০৩:৩৮ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে তীব্র খরা দেখা দেওয়ার কারণে দেশটির দুটি বৃহত্তম জলাধারের পানির স্তর রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। গত সপ্তাহের শেষে প্রকাশিত তথ্য থেকে এ বিষয়টি জানা গেছে।
নতুন এ রেকর্ড কলোরাডো নদীর ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তৈরি হওয়া সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। ৪ কোটি মানুষের জন্য নদীটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পানির উৎস।
লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: পদ্মা সেতু হয়ে রূপপুরে ইউরেনিয়াম পরিবহন, শ্রমিক আন্দোলনের শঙ্কা
কলোরাডো নদীর পানি লেক পাওয়েল ও লেক মিডে প্রবাহিত হয়। সারা বছর পানি সরবরাহ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিশাল বাঁধ নির্মাণ করে এসব জলাধার তৈরি করা হয়েছে।
জলাধার দুটির পানির স্তর এখন এমন পর্যায়ের সামান্য ওপরে আছে, যেখানে নিচে নেমে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হবে।
ব্যুরো অব রিক্লেমেশনের তথ্য অনুযায়ী, রোববার মূলত উটাহ অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত লেক পাওয়েলের পানির স্তর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩ হাজার ৫১৯ দশমিক ৮০ ফুট ওপরে নেমে এসেছে। কলোরাডো নদীর পানি পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৩ সালে রেকর্ড করা আগের সর্বনিম্ন স্তরের চেয়েও এটি কম।
তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার নেভাদা ও অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের সীমান্তে হুভার বাঁধের মাধ্যমে তৈরি লেক মিডের পানির স্তর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার ৩৯ দশমিক ৭০ ফুট ওপরে নেমে এসেছে।
আরও পড়ুন: ত্রিশাল ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২০ বছরেও নিয়োগ হয়নি জনবল
কলোরাডো নদীর ওপর নির্ভরশীল সাতটি অঙ্গরাজ্য নদীর পানি কীভাবে ভাগ করে নেবে, তা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে বিরোধ করে আসছে। তবে তারা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।
এই অচলাবস্থার কারণে ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে বাধ্য হলেন। জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রশাসন খরা মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য বিধিনিষেধসহ একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রশাসন ক্যালিফোর্নিয়া, অ্যারিজোনা ও নেভাদার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারবে। ২০৩৬ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর এসব অঙ্গরাজ্যকে সম্মিলিতভাবে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ঘনমিটার পানি ব্যবহার কমাতে হবে। এই পরিমাণ পানি ১৫ লাখ অলিম্পিক আকারের সুইমিং পুলের সমান।
কলোরাডো, উটাহ, ওয়াইওমিং ও নিউ মেক্সিকো— নদীর ওপর নির্ভরশীল অন্য চার অঙ্গরাজ্যের জন্য বড় ধরণের কোনো পদক্ষেপের প্রয়োজন হবে না।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ার পাহাংয়ে পর্যটন মেলায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি
এই বৈষম্য নিয়ে বিরোধের কারণে আইনি লড়াই শুরু হতে পারে। সম্ভাব্য মামলার জন্য অ্যারিজোনা ইতোমধ্যে কয়েক মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রেখেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন