বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:১০ পি.এম
ট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ চলাকালে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস। মৃত্যুর মাত্র কয়েকদিন আগে তিনি সন্তানের বাবা হয়েছিলেন। সদ্যজাত সন্তানকে পৃথিবীতে রেখে তার এমন আকস্মিক চলে যাওয়া শোকের ছায়া ফেলেছে পরিবার, স্বজন ও পুরো এলাকায়।
নিহত সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল ওয়াহাবের ছেলে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের একপর্যায়ে আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে পিয়াসসহ দুই সেনাসদস্য নিহত হন। এ ঘটনায় এক সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পিয়াস ছিলেন পরিবারের তিন বোনের একমাত্র ভাই। ছোটবেলা থেকেই শান্ত, ভদ্র ও অমায়িক স্বভাবের মানুষ হিসেবে এলাকায় তার পরিচিতি ছিল। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা এবং সহজ-সরল ব্যবহারের কারণে স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়। চাকরির সুবাদে পরিবার-পরিজন নিয়ে চট্টগ্রামের সেনা কোয়ার্টারে বসবাস করতেন পিয়াস। দেশের সেবায় নিয়োজিত এই তরুণ সৈনিকের জীবন হঠাৎ করেই থমকে গেল একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, কয়েকদিন আগেই পিয়াসের ঘর আলো করে এসেছিল একটি নবজাতক সন্তান। সন্তানকে ঘিরে যখন পরিবারের আনন্দ-উচ্ছ্বাস, ঠিক তখনই এলো তার মৃত্যুর খবর। বাবার স্নেহ-ভালোবাসা বোঝার আগেই বাবাকে হারাল সদ্য পৃথিবীতে আসা সেই সন্তান। পরিবারের তিন বোনের একমাত্র ভাই এবং কয়েকদিন আগে বাবা হওয়ার আনন্দে থাকা পিয়াসের নিথর দেহের অপেক্ষায় এখন স্বজনদের প্রহর গোনা।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায়ও নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। তাকে শেষবারের মতো দেখতে এবং পরিবারের পাশে দাঁড়াতে স্বজন, প্রতিবেশীসহ স্থানীয়রা ছুটে আসেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, পিয়াস ছিলেন অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ। তার এমন অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। বিশেষ করে সদ্যোজাত সন্তানকে রেখে তার চলে যাওয়া পুরো ঘটনাটিকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে।
কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পূদম পুষ্প চাকমা বলেন, দেশের সেবায় নিয়োজিত একজন তরুণের এভাবে অকালে চলে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াসের আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স ফুটবল লিগে শুভ সূচনা করেছে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেষ্টার সিটি।
গতরাতে শুরু হওয়া চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ম্যান সিটি ২-০ গোলে হারিয়েছে পর্তুগিজ ফুটবল ক্লাব পোর্তোকে। ম্যাচে দুই গোল করেছেন হালান্ড।
পোর্তোর মাঠ এস্তাদিও দো দ্রাগাওয়েতে শুরু থেকেই বল দখলে নেয় ম্যানচেষ্টার সিটি। ২১ মিনিটে প্রথম গোলের ভালো সুযোগ পায় ম্যান সিটি। ফিল ফোডেনের ক্রস থেকে হালান্ডের দুর্দান্ত শট দারুণভাবে প্রতিহত করেন পোর্তোর গোলরক্ষক দিয়েগো কস্তা।
৩২ মিনিটে আবার সিটির সামনে বাঁধা হয়ে দাঁড়ান কস্তা। বক্সের ভেতর থেকে হালান্ডের জোরালোর শট আটকে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য শেস হয় ম্যাচের প্রথমার্ধ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে গোলের দেখা পায় ম্যানচেস্টার সিটি। ৪৭ মিনিটে রায়ান শেরকির পাস থেকে বল পান এনজো ফার্নান্দেজ। পোর্তোর বক্সের ভেতরে থাকা হালান্ডকে ক্রস করেন ফার্নান্দেজ। সেই ক্রস থেকে হেডে বল জালে পাঠান নরওয়ের হালান্ড। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ম্যান সিটি।
পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে সমতা আনতে আক্রমণ শানায় পোর্তো। ৫৪ মিনিটে কর্নার থেকে আলবের্তো কস্তার হেড করা বলে গোল করতে ব্যর্থ হন ডিফেন্ডার নিহুয়ান পেরেজ। ৬২ মিনিটে কস্তার যোগান দেওয়া বল থেকে পোর্তোর মিডফিল্ডার অ্যালান ভারেলার শট ম্যান সিটির বার ঘেষে চলে যায়।
ম্যাচের ইনজুরি সময়ে ম্যান সিটিকে দ্বিতীয় গোলের স্বাদ দেন হালান্ড। রায়ান আইত-নুরির পাস থেকে নিচু শটে গোল করেন হালান্ড। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ম্যান সিটি।
ম্যান সিটির হয়ে এখন পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৩৬ গোল করেছেন হালান্ড। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ম্যান সিটির হয়ে সর্বোচ্চ গোল করা আর্জেন্টিনার সার্জিও আগুয়েরোর রেকর্ড স্পর্শ করলেন তিনি। সব মিলিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ প্রতিযোগিতায় ৫৯ ম্যাচে ৫৯টি গোল আছে হালান্ডের।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ম্যান সিটির হয়ে ১৬৭ গোল করেছেন হালান্ড। ক্লাবের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠেছেন তিনি।
প্রথমার্ধের মতো দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। হালান্ডকে বাজেভাবে পাবলো রোসারিও ট্যাকল করায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। হলুদ কার্ড দেখেন হালান্ড ও রোসারিও উভয়েই। একই ঘটনায় মাঠের বাইরে থেকে হলুদ কার্ড দেখতে হয়েছে পোর্তোর কোচ ফ্রান্সেসকো ফারিওলিওকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরান কৌশলগত আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে একটি বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। দেশটির ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ইরানের চাবাহার বন্দর থেকে শুরু করে ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরের কিছু অংশ পর্যন্ত একটি সংরক্ষিত বা নিষিদ্ধ অঞ্চল ঘোষণা করা হবে।
কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
আইআরজিসির একজন মুখপাত্র জানান, এই সংরক্ষিত অঞ্চলের মধ্য দিয়ে অতিক্রমকারী যেকোনো জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জাহাজটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে।
গত রবিবার, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মহসেন রেজাই বলেছিলেন, ইরান আগামী দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালির বাইরে একটি নিষিদ্ধ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করবে। তাঁর বক্তব্যের পর আইআরজিসি মুখপাত্রের এই মন্তব্যটি এসেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন যে, হরমুজ প্রণালীতে আমাদের পর্যবেক্ষণ স্তরকে অতিক্রম করে কোনো উন্নত প্রযুক্তি প্রবাহিত হতে পারবে না।
পার্সটুডের রিপোর্ট অনুযায়ী, আইআরজিসি মুখপাত্র মেজর জেনারেল মোহেব্বি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উল্লেখ করেন যে, ২০২৫ সালে মার্কিন সেনাবাহিনীর সবচেয়ে উন্নত ড্রোন সাবমেরিন খোঁজার অভিযানটি প্রমাণ করে যে, হরমুজ প্রণালীতে আমাদের পর্যবেক্ষণ স্তরকে অতিক্রম করে কোনো উন্নত প্রযুক্তি প্রবাহিত হতে সক্ষম হবে না।
সরদার মোহেব্বি আরো জানান, পারস্য উপসাগর হলো ইরানের প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অধিকারী তরুণদের সম্পত্তি। তিনি বলেন, "তোমরা পারস্য উপসাগরে থেকে ফিরে যাও।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মিসরের সাক্কারার সমাধিক্ষেত্রে ৪৩০০ বছরের পুরনো একটি সমাধির সন্ধান প্রত্নতাত্ত্বিকেরা পেয়েছেন। এই সমাধিটি আবিষ্কার করেছে একটি যৌথ প্রত্নতাত্ত্বিক দল, যা মিসরীয় ও স্প্যানিশ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত।
এটি জানা গেছে যে, সমাধিটি প্রাচীন মিসরের পঞ্চম রাজবংশের ফারাও জেদকারে ইসেসির শাসনামলের একজন বিচারক ইউনমেনের। খবরের সূত্র অনুযায়ী, ইউনমেন ছিলেন একজন কর্মকর্তা, যার কাজের মধ্যে সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও অসন্তোষের সমাধান করা অন্তর্ভুক্ত ছিল। তার এই দায়িত্ব প্রাচীন মিসরের প্রশাসনে ন্যায়বিচার ও সামাজিক শৃঙ্খলার গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে। বার্সেলোনার অটোনোমাস বিশ্ববিদ্যালয় এবং মিসরের প্রত্নতত্ত্ববিষয়ক সর্বোচ্চ পরিষদের যৌথ দল সাক্কারার মারিয়েত সমাধিক্ষেত্র এলাকায় এই সমাধিটি আবিষ্কার করে।
প্রত্নতাত্ত্বিকেরা সমাধির ভেতরে সাজসজ্জায় সমৃদ্ধ দুটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কক্ষের সন্ধান পেয়েছেন। এর মধ্যে একটি ইউনমেনের এবং অন্যটি তার বাবা ইটির জন্য উৎসর্গ করা হয়েছিল। ইটি ছিলেন একজন জ্যেষ্ঠ লিপিকার, যার দায়িত্ব ছিল কৃষিজমি ও দেব-দেবীর উদ্দেশ্যে উৎসর্গের উপঢৌকনগুলো তদারকি করা।
সমাধির দেয়ালে দৈনন্দিন জীবন ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার বিভিন্ন দৃশ্যের বিস্তারিত খোদাই রয়েছে।
এতে কৃষকদের কাজ করতে দেখা যায়, পাশাপাশি সেবকদের উৎসর্গের সামগ্রী বহন করা এবং মৃত ব্যক্তির জন্য বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালনের দৃশ্যও রয়েছে।
চার হাজার বছরেরও বেশি পুরনো হলেও সমাধির অনেক চিত্র ও অলংকরণে এখনো মূল রং অক্ষত রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা প্রাচীন মিসরের শিল্পকৌশল ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ঐতিহ্য সম্পর্কে বিরল ধারণা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইউনমেনের দায়িত্বের সঙ্গে প্রাচীন মিসরের ‘মা'আত’ ধারণার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এই ধারণার মাধ্যমে সত্য, ন্যায়বিচার, ভারসাম্য ও সামাজিক শৃঙ্খলাকে বোঝানো হতো।
দেশটির ধর্মীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
ফারাও জেদকারে ইসেসি মিসরের পঞ্চম রাজবংশের শেষ দিকের শাসক ছিলেন। এই সময়কাল খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় সহস্রাব্দের অন্তর্ভুক্ত এবং প্রাচীন মিসরীয় রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
কায়রোর দক্ষিণে অবস্থিত সাক্কারা প্রাচীন মিসরের রাজধানী মেমফিসের বিশাল সমাধিক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এখানে হাজার হাজার বছরজুড়ে নির্মিত বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে জোসারের ‘স্টেপ পিরামিড’ও রয়েছে।
নতুন এই আবিষ্কার সাক্কারার বিস্তৃত প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় চলমান খননকাজের অংশ। প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য আবিষ্কার ও সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন আবিষ্কারগুলো তুলে ধরে আরো আন্তর্জাতিক দর্শনার্থী আকর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মিসর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ