০৯:২৮ পি.এম
ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে চলা ছাত্র আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে কথিত অশালীন ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টগুলোর বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে কয়েকটি প্ল্যাটফর্মকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং চিহ্নিত করা বেশিরভাগ ভিডিও, মন্তব্য ও পোস্ট ইতোমধ্যেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
সাইবার পুলিশের একটি বিশেষ দল নিয়মিত অনলাইন কনটেন্ট পর্যবেক্ষণ করছে, এবং নতুন কোনও আপত্তিকর পোস্ট দেখা মাত্রই প্ল্যাটফর্মগুলোকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলছে।
আরও পড়ুন: সৌদি রুটে ১৪৪ ফ্লাইট স্থগিত, ২২ হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে
সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা আন্দোলনের ইতি টানার পরদিনই পুলিশের এই সাইবার অভিযানের বিষয়টি সামনে এলো।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং সরকার আন্দোলনকারীদের অন্যান্য প্রধান দুটি দাবি মেনে নেওয়ার পর শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় কাকরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করার পরপরই অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বাধীন সিজেপি তাদের দাবির তালিকায় নতুন দাবি যুক্ত করেছিল।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুকে ঠেকাতে বিদেশ থেকে দেশে ফিরছেন হাজার হাজার ইসরাইলি
এর মধ্যে ছিল আত্মহত্যা করা নিট পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ প্রদান, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়া এবং র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স ও পুলিশের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা।
দিল্লির কন্সটিটিউশন ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, “ককরোচ জনতা পার্টি ঘোষণা করছে যে, সম্মত হওয়া শর্তাবলি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে- এই বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে আমরা আমাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।”
সিজেপি জানায়, কেন্দ্রীয় সরকার আত্মহত্যা করা নিট পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে এবং ভারতের যেকোনও স্থানে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর প্রত্যাহার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সরকার কি সব এফআইআর নাকি কেবল শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর প্রত্যাহার করতে রাজি হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে সিজেপির আরেকজন মুখপাত্র রাঙ্কা এনডিটিভিকে বলেন, “আমি নিশ্চিত যে আমরা গুরুতর অপরাধী এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের মধ্যে পার্থক্য করতে পারি।
আরও পড়ুন: শাহজালাল রুমিকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান হয়নি: রাশেদ খাঁন
সিজেপি প্রথম দিন থেকেই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পক্ষে ছিল এবং গত ৩৭ দিনে আমরা ঠিক সেটাই অর্জন করেছি।
যে চুক্তিটি হয়েছে এবং আমি নিশ্চিত যে, খুব শিগগির লিখিত চুক্তিও হয়ে যাবে।
তবে যে চুক্তিটি হয়েছে তা হলো সব আন্দোলনকারী ও সংগঠকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর প্রত্যাহার এবং সিজেপির সংগঠক ও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে নতুন কোনও এফআইআর না দেওয়া।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের কড়াকড়ির বিষয়ে সিজেপি এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুরে সন্ত্রাসী গ্রুপের দুই সদস্য পলাশ ও তোতা মিয়া গ্রেফতার
ভারতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের মাধ্যমে সেই বিতর্কের অবসান ঘটল, যা মে মাসের শুরু থেকেই দানা বাঁধছিল, যখন নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে প্রথম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
সেই ক্ষোভ পরবর্তীতে ভারতের পরীক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা ও সংস্কারের এক বৃহত্তর দাবিতে রূপ নেয়।
গত মে মাসে অভিজিৎ দীপকের প্রতিষ্ঠিত অনলাইন ব্যাঙ্গাত্মক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে রাজপথে নেমে আসে।
রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে।
আরও পড়ুন: জ্ঞানেশকে সরাতে রাজপথে নামছে ইন্ডিয়া জোট, ৩০ অক্টোবর ‘জনতার অভিশংসন’
জুলাইয়ের ২০ তারিখ সরকারের সঙ্গে সিজেপির আলোচনা শুরু হয়।
ততদিনে আন্দোলনটি নতুন গতি পেয়েছিল সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুকের অংশগ্রহণে, যিনি ২৮ জুন এতে যোগ দিয়ে আন্দোলনকে এক নতুন মাত্রা দেন।
২০ জুলাই সিজেপির ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যখন পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ ব্যবহার করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এসময় ব্যাপক সংঘর্ষে বিক্ষোভকারী ও পুলিশ- উভয় পক্ষের বহু মানুষ আহত হন।
আরও পড়ুন: হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, প্রেমিকের সঙ্গে থাকার অনুমতি আইনত অপরাধ
পুলিশ আন্দোলনকারীদের মারধর করছে ও টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে- এমন কিছু ক্লিপ দ্রুত অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে, যা পুরো বিষয়টি সামলানোর পুলিশি পদ্ধতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন