১০:২৬ এম
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পঞ্চম বছরে এসে নতুনভাবে উত্তেজনা সৃষ্টির মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়াকে বাধ্য করার জন্য রাশিয়ার অভ্যন্তরে জ্বালানী অবকাঠামোগত উপর্যুপরি হামলার ঘটনা ঘটছে। এর জবাবে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা জোরদার করতে শুরু করেছে। তারা ইউক্রেনের নতুন নতুন অঞ্চল দখলের দাবি তুলছে। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে ফোন কূটনীতির মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।
৪ জুলাই, আমেরিকার ২৫০ বছর পূর্তির দিন, পুতিনের সাথে ট্রাম্পের টেলিফোন আলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৯০ মিনিট ব্যাপী এই আলাপে ট্রাম্প আবারও যুদ্ধ বন্ধে সহায়তার কথা বলেছেন। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি দাবি করেছেন যে, শনিবার তার ট্রাম্পের সাথে একটি টেলিফোন আলাপ হয়েছে। দুই দেশের নেতাদের সাথে ট্রাম্পের এই আলাপকে সাধারণ সৌজন্য হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বিশেষ করে পুতিনের সাথে ট্রাম্পের ৯০ মিনিটের আলোচনা এবং তাতে যুদ্ধ বন্ধে সহায়তার প্রস্তাব অনেকের মধ্যে আশার সঞ্চার করছে। বিশেষ করে আগামীকাল মঙ্গলবার তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে এ ত্রিপক্ষীয় ফোন কূটনীতি ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন মোড় আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ন্যাটো নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নানা অস্বস্তি থাকলেও আঙ্কারা সম্মেলনে তার যোগ দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পুতিন ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্প এবং মার্কিন জনগণকে মার্কিন স্বাধীনতার ঘোষণার ২৫০তম বার্ষিকীতে অভিনন্দন জানিয়েছেন। মন্ত্রণালয় আরো জানায়, চলতি বছরে এটাই ট্রাম্প এবং পুতিনের মধ্যে চতুর্থ ফোনালাপ, এবং কথোপকথনটি অত্যন্ত গঠনমূলক ছিল। ট্রাম্প তার প্রস্তুতির বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, ইউক্রেনীয় সংঘাতে যাতে শত্রুতা অবসান করা সম্ভব হয়।
আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, রাশিয়ান পক্ষ আবারও এই সংঘাতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে। কিন্তু তারা দাবি করেছে, কিয়েভ এবং তার ইউরোপীয় পৃষ্ঠপোষকরা এই সংঘাতকে দীর্ঘায়িত এবং আরও বাড়িয়ে তুলতে চান। মন্ত্রণালয় এমনও জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট পুতিন যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন, যেখানে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী আত্মবিশ্বাসের সাথে এগিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, শনিবার ট্রাম্পের সাথে তার একটি 'খুব ভালো ফোনালাপ' হয়েছে। জেলেনস্কি বলছেন, 'এই যুদ্ধের অবসান ঘটানোর একটি বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে এবং আমেরিকার সংকল্পই এখানে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ।'
গত মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দিয়েছিল যে, তারা ন্যাটো বাহিনী মডেলে তাদের অংশগ্রহণ সঠিক আকারে কমিয়ে আনবে। যাতে জোটটি মার্কিন বাহিনীর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই মার্কিন এই ঘোষণা। তাই কাল থেকে শুরু হতে যাওয়া আঙ্কারা সম্মেলনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। তবে সম্মেলনের একদিন আগে পুতিন ও জেলেনস্কির সাথে যুদ্ধ বন্ধের ইস্যুতে ফোন আলাপ করে ট্রাম্প ন্যাটো সম্মেলনের আলোচনার মূল ইস্যুকে নিজের দিকে টেনে এনেছেন।
ইরান যুদ্ধে সহায়তা চেয়েও না পাওয়ার পর থেকে ট্রাম্প ন্যাটোর ব্যাপারে নিজের অসন্তোষ গোপন করেননি।
আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৭৭.৭ শতাংশ, ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন