রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:০১ পি.এম
খাদ্য অধিদফতরের কার্যক্রমকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নিরাপদ খাদ্য মজুত এবং খাদ্যের গুণগত মান এই দুটি বিষয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, যেকোনো দুর্যোগ বা সংকটকালীন পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের জন্য নিরবচ্ছিন্ন খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে আগাম পরিকল্পনা গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত মজুত রাখা আবশ্যক।
রবিবার খাদ্য অধিদফতরের সন্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় খাদ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার ও জনসংযোগ কর্মকর্তা ইমদাদ ইসলামের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্য অধিদফতরের কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সেনসিটিভ। আমাদের সবসময় চিন্তা করতে হয় দেশের খাদ্য ঠিকমতো মজুত আছে কিনা, খাদ্যের গুণগত মান ঠিক আছে কিনা এবং দুর্যোগের সময় আমরা মানুষের কাছে ঠিকমতো খাদ্য পৌঁছে দিতে পারব কিনা। তাই নিরাপদ মজুত ও কোয়ালিটি দুটিই আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য অধিদফতরে কাজ করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবার আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুই-একজনের অনিয়মের কারণে পুরো প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।
তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের অনেক কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি। ফলে বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ অনেক দায়িত্ব একসঙ্গে সামনে এসেছে। প্রয়োজন ও গুরুত্ব বিবেচনা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে খাদ্য গুদাম ও অবকাঠামোর দুরবস্থার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া খাদ্য গুদামের জরাজীর্ণ অবস্থার কথা উল্লেখ করে আফরোজা খানম বলেন, গুদামটির অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য খাদ্য গুদাম ও স্থাপনাগুলোর অবস্থাও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
খাদ্য পরিদর্শক, ওসি-এলএসডিসহ মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাজের মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করতে তাদের কাজের মান, গুদামে খাদ্য মজুতের পরিমাণ ও গুণগত মান এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের সন্তুষ্টির বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিত মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
ভালো কাজের জন্য কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সঠিকভাবে তদন্ত ও তথ্য-উপাত্ত যাচাই করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রকৃত দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন শাস্তির শিকার না হন, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।
খাদ্যমন্ত্রী জানান, খাদ্য অধিদফতরের কার্যক্রম সরেজমিনে দেখতে তিনি নিয়মিত বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করবেন। প্রয়োজনে খাদ্য অধিদফতরে এসে কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করবেন।
তিনি বলেন, আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রে আপনারা আমাকে পাশে পাবেন। তবে সবাইকে সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করলে খাদ্য অধিদফতরকে আরও দক্ষ, সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে পারব।
সভায় খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা খাদ্য অধিদফতরের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, খাদ্য অধিদফতরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে জনবল সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।
অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. জসীম উদ্দিন খান। খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা এবং খাদ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় খাদ্য অধিদপ্তরের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দুটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের মানুষের পাশে মানবিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকার, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য। ঢাকায় অবস্থিত সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাসের ফরেন এইড অফিসের উদ্যোগে, দেশের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রায় ১০ হাজার পরিবারকে খাদ্য ও বস্ত্রের প্যাকেজ প্রদান করা হচ্ছে।
এর অংশ হিসেবে, সিলেটের ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথ উপজেলায় ১,৫০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্রের প্যাকেজ বিতরণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সহায়তা বিতরণ কার্যক্রমে বাংলাদেশে সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাসের ডিরেক্টর অব ফরেন এইড, রাশেদ মোহাম্মদ নাসের আলমেইল আলজাবি উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বলেন, ‘বন্যার মতো দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব। এই কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রয়োজন কিছুটা হলেও পূরণ করা এবং তাদের পাশে থাকাই এই সহায়তা কার্যক্রমের উদ্দেশ্য।’
সাম্প্রতিক বন্যায় অনেক পরিবার ঘরবাড়ি, জীবিকা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ হারিয়েছে। এসব পরিবারের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানো এবং দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই মানবিক সহায়তা বাংলাদেশের মানুষের পাশে থাকার দেশটির অঙ্গীকার এবং বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী।
রবিবার গোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে উপাচার্যের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, যৌথ গবেষণা ও ‘আউটকাম বেসড এডুকেশন’ (ওবিই) কারিকুলাম বাস্তবায়নসহ নানা বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
এ সময় বেরোবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।’
সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য বেরোবি উপাচার্যকে ধন্যবাদ জানান গোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দুই বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে শিক্ষা ও গবেষণায় কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাটের কচুয়ায় একই পরিবারের দুই নারীসহ তিনজনকে হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ, যা এক মাস পর প্রকাশিত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চারটি মোবাইল ফোন ও একটি চার্জার।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। রবিবার দুপুরে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করেন।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন কচুয়া উপজেলার চান্দেরখোলা গ্রামের মজিদ হাওলাদারের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (৪০), একই গ্রামের সুলতান শেখের ছেলে আসাদুল শেখ (৪১) এবং বারিক হাওলাদারের ছেলে আরিফ হাওলাদার ওরফে বাবু (৩৮)। পুলিশ জানায়, তারা পরস্পরের প্রতিবেশী এবং আত্মীয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২ আগস্ট রাতে চান্দেরখোলা গ্রামে মৃত আবদার আলী হাওলাদারের বাড়িতে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। দুই দিন পর, ৪ আগস্ট, ওই বাড়ি থেকে নিহতের স্ত্রী মনিরা বেগম মনি (৬০), ছেলে আহাদ আলী হাওলাদার (২৫) এবং শাশুড়ি রাশিদা বেগম (৯৩)-এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় পরদিন নিহত মনিরা বেগমের বড় ছেলে ফয়সাল হাওলাদার কচুয়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ সুপার জানান, হত্যাকাণ্ডের পর তদন্ত শুরু হলে পুলিশ জানতে পারে, নিহত মনিরা বেগমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি অন্য একজন ব্যবহার করছে। ওই সূত্র ধরেই তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়। পরে জাহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আসাদুল শেখ ও আরিফ হাওলাদারকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে পুলিশ।
শনিবার আরিফ হাওলাদারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আসাদুলের বাড়ি থেকে নিহত আহাদ আলী হাওলাদারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাহিদুল, আসাদুল ও বাবু হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। জাহিদুল প্রথমে হাতুড়ি দিয়ে আহাদকে আঘাত করেন। এরপর মনিরা বেগম ও রাশিদা বেগমকে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এ সময় আসাদুল ও বাবু তাকে সহযোগিতা করেন বলে পুলিশ জানায়।
হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা ওই বাড়ি থেকে তিন থেকে চারটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায় বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে আসাদুল ও বাবু হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন পুলিশ সুপার।
হত্যার কারণ সম্পর্কে পুলিশ সুপার বলেন, নিহত আহাদের পরিবারের এক নারীর সঙ্গে জাহিদুল ইসলামের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। ওই সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে নিহত মনিরা বেগমের সঙ্গে জাহিদুলের বাকবিতণ্ডা হয়। বিষয়টি জাহিদুলের স্ত্রী জানতে পারলে তাঁদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি তৈরি হয়।
পুলিশের দাবি, ঢাকায় কর্মরত ওই নারীর সঙ্গে জাহিদুলের মোবাইল ফোনে কথোপকথন ও বার্তা আদান-প্রদানের বিষয়টি তার স্ত্রী জানতে পারেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চরমে ওঠে। পরবর্তীতে আহাদের পরিবারের সঙ্গে জাহিদুলের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এর জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে জাহিদুল আসাদুল ও বাবুকে নিয়ে পরিকল্পনা করে পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যা করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হারের পর, দল ও কোচিং স্টাফে ব্যাপক পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে, যা আগামী বছরের পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) কে প্রভাবিত করবে। পিসিবি এবং টুর্নামেন্টের আটটি ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকরা জানুয়ারি মাসে আসরটি সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন।
পিএসএলের মিডিয়া স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ালি টেকনোলজিস’-এর প্রস্তাবিত এই বিষয়টি গত ১ সেপ্টেম্বর লন্ডনে অনুষ্ঠিত পিএসএল গভর্নিং কাউন্সিলের সভায় আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল। এই আলোচনার প্রধান কারণ হলো, এপ্রিল ও মে মাসের বিজ্ঞাপন বাজারের পরিস্থিতি।
পিসিবি ও ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের মধ্যে বড় পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলমান থাকায়, পিএসএল আয়োজনের সময়সূচি জানুয়ারি মাসে পরিবর্তিত হতে পারে। এপ্রিল-মে সময়কালটি রমজান মাসের পরবর্তী সময়ে পড়ে; এই সময়ে অনেক কোম্পানি তাদের বিপণন ও টিভি বিজ্ঞাপনের বাজেটের বড় একটি অংশ আগে থেকেই খরচ করে ফেলে। ফলে এই সময়ে পিএসএল থেকে সম্ভাব্য আয় নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরা সম্প্রচারজনিত আয় নিয়েও চিন্তিত। বর্তমান চুক্তির অধীনে, কেন্দ্রীয় আয়ের উৎস থেকে প্রাপ্ত সম্প্রচারজনিত আয়ের ৯৫ শতাংশ আটটি দল নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। মালিকরা নিশ্চিত হতে চান যে, পিএসএল কখনই অনুষ্ঠিত হোক, তারা যেন তাদের প্রাপ্য পুরো অংশটিই পান।
টিভি স্বত্ব থেকে প্রত্যাশিত আর্থিক আয় না হওয়ায় ‘ওয়ালি টেকনোলজিস’-এর বিজ্ঞাপন বাজেট নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। পাকিস্তানে ২০২৯ সাল পর্যন্ত পিএসএলের সম্প্রচার ও ডিজিটাল স্বত্ব ওয়ালি টেকনোলজিসের হাতে রয়েছে এবং তারা ‘রাওয়ালপিন্ডিজ’ দলের মালিকও।
২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পিএসএল সাধারণত ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। তবে গত বছরে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং এ বছরের আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কারণে গত দুটি মৌসুমে এটি এপ্রিল ও মে মাসে স্থানান্তরিত হয়েছিল। আইপিএলের সাথে একই সময়ে পিএসএল আয়োজনের একটি সুবিধা পাওয়া গিয়েছিল। আগের মৌসুমগুলোর মতো আইপিএলের কারণে খেলোয়াড়দের প্রাপ্যতা নিয়ে কোনো জটিলতা ছাড়াই টুর্নামেন্টটি আয়োজন করা সম্ভব হয়েছিল।
তবে, পিসিবি যদি পিএসএলকে আবার জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির উইন্ডোতে ফিরিয়ে আনে, তাহলে সেই সমস্যা পুনরায় দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে পিএসএলে বিদেশি খেলোয়াড়দের জন্য সাউথ আফ্রিকান ২০ এবং বিগ ব্যাশ লিগের (বিবিএল) সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে।
পিএসএল-এর জন্য আরেকটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে ঠান্ডা আবহাওয়া। পিসিবি আবহাওয়া নিয়েও সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। পাঞ্জাবে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাস খুব ঠান্ডা থাকে, যেখানে পিএসএল-এর চারটি নিয়মিত ভেন্যুর মধ্যে তিনটি হলো লাহোর, মুলতান এবং রাওয়ালপিন্ডি। রাতে তাপমাত্রা এক অঙ্কের ঘরে নেমে যেতে পারে, আবার ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতাও কমে যেতে পারে।
তবে, এই সমস্যার সমাধান হতে পারে যদি টুর্নামেন্টটি করাচিতে শুরু করা হয়, যেখানে শীতকালে আবহাওয়া ভালো থাকে। এরপর আবহাওয়া উষ্ণ হলে পাঞ্জাব ও পেশোয়ারে টুর্নামেন্টটি স্থানান্তর করা যেতে পারে। পাকিস্তানের জন্য ইতোমধ্যেই মধ্য-নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত খেলোয়াড় কেনার একটি উইন্ডো রয়েছে। দলটি অক্টোবর ও নভেম্বরে শ্রীলঙ্কা এবং ইংল্যান্ডকে আতিথ্য দেবে এবং এরপর মার্চে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলবে। আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে (ডব্লিউটিসি) এটিই হবে পাকিস্তানের শেষ ম্যাচ।
পাকিস্তানে ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার কারণে একটি সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে ই-স্পোর্টস নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। কিছু ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক পাকিস্তানের দুর্বল পারফরম্যান্সের কারণে পিএসএল-এর প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে, যা উদ্বেগের কারণ। ই-স্পোর্টসে প্রবেশ করা লিগটিকে তরুণ দর্শকদের সাথে সংযোগ স্থাপনে সহায়তা করতে পারে। পিসিবি বর্তমান স্বত্ব চুক্তির অধীনে একটি পৃথক মধ্য-বর্ষ টুর্নামেন্ট আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেছে। এটি ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং সম্প্রচারকারী উভয়কেই অর্থ উপার্জনের আরেকটি উপায় দিতে পারে এবং বছরজুড়ে পিএসএল-কে সক্রিয় রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ