ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পলাতক আসামিদের দেশে ফেরাতে সরকার কোনো গাফিলতি করবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


পলাতক আসামিদের দেশে ফেরাতে সরকার কোনো গাফিলতি করবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংসদ ভবন, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ বিদেশে পালিয়ে থাকা সব আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আইনের আওতায় আনতে সরকার কোনো ধরনের গাফিলতি করবে না।

তিনি বলেন, ‘সাবেক আইজিপিসহ অতীতের ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া সব পলাতক আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার সংশ্লিষ্ট সব বিদেশি সংস্থার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।’

আজ জাতীয় সংসদে ১৪৭ বিধির আওতায় ঢাকা-১৪ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেমের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে উত্থাপিত প্রস্তাবের ওপর আলোচনার জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। 

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

উভয় পক্ষের আলোচনা শেষে সংসদে প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়। পরে স্পিকার এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা অবিলম্বে সংসদকে অবহিত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পলাতক সব আসামিকে শনাক্ত, গ্রেপ্তার এবং দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোল, সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সরকার কাজ করছে।

সাবেক আইজিপিকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি বলেন, তার বর্তমান অবস্থান শনাক্ত করা, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া, একাধিক পাসপোর্ট রাখার অভিযোগ যাচাই এবং দেশে-বিদেশে থাকা তার সব অবৈধ সম্পদ শনাক্ত ও জব্দ করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

তিনি বলেন, ‘সরকার আইনের শাসন, যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাবেক আইজিপিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সম্ভাব্য সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।’

সাবেক আইজিপিকে প্রত্যর্পণে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে বিষয়টি পরিচালনার জন্য গত ৩০ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক অন্যতম শীর্ষ আইনজীবী প্রতিষ্ঠান ‘হামদান আল কাবি অ্যাডভোকেটস অ্যান্ড লিগ্যাল কনসালটেন্সি’কে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সেন্ট লুসিয়ায় সাবেক আইজিপির বর্তমান অবস্থান নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উপযুক্ত সূত্রের মাধ্যমে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, এ সময়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুমসহ বিভিন্ন ঘটনায় মোট মামলার সংখ্যা ৭ থেকে ৮ হাজারেরও বেশি।

আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন

তিনি বলেন, হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ১ হাজার ৪৮টি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্যাতনে মৃত্যুর ঘটনা ১৩৩টি।

গুমের বিষয়ে তিনি বলেন, নথিভুক্ত গুমের সংখ্যা ৬৮৪টি। এ ছাড়া ‘মায়ের ডাক’ ও ‘অধিকার’-সহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের হিসাবে নিবন্ধিত গুমের সংখ্যা প্রায় ৭০৯টি।

গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনে দাখিল করা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৮৫০ জনকে জোরপূর্বক গুম করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, ওই সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতায় হত্যার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৩০টি এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা ২ হাজার ৬৯৩টি। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, বিচারবহির্ভূত মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা ৩ হাজারের বেশি হতে পারে, যার সবগুলো নথিভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন: আব্বাসউদ্দীনের ভাওয়াইয়া গান নিয়ে উৎসবের আয়োজন করবে সরকার: সংস্কৃতিমন্ত্রী

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) একটি তথ্য অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা ২ হাজারের বেশি।

তিনি বলেন, নিহতদের অধিকাংশই সামরিক রাইফেল ও শটগান থেকে ছোড়া প্রাণঘাতী গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান, যা সাধারণত দেশের নিরাপত্তা বাহিনী ব্যবহার করে থাকে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দলের সদস্যদের সরকারের সমালোচনা না করে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

আইজিপি বেনজীর ও মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ফ্যাসিবাদী সরকারের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্যাতন ও গুমসহ বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। ইতোমধ্যে মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম

সাবেক ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক ও বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুম এবং শতাধিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ অভিযোগ গঠন করেছে।

উল্লেখ্য, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গত ১২ জুন দুবাইয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তার করে। পরে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশকে তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোলের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়।

গত ১৪ জুন সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চাইলে গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানাতে হবে।

আরও পড়ুন: সাঈদীর মামলার বাদীকে দাফনে বাধা দেয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন জামায়াতের

গত ২০ জুন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাবেক আইজিপিকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

তিনি বলেন, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত পুলিশ বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পন্ন করতে বাংলাদেশকে ৩০ দিন সময় দেওয়া হয়েছিল।

তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ১৪৪ পৃষ্ঠার নথিপত্র প্রস্তুত ও অনুবাদ করে মাত্র তিন দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছে পাঠায়।

আলোচনায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, কুমিল্লা-১১ আসনের সদস্য, বিরোধীদলীয় উপনেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সংরক্ষিত নারী আসন-৪৫-এর রোকেয়া বেগম, ফরিদপুর-৪ আসনের এম শাহিদুল ইসলাম, সংরক্ষিত নারী আসন-৩৮-এর মারজিয়া বেগম, পটুয়াখালী-৪ আসনের এ বি এম মোশাররফ হোসেন, সংরক্ষিত নারী আসন-৪৭-এর তাসমিয়া প্রধান এবং রংপুর-৪ আসনের আখতার হোসেন অংশ নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নিলেন খলিলুর রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:০৫ এম


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নিলেন খলিলুর রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নিয়ে‌ছেন বাংলা‌দে‌শের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। আগামী এক বছর এ দায়িত্ব পালন করবেন তি‌নি।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সমাপ্তি পর্বে খ‌লিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন।

বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সমাপ্তি পর্বের পর ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে শপথ নেন খ‌লিলুর রহমান। তিনি জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

চলতি বছরের ২ জুন গোপন ব্যালটে খলিলুর রহমান এই পদে নির্বাচিত হন। তিনি পান ৯৯টি ভোট। অন্যদিকে তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকুরিস পেয়েছিলেন ৯১টি ভোট।

জাতিসংঘের আঞ্চলিক পর্যায়ক্রমিক ব্যবস্থা অনুযায়ী এবারের সভাপতি পদটি এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য সংরক্ষিত ছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আগামীকাল জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১৪ এম


আগামীকাল জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আগামীকাল। 

নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ১৯৭৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামীকাল বুধবার সকাল ১০টায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।

এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। 

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

এ ছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ১০টায় নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হবে। 

র‌্যালি উদ্বোধন করবেন অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনায় বিভাগ, জেলা, মহানগর, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডসহ সংগঠনের সব ইউনিটকে নিজ নিজ উদ্যোগে র‌্যালি, আলোচনা সভা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, এমপি, সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আওয়ামী লীগ প্রশ্নে আমাদের এক থাকতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২৪ এম


আওয়ামী লীগ প্রশ্নে আমাদের এক থাকতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের গুম, খুন ও নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সরকার আওয়ামী লীগের পলাতক আসামি ও দুর্বৃত্তদের বিচারের আওতায় আনার জন্য কাজ করছে। এই বিষয়টিতে কাউকে দায়ী না করে সকলকে সরকারের সঙ্গে এক হয়ে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সরকারি দল, বিরোধী দল সবাই মিলে আমাদের একটাই অঙ্গীকার হবে, প্রতিশ্রুতি হবে—আমরা এখানেই বিতর্ক করব, তর্ক করব, দ্বিমত হব, সংখ্যাগরিষ্ঠ হব। কিন্তু ফ্যাসিবাদী, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের প্রশ্ন যেখানেই আসবে, তার প্রতিরোধের জন্য আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব।’

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের যে প্রত্যাশা, গণতন্ত্রের পক্ষে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যে সুদৃঢ় ঐক্য গড়ে উঠেছিল, সেই ঐক্যকে শক্তিতে পরিণত করে গণতন্ত্রের ঝান্ডাকে আমরা ঊর্ধ্বে তুলে ধরব, এই প্রত্যাশা সবার কাছে করি।’

বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের দোসরদের ফিরিয়ে আনতে ও বিচার করতে আমাদের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। এই প্রক্রিয়ায় আমাদের দায়ী না করে আপনারা সহযোগিতা করলে আমরা খুশি হব।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টোকাই থেকে হাসপাতালের ‘হর্তাকর্তা’: শেবাচিমে দেলোয়ারের ত্রাসের রাজত্ব!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি

বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৩২ এম


টোকাই থেকে হাসপাতালের ‘হর্তাকর্তা’: শেবাচিমে দেলোয়ারের ত্রাসের রাজত্ব!

দালালি থেকে আউটসোর্সিং কর্মচারী নেতা—চাঁদাবাজি, দখল ও হুমকির একের পর এক অভিযোগ:

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম)। দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন হাজার হাজার মানুষ। গুরুতর অসুস্থ রোগী থেকে শুরু করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অসংখ্য মানুষের শেষ ভরসা এই হাসপাতাল। অথচ সেই হাসপাতালকেই ঘিরে একজন কথিত রোগী-দালালের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি, হুমকি, দখলচেষ্টা ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দেলোয়ার হোসেন ওরফে দেলু। একসময় হাসপাতালকেন্দ্রিক টোকাই ও রোগী-দালাল হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি বর্তমানে নিজেকে আউটসোর্সিং কর্মচারী নেতা হিসেবে পরিচয় দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, হাসপাতালের বিভিন্ন বিষয়ে প্রভাব বিস্তার, কর্মচারীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে হস্তক্ষেপের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দেলোয়ারের বিরুদ্ধে কথা বললেই শুরু হয় ভয়ভীতি প্রদর্শন। ফলে অনেকে অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, দেলোয়ারের প্রভাবের কারণে তারা অনেকটা জিম্মি অবস্থায় রয়েছেন।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, পূর্বের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা এবং হাসপাতালসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর বিষয়ে দেলোয়ারের বক্তব্যও জানা জরুরি। জাতীয় পর্যায়ের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের ক্ষেত্রে অভিযুক্তের বক্তব্য গ্রহণ করা ন্যায্যতার অন্যতম শর্ত।

দালালি ছিল কথিত মূল কর্মকাণ্ড:

হাসপাতালসংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির ভাষ্য অনুযায়ী, শেবাচিমকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন রোগী ভাগিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানোর সঙ্গে দেলোয়ার জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ কিংবা বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে প্ররোচিত করা হতো। বিনিময়ে রোগীপ্রতি কমিশন পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

হাসপাতালে রোগী-দালালদের তৎপরতা নতুন কোনো বিষয় নয়। দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের মতো শেবাচিমেও দালালচক্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসব অভিযানের লক্ষ্য ছিল রোগী ও স্বজনদের হয়রানি বন্ধ করা এবং চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মানুষকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানমুখী করার প্রবণতা ঠেকানো।

হাসপাতালসংশ্লিষ্টদের দাবি, দেলোয়ারও একাধিকবার দালালি করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক বা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এ বিষয়ে র‌্যাবের পুরোনো অভিযান ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্য যাচাই করে দেখা যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

গ্রেপ্তারের পরও থামেনি তৎপরতা—অভিযোগ:

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দালাল হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারের পর জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও হাসপাতালকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হন দেলোয়ার।

পরবর্তী সময়ে হাসপাতালের আউটসোর্সিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে তার অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে বলে অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালের তৎকালীন সহকারী পরিচালক ডা. মোনায়েম সাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় চাকরি নেওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন।

এরপর নিজেকে আউটসোর্সিং কমিটির সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন দেলোয়ার—এমন অভিযোগও রয়েছে। এই পরিচয় ব্যবহার করে তিনি হাসপাতালের সাধারণ কর্মচারীদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে থাকেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

তবে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে তার নিয়োগ কীভাবে হয়েছে, কোন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হয়েছে, তার পদ বা দায়িত্ব কী ছিল এবং তিনি আদৌ কোনো কমিটির সভাপতি ছিলেন কি না—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা জরুরি।

কারণ, একটি সরকারি হাসপাতালের আউটসোর্সিং কর্মচারী কোনো আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা বা প্রশাসনিক দায়িত্ব ছাড়াই কীভাবে কর্মচারীদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারেন—এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।

‘কর্মচারী নেতা’ পরিচয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ

দেলোয়ার বর্তমানে নিজেকে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের নেতা হিসেবে পরিচয় দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারীর দাবি, বকেয়া বেতন আদায়, প্রশাসনিক কাজে সহযোগিতা এবং বিভিন্ন দাপ্তরিক বিষয়ে যোগাযোগ করে দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়।

কেউ কেউ এটিকে চাঁদা হিসেবে উল্লেখ করলেও দেলোয়ারের পক্ষ থেকে এসব অর্থের বৈধতা বা উদ্দেশ্য কী—তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

কর্মচারীদের অভিযোগ, নিয়মিত বেতন না পাওয়া কিংবা বেতনসংক্রান্ত জটিলতার সুযোগ নিয়ে তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা কাগজপত্রের কাজের নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

একাধিক কর্মচারী জানান, এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হয়। ফলে অনেকে অভিযোগ থাকলেও প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না।

রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন:

দেলোয়ারের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও রয়েছে নানা আলোচনা।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিগত সরকারের সময়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন তিনি।

তবে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক সাংগঠনিক পদ বা দায়িত্ব রয়েছে কি না, সে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাদের বক্তব্যের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

অ্যাম্বুলেন্স আটকে টাকা দাবির অভিযোগ:

দেলোয়ারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে হাসপাতাল চত্বরে একটি অ্যাম্বুলেন্স আটকে টাকা দাবি করার ঘটনা।

হাসপাতালসংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, একটি অ্যাম্বুলেন্স শেবাচিম কম্পাউন্ডে প্রবেশ বা চলাচলের সময় সেটি আটকে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। চালক টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এই অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু চাঁদাবাজির নয়, রোগী পরিবহনব্যবস্থায় সরাসরি বাধা এবং আইনশৃঙ্খলার গুরুতর লঙ্ঘনের বিষয়ও হয়ে দাঁড়ায়।

ঘটনাটির বিষয়ে কোনো মামলা, সাধারণ ডায়েরি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগ কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নথি রয়েছে কি না—তা যাচাই করা প্রয়োজন।

ডক্টরস ক্যান্টিন নিয়েও বিরোধ

শেবাচিমের পঞ্চম তলার ডক্টরস ক্যান্টিন নিয়েও দেলোয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

ক্যান্টিনটি দীর্ঘদিন ধরে পরিচালনা করে আসা মজেদ ও তার ছেলে আরিফুর রহমানকে সরিয়ে দিয়ে সেটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের অভিযোগ, ক্যান্টিনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। এমনকি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

ক্যান্টিনের বৈধ বরাদ্দ, ইজারা বা পরিচালনার অনুমতি কার নামে এবং এ নিয়ে কোনো প্রশাসনিক বা আইনি বিরোধ রয়েছে কি না—সেসব নথিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সরকারি হাসপাতালের কোনো স্থাপনা বা ক্যান্টিনের নিয়ন্ত্রণ ব্যক্তিগত প্রভাবের মাধ্যমে পরিবর্তন করার সুযোগ থাকার কথা নয়।

হাসপাতালকেন্দ্রিক ‘সিন্ডিকেট’ নিয়ে উদ্বেগ:

শেবাচিমে রোগী হয়রানি ও দালালচক্রের অভিযোগ নতুন নয়। তবে দালাল হিসেবে পরিচিত কেউ পরবর্তীতে কোনোভাবে হাসপাতালের আউটসোর্সিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চিকিৎসকের ভাষ্য, “র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া দালালরা রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় আউটসোর্সিংয়ের সুযোগ নিয়ে নিজেদের স্টাফ পরিচয় দিলে রোগী ও স্বজনদের ওপর তাদের প্রভাব আরও বাড়ে।”

তাদের মতে, একজন কর্মচারীর প্রশাসনিক ক্ষমতা না থাকলেও যদি তিনি রাজনৈতিক বা স্থানীয় প্রভাবের কারণে হাসপাতালের বিভিন্ন কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারেন, তাহলে প্রকৃত কর্মচারীরা একদিকে যেমন চাপের মধ্যে পড়েন, অন্যদিকে রোগীসেবার পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মাদকাসক্তির অভিযোগ

দেলোয়ারের বিরুদ্ধে মাদকাসক্তির অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক গ্রহণের সঙ্গে জড়িত। তাকে দুইবার মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল বলেও দাবি করেছে সংশ্লিষ্টরা।

তবে কারও মাদকাসক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করতে চিকিৎসা বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নথি প্রয়োজন। তাই এ অভিযোগের ক্ষেত্রেও নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি।

অভিযোগকারীদের দাবি, চিকিৎসা নেওয়ার পরও তার আচরণে পরিবর্তন আসেনি এবং হাসপাতালকেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তার আগ্রাসী আচরণ অব্যাহত রয়েছে।

আবাসিক হোটেল ঘিরেও অভিযোগ:

বরিশাল মেডিকেল রোডসংলগ্ন একটি আবাসিক হোটেলকে কেন্দ্র করে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে দেলোয়ারের ইন্ধন রয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তবে এই অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের প্রত্যক্ষ প্রমাণ রয়েছে, হোটেলটির বিরুদ্ধে প্রশাসনের কোনো ব্যবস্থা হয়েছে কি না কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো নথি রয়েছে কি না—তা যাচাই করা প্রয়োজন।

অনুসন্ধানে এমন অভিযোগ সামনে এলে সংশ্লিষ্ট হোটেল কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় বাসিন্দা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য নেওয়া জরুরি।

প্রশাসনের নজরদারি কতটা কার্যকর?

শেবাচিমের মতো একটি বৃহৎ সরকারি হাসপাতালে কোনো ব্যক্তি যদি দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করেন, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে হাসপাতাল প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে।

হাসপাতালের বর্তমান পরিচালকের অগোচরে একজন আউটসোর্সিং কর্মচারী কীভাবে এতটা প্রভাবশালী হয়ে উঠলেন—এ প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহলের অনেকে।

তাদের প্রশ্ন, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া একজন কর্মচারীর দায়িত্ব ও ক্ষমতার সীমা কী? তিনি কোনো কমিটির সভাপতি হওয়ার অনুমোদন পেয়েছিলেন কি না? কর্মচারীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসন কী ব্যবস্থা নিয়েছে? তার বিরুদ্ধে আগে কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না?

এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে নিয়োগসংক্রান্ত নথি, আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের চুক্তিপত্র, দায়িত্বের বিবরণ, হাসপাতাল প্রশাসনের অফিস আদেশ এবং অভিযোগসংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

চিকিৎসক-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ:

হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক ও কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেলোয়ারকে ঘিরে এক ধরনের অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

তাদের অভিযোগ, হাসপাতালের মূল কাজ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা। কিন্তু দালালচক্র, প্রভাবশালী কর্মচারী এবং বিভিন্ন ধরনের অনানুষ্ঠানিক সিন্ডিকেটের কারণে রোগী ও স্বজনদের নানা বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হয়।

একজন চিকিৎসক বলেন, “হাসপাতালে কে কর্মচারী আর কে দালাল—এ বিষয়টি স্পষ্ট থাকা উচিত। কোনো দালাল যদি কর্মচারীর পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করেন, তাহলে তা রোগীসেবার জন্য বিপজ্জনক।”

আরেকজন চিকিৎসক বলেন, “অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

র‌্যাবের নজরদারিতে দালালচক্র:

অভিযোগের বিষয়ে র‌্যাব-৮-এর এক কর্মকর্তা জানান, র‌্যাবের সাদা পোশাকের দল মাঠপর্যায়ে কাজ করছে।

তিনি বলেন, “শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কারা সিন্ডিকেট তৈরি করে সাধারণ রোগীদের বিভ্রান্ত করছে এবং ভুয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠাচ্ছে, তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছে। যেকোনো সময় এ বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

র‌্যাবের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে হাসপাতালকেন্দ্রিক দালালচক্রের কার্যক্রম আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরের বাইরে নয়।

এখন প্রয়োজন নথিভিত্তিক তদন্ত:

দেলোয়ারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর কোনটি সত্য, কোনটি অতিরঞ্জিত কিংবা কোনটির পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ রয়েছে—তা নির্ধারণের জন্য প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত।

বিশেষ করে তার কথিত পূর্বের গ্রেপ্তারের রেকর্ড, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগের নথি, কোনো কমিটির পদে থাকার অনুমোদন, কর্মচারীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ, অ্যাম্বুলেন্স আটকে টাকা দাবির ঘটনা, ক্যান্টিনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ এবং অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে লিখিত প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে অভিযুক্ত দেলোয়ারের বক্তব্য নেওয়াও জরুরি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য জানা গেলে প্রতিবেদনের ভারসাম্য আরও নিশ্চিত হবে।

শেবাচিমের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হাসপাতালে রোগী ও স্বজনদের নিরাপত্তা, কর্মচারীদের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ এবং চিকিৎসাসেবার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব। ফলে কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত প্রভাব কিংবা কর্মচারী পরিচয় ব্যবহার করে হাসপাতালের পরিবেশকে প্রভাবিত করছেন কি না—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযোগগুলো সত্য হলে দেলোয়ারের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালকেন্দ্রিক দালালচক্র ও কথিত সিন্ডিকেটের সঙ্গে কারা জড়িত, তাদের ভূমিকা কী এবং প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রশ্রয় রয়েছে কি না—সেটিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।

কারণ, একটি সরকারি হাসপাতাল কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণের জায়গা নয়। এটি সাধারণ মানুষের চিকিৎসার শেষ আশ্রয়স্থল। সেখানে দালালি, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি কিংবা প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের অবসান ঘটিয়ে নিরাপদ ও স্বচ্ছ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%