ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

‘যে মসজিদের পাশে বড় হয়েছি, সেখান থেকেই উচ্ছেদ হতে হয়েছে’


‘যে মসজিদের পাশে বড় হয়েছি, সেখান থেকেই উচ্ছেদ হতে হয়েছে’

ভারতের রাজধানী দিল্লির কেন্দ্রস্থলে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের নিকটবর্তী একটি ছোট মসজিদ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ফ্যাকাশে দেয়াল এবং সুচালো খিলানগুলো এখনও অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। মসজিদের আঙিনায় সবুজ ও সাদা টাইলসের অস্তিত্বও দেখা যাচ্ছে। তবে, যারা দীর্ঘকাল ধরে এই মসজিদ ও আশপাশের এলাকায় জীবনযাপন করেছেন, তাদের অধিকাংশই এখন সেখান থেকে বিতাড়িত হয়ে গেছেন।

মোহাম্মদ ওয়াসিম, যিনি ৫০ বছর বয়সী, ধ্বংসস্তূপের ওপারে একটি জায়গা দেখিয়ে বলেন, সেখানে এক সময় তাদের বাড়ি ছিল। এই বাড়িতেই তার বাবার বিয়ে হয়েছিল। কয়েক দশক পর একই জায়গায় তার মেয়ের বিয়েও অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এখন সেই বাড়ির কোনো অস্তিত্ব নেই। খবরটি বিবিসির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

ওয়াসিমের পরিবারসহ কয়েকশ মানুষ মসজিদটির আশপাশের ছোট ছোট ঘরে বসবাস করতেন। ভারতের রাজধানীর অভিজাত ও কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকাগুলোর মধ্যে রেসকোর্সে সামরিক স্থাপনা, অভিজাত ক্লাব এবং বিশাল বাংলোর মাঝে গড়ে উঠেছিল এসব বসতি। তাদের মধ্যে অনেকেই কয়েক প্রজন্ম ধরে এখানে বসবাস করছিলেন। আশপাশের ধনী পরিবারগুলোর গাড়িচালক, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং মালি হিসেবে কাজ করতেন তারা।

আরও পড়ুন: শ্রমিক আন্দোলনে বাস সংকট, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা

সরকারি জমিতে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণের অভিযোগে গত ৭ অক্টোবর এসব বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সামরিক স্থাপনার নিকটবর্তী অবস্থানের কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টিও প্রশাসন তুলে ধরেছে। উচ্ছেদের পর প্রায় ৭১৭টি পরিবারকে দিল্লি থেকে ৩১ মাইল দূরে সাভদা ঘেভরা কলোনিতে স্থানান্তর করা হয়।

উচ্ছেদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন বাসিন্দারা। তাদের যুক্তি ছিল, কর্মস্থল, সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পর্ক থেকে এত দূরে সরিয়ে নেওয়া হলে তাদের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হবে। তবে গত আগস্টে আদালত তাদের পুনর্বাসনের পক্ষে রায় দেয়।

উচ্ছেদের সময় মসজিদটি এবং কাছের একটি হিন্দু মন্দির অক্ষত রাখা হলেও একই দিন স্থাপনা দুটির পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই মসজিদ চত্বরে প্রবেশেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সাধারণত মুসল্লিদের ফটক থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়। নিরাপত্তা রক্ষীদের অনুরোধ করলে কখনো কখনো ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া যায়।

সরকারের দাবি, মসজিদটি যে জমির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তার মালিকানা সরকারের। তবে মসজিদ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ১৯৭৭ সালে জমিটি ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছিল। ধর্মীয় বা দাতব্য কাজের জন্য উৎসর্গ করা সম্পত্তিকে ইসলামি আইনে ওয়াক্‌ফ বলা হয়। মসজিদটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবেও তালিকাভুক্ত। দিল্লি ওয়াক্‌ফ বোর্ডের দাবি, মসজিদটির বয়স প্রায় ৩০০ বছর। অন্য হিসাব অনুযায়ী, এর বয়স ১২৫ থেকে ১৫০ বছরের মধ্যে।

আরও পড়ুন: দক্ষিণ ক্যারোলিনায় সিনেট নির্বাচনে জয়ী হলেন ডেমোক্র্যাট অ্যানি অ্যান্ড্রুজ

মসজিদের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের দাবিতে এবং স্থাপনাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে ওয়াক্‌ফ বোর্ড। এছাড়া মসজিদটি ভেঙে ফেলার আশঙ্কায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন একজন মুসল্লিও।

গত ২৯ অক্টোবর সরকার আদালতকে জানায়, ওয়াক্‌ফ বোর্ডের আপত্তি বিবেচনা করে আগামী চার সপ্তাহ মসজিদটির বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ভাঙার কাজ চলাকালে সেখানে নামাজের সুযোগ দেওয়া হবে না। মুসল্লিদের আইনজীবী এ যুক্তির বিরোধিতা করেন। আদালত এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে পরবর্তী শুনানির জন্য ১৬ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।

মসজিদটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত থাকলেও সেখানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বসবাস করা হিন্দু ও মুসলমানদের কাছে এখন বড় প্রশ্ন হলো—দীর্ঘদিনের স্মৃতি আর শেকড়ের কতটুকু তারা ধরে রাখতে পারবেন।

ওয়াসিম এখনো সুযোগ পেলেই মসজিদে নামাজ পড়তে ফিরে আসেন। তবে কখনো কখনো নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে ফিরিয়ে দেন। সম্প্রতি এক বিকেলে মসজিদে মাত্র চার-পাঁচজন মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন। বাইরে একটি জেনারেটর চলছিল। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সেটির সাহায্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল। ওয়াসিমের ভাষায়, "এই জায়গার সঙ্গে আমাদের হৃদয় ও পুরো জীবন জড়িয়ে আছে। এখানেই খেলাধুলা করে আমাদের শৈশব কেটেছে। তাহলে কীভাবে আমরা এই জায়গা ছেড়ে যেতে পারি?"

আরও পড়ুন: ইউরোপজুড়ে উড়োজাহাজে বোমার হুমকির কারণে বিমান চলাচল ব্যাহত

বিধবা রেখার স্মৃতিতেও জড়িয়ে আছে সেই কলোনি। আশপাশের বাড়িতে থালাবাসন ধোয়ার কাজ করতেন তিনি। সেখানেই সংসার গড়েছেন, সন্তানদের বড় করেছেন এবং স্থানীয় মন্দিরে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজেও অংশ নিয়েছেন। পুনর্বাসন নিয়ে তার প্রশ্ন, "কয়েক দশক ধরে গড়ে তোলা একটি জীবন কীভাবে উপড়ে নিয়ে অন্য কোথাও নতুন করে সাজানো সম্ভব?" নতুন জায়গায় তিনি কাজ পাচ্ছেন না। তার ১৯ বছর বয়সি ছেলেও কর্মসংস্থানের সংকটে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লিতে শ্রমজীবী মানুষের উচ্ছেদ ও বাস্তুচ্যুতির দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। কয়েক দশক ধরে বসবাস করলেও জমির বৈধ মালিকানার কাগজপত্র না থাকায় তাদের বারবার শহরের দূরবর্তী প্রান্তে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নগরবিষয়ক গবেষক মুক্তা নায়েক বিবিসিকে বলেন, "পুনর্বাসনের ফলে মানুষ কর্মস্থল ও সামাজিক যোগাযোগের নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে জীবিকা ও আয় কমে যায়।"

এ বিষয়ে দিল্লির হাউজিং এজেন্সি, স্থানীয় পৌরসভা ও কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমি বিভাগের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা পাওয়া যায়নি।

২০০৬ সালে দিল্লির হরিয়ানা সীমান্তের কাছে কৃষি জমির ওপর সাভদা ঘেভরা কলোনি গড়ে তোলা হয়। শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্যই এই আবাসন প্রকল্প তৈরি করা হয়েছিল। তবে সেখানে স্থানান্তরের পরও অনেক পরিবারের জীবনযাত্রায় নতুন সংকট তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: দাড়ি ছেঁটে গোঁফে মামদানি, নতুন লুকের নেপথ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বার্তা

সাভদায় যাওয়ার পর বাবলুর দৈনন্দিন জীবনও বদলে গেছে। প্রতিদিন ভোর ৫টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে তিনবার ট্রেন বদলে মেট্রোরেলে সন্তানদের নিয়ে মধ্য দিল্লিতে তাদের পুরোনো স্কুলে যান। ক্লাস শেষ হতে ছয় ঘণ্টা সময় লাগে। এ সময় তিনি সাবেক এলাকার বাইরে একটি চায়ের দোকানে অপেক্ষা করেন। তার কাজ থাকলে স্ত্রীকে এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়।

বাবলু এক সময় রেসকোর্স এলাকার একটি ক্লাবে কাজ করতেন। এখন কাজ পেয়েছেন দিল্লির উত্তর-পূর্বে অবস্থিত মিরাট শহরে। তিনি বলেন, "বাসিন্দারা জানত, এক সময় এলাকা ছাড়তে হতে পারে। কিন্তু তারা আশা করেছিলেন, এমন কোথাও পুনর্বাসন করা হবে, যেখান থেকে কর্মস্থলে যাতায়াত ও সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।"

সরকারের দাবি, রেসকোর্সের কাছাকাছি উপযুক্ত আবাসন পাওয়া যায়নি। আদালতে সাভদা ঘেভরার স্কুল, চিকিৎসাকেন্দ্র ও পরিবহন ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে এলাকাটিকে পুনর্বাসনের উপযোগী বলে উল্লেখ করে সরকার। কিন্তু ৬৩ বছর বয়সি নাঈম খানের কাছে এসব সুবিধা যথেষ্ট নয়। তার দুই নাতির শ্রবণ ও বাক্‌প্রতিবন্ধিতা রয়েছে। তাদের বিশেষায়িত চিকিৎসা ও শিক্ষার প্রয়োজন, যা ওই এলাকায় নেই বলে জানান তিনি। নাঈমের আক্ষেপ, "আমাদের ২০ বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।"

রেসকোর্সে বসবাসের সময় বাসিন্দাদের ছোট-খাটো আয়ের নানা সুযোগ ছিল। কেউ আশপাশের বাড়িতে থালাবাসন ধুতেন, কেউ বাগানের পরিচর্যা করতেন, আবার কেউ ফেলে দেওয়া বোতল সংগ্রহ করে বিক্রি করতেন। বয়স্ক বিধবা আখতারি প্রতিদিন মিনারেল ওয়াটারের বোতল কুড়িয়ে প্রায় ১০০ রুপি আয় করতেন। অবশিষ্ট রুটি শুকিয়ে গবাদিপশুর খাবার হিসেবেও বিক্রি করতেন। উচ্ছেদের পর এসব আয়ের পথও বন্ধ হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন: হাকিম জেফরিস: মার্কিন ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হওয়ার পথে

আখতারি বলেন, "এখানে বসবাসকারী আমরা সবাই উচ্ছেদ হয়ে এসেছি। সবাই দরিদ্র ও অসহায়। নিজেরাই যখন সংকটে, তখন অন্যকে ঘরের কাজে কে নিয়োগ দেবে? রেসকোর্সে অভাবে পড়লে মসজিদের ইমাম বা প্রতিবেশীরা তাকে আটা কেনার টাকা দিতেন। কিন্তু এখানে কেউ তা করবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এলপিজির দরবৃদ্ধিতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২৯ এম


এলপিজির দরবৃদ্ধিতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ক্ষোভ

এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেছে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। দলটি দাবি করেছে, অবিলম্বে এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে, ব্যবসায়ীদের কমিশন ও মুনাফার নামে ভোক্তাদের ওপর বাড়তি ব্যয়ের বোঝা চাপানো বন্ধ করতে হবে এবং এলপিজির বাজারে কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এক বিবৃতিতে এসব দাবি তুলে ধরেন। তিনি মন্তব্য করেন, "ব্যবসায়ীদের চাপ ও স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে সরকার ও বিইআরসি সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থকে উপেক্ষা করেছে।" তিনি আরও বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও চিকিৎসা ব্যয়ের চাপে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে এলপিজির এই অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি জনজীবনে নতুন করে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে।

জ্বালানির দাম বারবার বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সাইফুল হক বলেন, "এলপিজির ক্ষেত্রে বিইআরসি প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে মূল্য সমন্বয় করছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে তার সুফল সাধারণ ভোক্তারা যথাযথভাবে পাচ্ছেন কি না, আর দাম বাড়লেই কেন তার পুরো বোঝা ভোক্তাদের বহন করতে হবে, সেই প্রশ্নের জবাব নেই।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষা ক্যাডারের ৩৮তম বিসিএস প্রভাষকরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদোন্নতির স্মারকলিপি প্রদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৩০ এম


শিক্ষা ক্যাডারের ৩৮তম বিসিএস প্রভাষকরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদোন্নতির স্মারকলিপি প্রদান

প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন ৩৮তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের প্রভাষক পর্যায়ে কর্মরত শিক্ষক-কর্মকর্তারা। তারা দীর্ঘদিনের পদোন্নতিজনিত জটিলতা নিরসন ও পেশাগত বৈষম্য দূর করার দাবি জানিয়েছেন। প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতিযোগ্য সকল কর্মকর্তার পদোন্নতি নিশ্চিত করার জন্য এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। পদোন্নতির দীর্ঘসূত্রতা এবং পদস্বল্পতার কারণে সৃষ্ট পেশাগত স্থবিরতা নিরসনে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার দেশের শিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই ক্যাডারের কর্মকর্তারা মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তবে, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতিজনিত জটিলতা এবং প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টির অভাবে তাদের পেশাগত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অন্যান্য ক্যাডারের তুলনায় শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতিতে দীর্ঘসূত্রতা বেশি লক্ষ্য করা যায়। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে দক্ষ, অভিজ্ঞ এবং কর্মপ্রেরণায় উজ্জীবিত শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা দূর না হওয়ায় কর্মকর্তাদের মধ্যে পেশাগত বৈষম্য তৈরি হচ্ছে এবং কর্মজীবনে স্থবিরতা দেখা দিচ্ছে।

সমস্যা সমাধানে স্মারকলিপিতে কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩৬তম, ৩৭তম ও ৩৮তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তাদের পদোন্নতির বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা, নিয়মিত বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভা আয়োজন করা, শিক্ষা ক্যাডারে প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টি করা এবং পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি নিশ্চিত করতে সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টি করা।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং শিক্ষার্থীদের আলোকিত নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন ও মর্যাদা নিশ্চিত করা মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। তবে, পদস্বল্পতা ও পদোন্নতিজনিত জটিলতায় তাদের পেশাগত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তিতে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। তাদের মতে, শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি নিশ্চিত করা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত বা পেশাগত দাবি নয়, বরং দেশের শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের স্বার্থেও জরুরি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার পর শিক্ষক-কর্মকর্তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা নিজেদের দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। সাক্ষাতে অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেন, উপ-পরিচালক (সরকারি কলেজ-১) অধ্যাপক মো. নুরুল হক সিকদারসহ ৩৮তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল তাদের বক্তব্য ও দাবি শোনেন। দাবিগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা এবং বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাক্কালে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, আলোচনা নিয়ে আগ্রহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৩১ এম


মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাক্কালে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, আলোচনা নিয়ে আগ্রহ

গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে। আট মাস ধরে চলমান ইরান যুদ্ধের অবসানে তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিতের মধ্যে এ হামলা সংঘটিত হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা কেশম দ্বীপে পরিচালিত হামলাকে প্রতিরক্ষামূলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তারা জানিয়েছেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) পক্ষ থেকে মার্কিন একটি উড়োজাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালানোর জবাবে এ হামলা করা হয়েছে। তবে হামলার বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা গত সোমবার কেশম দ্বীপে কয়েকটি বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করে। আইআরজিসি দাবি করেছে, তাদের বাহিনী দ্বীপটির দক্ষিণে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ড্রোন এবং হরমুজ প্রণালির পূর্বে একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ নতুন করে ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। মঙ্গলবারের নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যুদ্ধ ও এর ফলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, "এভাবে হোক বা অন্যভাবে, আমরা কিছু একটা করব। তবে তাড়াহুড়ার কিছু নেই। আমরা এরই মধ্যে তাদের অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দিয়েছি।"

ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভূগর্ভের স্থাপনা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে হামলা চালানোর প্রয়োজন হতে পারে। তিনি জানান, এ হামলা বড় কোনো বিষয় নয়, এক ঘণ্টার মধ্যেই তা করা সম্ভব। তবে নির্বাচনের পর ইরানে বড় ধরনের হামলা চালানো হবে কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে নেতিবাচক উত্তর দেন তিনি। এদিকে, এপির খবর অনুযায়ী, নির্বাচনের পর ইরানে বড় হামলা চালানোর জন্য ট্রাম্পের ওপর চাপ দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

ইরানের কঠোর পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার জবাবে ইরান আগের তুলনায় আরও কঠোর ও বিস্তৃত পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র বলেছেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে সংঘাতের পরিসর শুধু পশ্চিম এশিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা, সরঞ্জাম, সেনাসদস্য ও স্বার্থ, ইরানের নাগালের মধ্যে যা থাকবে, সবই লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায় তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর নেতৃত্বে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায় তেহরান, যেখানে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি বা হস্তক্ষেপ থাকবে না। সম্প্রতি ইরান, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে তেহরানে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চার দেশ বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। আরাঘচি জানান, তেহরানের শর্তগুলো পূরণ করার পরদিনই প্রণালিটি খুলে দেওয়া হবে। শর্তের মধ্যে রয়েছে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, দেশটির বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানি তেল রপ্তানির সুযোগ দেওয়া, জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আগের পর্যায়ে নামিয়ে আনা।

আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, তেহরানের সঙ্গে সমঝোতা হতে পারে। তিনি মন্তব্য করেন, তেহরান দ্রুত একটি সমাধান চায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন। গত সোমবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সমঝোতার বিষয়ে তিনি ও ট্রাম্প আশাবাদী।

সংঘাত থামাতে মধ্যপ্রাচ্যে কূটনীতি জোরদার চীনের। মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে চীন। বিশেষ করে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ নিয়ে তারা নতুন করে পদক্ষেপ নিচ্ছে। বেশ কিছুদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর তারা এই উদ্যোগ নিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বেইজিংয়ে ইরানের এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। একই সময়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিককে রাষ্ট্রীয় সফরে আতিথেয়তা দেন। আলজাজিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে আহত তৌফিকের মৃত্যু, মরদেহ গোবিন্দগঞ্জে ফিরলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৩১ এম


গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে আহত তৌফিকের মৃত্যু, মরদেহ গোবিন্দগঞ্জে ফিরলো

গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের সময় পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষে গুরুতর আহত তৌফিক হোসেন (২২) মারা গেছেন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।

তৌফিক গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের তবিবর রহমান তবির পুত্র। তিনি ছয়ঘরিয়া বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের ২০২৩ সালের এসএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।

তথ্য অনুযায়ী, সোমবার গাজীপুরের বাংলা বাজার এলাকায় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন তৌফিক। ওই দিন গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে তৌফিকসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন। তাদের পরে গাজীপুরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তৌফিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোচাশহর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মন্ডল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%