সাব্বির হাসনাত, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৫৭ পি.এম
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে শাহজাদপুরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ২৮ সেপ্টেম্বর, সোমবার দুপুর ১২:০০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-৩-এর অডিটোরিয়ামে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার। মতবিনিময় সভায় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সোবাহান এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও মতবিনিময় সভায় শাহজাদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান, শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা শারমিন, শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, শাহজাদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান আরিফ, শাহজাদপুর পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক নওশাদ ও শাহজাদপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী আইয়ুব আলী, শাহজাদপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মিজানুর রহমান ও উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক এবং পৌর জামাতের আমির আমিনুল ইসলাম, শাহজাদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর লিটন ও সাধারণ সম্পাদক আলামিন হোসেন, শাহজাদপুর সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি রাজিব আহমেদ রাসেল, শাহজাদপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি শফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক হাজী তামিম এবং রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার বলেন, "স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে একটি কার্যকর ও ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।" স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাংবাদিক সমাজ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সম্প্রতি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া কিছু অপ্রীতিকর ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে উপাচার্য মহোদয় বলেন, "রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আপনাদেরই সন্তান। তাদের শাসন করার পাশাপাশি ভালোবাসা ও সহযোগিতা করার দায়িত্বও আপনাদের, আমাদের সবার।" শিক্ষার্থীরা যেন স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বসবাস ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, সে বিষয়ে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সাম্প্রতিক ঘটনায় শাহজাদপুরের পুলিশ ও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে উপাচার্য বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার বলেন, "রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, সংস্কৃতি ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডগুলো সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে সাংবাদিক সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।" বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড, শিক্ষার্থীদের সাফল্য এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগ গণমাধ্যমে তুলে ধরার জন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও ইতিবাচক যোগাযোগ আরও জোরদার হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সবাই রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং শিক্ষা ও গবেষণার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাংবাদিক সমাজ, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ভবিষ্যতে পারস্পরিক যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে যেকোনো সমস্যা দ্রুত ও শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত সবাই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম বন্দরে প্রবেশের জন্য নির্ধারিত ফি থেকে বেশি টাকা নেওয়ার প্রতিবাদ জানানোয় নিরাপত্তা কর্মীদের দ্বারা পণ্যবাহী ট্রেইলরের এক কর্মীকে মারধর করা হয়েছে। সোমবার বিকাল ৩টায় চট্টগ্রাম বন্দরের পাঁচ নম্বর গেটে এই ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার প্রতিবাদে পরিবহন শ্রমিকরা কনটেইনার ডেলিভারি বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যানের চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। সন্ধ্যা ৭টায় রিপোর্ট লেখা অবধি বন্দরের ডেলিভারি কার্যক্রম বন্ধ ছিল। পরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ উভয়পক্ষকে নিয়ে আলোচনা শুরু করে। চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তথ্য অনুসন্ধান করে জানা গেছে, পরিবহন শ্রমিককে মারধরের পর বিকাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের চার নম্বর গেটে বিক্ষোভ শুরু হয়। এই কারণে বন্দরের ভেতরে ও বাহিরে কোনো গাড়ি চলাচল করতে পারেনি। শ্রমিকদের বিক্ষোভের ফলে বন্দরের সড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। এ সময় সাধারণ যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে।
প্রাইম মুভারস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম বন্দরে গেট পাসের ফি ৫৭ টাকার পরিবর্তে ৮০-১০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। সমিতির কোষাধ্যক্ষ মোকতার হোসেনের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেওয়ার প্রতিবাদ জানালে গেট থেকে এসে বন্দরের নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে মারধর করেন।
পাঁচ নম্বর গেটে ঘটনার পর বন্দরের কর্তৃপক্ষ আমাদের আশ্বস্ত করে এবং মীমাংসার প্রস্তাব দেয়। এরপর আমরা চার নম্বর গেটে গেলে সেখানে আরেকদল আমাদের দিকে তেড়ে আসে। এরপর থেকে আমরা পণ্য পরিবহন বন্ধ করে দিই।
চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম যুগান্তরকে বলেছেন, ‘বন্দরের নিরাপত্তা কর্মী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে একটি ভুল বোঝাবুঝির কারণে পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি সমাধানের জন্য উভয়পক্ষকে নিয়ে আলোচনা চলছে। আশা করছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ডেলিভারি চালু হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : চট্টগ্রাম নগরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পট এলাকা সমূহে মশক নিধন কার্যক্রমকে আরও জোরদার করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। একই সঙ্গে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য নগরবাসীকে তাদের নিজ নিজ ঘর-আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির এলাকায় চসিকের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে তিনি এই আহ্বান জানান।
ডা. শাহাদাত হোসেন উল্লেখ করেন, নগরবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে যেন ঘর-আঙিনা ও আশপাশে কোথাও পানি জমে না থাকে। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের বোতল, নির্মাণাধীন ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। তাই, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে সিটি কর্পোরেশনের ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। প্রত্যেক নাগরিককে তাদের বাসাবাড়ি ও কর্মস্থলের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।
তিনি আরও জানান, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চসিকের মশক নিধন কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে জোরদার করা হয়েছে। যেসব এলাকায় মশার ঘনত্ব বেশি, সেসব এলাকায় বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রামও পরিচালনা করা হচ্ছে।
মেয়র নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঘর-আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, জমে থাকা পানি অপসারণ করুন এবং ডেঙ্গু থেকে নিজেকে রক্ষা করুন, অন্যদেরও রক্ষা করুন। সম্মিলিত সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মঙ্গল গ্রহের ইতিহাস এবং সেখানে অতীতে পানির উপস্থিতির তথ্য জানার জন্য বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণা চালিয়ে আসছেন। এসব গবেষণার ফলাফল মঙ্গল গ্রহের নতুন নতুন তথ্য প্রকাশ করছে।
সম্প্রতি ‘কমিউনিকেশনস আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’ সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণা মঙ্গল গ্রহের জটিল জলবায়ু ইতিহাসকে উন্মোচন করেছে। নাসার পারসিভারেন্স রোভারের পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, নাসার পারসিভারেন্স রোভার মঙ্গল গ্রহের জেজেরো ক্রেটারে সুনির্দিষ্ট একটি লেক বা হ্রদের বাইরেও একাধিক পানিপ্রবাহের সন্ধান পেয়েছে। এর ফলে জেজেরো ক্রেটারের ভেতরের মার্জিন ইউনিট নামের অংশটি একটিমাত্র প্রাচীন হ্রদের স্রোতের কারণে তৈরি হয়নি।
বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল যে, জেজেরো ক্রেটারের ভেতরের মার্জিন ইউনিট নামের অংশে পাললিক শিলা থাকতে পারে। তবে রোভারটি দেখতে পেয়েছে, সেখানকার বেশির ভাগ শিলা মূলত ইগনিয়াস প্রকৃতির এবং অলিভিনে সমৃদ্ধ।
নতুন গবেষণার বিষয়ে পারডু ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী ক্যান্ডিস বেডফোর্ড জানিয়েছেন, এসব শিলা মূলত মাটির অনেক গভীরে ম্যাগমা ঠান্ডা হয়ে তৈরি হয়েছিল এবং পরবর্তীকালে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ওপরে উঠেছে। এই শিলাগুলোর ভেতরের খনিজ স্ফটিক প্রমাণ করে যে, পরবর্তীকালে অন্তত তিনটি আলাদা ধাপে পানির সঙ্গে এই শিলাগুলোর বিক্রিয়া ঘটেছিল।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রথম ধাপে কার্বন ডাই–অক্সাইডসমৃদ্ধ ভূগর্ভস্থ পানি অলিভাইনসমৃদ্ধ শিলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ফাটলগুলোতে কার্বনেট তৈরি করেছিল। দ্বিতীয় ধাপে জেজেরো ক্রেটারের প্রাচীন হ্রদের পানি বা পরিবর্তনশীল ভূগর্ভস্থ জলের প্রভাবে শিলাগুলোর রূপান্তর ঘটে এবং সেখানে সিলিকা জমা হয়।
হাওয়াই ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী এলেনি রাভানিস জানান, অলিভাইন রূপান্তরিত হয়ে কার্বনেট তৈরি হওয়ার সময় সিলিকা পেছনে ফেলে যায়। তৃতীয় ও শেষ ধাপে আগ্নেয় শিলার মধ্য দিয়ে উষ্ণ তরল বা হাইড্রোথার্মাল তরল প্রবাহিত হওয়ার প্রমাণ মিলেছে। ফলে ক্যালসিয়াম সালফেট ও ফ্লোরাইটের খনিজ শিরা তৈরি হয়েছে। ফ্লোরাইটের উপস্থিতি নিশ্চিত করে যে ওই অঞ্চলে একসময় উত্তপ্ত ভূগর্ভস্থ তরল বা হাইড্রোথার্মাল কার্যকলাপ সক্রিয় ছিল।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পারসিভারেন্স রোভারের মাস্তুলে থাকা সুপারক্যামের সাহায্যে মার্জিন ইউনিটের ১৮৫টির বেশি শিলার ওপর এই গবেষণা চালানো হয়েছে। নতুন এই তথ্য মঙ্গল গ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের সরাসরি প্রমাণ না দিলেও এটি এমন একটি ভূতাত্ত্বিক পরিবেশের সন্ধান দিয়েছে, যা অণুজীবের বেঁচে থাকার অনুকূল হতে পারত। বহুমুখী পানিপ্রবাহ মঙ্গলের প্রাচীন পরিবেশ ও জলবায়ু সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হাইকোর্ট ইব্রাহিম আলী শেখের ২২ বছর অন্যায়ভাবে কারাভোগের জন্য পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ না দেওয়ার কারণ জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে। একই সঙ্গে, উচ্চ আদালতের খালাসের আদেশ বাস্তবায়নে আট বছরের বিলম্ব কেন বেআইনি, অসাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছে আদালত।
সোমবার, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অ্যানেক্স ভবনের ২৯ নম্বর কোর্টে বিচারক ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর আদালতে রিট পিটিশনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত এ রুল জারি করে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক ও অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ হাসান শহীদ কারুজ্জামান বিষয়টি দৈনিক যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের পক্ষে জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করেন অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক। রিটে ইব্রাহিম আলী শেখের ২২ বছরের কারাবাস এবং খালাসের আদেশ কার্যকর করতে আট বছরের বিলম্বের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।
রিটের প্রার্থনায় উল্লেখ করা হয়, ইব্রাহিমের খালাসের আদেশ প্রেরণ ও কার্যকর করতে আট বছরের অবহেলা কেন বেআইনি, অসাংবিধানিক, কোনো আইনি কর্তৃত্ববিহীন এবং সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে দেওয়া মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি ঘোষণা করা হবে না? তা জানতে চেয়ে রুল জারি করার আবেদন করা হয়।
এছাড়া, ২২ বছরের অন্যায় কারাবাস এবং অবৈধভাবে দীর্ঘ সময় আটক থাকার কারণে স্বাধীনতা, সম্মান ও জীবিকা হারানোর জন্য ইব্রাহিমকে পাঁচ কোটি টাকা অথবা আদালত নির্ধারিত দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
আইনজীবী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, একজন নিরপরাধ ব্যক্তি দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন। হাইকোর্ট থেকে খালাস পাওয়ার পরও তাকে মুক্তি পেতে আরও আট বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। এটি রাষ্ট্রীয় অবহেলার চরম উদাহরণ। খালাসের আদেশ কার্যকর করতে সংশ্লিষ্টদের অবহেলার কারণে ইব্রাহিমের জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র তার জীবনের হারিয়ে যাওয়া সময় ফিরিয়ে দিতে পারবে না। তবে বাকি জীবন যেন নিরাপদে কাটাতে পারেন, সেজন্য পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। আদালত কেন তাকে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেবেন না, এ বিষয়ে সরকারের বক্তব্য জানতে রুল জারি করা হয়েছে।
এর আগে, ২০১৭ সালে একটি মামলায় হাইকোর্ট ইব্রাহিম আলী শেখকে খালাস দেন; কিন্তু সেই খালাসের আদেশ যথাসময়ে কারাগারে না পৌঁছানো এবং কার্যকর না হওয়ায় তিনি আরও প্রায় আট বছর কারাগারে ছিলেন। পরে বিষয়টি নিয়ে দৈনিক যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশিত হলে তার মুক্তি ও পুনর্বাসনের বিষয়টি সামনে আসে। এখন দীর্ঘ কারাবাসের ক্ষতিপূরণ আদায়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ