১০:২৯ এম
সরকার পে স্কেল একবারে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে, যা সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে কাঠামো। কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো যদি দুই ধাপে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে আইবাস সিস্টেমে (অনলাইনে বেতন নির্ধারণী) সমন্বয় করা হবে কঠিন।
যদিও পে স্কেল একবারে বাস্তবায়ন করা হতে পারে, তবে কমিশনের সুপারিশের তুলনায় বেতনের হার কমানো হতে পারে, যা অর্থ বিভাগের সূত্রে জানা গেছে।
সোমবার (৬ জুলাই) বেতন কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সরকার চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরির জন্য গঠিত কমিটির সভা সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউনিক্লোর প্রতি উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকার নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছিল, তবে এতে আইবাস সিস্টেমে জটিলতা তৈরি হবে। একইসাথে, দুই ধাপে এ কাজ বাস্তবায়ন করা হলে ব্যয় বেড়ে যাবে এবং চাকরিজীবীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে পারে।
বর্তমানে অষ্টম বেতন কাঠামোয় সর্বনিম্ন মূল বেতন আট হাজার ২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা। নবম বেতন কমিশন সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে।
অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ১ থেকে ৯ম গ্রেড পর্যন্ত বেতন ৬০-৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে, আর ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ৯০-১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পুরো হতে পারে।
বৈঠকে কমিশনের বিভিন্ন প্রস্তাবের আর্থিক প্রভাব, বাস্তবায়নের সময়সূচি, পর্যায়ক্রমিক বেতন সমন্বয় এবং বিভিন্ন ক্যাডার ও শ্রেণির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার বিষয়গুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। কমিশনের সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করে সরকার কোন কোন প্রস্তাব গ্রহণ করবে, কোথায় সংশোধন আনবে এবং বাস্তবায়নের রোডম্যাপ কী হবে এসব বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দশম স্থলবাহিনী সংলাপ ঢাকা সেনানিবাসে সফলভাবে সম্পন্ন
বিশেষ করে বেতন বাড়ানোর হার নিয়ে আজ বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। ১ জুলাই থেকে নতুন কাঠামোর মূল বেতন কার্যকর হতে পারে, তবে ভাতা কার্যকর হবে ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে।
এদিকে, বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে আছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, আইন সচিব, প্রতিরক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবা সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক।
কমিটির মূল দায়িত্ব হলো জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর দাখিল করা প্রতিবেদনগুলো পরীক্ষা করে ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের জন্য সুপারিশ করা। কমিটি যথাসময়ে সরকারের কাছে প্রতিবেদন দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী পে স্কেল চূড়ান্ত করবেন।
আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেল প্রথম বছরেই বাস্তবায়ন করা উচিত। অন্যথায়, তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়তে পারে। যে উদ্দেশ্যে বেতন বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তা পূরণ হবে না। বিশেষ করে ১০ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
আরও পড়ুন: শাকিলের জানাজায় এমপির বিরুদ্ধে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন