ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বন্ধুর বিয়েতে বাংলাদেশে এসে মুগ্ধ ৪ মালয়েশীয় নাগরিক


বন্ধুর বিয়েতে বাংলাদেশে এসে মুগ্ধ ৪ মালয়েশীয় নাগরিক

বাংলাদেশি বন্ধুর বিয়েতে অংশ নিতে মালয়েশিয়া থেকে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে এসে স্থানীয় মানুষের আন্তরিকতা, গ্রামীণ পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধতার কথা জানিয়েছেন চার মালয়েশীয় নাগরিক।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তারা শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখীপুর থানার চরভাগা ইউনিয়নের মৃধাকান্দি গ্রামে বন্ধু নাজমুল মৃধার বাড়িতে যান। এরপর সেখান থেকে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে কনের বাড়িতে চলে যান।

এর আগে মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান সি সিমার এন্টারপ্রাইজের মালিকসহ চার মালয়েশীয় নাগরিক।

আরও পড়ুন: ফিলাডেলফিয়ায় কবুতর দেখতে পর্যটকদের ৯০ মিনিটের ব্যতিক্রমী ভ্রমণে ভিড়

জানা গেছে, মৃধাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা নাজমুল মৃধা প্রায় ১৬ বছর আগে জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। দীর্ঘদিন কাজ করার পর গত ১০ বছর ধরে তিনি সি সিমার এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে যুক্ত আছেন। কর্মদক্ষতা, সততা ও ভালো আচরণের কারণে প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও সহকর্মীদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

সম্প্রতি দেশে ফিরে একই গ্রামের জান্নাত আক্তারের সঙ্গে তার বিয়ের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়। রোববার অনুষ্ঠিত ওই বিয়েতে মালয়েশিয়ার বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আমন্ত্রণ জানান নাজমুল। সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে চার মালয়েশীয় নাগরিক বাংলাদেশে এসে অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

মালয়েশীয় নাগরিক ইসমাঈল বলেন, "বন্ধু নাজমুল যখন আমাকে তার বিয়েতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানায়, তখনই রাজি হয়ে যাই। তার কাছ থেকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে অনেক কিছু শুনেছি। তাই তার বিয়েতে সরাসরি অংশ নেওয়ার আগ্রহ ছিল। এই সফরের মাধ্যমে আমাদের বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।"

আরেক মালয়েশীয় নাগরিক জেসু বলেন, "নাজমুলের পরিবারের সদস্যরা ফুল দিয়ে আমাদের বরণ করে নিয়েছেন। তাদের আন্তরিক আতিথেয়তা এবং বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করেছে। দেশে ফিরে গেলেও আবার বাংলাদেশে আসতে চাই।"

আরও পড়ুন: সর্দি-কাশি ও গাঁটে ব্যথা কমাতে পানপাতার উপকারিতা

বন্ধুদের আগমনে উচ্ছ্বসিত নাজমুল মৃধা বলেন, "প্রবাসজীবনে সততা, কর্মদক্ষতা ও ভালো আচরণ থাকলে মানুষের আস্থা অর্জন করা যায়। মালয়েশিয়ায় যাদের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে, তাদের মধ্যে সি সিমার এন্টারপ্রাইজের মালিক অন্যতম। বর্তমানে আমরা একসঙ্গে ব্যবসাও করছি। আমার বিয়েতে তারা এসেছেন, এটি আমার জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয়।"

তিনি আরও বলেন, "প্রবাসে যারা আছেন, তারা যেন সব সময় সততা ও আদর্শের সঙ্গে কাজ করেন। আমাদের নীতি-আদর্শ ভালো হলে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করা সম্ভব। এতে বাংলাদেশের মানুষেরই লাভ হবে।"

কনে জান্নাত আক্তার বলেন, "তারা আমাদের বিয়েতে এসেছেন দেখে খুব ভালো লাগছে। গ্রামের মানুষও তাদের দেখতে ও কথা বলতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বিদেশি অতিথিরা আমাদের বিয়েতে আসায় আমাদের আনন্দ আরও বেড়ে গেছে।"

এদিকে চার মালয়েশীয় নাগরিকের উপস্থিতি ঘিরে বিয়ের অনুষ্ঠানে স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল দেখা যায়। তাদের একনজর দেখতে ও ছবি তুলতে নাজমুলের বাড়িতে ভিড় করেন আশপাশের অনেক মানুষ।

আরও পড়ুন: পর্নোগ্রাফির আসক্তির ক্ষতি ও মুক্তির উপায় নিয়ে আলোচনা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি কারাগারে ১৪ বছর বন্দি চাঁদপুরের শহিদুল্লাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০০ পি.এম


সৌদি কারাগারে ১৪ বছর বন্দি চাঁদপুরের শহিদুল্লাহ

জীবিকার প্রয়োজনে ২০০৮ সালে সৌদি আরবে পাড়ি দেন চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার তফিরা গ্রামের সহজ-সরল ছেলে মো. শহিদুল্লাহ। ৪ বছর পর ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার পর থেকেই তার জীবনে শুরু হয় সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের কারাগারে ১৪ বছর ধরে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন।

শহিদুল্লাহর মাথার উপর ঝুলে রয়েছে মৃত্যুদণ্ডের খড়্গ। তার দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবং ফাঁসির আশঙ্কায় তার পরিবার চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে।

পরিবারের সূত্রে জানা যায়, শহিদুল্লাহ ২০১৩ সালের ২৪ জুলাই থেকে দাম্মাম কারাগারে বন্দি রয়েছেন। বাংলাদেশ দূতাবাস রিয়াদের ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারির চিঠি অনুযায়ী, তাকে গ্রেফতার করা হয় এক সৌদি নাগরিককে (জাকি আল আশুর) হত্যার অভিযোগে। বিচার প্রক্রিয়া শেষে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় আসে এবং বর্তমানে তিনি দাম্মাম কারাগারে রায় কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছেন।

শহিদুল্লাহর পরিবারে তার ৭৫ বছর বয়সি মা খুরশিদা বেগম, স্ত্রী পেয়ারা বেগম, ছেলে জিহাদ এবং মেয়ে ফিয়া আক্তার রয়েছেন। ১৪ বছর ধরে পরিবারটির জীবনে কোনো স্বস্তির খবর আসেনি। বৃদ্ধা মা প্রতিদিন ছেলের শোকে চোখের জল ফেলছেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে শহিদুল্লাহর স্ত্রী পেয়ারা বেগম বলেন, "আমার স্বামী যখন কারাগারে যান, তখন ছেলের বয়স ছিল মাত্র ৭ বছর। তার গ্রেফতারের পর থেকেই সংসারের অভাব-অনটন শুরু হয়। বাধ্য হয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয় আমার ছেলেকে। শৈশব-কৈশোরের আনন্দ হারিয়ে সে কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করেছে। সরকারের কাছে আমার স্বামীর প্রাণভিক্ষা চাই, আমার স্বামীকে ফিরিয়ে দিন।" ছেলের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বৃদ্ধা মা খুরশিদা বেগম। তিনি বলেন, "ছেলের জন্য কাঁদতে কাঁদতে দুই চোখ প্রায় অন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি, মৃত্যুর আগে আমার ছেলেকে এক নজর দেখতে চাই।"

শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়া ছেলে জিহাদ হোসেন বলেন, "১৪ বছর ধরে বাবা কারাগারে। আম্মা অনেক কষ্ট করে সংসার চালাচ্ছেন। আমি অনেক ছোট বয়সেই কাজে নামতে বাধ্য হয়েছি। এখন প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ি, আগের মতো কাজও করতে পারি না। আমি সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি, আমার বাবাকে যেন ফিরিয়ে আনা হয়। আমার বাবা সম্পূর্ণ নির্দোষ, তাকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হয়েছে।"

প্রতিবেশীরা জানান, শহিদুল্লাহ ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল মানুষ। পড়ালেখা না জানা এই প্রবাসীকে পাকিস্তানি এক ব্যক্তির সঙ্গে জড়িয়ে মিথ্যা অভিযোগে আইনি ফাঁদে ফেলা হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে শহিদুল্লাহর বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনা করতে এবং তাকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দিয়ে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকার ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তার পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাহাথিরের ৭০ বছরের সঙ্গী সিতি হাসমাহর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০০ পি.এম


মাহাথিরের ৭০ বছরের সঙ্গী সিতি হাসমাহর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা

শত বছরের জীবন থামল। মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী তুন ড. মাহাথির মোহাম্মদকে একা করে চিরবিদায় নিলেন তার জীবনসঙ্গী তুন ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলী, দীর্ঘ ৭০ বছরের দাম্পত্যের অবসানে। সোমবার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হয়েছে মালয়েশিয়ার জনজীবনের অন্যতম পরিচিত এই নারীকে। শ্রদ্ধা জানাতে মসজিদ থেকে পুত্রজায়ার পুসারা নেগারা পর্যন্ত জড়ো হন রাজপরিবারের সদস্য, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, রাজনীতিক, সামরিক কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষ।

সোমবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে (আইজেএন) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০০ বছর বয়সে মারা যান সিতি হাসমাহ। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন ছেলে তান শ্রী মোখজানি মাহাথির। মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে শোকের আবহ নেমে আসে।

দুপুরে তামান সুংগাই বেসির মসজিদ আস-শরিফে নেওয়া হয় তার মরদেহ। বেলা ১টা ১৫ মিনিট থেকে সেখানে স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও বিশিষ্টজনদের ভিড় বাড়তে থাকে। বেলা ৩টার আগে মরদেহ পৌঁছানোর পর মানুষের ঢল নামে। মসজিদের মূল নামাজের কক্ষ পূর্ণ হয়ে গেলে ভিড় ছড়িয়ে পড়ে বারান্দা ও প্রবেশপথ পর্যন্ত। বিপুল জনসমাগমের কারণে আশপাশের সড়কে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয় ট্রাফিক পুলিশ।

মরদেহ বহনকারী শবযানের সঙ্গে পৃথক গাড়িতে মসজিদে পৌঁছান মাহাথির মোহাম্মদ। সাত দশকেরও বেশি সময়ের জীবনসঙ্গীকে শেষ বিদায় জানাতে এ সময় তার পাশে ছিলেন পরিবারের সদস্যরা।

মসজিদ আস-শরিফেই সম্পন্ন হয় সিতি হাসমাহর গোসল, কাফন ও জনসাধারণের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা। বিপুল মুসল্লির উপস্থিতির কারণে আসরের নামাজ দুই দফায় আদায় করা হয়। এরপর অনুষ্ঠিত হয় জানাজা।

বিকাল ৪টার দিকে জানাজায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম ও তার স্ত্রী দাতুক সেরি ড. ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন- মেলাকার ইয়াং দি-পেরতুয়া নেগেরি তুন মোহাম্মদ আলী মোহাম্মদ রুস্তাম, উপপ্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি ফাদিল্লাহ ইউসুফ, যোগাযোগমন্ত্রী দাতুক সেরি ফাহমি ফাদজিল, স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাতুক সেরি ড. জুলকেফলি আহমাদসহ মন্ত্রিসভার সদস্য ও সাবেক শীর্ষ নেতারা।

শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী তান সেরি মুহিউদ্দিন ইয়াসিন, বেরসাতুর মহাসচিব দাতুক সেরি মোহাম্মদ আজমিন আলী, মুয়ারের সংসদ সদস্য সিয়েদ সাদ্দিক সিয়েদ আবদুল রহমান, রয়্যাল মালয়েশিয়ান নেভির প্রধান অ্যাডমিরাল তান সেরি জুলহেলমি ইথনাইন, দ্বিতীয় অর্থমন্ত্রী দাতুক সেরি আমির হামজা আজিজান এবং দাতিন সেরি রোসমাহ মানসুরসহ বিশিষ্টজনরা।

জানাজা শেষে জাতীয় পতাকা ‘জালুর জেমিলাং’ দিয়ে মোড়ানো সিতি হাসমাহর কফিন ইউনিফর্ম পরিহিত সদস্যরা বহন করে নিয়ে যান। পরে আনুষ্ঠানিক শবযানে করে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় পুত্রজায়ার প্রিসিঙ্কট-২০ এলাকায় অবস্থিত পুসারা নেগারায়।

পুসারা নেগারায় একে একে উপস্থিত হন রাজপরিবারের সদস্য ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটে সেখানে পৌঁছান পাহাংয়ের তেংকু আম্পুয়ান তুনকু আজিজাহ আমিনাহ মাইমুনাহ ইস্কান্দারিয়াহ। তার সঙ্গে ছিলেন পাহাংয়ের তেংকু মাহকোটা তেংকু হাসানাল ইব্রাহিম আলম শাহ এবং তেংকু পুতেরি রাজা তেংকু আফজান আমিনাহ হাফিজাতুল্লাহ প্রমুখ।

এছাড়া সিতি হাসমাহর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান- পেনাংয়ের গভর্নর তুন রামলি নঘা তালিব, কেদাহর রাজা মুদা তেংকু সারাফুদ্দিন বদলিশাহ সুলতান সালেহউদ্দিন এবং নারী, পরিবার ও সমাজ উন্নয়নমন্ত্রী দাতুক সেরি ন্যান্সি শুকরি। সেখানে আগে উপস্থিত হন ফেডারেল টেরিটরিজবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মন্ত্রী হান্নাহ ইয়োহ ও কুয়ালালামপুরের মেয়র দাতুক ফাদলুন মাক উজুদ।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ঘোষণা করেন, দেশের জনসেবায় সিতি হাসমাহর অগ্রণী ভূমিকা ও দীর্ঘস্থায়ী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হবে।

চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা সিতি হাসমাহ মালয়েশিয়ার চিকিৎসা ইতিহাসে অগ্রগামী নারী চিকিৎসকদের অন্যতম। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। পরবর্তী সময়ে নারী, পরিবার ও জনস্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত ছিলেন।

১৯৫৬ সালে মাহাথির মোহাম্মদের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দীর্ঘ ৭০ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের সাত সন্তান মারিনা, মিরজান, মেলিন্ডা, মোখজানি, মুখরিজ, মাইজুরা ও মাজহার।

মালয়েশিয়ার রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় জীবনের দীর্ঘ সময়জুড়ে মাহাথিরের পাশে থাকা সিতি হাসমাহর মৃত্যুতে দেশটির রাজনৈতিক, সামাজিক ও রাজপরিবারের অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

পুসারা নেগারায় প্রয়াত দাতিন সেরি এন্ডন মাহমুদের কবরের পাশে সিতি হাসমাহকে সমাহিত করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাঙামাটিতে পুলিশের বিশেষ অভিযান, কিশোর-মাদক-অনলাইন জুয়ায় আটক ৩৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

‎মোঃ সোহেল রানা, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০১ পি.এম


রাঙামাটিতে পুলিশের বিশেষ অভিযান, কিশোর-মাদক-অনলাইন জুয়ায় আটক ৩৫

‎‎রাঙ্গামাটিতে কিশোর, মাদক কারবার, মাদক সেবন ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৩৫ জনকে আটক করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ২১ জন কিশোর এবং ১৪ জন মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
‎
‎সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত রাঙ্গামাটি পৌরসভার রিজার্ভ বাজার, নাপ্পিঘাটা, মসজিদ মার্কেট, শান্তিনগর, পৌরসভা এলাকা, নিউ মার্কেট ও শহীদ মিনার এলাকায় এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
‎
‎রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএমের নির্দেশনায় কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জসীম উদ্দীনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি আভিযানিক দল অভিযানটি পরিচালনা করে।
‎
‎পুলিশ জানায়, অভিযানে আটক ২১ কিশোরের বিষয়ে তাদের পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজন সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে থানার রেকর্ডপত্র ও সিডিএমএস যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই শেষে ১৯ কিশোরের কাছ থেকে মুচলেকা গ্রহণ করে তাদের পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কোতয়ালী থানায় জিডি নং-১৫৫৮, তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি. করা হয়েছে।
‎
‎অন্যদিকে, মাদক কারবার ও মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত ১৬ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরে তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।
‎
‎রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র, কিশোর গ্যাংসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে কারাভোগ শেষে বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরলেন ২ তরুণী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০১ পি.এম


ভারতে কারাভোগ শেষে বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরলেন ২ তরুণী

ভারতে কারাভোগ শেষে পাচার হওয়া দুই বাংলাদেশি তরুণী বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভারতীয় পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এ সময় বিএসএফ ও বিজিবি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ফেরত আসা তরুণীদের মধ্যে ঝর্ণা আক্তার এবং রিমা খাতুন রয়েছেন। এই দুই তরুণীর বয়স যথাক্রমে ১৯ ও ২০ বছর এবং তারা ময়মনসিংহ ও খুলনা জেলার বাসিন্দা।

ঝর্ণা আক্তার জানান, তারা দুই বছর আগে দালালের খপ্পড়ে পড়ে সাতক্ষীরা সীমান্তপথ দিয়ে অবৈধভাবে ভারতের মহারাষ্ট্রে গিয়েছিলেন, যেখানে তারা একটি বিউটি পার্লারে কাজ করতেন। পরে তাদের পুলিশ আটক করে আদালতে পাঠায়। অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আদালত তাদের এক বছরের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠায়। কারাভোগ শেষে, ভারতের মন্ডুয়া গার্লস হোম নামে একটি সংস্থা তাদের শেল্টার হোমে রাখে।

ভারত সরকারের দেওয়া বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে এবং উভয় দেশের দূতাবাসের সহযোগিতায় সোমবার সন্ধ্যায় তারা দেশে ফেরেন।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি সাইফুর রহমান জানান, ভারত ফেরত দুই তরুণীকে ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার তাদের গ্রহণ করে নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%