ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ডেঙ্গু বাড়ছে, ঘর-আঙিনা পরিষ্কার রাখার আহ্বান চসিক মেয়রের


ডেঙ্গু বাড়ছে, ঘর-আঙিনা পরিষ্কার রাখার আহ্বান চসিক মেয়রের

চট্টগ্রাম, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : চট্টগ্রাম নগরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পট এলাকা সমূহে মশক নিধন কার্যক্রমকে আরও জোরদার করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। একই সঙ্গে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য নগরবাসীকে তাদের নিজ নিজ ঘর-আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির এলাকায় চসিকের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে তিনি এই আহ্বান জানান।

ডা. শাহাদাত হোসেন উল্লেখ করেন, নগরবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে যেন ঘর-আঙিনা ও আশপাশে কোথাও পানি জমে না থাকে। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের বোতল, নির্মাণাধীন ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। তাই, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে সিটি কর্পোরেশনের ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। প্রত্যেক নাগরিককে তাদের বাসাবাড়ি ও কর্মস্থলের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে অপহরণ ও ডাকাতির মামলায় পুলিশ কনস্টেবলসহ গ্রেপ্তার ৪, উদ্ধার ৩ মোটরসাইকেল

তিনি আরও জানান, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চসিকের মশক নিধন কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে জোরদার করা হয়েছে। যেসব এলাকায় মশার ঘনত্ব বেশি, সেসব এলাকায় বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রামও পরিচালনা করা হচ্ছে।

মেয়র নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঘর-আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, জমে থাকা পানি অপসারণ করুন এবং ডেঙ্গু থেকে নিজেকে রক্ষা করুন, অন্যদেরও রক্ষা করুন। সম্মিলিত সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মঙ্গল গ্রহে পানির প্রমাণ, নতুন গবেষণায় রহস্য উন্মোচন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৫৮ পি.এম


মঙ্গল গ্রহে পানির প্রমাণ, নতুন গবেষণায় রহস্য উন্মোচন

মঙ্গল গ্রহের ইতিহাস এবং সেখানে অতীতে পানির উপস্থিতির তথ্য জানার জন্য বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণা চালিয়ে আসছেন। এসব গবেষণার ফলাফল মঙ্গল গ্রহের নতুন নতুন তথ্য প্রকাশ করছে।

সম্প্রতি ‘কমিউনিকেশনস আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’ সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণা মঙ্গল গ্রহের জটিল জলবায়ু ইতিহাসকে উন্মোচন করেছে। নাসার পারসিভারেন্স রোভারের পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, নাসার পারসিভারেন্স রোভার মঙ্গল গ্রহের জেজেরো ক্রেটারে সুনির্দিষ্ট একটি লেক বা হ্রদের বাইরেও একাধিক পানিপ্রবাহের সন্ধান পেয়েছে। এর ফলে জেজেরো ক্রেটারের ভেতরের মার্জিন ইউনিট নামের অংশটি একটিমাত্র প্রাচীন হ্রদের স্রোতের কারণে তৈরি হয়নি।

বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল যে, জেজেরো ক্রেটারের ভেতরের মার্জিন ইউনিট নামের অংশে পাললিক শিলা থাকতে পারে। তবে রোভারটি দেখতে পেয়েছে, সেখানকার বেশির ভাগ শিলা মূলত ইগনিয়াস প্রকৃতির এবং অলিভিনে সমৃদ্ধ।

নতুন গবেষণার বিষয়ে পারডু ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী ক্যান্ডিস বেডফোর্ড জানিয়েছেন, এসব শিলা মূলত মাটির অনেক গভীরে ম্যাগমা ঠান্ডা হয়ে তৈরি হয়েছিল এবং পরবর্তীকালে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ওপরে উঠেছে। এই শিলাগুলোর ভেতরের খনিজ স্ফটিক প্রমাণ করে যে, পরবর্তীকালে অন্তত তিনটি আলাদা ধাপে পানির সঙ্গে এই শিলাগুলোর বিক্রিয়া ঘটেছিল।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রথম ধাপে কার্বন ডাই–অক্সাইডসমৃদ্ধ ভূগর্ভস্থ পানি অলিভাইনসমৃদ্ধ শিলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ফাটলগুলোতে কার্বনেট তৈরি করেছিল। দ্বিতীয় ধাপে জেজেরো ক্রেটারের প্রাচীন হ্রদের পানি বা পরিবর্তনশীল ভূগর্ভস্থ জলের প্রভাবে শিলাগুলোর রূপান্তর ঘটে এবং সেখানে সিলিকা জমা হয়।

হাওয়াই ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী এলেনি রাভানিস জানান, অলিভাইন রূপান্তরিত হয়ে কার্বনেট তৈরি হওয়ার সময় সিলিকা পেছনে ফেলে যায়। তৃতীয় ও শেষ ধাপে আগ্নেয় শিলার মধ্য দিয়ে উষ্ণ তরল বা হাইড্রোথার্মাল তরল প্রবাহিত হওয়ার প্রমাণ মিলেছে। ফলে ক্যালসিয়াম সালফেট ও ফ্লোরাইটের খনিজ শিরা তৈরি হয়েছে। ফ্লোরাইটের উপস্থিতি নিশ্চিত করে যে ওই অঞ্চলে একসময় উত্তপ্ত ভূগর্ভস্থ তরল বা হাইড্রোথার্মাল কার্যকলাপ সক্রিয় ছিল।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পারসিভারেন্স রোভারের মাস্তুলে থাকা সুপারক্যামের সাহায্যে মার্জিন ইউনিটের ১৮৫টির বেশি শিলার ওপর এই গবেষণা চালানো হয়েছে। নতুন এই তথ্য মঙ্গল গ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের সরাসরি প্রমাণ না দিলেও এটি এমন একটি ভূতাত্ত্বিক পরিবেশের সন্ধান দিয়েছে, যা অণুজীবের বেঁচে থাকার অনুকূল হতে পারত। বহুমুখী পানিপ্রবাহ মঙ্গলের প্রাচীন পরিবেশ ও জলবায়ু সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশ

বিনা দোষে ২২ বছর কারাবাসের জন্য ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের রুল জারি হাইকোর্টের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৫৮ পি.এম


বিনা দোষে ২২ বছর কারাবাসের জন্য ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের রুল জারি হাইকোর্টের

হাইকোর্ট ইব্রাহিম আলী শেখের ২২ বছর অন্যায়ভাবে কারাভোগের জন্য পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ না দেওয়ার কারণ জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে। একই সঙ্গে, উচ্চ আদালতের খালাসের আদেশ বাস্তবায়নে আট বছরের বিলম্ব কেন বেআইনি, অসাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছে আদালত।

সোমবার, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অ্যানেক্স ভবনের ২৯ নম্বর কোর্টে বিচারক ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর আদালতে রিট পিটিশনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত এ রুল জারি করে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক ও অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ হাসান শহীদ কারুজ্জামান বিষয়টি দৈনিক যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন।

বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের পক্ষে জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করেন অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক। রিটে ইব্রাহিম আলী শেখের ২২ বছরের কারাবাস এবং খালাসের আদেশ কার্যকর করতে আট বছরের বিলম্বের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।

রিটের প্রার্থনায় উল্লেখ করা হয়, ইব্রাহিমের খালাসের আদেশ প্রেরণ ও কার্যকর করতে আট বছরের অবহেলা কেন বেআইনি, অসাংবিধানিক, কোনো আইনি কর্তৃত্ববিহীন এবং সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে দেওয়া মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি ঘোষণা করা হবে না? তা জানতে চেয়ে রুল জারি করার আবেদন করা হয়।

এছাড়া, ২২ বছরের অন্যায় কারাবাস এবং অবৈধভাবে দীর্ঘ সময় আটক থাকার কারণে স্বাধীনতা, সম্মান ও জীবিকা হারানোর জন্য ইব্রাহিমকে পাঁচ কোটি টাকা অথবা আদালত নির্ধারিত দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

আইনজীবী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, একজন নিরপরাধ ব্যক্তি দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন। হাইকোর্ট থেকে খালাস পাওয়ার পরও তাকে মুক্তি পেতে আরও আট বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। এটি রাষ্ট্রীয় অবহেলার চরম উদাহরণ। খালাসের আদেশ কার্যকর করতে সংশ্লিষ্টদের অবহেলার কারণে ইব্রাহিমের জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র তার জীবনের হারিয়ে যাওয়া সময় ফিরিয়ে দিতে পারবে না। তবে বাকি জীবন যেন নিরাপদে কাটাতে পারেন, সেজন্য পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। আদালত কেন তাকে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেবেন না, এ বিষয়ে সরকারের বক্তব্য জানতে রুল জারি করা হয়েছে।

এর আগে, ২০১৭ সালে একটি মামলায় হাইকোর্ট ইব্রাহিম আলী শেখকে খালাস দেন; কিন্তু সেই খালাসের আদেশ যথাসময়ে কারাগারে না পৌঁছানো এবং কার্যকর না হওয়ায় তিনি আরও প্রায় আট বছর কারাগারে ছিলেন। পরে বিষয়টি নিয়ে দৈনিক যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশিত হলে তার মুক্তি ও পুনর্বাসনের বিষয়টি সামনে আসে। এখন দীর্ঘ কারাবাসের ক্ষতিপূরণ আদায়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্ধুর বিয়েতে বাংলাদেশে এসে মুগ্ধ ৪ মালয়েশীয় নাগরিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৫৯ পি.এম


বন্ধুর বিয়েতে বাংলাদেশে এসে মুগ্ধ ৪ মালয়েশীয় নাগরিক

বাংলাদেশি বন্ধুর বিয়েতে অংশ নিতে মালয়েশিয়া থেকে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে এসে স্থানীয় মানুষের আন্তরিকতা, গ্রামীণ পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধতার কথা জানিয়েছেন চার মালয়েশীয় নাগরিক।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তারা শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখীপুর থানার চরভাগা ইউনিয়নের মৃধাকান্দি গ্রামে বন্ধু নাজমুল মৃধার বাড়িতে যান। এরপর সেখান থেকে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে কনের বাড়িতে চলে যান।

এর আগে মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান সি সিমার এন্টারপ্রাইজের মালিকসহ চার মালয়েশীয় নাগরিক।

জানা গেছে, মৃধাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা নাজমুল মৃধা প্রায় ১৬ বছর আগে জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। দীর্ঘদিন কাজ করার পর গত ১০ বছর ধরে তিনি সি সিমার এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে যুক্ত আছেন। কর্মদক্ষতা, সততা ও ভালো আচরণের কারণে প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও সহকর্মীদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

সম্প্রতি দেশে ফিরে একই গ্রামের জান্নাত আক্তারের সঙ্গে তার বিয়ের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়। রোববার অনুষ্ঠিত ওই বিয়েতে মালয়েশিয়ার বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আমন্ত্রণ জানান নাজমুল। সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে চার মালয়েশীয় নাগরিক বাংলাদেশে এসে অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

মালয়েশীয় নাগরিক ইসমাঈল বলেন, "বন্ধু নাজমুল যখন আমাকে তার বিয়েতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানায়, তখনই রাজি হয়ে যাই। তার কাছ থেকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে অনেক কিছু শুনেছি। তাই তার বিয়েতে সরাসরি অংশ নেওয়ার আগ্রহ ছিল। এই সফরের মাধ্যমে আমাদের বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।"

আরেক মালয়েশীয় নাগরিক জেসু বলেন, "নাজমুলের পরিবারের সদস্যরা ফুল দিয়ে আমাদের বরণ করে নিয়েছেন। তাদের আন্তরিক আতিথেয়তা এবং বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করেছে। দেশে ফিরে গেলেও আবার বাংলাদেশে আসতে চাই।"

বন্ধুদের আগমনে উচ্ছ্বসিত নাজমুল মৃধা বলেন, "প্রবাসজীবনে সততা, কর্মদক্ষতা ও ভালো আচরণ থাকলে মানুষের আস্থা অর্জন করা যায়। মালয়েশিয়ায় যাদের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে, তাদের মধ্যে সি সিমার এন্টারপ্রাইজের মালিক অন্যতম। বর্তমানে আমরা একসঙ্গে ব্যবসাও করছি। আমার বিয়েতে তারা এসেছেন, এটি আমার জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয়।"

তিনি আরও বলেন, "প্রবাসে যারা আছেন, তারা যেন সব সময় সততা ও আদর্শের সঙ্গে কাজ করেন। আমাদের নীতি-আদর্শ ভালো হলে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করা সম্ভব। এতে বাংলাদেশের মানুষেরই লাভ হবে।"

কনে জান্নাত আক্তার বলেন, "তারা আমাদের বিয়েতে এসেছেন দেখে খুব ভালো লাগছে। গ্রামের মানুষও তাদের দেখতে ও কথা বলতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বিদেশি অতিথিরা আমাদের বিয়েতে আসায় আমাদের আনন্দ আরও বেড়ে গেছে।"

এদিকে চার মালয়েশীয় নাগরিকের উপস্থিতি ঘিরে বিয়ের অনুষ্ঠানে স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল দেখা যায়। তাদের একনজর দেখতে ও ছবি তুলতে নাজমুলের বাড়িতে ভিড় করেন আশপাশের অনেক মানুষ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি কারাগারে ১৪ বছর বন্দি চাঁদপুরের শহিদুল্লাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০০ পি.এম


সৌদি কারাগারে ১৪ বছর বন্দি চাঁদপুরের শহিদুল্লাহ

জীবিকার প্রয়োজনে ২০০৮ সালে সৌদি আরবে পাড়ি দেন চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার তফিরা গ্রামের সহজ-সরল ছেলে মো. শহিদুল্লাহ। ৪ বছর পর ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার পর থেকেই তার জীবনে শুরু হয় সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের কারাগারে ১৪ বছর ধরে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন।

শহিদুল্লাহর মাথার উপর ঝুলে রয়েছে মৃত্যুদণ্ডের খড়্গ। তার দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবং ফাঁসির আশঙ্কায় তার পরিবার চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে।

পরিবারের সূত্রে জানা যায়, শহিদুল্লাহ ২০১৩ সালের ২৪ জুলাই থেকে দাম্মাম কারাগারে বন্দি রয়েছেন। বাংলাদেশ দূতাবাস রিয়াদের ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারির চিঠি অনুযায়ী, তাকে গ্রেফতার করা হয় এক সৌদি নাগরিককে (জাকি আল আশুর) হত্যার অভিযোগে। বিচার প্রক্রিয়া শেষে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় আসে এবং বর্তমানে তিনি দাম্মাম কারাগারে রায় কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছেন।

শহিদুল্লাহর পরিবারে তার ৭৫ বছর বয়সি মা খুরশিদা বেগম, স্ত্রী পেয়ারা বেগম, ছেলে জিহাদ এবং মেয়ে ফিয়া আক্তার রয়েছেন। ১৪ বছর ধরে পরিবারটির জীবনে কোনো স্বস্তির খবর আসেনি। বৃদ্ধা মা প্রতিদিন ছেলের শোকে চোখের জল ফেলছেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে শহিদুল্লাহর স্ত্রী পেয়ারা বেগম বলেন, "আমার স্বামী যখন কারাগারে যান, তখন ছেলের বয়স ছিল মাত্র ৭ বছর। তার গ্রেফতারের পর থেকেই সংসারের অভাব-অনটন শুরু হয়। বাধ্য হয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয় আমার ছেলেকে। শৈশব-কৈশোরের আনন্দ হারিয়ে সে কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করেছে। সরকারের কাছে আমার স্বামীর প্রাণভিক্ষা চাই, আমার স্বামীকে ফিরিয়ে দিন।" ছেলের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বৃদ্ধা মা খুরশিদা বেগম। তিনি বলেন, "ছেলের জন্য কাঁদতে কাঁদতে দুই চোখ প্রায় অন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি, মৃত্যুর আগে আমার ছেলেকে এক নজর দেখতে চাই।"

শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়া ছেলে জিহাদ হোসেন বলেন, "১৪ বছর ধরে বাবা কারাগারে। আম্মা অনেক কষ্ট করে সংসার চালাচ্ছেন। আমি অনেক ছোট বয়সেই কাজে নামতে বাধ্য হয়েছি। এখন প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ি, আগের মতো কাজও করতে পারি না। আমি সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি, আমার বাবাকে যেন ফিরিয়ে আনা হয়। আমার বাবা সম্পূর্ণ নির্দোষ, তাকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হয়েছে।"

প্রতিবেশীরা জানান, শহিদুল্লাহ ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল মানুষ। পড়ালেখা না জানা এই প্রবাসীকে পাকিস্তানি এক ব্যক্তির সঙ্গে জড়িয়ে মিথ্যা অভিযোগে আইনি ফাঁদে ফেলা হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে শহিদুল্লাহর বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনা করতে এবং তাকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দিয়ে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকার ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তার পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%