রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৫৬ পি.এম
ঢাকা, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশের সামনে থাকা জনমিতিক লভ্যাংশ (পপুলেশন ডিভিডেন্ট) কাজে লাগানোর জন্য কর্মক্ষম জনগণের দক্ষ ও শিক্ষিত মানবসম্পদে পরিণত হওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, দেশের বিশাল কর্মক্ষম জনগণের যথাযথ শিক্ষা, কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে যুক্ত করা গেলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও দ্রুত হবে।
আজ জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ‘পার্লামেন্টস রোল ইন রিয়্যালাইজিং পপুলেশন ডিভিডেন্টস, এসডিজিস এন্ড আইসিপিডিস কমিটমেন্টস' শীর্ষক কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন।
স্ট্রেনদেনিং পার্লামেন্টস ক্যাপাসিটি ইন ইন্টিগ্রেশন অব পপুলেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট ইস্যুস (এসপিসিপিডি) প্রকল্পের আওতায় এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল কর্মশালার সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের প্রতিনিধি ক্যাথরিন ব্রিন কামকং উপস্থিত ছিলেন।
চিফ হুইপ বলেন, একটি দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ থাকলেই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত হয় না; দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো দক্ষ ও শিক্ষিত জনগণ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশকে তার বিশাল কর্মক্ষম জনগণকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে। দক্ষ, শিক্ষিত ও উৎপাদনশীল জনগণই দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল শক্তি।
তিনি আরও বলেন, আগামী প্রায় এক দশক বাংলাদেশের জন্য জনমিতিক লভ্যাংশ কাজে লাগানোর গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ও সক্ষমতাকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। দক্ষতা, শিক্ষা ও উৎপাদনশীলতা দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি।
চিফ হুইপ বলেন, জনমিতিক লভ্যাংশ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ, জলবায়ু পরিবর্তন, শিক্ষা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে সংসদ সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। সংসদ সদস্যরা জনগণের প্রতিনিধি হওয়ায় জনসংখ্যা ও উন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে তাদের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে শুধু মানুষ পাঠানোই যথেষ্ট নয়; দক্ষতা ও কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করে তাদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে পাঠাতে হবে। দক্ষ কর্মীরা বিদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি দেশে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাবেন, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।
তিনি উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে আরও কার্যকর সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্মমুখী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা গেলে একদিকে কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে দেশের উৎপাদনশীলতা ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় শ্রমিক দলের কর্মী রিয়াজুল তালুকদারকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পুলিশ চার্জশিট দাখিল করেছে। এই চার্জশিটে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা-কাদেরসহ ১৬ জন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির জন্য আবেদন করা হয়েছে।
আজ যাত্রাবাড়ী থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মহিউদ্দিন চৌধুরী বাসসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক নজীব আহমেদ গত ১৯ আগস্ট এই চার্জশিট দাখিল করেন।
মামলার চার্জশিট গ্রহণের বিষয়ে শুনানির দিন আগামী ৮ সেপ্টেম্বর ধার্য করা হয়েছে। চার্জশিটে উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক প্রাণিসম্পদ উপমন্ত্রী এ জে এম এনামুল হক, ঢাকা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মশিউর রহমান মোল্লা সজল, সাবেক এমপি ইকবাল হোসেন অপু এবং নাহিম রাজ্জাক।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বিকেল ৫টার সময় যাত্রাবাড়ী থানার চার রাস্তার মোড়ে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা এক দফা আন্দোলনের সমর্থনে মিছিল করছিল। তখন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আওয়ামী লীগের সব অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অবৈধ অস্ত্র দিয়ে নির্বিচারে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালায়। এ সময় মো. রিয়াজুল তালুকদার গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
এই ঘটনার পর নিহত রিয়াজুলের ভাই রুবেল তালুকদার ১২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কাশ্মীরের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের সঙ্গে চলচ্চিত্রের সম্পর্ক বহু পুরোনো। এবার সেই কাশ্মীরেই বসতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের আসর। প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজন করতে যাচ্ছে জম্মু ও কাশ্মীর সরকার। ‘রং-এ-সিনেমা’ (Rang-e-Cinema) নামের এই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৭ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর।
জম্মু ও কাশ্মীর সরকারের তথ্য ও জনসংযোগ দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশ থেকে উৎসবে অংশ নিতে ১১০০-র বেশি চলচ্চিত্র জমা পড়ে। সেখান থেকে বাছাই করা হয়েছে ৪১টি দেশের ১৩৫টি চলচ্চিত্র।
ভারত থেকে নির্বাচিত হয়েছে ৬৪টি ছবি। এছাড়া ফ্রান্সের ১৩টি ও ইরানের ৮টি চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হবে। তুরস্ক, জার্মানি, রাশিয়া, সুইডেন, স্পেন, ব্রাজিল, কাতার, আর্জেন্টিনা, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, কলম্বিয়া ও তাইওয়ানের চলচ্চিত্রও থাকছে এ আয়োজনে।
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হতে যাচ্ছে ডাল লেকে বিশেষ ‘ফ্লোটিং স্ক্রিন’-এ চলচ্চিত্র প্রদর্শন। কাশ্মীরের বিখ্যাত জলাশয়ের নৈসর্গিক পরিবেশে খোলা আকাশের নিচে সিনেমা দেখার এ আয়োজন দর্শকদের জন্য আলাদা অভিজ্ঞতা তৈরি করবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
শুধু ডাল লেক নয়, শ্রীনগরের শের-ই-কাশ্মীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার (SKICC) এবং আইএনওএক্স পিভিআর-এও উৎসবের চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান হবে। পাশাপাশি জম্মুর ওয়েভস সিনেমা এবং গুলমার্গের একটি হেলথ রিসর্টেও চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
উৎসবের বিচারকমণ্ডলীতেও থাকছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি। পাঁচ সদস্যের জুরি বোর্ডে রয়েছেন খ্যাতনামা চিত্রগ্রাহক ও পরিচালক সন্তোষ শিবন, ‘স্লামডগ মিলিয়নেয়ার’ ছবির জন্য পরিচিত সাউন্ড ডিজাইনার ও সাউন্ড মিক্সার রসুল পুকুট্টি, জার্মান চলচ্চিত্র কিউরেটর ও সাংবাদিক ডরোথি ভেনার, ব্যাং সিঙ্গাপুর-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কেইকো ব্যাং এবং ‘শূন্য স্বরূপা’-র পরিচালক হিমাংশু শেখর খাটুয়া।
কাশ্মীরের সঙ্গে ভারতীয় চলচ্চিত্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ষাটের দশকের জনপ্রিয় ‘কাশ্মীর কি কলি’ থেকে শুরু করে ‘কভি কভি’, ‘হাইওয়ে’ ও ‘রাজি’-সহ বহু চলচ্চিত্রের শুটিং হয়েছে উপত্যকার মনোরম লোকেশনে।
সেই দীর্ঘ চলচ্চিত্র ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এবার কাশ্মীরেই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আয়োজকদের আশা, ‘রং-এ-সিনেমা’ কাশ্মীরকে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিলনস্থলে পরিণত করার পাশাপাশি স্থানীয় চলচ্চিত্র সংস্কৃতি ও পর্যটনেও নতুন মাত্রা যোগ করবে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইতালিতে সড়ক দুর্ঘটনায় শরিফুল ইসলাম (১৯) নামে মাদারীপুরের এক তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ইতালির বন্দরনগর নাপোলির ভিল্লে লিতেরনো এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শরিফুল ইসলাম মাদারীপুর সদর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মিঠাপুর গ্রামের প্রামাণিক বাড়ির নশু প্রামাণিকের একমাত্র সন্তান।
পারিবারিক ও প্রবাসী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যার দিকে শরিফুল সাইকেল চালানোর সময় সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে পুলিশ স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করে এবং শরিফুলের মরদেহ উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। তবে কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে স্থানীয় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
জীবিকার তাগিদে মাত্র কয়েক মাস আগে ইতালিতে পাড়ি জমান শরিফুল। তিনি নাপোলির ভিল্লে লিতেরনো এলাকায় একটি সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করতেন বলে প্রবাসী সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে শরিফুলের মৃত্যুর খবর মাদারীপুরে পৌঁছালে তার পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। পরিবারের একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন স্বজনরা। মাত্র ১৯ বছর বয়সে প্রবাসের মাটিতে তার অকাল মৃত্যুতে নিজ গ্রাম মিঠাপুরের পাশাপাশি ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে আলোচনা করে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে রোমে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত এটিএম রকিবুল হক জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, চলতি মাসের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত তফসিল ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে, এই নির্বাচন একসঙ্গে সব ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হবে না, বরং ব্যয় সংকোচন নীতি বজায় রেখে ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে।
রবিবার, আগারগাঁওয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি এ তথ্য জানান।
আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের বিষয়ে কমিশন সরাসরি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। এছাড়াও, আসন্ন উপ-নির্বাচনগুলোতে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যবস্থার প্রয়োগ এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোকে কঠোর নিরাপত্তার আওতায় আনার জন্য বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের যে আবহ তৈরি হয়েছে, সেটির অংশ হিসেবে চলতি মাসের শেষেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব। দেশের সব ইউপি নির্বাচন একই সঙ্গে করা অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে বেশ কঠিন। তাই, সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে সব ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং শিক্ষার পরিবেশের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাস শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। যেহেতু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং শিক্ষকরাই মূলত ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তার (প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার) দায়িত্ব পালন করেন, তাই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সময় বাদ দিয়ে পরীক্ষার আগে কিংবা পরেই ইউপি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
একইসঙ্গে, ভোটার স্থানান্তর প্রক্রিয়ার বিষয়ে বিভ্রান্তি দূর করে আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ভোটার স্থানান্তর একটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও রুটিন কাজ। অনেকে মনে করেন এই কাজটি কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে করা হয়, যা সঠিক নয়। ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে এবং অনিয়ম রোধে ইসি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে, যাতে সবাই নিয়মের মধ্যে থেকেই এই সুযোগ নিতে পারেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সরাসরি অংশ নেওয়ার বিষয়ে ইসির কাছে দাবি জানানো হয়েছিল। তবে, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত পরিষ্কার। ইসি মনে করে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা শিক্ষাঙ্গনের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গঠনমূলক পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি বড় অন্তরায়। এর ফলে শিক্ষকদের নিরপেক্ষতা চরমভাবে লঙ্ঘিত হবে, যা সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর।
আসন্ন উপ-নির্বাচনগুলোতে ভোটারদের ভোটদান প্রক্রিয়া সহজ ও আধুনিক করতে আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থার বড় ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। পোস্টাল ব্যালট ভোটিংকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও জনবান্ধব ও কার্যকর করে তোলাই ইসির মূল উদ্দেশ্য বলে জানান আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
তিনি জানান, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ও সব ধরনের কারচুপি রোধে নজিরবিহীন নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। সব ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানোর ব্যবস্থা করা হবে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জন্য বডি ওর্ন ক্যামেরার সংখ্যা বহুগুণ বাড়ানো হবে। যেকোনো বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। সেইসঙ্গে ভোটকেন্দ্রগুলোর অবকাঠামোগত নানা সমস্যা সমাধানের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন নিশ্চিত করে সার্বিকভাবে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে কমিশন বদ্ধপরিকর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ