রটি দেখাশোনা করছেন।
জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির রামগতি উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মীর হাছান মাহমুদ মামুন বলেন, “কী কারণে মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন ১৮ কোটি টাকা ব্যয় করে অবতরণ কেন্দ্রটি স্থাপন করেছে? দীর্ঘ দুই বছর ধরে এর কার্যক্রম বন্ধ। এ সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। কোটি কোটি টাকার সম্পদ অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। আমরা দ্রুত এর কার্যক্রম শুরু করার দাবি জানাই।”
রামগতি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র (বিএফডিসি)-এর দায়িত্বে থাকা ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম জানান, “রাজনৈতিক ও সামাজিক দিক বিবেচনায় এর কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পর কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। অবতরণ কেন্দ্রটি আবার চালুর বিষয়ে আমাদের প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ চলছে।”
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. বদরুদ্দৌজা বলেন, ৫ আগস্টের পর এর কার্যক্রম নেই। বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান একাধিকবার বদলি হওয়ায় এমন হয়েছে। কিছুদিন আগে নতুন চেয়ারম্যান যোগদান করেছেন। এখন থেকে সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন