রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:০১ পি.এম
কাশ্মীরের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের সঙ্গে চলচ্চিত্রের সম্পর্ক বহু পুরোনো। এবার সেই কাশ্মীরেই বসতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের আসর। প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজন করতে যাচ্ছে জম্মু ও কাশ্মীর সরকার। ‘রং-এ-সিনেমা’ (Rang-e-Cinema) নামের এই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৭ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর।
জম্মু ও কাশ্মীর সরকারের তথ্য ও জনসংযোগ দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশ থেকে উৎসবে অংশ নিতে ১১০০-র বেশি চলচ্চিত্র জমা পড়ে। সেখান থেকে বাছাই করা হয়েছে ৪১টি দেশের ১৩৫টি চলচ্চিত্র।
ভারত থেকে নির্বাচিত হয়েছে ৬৪টি ছবি। এছাড়া ফ্রান্সের ১৩টি ও ইরানের ৮টি চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হবে। তুরস্ক, জার্মানি, রাশিয়া, সুইডেন, স্পেন, ব্রাজিল, কাতার, আর্জেন্টিনা, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, কলম্বিয়া ও তাইওয়ানের চলচ্চিত্রও থাকছে এ আয়োজনে।
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হতে যাচ্ছে ডাল লেকে বিশেষ ‘ফ্লোটিং স্ক্রিন’-এ চলচ্চিত্র প্রদর্শন। কাশ্মীরের বিখ্যাত জলাশয়ের নৈসর্গিক পরিবেশে খোলা আকাশের নিচে সিনেমা দেখার এ আয়োজন দর্শকদের জন্য আলাদা অভিজ্ঞতা তৈরি করবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
শুধু ডাল লেক নয়, শ্রীনগরের শের-ই-কাশ্মীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার (SKICC) এবং আইএনওএক্স পিভিআর-এও উৎসবের চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান হবে। পাশাপাশি জম্মুর ওয়েভস সিনেমা এবং গুলমার্গের একটি হেলথ রিসর্টেও চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
উৎসবের বিচারকমণ্ডলীতেও থাকছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি। পাঁচ সদস্যের জুরি বোর্ডে রয়েছেন খ্যাতনামা চিত্রগ্রাহক ও পরিচালক সন্তোষ শিবন, ‘স্লামডগ মিলিয়নেয়ার’ ছবির জন্য পরিচিত সাউন্ড ডিজাইনার ও সাউন্ড মিক্সার রসুল পুকুট্টি, জার্মান চলচ্চিত্র কিউরেটর ও সাংবাদিক ডরোথি ভেনার, ব্যাং সিঙ্গাপুর-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কেইকো ব্যাং এবং ‘শূন্য স্বরূপা’-র পরিচালক হিমাংশু শেখর খাটুয়া।
কাশ্মীরের সঙ্গে ভারতীয় চলচ্চিত্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ষাটের দশকের জনপ্রিয় ‘কাশ্মীর কি কলি’ থেকে শুরু করে ‘কভি কভি’, ‘হাইওয়ে’ ও ‘রাজি’-সহ বহু চলচ্চিত্রের শুটিং হয়েছে উপত্যকার মনোরম লোকেশনে।
সেই দীর্ঘ চলচ্চিত্র ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এবার কাশ্মীরেই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আয়োজকদের আশা, ‘রং-এ-সিনেমা’ কাশ্মীরকে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিলনস্থলে পরিণত করার পাশাপাশি স্থানীয় চলচ্চিত্র সংস্কৃতি ও পর্যটনেও নতুন মাত্রা যোগ করবে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইতালিতে সড়ক দুর্ঘটনায় শরিফুল ইসলাম (১৯) নামে মাদারীপুরের এক তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ইতালির বন্দরনগর নাপোলির ভিল্লে লিতেরনো এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শরিফুল ইসলাম মাদারীপুর সদর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মিঠাপুর গ্রামের প্রামাণিক বাড়ির নশু প্রামাণিকের একমাত্র সন্তান।
পারিবারিক ও প্রবাসী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যার দিকে শরিফুল সাইকেল চালানোর সময় সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে পুলিশ স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করে এবং শরিফুলের মরদেহ উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। তবে কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে স্থানীয় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
জীবিকার তাগিদে মাত্র কয়েক মাস আগে ইতালিতে পাড়ি জমান শরিফুল। তিনি নাপোলির ভিল্লে লিতেরনো এলাকায় একটি সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করতেন বলে প্রবাসী সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে শরিফুলের মৃত্যুর খবর মাদারীপুরে পৌঁছালে তার পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। পরিবারের একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন স্বজনরা। মাত্র ১৯ বছর বয়সে প্রবাসের মাটিতে তার অকাল মৃত্যুতে নিজ গ্রাম মিঠাপুরের পাশাপাশি ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে আলোচনা করে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে রোমে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত এটিএম রকিবুল হক জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, চলতি মাসের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত তফসিল ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে, এই নির্বাচন একসঙ্গে সব ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হবে না, বরং ব্যয় সংকোচন নীতি বজায় রেখে ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে।
রবিবার, আগারগাঁওয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি এ তথ্য জানান।
আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের বিষয়ে কমিশন সরাসরি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। এছাড়াও, আসন্ন উপ-নির্বাচনগুলোতে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যবস্থার প্রয়োগ এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোকে কঠোর নিরাপত্তার আওতায় আনার জন্য বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের যে আবহ তৈরি হয়েছে, সেটির অংশ হিসেবে চলতি মাসের শেষেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব। দেশের সব ইউপি নির্বাচন একই সঙ্গে করা অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে বেশ কঠিন। তাই, সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে সব ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং শিক্ষার পরিবেশের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাস শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। যেহেতু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং শিক্ষকরাই মূলত ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তার (প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার) দায়িত্ব পালন করেন, তাই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সময় বাদ দিয়ে পরীক্ষার আগে কিংবা পরেই ইউপি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
একইসঙ্গে, ভোটার স্থানান্তর প্রক্রিয়ার বিষয়ে বিভ্রান্তি দূর করে আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ভোটার স্থানান্তর একটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও রুটিন কাজ। অনেকে মনে করেন এই কাজটি কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে করা হয়, যা সঠিক নয়। ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে এবং অনিয়ম রোধে ইসি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে, যাতে সবাই নিয়মের মধ্যে থেকেই এই সুযোগ নিতে পারেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সরাসরি অংশ নেওয়ার বিষয়ে ইসির কাছে দাবি জানানো হয়েছিল। তবে, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত পরিষ্কার। ইসি মনে করে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা শিক্ষাঙ্গনের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গঠনমূলক পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি বড় অন্তরায়। এর ফলে শিক্ষকদের নিরপেক্ষতা চরমভাবে লঙ্ঘিত হবে, যা সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর।
আসন্ন উপ-নির্বাচনগুলোতে ভোটারদের ভোটদান প্রক্রিয়া সহজ ও আধুনিক করতে আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থার বড় ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। পোস্টাল ব্যালট ভোটিংকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও জনবান্ধব ও কার্যকর করে তোলাই ইসির মূল উদ্দেশ্য বলে জানান আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
তিনি জানান, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ও সব ধরনের কারচুপি রোধে নজিরবিহীন নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। সব ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানোর ব্যবস্থা করা হবে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জন্য বডি ওর্ন ক্যামেরার সংখ্যা বহুগুণ বাড়ানো হবে। যেকোনো বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। সেইসঙ্গে ভোটকেন্দ্রগুলোর অবকাঠামোগত নানা সমস্যা সমাধানের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন নিশ্চিত করে সার্বিকভাবে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে কমিশন বদ্ধপরিকর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জ, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এ স্লোগানে সুনামগঞ্জে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ রেঞ্জ, সিলেট বন বিভাগ ও সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
‘বৃক্ষরোপণ অভিযান উপলক্ষে আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন থেকে এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে বৃক্ষ মেলা উদ্বোধন করেন অতিথিবৃন্দ।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জের সহকারী উপ-পরিচালক মাসুম বিল্লাহ, সদর উপজেলার ভূমি কর্মকর্তা আদিত্য পাল, সহকারী কমিশনার দ্বিপান্বীতা দেবী, জেলা ও বিভাগীয় সহকারী বন সংরক্ষক মো. জয়নাল আবেদীন, জেলা রেঞ্জ অফিসার রিয়াজ উদ্দিন, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাইমিনুল হকসহ পরিবেশ কর্মী, শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীরা।
উল্লেখ্য, এ বৃক্ষ মেলা চলবে সপ্তাহব্যাপী। অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্যাচেলর অব মেডিসিন অ্যান্ড ব্যাচেলর অব সার্জারি (এমবিবিএস) পরীক্ষার ফলাফলে প্রথম ব্যাচেই প্রশংসনীয় সাফল্য অর্জন করেছে বরিশাল বিভাগে প্রতিষ্ঠিত প্রথম ও একমাত্র বেসরকারি সাউথ এ্যাপোলো মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল। প্রতিষ্ঠানটির ৪৬ জন শিক্ষার্থী এবারের এমবিবিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৩৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। এতে কলেজটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৭৩ দশমিক ৯২ শতাংশ।
প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের এমন সাফল্যে কলেজজুড়ে বইছে আনন্দের জোয়ার। ফলাফল প্রকাশের পর বরিশালের কালিজিরা, রূপাতলী (জাগুয়া) এলাকায় অবস্থিত সাউথ এ্যাপোলো মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা যায় উৎসবমুখর পরিবেশ। দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়, নিয়মিত পাঠদান ও একাডেমিক শৃঙ্খলার প্রতিফলন হিসেবে প্রথম ব্যাচের এই ফলাফলকে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফল প্রকাশের পর উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা একে অপরকে অভিনন্দন জানান। অনেকেই সহপাঠী, শিক্ষক ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন। কৃতী শিক্ষার্থীরা কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের সঙ্গে সাফল্য উদযাপন করেন। তাদের চোখেমুখে ছিল দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও পরিশ্রমের পর কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জনের আনন্দ।
শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও। তারা বলেন, একটি মেডিকেল শিক্ষার্থীর জন্য এমবিবিএস পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। সাউথ এ্যাপোলো মেডিকেল কলেজের একাডেমিক পরিবেশ, নিয়মিত ক্লাস, শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি পরিচালনা পর্ষদের নজরদারি ও পরিচর্যা এ ফলাফল অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
কলেজ সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের মানসম্মত চিকিৎসা শিক্ষা নিশ্চিত করতে একাডেমিক কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে ক্লাস, নিয়মিত পরীক্ষা, ব্যবহারিক শিক্ষা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর নিবিড় যোগাযোগ এবং বছরজুড়ে একাডেমিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এমবিবিএস পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন।
কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষকবৃন্দের নিরলস পরিশ্রম, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অধ্যবসায় এবং অভিভাবকদের পূর্ণ সহযোগিতাই এই সাফল্যের মূল ভিত্তি। প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ফলাফল প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “সুনির্দিষ্ট অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুসরণ, সময়োপযোগী শিক্ষাপদ্ধতি, নিয়মিত ক্লাস এবং বছরজুড়ে অ্যাকাডেমিক শৃঙ্খলা বজায় থাকার কারণেই আশানুরূপ ফলাফল অর্জন করতে পেরেছি। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পড়াশোনা করেছে এবং শিক্ষকরা তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছেন। পাশাপাশি অভিভাবকদের সহযোগিতাও ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
অধ্যক্ষ আরও বলেন, প্রথম ব্যাচের এই ফলাফল আগামী দিনের জন্য সাউথ এ্যাপোলো মেডিকেল কলেজের একাডেমিক অগ্রযাত্রায় নতুন আত্মবিশ্বাস তৈরি করবে। উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে তিনি তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে সাফল্য কামনা করেন। একই সঙ্গে পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান ডা. জহিরুল হক মানিক বলেন, প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের এমবিবিএস পরীক্ষার ফলাফল প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্জন। শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের মানসম্মত চিকিৎসা শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি একজন দক্ষ, মানবিক ও দায়িত্বশীল চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
তিনি বলেন, “প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে শিক্ষক, অভিভাবক, পরিচালনা পর্ষদ এবং সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা রয়েছে। আমরা চাই, আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে শুধু ভালো ফলাফল করা চিকিৎসক নয়, মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন দক্ষ চিকিৎসক তৈরি হোক।”
চেয়ারম্যান আরও বলেন, ভবিষ্যতে সাউথ এ্যাপোলো মেডিকেল কলেজের শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আধুনিক শিক্ষা উপকরণ, দক্ষ শিক্ষক, উন্নত অবকাঠামো এবং বাস্তবভিত্তিক চিকিৎসা শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বরিশালের চিকিৎসা শিক্ষায় নতুন সম্ভাবনা
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রথম ব্যাচের এমবিবিএস পরীক্ষায় ৭৩ দশমিক ৯২ শতাংশ পাসের হার সাউথ এ্যাপোলো মেডিকেল কলেজের জন্য একটি ইতিবাচক সূচনা। বরিশাল বিভাগে বেসরকারি চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। প্রথম ব্যাচের এই ফলাফল প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ একাডেমিক কার্যক্রমে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা আরও বাড়াবে বলে মনে করছেন তারা।
বরিশাল বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিজ বিভাগে থেকে চিকিৎসা শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তৈরি এবং ভবিষ্যতে দক্ষ চিকিৎসক তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সাউথ এ্যাপোলো মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল। প্রথম ব্যাচের ৩৪ শিক্ষার্থীর এমবিবিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মধ্য দিয়ে সেই যাত্রায় যুক্ত হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের অধ্যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ