০৩:২১ পি.এম
রোদের মধ্যে যখন কেউ বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তখন শরীর ঘেমে একাকার হয়ে যায়। আবার একটু ছায়ায় গেলেই আরামদায়ক অনুভূতি অনুভব করা যায়। দিনের বেলায় গরম এবং শেষরাতে কাঁথামুড়ি দেওয়া ঠাণ্ডা অনুভূত হচ্ছে।
ময়মনসিংহের প্রকৃতিতে কার্তিক মাসে এমন স্ববিরোধী আচরণ প্রতিবছর শুরু হয়। এবারের মৌসুমও এর ব্যতিক্রম নয়।
জেলার গ্রামগুলোতে সকালে ধান ক্ষেতে হালকা শিশির জমে রয়েছে। দুপুরের রোদে শরতের স্মারক কাশফুলও এখনও দেখা যাচ্ছে। ময়মনসিংহের মানুষ প্রকৃতির এই অচরণ উপভোগ করছে।
আরও পড়ুন: আওমী লীগ নেতার বাড়িতে লক্ষ্মীপূজার দাওয়াতে এসে ৭ কর্মী আটক
কবি ও সহকারী অধ্যাপক আহমদ জামাল জাফরী মন্তব্য করেন, "বছরের এই সময়টা মানুষের কাছে খুব উপভোগ্য হয়। বছরের প্রায় সাত মাস বাংলাদেশের তাপমাত্রা প্রায় অসহনীয় পর্যায়ে থাকে। এরপর গ্রামাঞ্চলে কার্তিকের শুরু থেকেই শীতের আগমনী বার্তা পেতে শুরু করে মানুষ। কার্তিকের কিছুদিন পরেই আসে অগ্রহায়ণ। অগ্রহায়ণে নতুন ধান হয়। জেলার গ্রামে গ্রামে তখন আনন্দের বন্যা বয়। পিঠা পায়েস আর গান বাজনায় মেতে থাকে মানুষ।"
জেলার কয়েকটি উপজেলার মানুষের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, দিনের বেলায় এখনো যথেষ্ট গরম অনুভূত হচ্ছে। তবে রাতে তাপমাত্রা কমে যায় এবং শেষ রাতে বেশ ঠাণ্ডা পড়ে। ভোরে হালকা কুয়াশারও দেখা মিলছে। ঈশ্বরগঞ্জের নওয়াড়া গ্রামের কৃষক কাজল মিয়া জানান, "সকালে উষ (কুয়াশা) পড়া শুরু অইয়া গেছে। আর কিছুদিন বাদেই শুরু হবে ধান কাডা। অহন কার্তিকের মাঝামাঝিতেই ধান কাটা শুরু অয়। তবে পুরাপুারি শুরু অয় আগুন (অগ্রহায়ণ) মাসে। আমরা ধান কাডার জন্য প্রস্তুত অইতাছি।"
আবহাওয়ার অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ময়মনসিংহের তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে অবস্থান করছে। এর ফলে দুপুরে বেশ গরম অনুভূত হচ্ছে। মধ্যরাতের পর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি থেকে ২২ ডিগ্রিতে নেমে আসে। ওই সময় বেশ ঠাণ্ডা অনুভূত হয়।
গ্রামের মানুষদের মতো নগরের মানুষও শীতের আগমনী বার্তা অনুভব করতে শুরু করেছে। নগরের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে ব্রহ্মপুত্র। নদের পাশ দিয়ে শহররক্ষা বাঁধ ঘেঁষে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন উদ্যান অবস্থিত। হাল আমলের তরুণরা জয়নুল উদ্যানকে ময়মনসিংহের ‘ফুসফুস’ হিসেবে অভিহিত করেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অবসর সময়ে সব বয়সী মানুষ এখানে ছুটে আসে।
আরও পড়ুন: যশোরে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে মা-ছেলে নিহত
উদ্যানে ব্রহ্মপুত্রের রক্ষাবাঁধের ঢালে বসা চায়ের দোকানগুলো জমে ওঠে। সেখানে মানুষও অনুভব করছে হেমন্তের আগমন আসছে শীত। শরতে ব্রহ্মপুত্রের পারে কাশফুল ফোটে। হেমন্ত এলেও নদের পারে কাশফুল এখনো রয়ে গেছে।
কবি সরকার আজিজ বলেন, "হেমন্ত এমন ঋতু, যা মূলত শীতের প্রতীক্ষা বাড়ায়। শরতে প্রকৃতি রূঢ় থাকে। হেমন্ত সে রূঢ়তা মুছে দেয়। মানুষের মনে ভালোলাগা জন্ম দেয়। এ সময়টায় মানুষ ঘর থেকে বের হতে চায়।" তিনি আরও বলেন, "হেমন্তে প্রকৃতিতে এক ধরনের ঘোর থাকে। এ নিয়ে কবিতা লিখেছেন জীবানানন্দ দাশসহ অনেক কবি।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন