০৮:১৭ পি.এম
পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে সাভারের বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঈদের চতুর্থ দিনেও পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে আনন্দ উপভোগ করতে হাজারো মানুষ ভিড় করেছেন থিম পার্ক, ভ্রমণকেন্দ্র ও দর্শনীয় স্থানগুলোতে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় অবস্থিত ফ্যান্টাসি কিংডম-এ সকাল থেকে দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম ঘটে। দেশের অন্যতম বৃহৎ থিম পার্কটিতে বিভিন্ন বয়সী মানুষ রোলার কোস্টার, ম্যাজিক কার্পেট, রেসিং কার ও ট্রেন রাইডে চড়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করেন। শিশুদের পাশাপাশি তরুণ-তরুণীদের জন্য প্রধান আকর্ষণ ছিল ওয়াটার কিংডম, যেখানে কৃত্রিম ঢেউ ও ঝরনায় আনন্দে মেতে ওঠেন তারা।
আরও পড়ুন: কাউখালীতে কঁচা নদীতে অভিযান, আড়াই হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ
দর্শনার্থীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে দেখা যায়। পার্কে প্রবেশের জন্যও অপেক্ষা করতে হয়েছে অনেককে। তবে ঈদের ছুটিতে বিনোদনপ্রেমীদের আগ্রহে কোনো ভাটা দেখা যায়নি।
পার্কের ভেতরে খাবারের জন্য ফুড কোর্ট সঙ্গে বিভিন্ন রেস্তোরাঁর ব্যবস্থা রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে স্বল্পমূল্যের বিভিন্ন অফার ও প্যাকেজ চালু থাকায় দর্শনার্থীদের উপস্থিতি আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফ্যান্টাসি কিংডমের হেড অব মিডিয়া মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, ঈদ উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী নানা আয়োজন করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য ডান্স শো, ডিজে পারফরম্যান্স এবং বিভিন্ন বিশেষ প্যাকেজের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার সদস্য, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তাকর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে, সাভারের বাড়ইপাড়া এলাকায় অবস্থিত নন্দন পার্ক-এও ছিল দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড়। ঈদের দিন থেকে শুরু হওয়া এই ভিড় চতুর্থ দিনেও অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: কাউখালী সাপ্তাহিক হাটে ফুটপাত ও সড়ক দখলের মহোৎসব: ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবারের ঈদে দর্শনার্থীর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিবার নিয়ে নন্দন পার্কে ঘুরতে আসা জুলহাস বলেন, “ব্যস্ত নগরজীবন থেকে কিছুটা সময় বের করে পরিবারের সঙ্গে খোলামেলা পরিবেশে সময় কাটাতে পেরে খুব ভালো লাগছে। সন্তানদের সঙ্গে দারুণ সময় কাটিয়েছি।”
এদিকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ, ফ্যান্টা ওয়ার্ল্ড থিম পার্ক, মনপুরা পার্ক, যমুনা ন্যাচারাল পার্ক, বংশাই নদীর বিভিন্ন পর্যটন স্পট ও আশপাশের বাগানবাড়িগুলোতেও দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল উল্লেখযোগ্য।
জাতীয় স্মৃতিসৌধে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মাওলানা তৈয়বুর রহমান নয়া বলেন, ‘সন্তানদের দেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এখানে এসেছি। স্মৃতিসৌধে এলে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ হয়।’
আরও পড়ুন: মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীকে চুমু দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে মুফতি আবুল ফজল হবিগঞ্জীর ন্যায়বিচারের আহ্বান
ঈদের ছুটির শেষভাগেও সাভারের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের এই ব্যাপক উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন