ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আর এস ফাহিম গ্রেফতার


সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আর এস ফাহিম গ্রেফতার

রাষ্ট্রের অখণ্ডতা বিপন্ন করার ষড়যন্ত্র ও গোপন বৈঠকের অভিযোগে রমনা থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আর এস ফাহিম চৌধুরীকে আদালত গ্রেফতার দেখিয়েছেন।

রবিবার (১৪ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা পুলিশের করা আবেদন মঞ্জুর করে ফাহিমকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন যে, গত ৯ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আমির হামজা আসামির উপস্থিতিতে শুনানির আবেদন করেছিলেন। সেই প্রসঙ্গে আজ আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে শুনানির শেষে আদালত এই আদেশ দেন।

আরও পড়ুন: পদ্মা সেতু হয়ে রূপপুরে ইউরেনিয়াম পরিবহন, শ্রমিক আন্দোলনের শঙ্কা

গ্রেফতার দেখানোর আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, স্পর্শকাতর ও চাঞ্চল্যকর এই মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে ফাহিমকে গ্রেফতার দেখানো প্রয়োজন। প্রাথমিক তদন্তে এই ঘটনার সঙ্গে ফাহিমের সংশ্লিষ্টতার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি রমনা পার্ক এলাকায় রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করা এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে একটি গোপন বৈঠকের আয়োজন করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা সেই স্থান থেকে পালিয়ে যান। ওই ঘটনায় রমনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এজাহারে ফাহিম চৌধুরীকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও এই চক্রের অন্যতম অর্থ জোগানদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে, গত ২৯ মার্চ মিরপুর চিড়িয়াখানা এলাকা থেকে স্থানীয় জনতা ও শিক্ষার্থীরা ফাহিমকে আটক করে শাহ আলী থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পরবর্তীতে তাঁকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে গত ৩০ মার্চ তাঁকে প্রথম কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। নতুন এই মামলার পরে তাঁকে আবারও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: ত্রিশাল ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২০ বছরেও নিয়োগ হয়নি জনবল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুদ্ধের প্রভাবে শক্তি সঞ্চয় করছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৪৫ পি.এম


যুদ্ধের প্রভাবে শক্তি সঞ্চয় করছে ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে দুর্বল করার লক্ষ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। কিন্তু সংঘাত শুরুর চার মাস পর যেন এই সমীকরণ উল্টে গেছে।

সরকার পরিবর্তন অথবা পারমাণবিক সক্ষমতা ভেঙে দেওয়ার পরিবর্তে ইরান এখন আরও সামরিককেন্দ্রিক, ঝুঁকি নিতে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এই সময়ে তেহরান আঞ্চলিক প্রভাব নিজেদের কবজায় রাখতে কৌশলগত কর্মসূচির প্রতি দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।

এখন প্রশ্ন হলো—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কি তাদের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছে? তারা পূর্বে বলেছিল, ইরানে সরকার পরিবর্তন, পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস এবং আঞ্চলিক প্রভাব কমানোই এর মূল উদ্দেশ্য।

এ প্রশ্নের উত্তর কিংবা চলমান এই যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে বিতর্ক বৃদ্ধি পাচ্ছে। গুরুতর কৌশলগত ছাড় না দিয়েই ইরান সংঘাত টিকে রেখে নতুনভাবে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এমন তথ্য তুলে ধরেছে।

‘ইসলামিক রিপাবলিক ৩.০’

প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, যুদ্ধের শুরুতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরানের ক্ষমতার কাঠামোয় বড় পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে তাত্ত্বিকভাবে যুব, আরও কঠোর অবস্থানসম্পন্ন এবং নিরাপত্তাকেন্দ্রিক নেতৃত্ব ক্ষমতা দখল করেছে।

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) রাষ্ট্র পরিচালনায় আরো শক্তিশালী ভূমিকা গ্রহণ করেছে।

চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির পরিচালক সানাম ভাকিল বলেন, ‘ইরান এখন আরও তরুণ এবং সাহসী একটি প্রজন্মের হাতে পরিচালিত হচ্ছে।’

অন্যদিকে, ইরানের নতুন শাসনব্যবস্থা নিয়ে কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের সাবেক মার্কিন কূটনীতিক অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, এটি ‘ঐশ্বরিক ক্ষমতা’ থেকে ‘কঠোর ক্ষমতার’ দিকে রূপান্তর।

বিশ্লেষকদের অনেকেই বর্তমান ব্যবস্থাকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক ৩.০’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। তারা বলেন, এটি আগের তুলনায় কম ধর্মতান্ত্রিক এবং অনেক বেশি আইআরজিসি-নিয়ন্ত্রিত সামরিক কাঠামোতে পরিণত হয়েছে।

সামরিক ও কৌশলগত ইরান

ইরান দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক হামলা এবং অর্থনৈতিক চাপ মোকাবেলা করলেও তার পারমাণবিক অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ইরান এখনো ‘নিউক্লিয়ার থ্রেশহোল্ড’ বা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। অর্থাৎ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিলে তারা অস্ত্র তৈরির পথে দ্রুত অগ্রসর হতে পারে।

আঞ্চলিক ক্ষেত্রেও হিজবুল্লাহ, হামাস এবং হুথি বিদ্রোহীদের মতো মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে ইরান তাদের প্রভাব বজায় রেখেছে।

যুদ্ধ এবং অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন

বর্তমানে নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতি এবং শাসনব্যবস্থার বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইআরজিসি প্রধান সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের আচার-আচরণেও পরিবর্তন এসেছে।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, সংঘাতের এই পর্যায়ে প্রথমবারের মতো ইরান সরাসরি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে, যেখানে আগে তারা মূলত প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর ওপর নির্ভর করত।

এটি আগের সতর্কনীতির পরিবর্তে আরো আত্মবিশ্বাসী ও আক্রমণাত্মক কৌশলের প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আঞ্চলিক স্থায়িত্ব

ইরান এখন লেবানন এবং হরমুজ প্রণালিসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার অংশ হিসেবে ব্যবহার করছে।

ইরান বিশেষজ্ঞ এবং অবসরপ্রাপ্ত ইসরায়েলি সামরিক গোয়ন্দা কর্মকর্তা ড্যানি সিত্রিনোভিচ বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের প্রভাব এখনও তাদের প্রতিরোধ কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।

তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ইরানকে এমন একটি তাস দিয়েছে, যা ব্যবহার করে তারা যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলকে নতুন হামলা থেকে নিরুৎসাহিত করতে পারে।

তিনি সতর্ক করেন, এই যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। কিন্তু সেটিই হয়তো দেশটিকে এমন এক পর্যায়ে ঠেলে দিয়েছে, যেখান থেকে ফিরে আসা কঠিন।

আলোচনায় ইরান কী চাইছে?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বিলুপ্ত করতে রাজি নয়। বরং তারা সীমিত আকারের একটি সমঝোতা চায়।

তেহরানের দেওয়া সম্ভাব্য ওই কাঠামোর মধ্যে রয়েছে—ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সাময়িক স্থগিত করা, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি অংশ বিদেশে পাঠানো বা পাতলা করা। তবে পারমাণবিক অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখা।

এছাড়া, তেহরান নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং জব্দকৃত সম্পদ ফেরত চাচ্ছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, তারা প্রাথমিকভাবে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে, যা পরবর্তী অংশ চুক্তি বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

ইরানের প্রধান হাতিয়ার

ইরানের প্রধান দুটি হাতিয়ার হলো—তাদের পারমাণবিক প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বৈশ্বিক জাহাজ চলাচলে প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা।

যদিও ইরানের অর্থনীতি মারাত্মক চাপের সম্মুখীন রয়েছে এবং যুদ্ধ শেষ হলে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ বাড়তে পারে। তবে তেহরানের ধারণা, একটি চুক্তি করার জন্য ওয়াশিংটনের প্রয়োজন আরো বেশি। ফলে তারা বড় ধরনের ছাড় দিতে অনাগ্রহী।

সানাম ভাকিলের মতে, ইরানের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো ভবিষ্যৎ হামলা প্রতিরোধ করা, উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করা, আরব-ইসরায়েল ঘনিষ্ঠতা দুর্বল করা এবং অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানো।

এখন সবচেয়ে বড় ঝুঁকি কী?

যদিও প্রাথমিক কোনো সমঝোতা হলেও গভীর মতপার্থক্যগুলো দ্রুত সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে পারমাণবিক আলোচনা দীর্ঘ সময় ধরে অসম্পূর্ণ অবস্থায় চলতে পারে।

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের ইরান বিশেষজ্ঞ সুজান ম্যালোনি বলেন, আমরা সম্ভবত দীর্ঘ সময়ের জন্য ‘না যুদ্ধ, না শান্তি’ ধরনের একটি পরিস্থিতিতে থাকব। যা ইরানের জন্য সুবিধাজনক।

এই অবস্থা একদিকে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বজায় রাখবে, অন্যদিকে জ্বালানি বাজার এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরানের কৌশলগত প্রভাবও অক্ষুণ্ণ রাখবে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো—ইরান অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে ভুল পদক্ষেপ নিতে পারে, যেমনটি অতীতেও করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেবাচিম হাসপাতাল কমিটির সভাপতি পদে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৫১ পি.এম


শেবাচিম হাসপাতাল কমিটির সভাপতি পদে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ

বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদে নিযুক্ত হয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কাজী শরিফ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দায়িত্ব পেয়েছি মাত্র। জুলাই মাসে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রথম সভা করব। ওই সভায় হাসপাতালটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করব। একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের সেবা গ্রহিতাদের নিয়ে একটি সভা করব। যেখানে তাদের কাছ থেকে হাসপাতাল এর চিকিৎসা সেবা সম্পর্কে মতামত নেব।’

হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালটিকে এমনভাবে পরিচালনা করা হবে, যাতে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ সকল সেবা হাসপাতালটিতে পায়। যাতে তাদের চিকিৎসা সেবা পেতে ঢাকা অথবা অন্য কোথাও যেতে না হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদকের ছোবলে উদ্বেগ বাড়ছে নেত্রকোনায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৫৫ পি.এম


মাদকের ছোবলে উদ্বেগ বাড়ছে নেত্রকোনায়

নেত্রকোনায় মাদকের ভয়াবহতা বেড়ে যাওয়ার কারণে নানা অপরাধ ঘটছে। এমনকি হত্যাকাণ্ডও ঘটছে। পুলিশ য dùদ্বমাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে, তাও ব্যবসায়ীসহ মদদদাতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। সুশীল সমাজের দাবি, বিচারহীনতার অভাবই এসব ঘটনার মূল কারণ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উল্লেখ করেছে যে, তারা তৎপর থাকলেও সামাজিক সচেতনতার অভাব রয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, মাত্র ৫ দিনের মধ্যে চারটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। গত (১ জুন) থেকে (৫ জুন) পর্যন্ত জেলায় চারটি হত্যার ঘটনায় নেত্রকোনা সদরে নারীসহ দুইজন এবং জেলার কেন্দুয়ায় দুইজন নিহত হয়েছেন।

নেত্রকোনা শহরের কাটলি এলাকায় গত (১ জুন) রাতে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। হত্যাকাণ্ডের শিকার নারীর স্বামী ও ছেলেও কুপিয়ে জখম হয়। স্থানীয়রা ঘটনাটির সাথে অভিযুক্ত আব্দুর রশীদকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে।

স্থানীয়দের বক্তব্য, নেশার জন্যই এ ঘটনাটি ঘটেছে। যিনি হত্যার শিকার হয়েছেন, তার ছেলে রিকশা চালাতো এবং তারা মাঝে মধ্যেই তাকে সাহায্য করতো। তবে বিদ্যুতবিহীন রাতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটলে স্থানীয়রা যদি কিছুটা সচেতন থাকে, তাহলে হয়তো তারা তাকে রক্ষা করতে পারতেন। একই সময়, ওই সপ্তাহে আরও তিনটি খুন হয়েছে দুই উপজেলায়। যে ঘটনায়, মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের চল্লিশা গ্রামে একটি মাদকসেবী যুবক শ্যামলকে ভাত দিতে দেরি হওয়ায় তার ষাটোর্ধ্ব মা মিনতিকে শাবলের আঘাতে হত্যা করে। পুলিশ তাকেও আটক করে।

এর আগে, গত ২ মে দুর্গাপুরে মাদক সেবন নিষেধ করায় কেলিশ নামে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। মার্চ, এপ্রিল, মে তিন মাসে শিশুদের মধ্যেও আরও তিনটি হত্যার ঘটনা ঘটেছে জেলার কলমাকান্দাসহ বিভিন্ন উপজেলায়। আসামিরাও ইতোমধ্যে পুলিশ কর্তৃক ধরা পড়েছে। এসব ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছে নেত্রকোনা জেলাজুড়ে।

মারামারি এবং হানাহানি ঘটেই চলছে। সাধারণ মানুষের ধারনা, মাদকের সহজলভ্যতা এবং বিচার না হওয়ার অভাবই এই ঘটনাগুলোর প্রধান কারণ।

এদিকে, পুলিশ এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর প্রতিনিয়ত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে চললেও মূল হোতারা আড়ালে থেকে যাচ্ছে। যারা গ্রেফতার হচ্ছে, তারাও জামিনে বেরিয়ে আবারও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছেন। ফলে সমাজে মাদকের প্রভাব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাদক নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং খুন-ধর্ষণের মতো অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

জানা গেছে, জেলা পুলিশের অভিযানে গত ৫ মাসে গাঁজা, ইয়াবা, হেরোইন, ভারতীয় মদ এবং ইনজেকশনসহ মোট ৩ কোটি ৮২ লাখ ১১ হাজার ৫৭০ টাকার মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। জেলা পুলিশের অভিযানে গত ৫ মাসে ২৯২ টি মামলা হয়েছে এবং গ্রেফতার হয়েছে ৪৩০ জন।

জনবল সংকটের কারণে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর গত ৫ মাসে ৮৮ লাখ ৪৯ হাজার ৮৫০ টাকার মাদক উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ৬৬০ টিরও বেশি অভিযানে ১২১ টি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে ১৩৬ জনকে।

নেত্রকোনা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুলতান মাহমুদ জানিয়েছেন, স্কুল পর্যায়ে মাদক ছড়িয়ে পড়ছে এবং মাদকের সহজলভ্যতা মূল কারণ হিসেবে উথ্থাপন করেছেন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, "মানুষ সব সময় আতঙ্কে থাকে। শহরের মধ্যে নারীকে কুপিয়ে হত্যা করা হলো। তবে যদি আইন বাস্তবায়নের যথাযথ ব্যবস্থা থাকতো, তাহলে এই মাদক এত বিস্তার লাভ করতে পারতো না।"

এদিকে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জিয়া উদ্দিন জিয়া বলেন, ‘যারা অপরাধী, তারা সাজা পেলেও অনেকে অপরাধ না করে আটক থাকতে পারে, এটি কাম্য নয়। একজন বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।’

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হক বলেন, ‘যারা মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করছেন, তারা জামিন নিয়ে পুনরায় মাদক ব্যবসায় যুক্ত হন। বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। আইন প্রয়োগ করেও মাদক ব্যবসায়ীদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সমাজে মাদক প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।’

এটি একটি সমাজিক সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলছেন, ‘সমাজের সকলকে সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। যদি সবাই নিজের দায়িত্বগুলো সমন্বিতভাবে পালন করে, তাহলে এই ব্যাধি নির্মূল হতে পারে।’

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে মাদকের সূত্রপাত হচ্ছে। এ জন্য সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। রাষ্ট্রের সব অর্গান এই প্রচেষ্টায় বিধৃত থাকতে হবে। শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, সামাজিক ক্যাম্পেইনও চালানো হচ্ছে। সচেতনতা পুরো সমাজে ছড়িয়ে দিতে হবে।’

সমাজের সহিষ্ণুতা বাড়াতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সমাজের সহিষ্ণুতা ও আইন প্রয়োগকারী ব্যবস্থা একসাথে কাজ করলে সমাজে অপরাধের মাত্রা কমে যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুবি ক্যাম্পাসে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের আনন্দ মিছিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৫৬ পি.এম


কুবি ক্যাম্পাসে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের আনন্দ মিছিল

বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা নিয়ে সারা বিশ্ব মুখরিত হয়ে উঠেছে। প্রতি চার বছরে বিশ্বকাপ শুরু হলে বাংলাদেশে ফুটবলপ্রেমীরা নিজেদের প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন জানাতে বিভিন্ন আয়োজন করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সমর্থনে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১৪ জুন) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভিতরে এই আনন্দ মিছিলের আয়োজন করা হয়। মিছিলটি শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে এবং প্রধান ফটকের সামনে এসে শেষ হয়।

মিছিলে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা আর্জেন্টিনার পতাকা, জার্সি ও ব্যানার নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। তারা তাদের প্রিয় দল ও খেলোয়াড়দের সমর্থনে বিভিন্ন স্লোগান উচ্চারণ করেন এবং বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সাফল্য কামনা করেন।

মিছিলে অংশগ্রহণকারী গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী শরিফুল আলম বিজয় জানান, আর্জেন্টিনা ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে পরাজিত হয় এবং ২০১৫ ও ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকায় ব্যর্থতার পর তাও ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা ও ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে তারা দারুণ প্রত্যাবর্তন করেছে।

তিনি আরো বলেন, আর্জেন্টিনা শুধুমাত্র তারকা নির্ভর দল নয়, বরং তাদের শক্তি হচ্ছে সমন্বিত দলীয় পারফরম্যান্স। তিনটি বিশ্বকাপ, অসংখ্য শিরোপা এবং মেসি-ম্যারাডোনার মতো কিংবদন্তির কারণে তারা ফুটবলের ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। তিনি আশাবাদী যে এবারও তারা ট্রফি জিতবে।

লোকপ্রশাসন বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী সাইফ মাশরাফি বলেন, আর্জেন্টিনার ফুটবল একটি ধরনের শিল্প। মেসি ও ম্যারাডোনার নান্দনিক ফুটবল বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্ত তৈরি করেছে। তাঁর মতে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও তারা বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চান। আশাকরি এবার বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনার হাতে উঠবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%