ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মাহাথিরের ৭০ বছরের সঙ্গী সিতি হাসমাহর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা


মাহাথিরের ৭০ বছরের সঙ্গী সিতি হাসমাহর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা

শত বছরের জীবন থামল। মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী তুন ড. মাহাথির মোহাম্মদকে একা করে চিরবিদায় নিলেন তার জীবনসঙ্গী তুন ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলী, দীর্ঘ ৭০ বছরের দাম্পত্যের অবসানে। সোমবার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হয়েছে মালয়েশিয়ার জনজীবনের অন্যতম পরিচিত এই নারীকে। শ্রদ্ধা জানাতে মসজিদ থেকে পুত্রজায়ার পুসারা নেগারা পর্যন্ত জড়ো হন রাজপরিবারের সদস্য, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, রাজনীতিক, সামরিক কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষ।

সোমবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে (আইজেএন) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০০ বছর বয়সে মারা যান সিতি হাসমাহ। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন ছেলে তান শ্রী মোখজানি মাহাথির। মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে শোকের আবহ নেমে আসে।

দুপুরে তামান সুংগাই বেসির মসজিদ আস-শরিফে নেওয়া হয় তার মরদেহ। বেলা ১টা ১৫ মিনিট থেকে সেখানে স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও বিশিষ্টজনদের ভিড় বাড়তে থাকে। বেলা ৩টার আগে মরদেহ পৌঁছানোর পর মানুষের ঢল নামে। মসজিদের মূল নামাজের কক্ষ পূর্ণ হয়ে গেলে ভিড় ছড়িয়ে পড়ে বারান্দা ও প্রবেশপথ পর্যন্ত। বিপুল জনসমাগমের কারণে আশপাশের সড়কে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয় ট্রাফিক পুলিশ।

আরও পড়ুন: বিশ্বের শীর্ষ ১০ ব্যাংকের তালিকা: চীনের চার ব্যাংক শীর্ষে

মরদেহ বহনকারী শবযানের সঙ্গে পৃথক গাড়িতে মসজিদে পৌঁছান মাহাথির মোহাম্মদ। সাত দশকেরও বেশি সময়ের জীবনসঙ্গীকে শেষ বিদায় জানাতে এ সময় তার পাশে ছিলেন পরিবারের সদস্যরা।

মসজিদ আস-শরিফেই সম্পন্ন হয় সিতি হাসমাহর গোসল, কাফন ও জনসাধারণের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা। বিপুল মুসল্লির উপস্থিতির কারণে আসরের নামাজ দুই দফায় আদায় করা হয়। এরপর অনুষ্ঠিত হয় জানাজা।

বিকাল ৪টার দিকে জানাজায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম ও তার স্ত্রী দাতুক সেরি ড. ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন- মেলাকার ইয়াং দি-পেরতুয়া নেগেরি তুন মোহাম্মদ আলী মোহাম্মদ রুস্তাম, উপপ্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি ফাদিল্লাহ ইউসুফ, যোগাযোগমন্ত্রী দাতুক সেরি ফাহমি ফাদজিল, স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাতুক সেরি ড. জুলকেফলি আহমাদসহ মন্ত্রিসভার সদস্য ও সাবেক শীর্ষ নেতারা।

আরও পড়ুন: ফ্রান্সে বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতায় গ্রেপ্তার ১ হাজার ৮০০ ছাড়িয়েছে

শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী তান সেরি মুহিউদ্দিন ইয়াসিন, বেরসাতুর মহাসচিব দাতুক সেরি মোহাম্মদ আজমিন আলী, মুয়ারের সংসদ সদস্য সিয়েদ সাদ্দিক সিয়েদ আবদুল রহমান, রয়্যাল মালয়েশিয়ান নেভির প্রধান অ্যাডমিরাল তান সেরি জুলহেলমি ইথনাইন, দ্বিতীয় অর্থমন্ত্রী দাতুক সেরি আমির হামজা আজিজান এবং দাতিন সেরি রোসমাহ মানসুরসহ বিশিষ্টজনরা।

জানাজা শেষে জাতীয় পতাকা ‘জালুর জেমিলাং’ দিয়ে মোড়ানো সিতি হাসমাহর কফিন ইউনিফর্ম পরিহিত সদস্যরা বহন করে নিয়ে যান। পরে আনুষ্ঠানিক শবযানে করে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় পুত্রজায়ার প্রিসিঙ্কট-২০ এলাকায় অবস্থিত পুসারা নেগারায়।

পুসারা নেগারায় একে একে উপস্থিত হন রাজপরিবারের সদস্য ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটে সেখানে পৌঁছান পাহাংয়ের তেংকু আম্পুয়ান তুনকু আজিজাহ আমিনাহ মাইমুনাহ ইস্কান্দারিয়াহ। তার সঙ্গে ছিলেন পাহাংয়ের তেংকু মাহকোটা তেংকু হাসানাল ইব্রাহিম আলম শাহ এবং তেংকু পুতেরি রাজা তেংকু আফজান আমিনাহ হাফিজাতুল্লাহ প্রমুখ।

এছাড়া সিতি হাসমাহর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান- পেনাংয়ের গভর্নর তুন রামলি নঘা তালিব, কেদাহর রাজা মুদা তেংকু সারাফুদ্দিন বদলিশাহ সুলতান সালেহউদ্দিন এবং নারী, পরিবার ও সমাজ উন্নয়নমন্ত্রী দাতুক সেরি ন্যান্সি শুকরি। সেখানে আগে উপস্থিত হন ফেডারেল টেরিটরিজবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মন্ত্রী হান্নাহ ইয়োহ ও কুয়ালালামপুরের মেয়র দাতুক ফাদলুন মাক উজুদ।

আরও পড়ুন: রাশিয়ার দাবি: ইউক্রেনের ১২৬টি ড্রোন ভূপাতিত

এর আগে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ঘোষণা করেন, দেশের জনসেবায় সিতি হাসমাহর অগ্রণী ভূমিকা ও দীর্ঘস্থায়ী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হবে।

চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা সিতি হাসমাহ মালয়েশিয়ার চিকিৎসা ইতিহাসে অগ্রগামী নারী চিকিৎসকদের অন্যতম। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। পরবর্তী সময়ে নারী, পরিবার ও জনস্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত ছিলেন।

১৯৫৬ সালে মাহাথির মোহাম্মদের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দীর্ঘ ৭০ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের সাত সন্তান মারিনা, মিরজান, মেলিন্ডা, মোখজানি, মুখরিজ, মাইজুরা ও মাজহার।

মালয়েশিয়ার রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় জীবনের দীর্ঘ সময়জুড়ে মাহাথিরের পাশে থাকা সিতি হাসমাহর মৃত্যুতে দেশটির রাজনৈতিক, সামাজিক ও রাজপরিবারের অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

আরও পড়ুন: এইচ-১বি ভিসা বিতর্কে মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন জেডি ভ্যান্স

পুসারা নেগারায় প্রয়াত দাতিন সেরি এন্ডন মাহমুদের কবরের পাশে সিতি হাসমাহকে সমাহিত করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাঙামাটিতে পুলিশের বিশেষ অভিযান, কিশোর-মাদক-অনলাইন জুয়ায় আটক ৩৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

‎মোঃ সোহেল রানা, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০১ পি.এম


রাঙামাটিতে পুলিশের বিশেষ অভিযান, কিশোর-মাদক-অনলাইন জুয়ায় আটক ৩৫

‎‎রাঙ্গামাটিতে কিশোর, মাদক কারবার, মাদক সেবন ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৩৫ জনকে আটক করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ২১ জন কিশোর এবং ১৪ জন মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
‎
‎সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত রাঙ্গামাটি পৌরসভার রিজার্ভ বাজার, নাপ্পিঘাটা, মসজিদ মার্কেট, শান্তিনগর, পৌরসভা এলাকা, নিউ মার্কেট ও শহীদ মিনার এলাকায় এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
‎
‎রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএমের নির্দেশনায় কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জসীম উদ্দীনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি আভিযানিক দল অভিযানটি পরিচালনা করে।
‎
‎পুলিশ জানায়, অভিযানে আটক ২১ কিশোরের বিষয়ে তাদের পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজন সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে থানার রেকর্ডপত্র ও সিডিএমএস যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই শেষে ১৯ কিশোরের কাছ থেকে মুচলেকা গ্রহণ করে তাদের পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কোতয়ালী থানায় জিডি নং-১৫৫৮, তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি. করা হয়েছে।
‎
‎অন্যদিকে, মাদক কারবার ও মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত ১৬ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরে তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।
‎
‎রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র, কিশোর গ্যাংসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে কারাভোগ শেষে বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরলেন ২ তরুণী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০১ পি.এম


ভারতে কারাভোগ শেষে বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরলেন ২ তরুণী

ভারতে কারাভোগ শেষে পাচার হওয়া দুই বাংলাদেশি তরুণী বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভারতীয় পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এ সময় বিএসএফ ও বিজিবি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ফেরত আসা তরুণীদের মধ্যে ঝর্ণা আক্তার এবং রিমা খাতুন রয়েছেন। এই দুই তরুণীর বয়স যথাক্রমে ১৯ ও ২০ বছর এবং তারা ময়মনসিংহ ও খুলনা জেলার বাসিন্দা।

ঝর্ণা আক্তার জানান, তারা দুই বছর আগে দালালের খপ্পড়ে পড়ে সাতক্ষীরা সীমান্তপথ দিয়ে অবৈধভাবে ভারতের মহারাষ্ট্রে গিয়েছিলেন, যেখানে তারা একটি বিউটি পার্লারে কাজ করতেন। পরে তাদের পুলিশ আটক করে আদালতে পাঠায়। অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আদালত তাদের এক বছরের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠায়। কারাভোগ শেষে, ভারতের মন্ডুয়া গার্লস হোম নামে একটি সংস্থা তাদের শেল্টার হোমে রাখে।

ভারত সরকারের দেওয়া বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে এবং উভয় দেশের দূতাবাসের সহযোগিতায় সোমবার সন্ধ্যায় তারা দেশে ফেরেন।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি সাইফুর রহমান জানান, ভারত ফেরত দুই তরুণীকে ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার তাদের গ্রহণ করে নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বাতানিয়াপাড়া জামদানি শাড়ির কারখানায় পরিদর্শন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০২ পি.এম


ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বাতানিয়াপাড়া জামদানি শাড়ির কারখানায় পরিদর্শন

তাঁতের খটখট শব্দের মধ্যে সুতোয় সুতোয় নকশা ফুটে উঠছে। দক্ষ হাতের নিপুণ কারুকাজের মাধ্যমে ধীরে ধীরে জামদানি শাড়ির সৌন্দর্য প্রকাশ পাচ্ছে। নেত্রকোনার কলমাকান্দার প্রত্যন্ত রংছাতি ইউনিয়নের বাতানিয়াপাড়ায় বর্তমানে এই তাঁতের ছন্দে নতুন সম্ভাবনার গল্প বোনা হচ্ছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাতানিয়াপাড়ার জামদানি শাড়ি তৈরির কারখানায় গিয়ে কর্মচাঞ্চল্য প্রত্যক্ষ করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি। কারখানার অভ্যন্তরে প্রবেশ করে তিনি জামদানি তৈরির বিভিন্ন ধাপ পরিদর্শন করেন। কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে তিনি তাঁদের কাজ, উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন বাস্তবতার বিষয়ে জানতে চান।

একটি জামদানি শাড়ি তৈরি করা কেবল সুতো ও তাঁতের কাজ নয়; এর পেছনে রয়েছে কারিগরের দীর্ঘ সময়ের শ্রম, ধৈর্য এবং দক্ষতা। একটি নকশা ফুটিয়ে তুলতে তাঁতিদের একাগ্রতা ও সূক্ষ্ম কাজের প্রয়োজন হয়। বাতানিয়াপাড়ার কারিগরদের হাতে ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি যেন নতুন ঠিকানা খুঁজে পেয়েছে।

এই প্রত্যন্ত এলাকায় জামদানি তৈরির উদ্যোগটি শুধুমাত্র একটি কারখানা নয়; এটি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান এবং আত্মনির্ভরতার সম্ভাবনাও তৈরি করছে। বিশেষ করে দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নারীদেরও এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন নকশা তৈরি এবং পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ করা গেলে এই ছোট উদ্যোগটি বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় রূপ নিতে পারে।

তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি বাস্তবতার নানা চ্যালেঞ্জও রয়েছে। কাঁচামালের মূল্য, দক্ষ কারিগর ধরে রাখা, উৎপাদন খরচ এবং বাজারজাতকরণ-সবকিছু মিলিয়ে টিকে থাকা সহজ নয়। স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ, সহজ অর্থায়ন, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং দেশের বিভিন্ন বাজারে পণ্য পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করা গেলে এ শিল্প আরও এগিয়ে যেতে পারে।

ডেপুটি স্পিকারের কারখানা পরিদর্শন স্থানীয়দের কাছে কেবল একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির আগমন নয়; এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকার একটি সম্ভাবনাময় হস্তশিল্পের দিকও সামনে এসেছে। বাতানিয়াপাড়ার তাঁতের ছন্দে যদি প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও বাজারের সংযোগ যুক্ত হয়, তাহলে এখানকার জামদানি একদিন কলমাকান্দার পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠতে পারে-এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এন. এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামছুজ্জামান আসিফ, কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা, রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান পাঠান বাবুল, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ আর নাজিম, রংছাতি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রুকন পাঠানসহ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বাতানিয়াপাড়ার তাঁতের প্রতিটি টানে তাই শুধু একটি শাড়ি তৈরি হচ্ছে না; বোনা হচ্ছে শ্রম, দক্ষতা এবং সম্ভাবনার এক নতুন গল্প।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মফস্বলে জ্ঞানচর্চার নতুন দৃষ্টান্ত, নকলায় তরুণদের বুদ্ধিবৃত্তিক আড্ডা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০৫ পি.এম


মফস্বলে জ্ঞানচর্চার নতুন দৃষ্টান্ত, নকলায় তরুণদের বুদ্ধিবৃত্তিক আড্ডা

 

শেরপুরের নকলা উপজেলার চরঅষ্টধর ইউনিয়নের নারায়নখোলা এলাকায় একদল উদ্যমী তরুণের উদ্যোগে নিয়মিত আয়োজন করা হচ্ছে ব্যতিক্রমধর্মী সাপ্তাহিক বুদ্ধিবৃত্তিক আড্ডা। গল্পের ছলে বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ায় এ আয়োজন শিক্ষিত সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দৃষ্টি কাড়ছে।

এমন একটি সুন্দর দিন কাটলো রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর)। এদিন বিকেলে নারায়নখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত আড্ডার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘মুক্তিযুদ্ধ ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে চরঅষ্টধরের ভূমিকা’। আলোচনায় স্থানীয় ইতিহাসের পাশাপাশি স্বাধীনতা সংগ্রাম, শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে প্রতিবন্ধকতা এবং উত্তরণে করণীয় নিয়েও মতবিনিময় হয়।

শেরপুর জজকোর্টের স্টাফ ফখরুল আমিন সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন নারায়নখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম জাকারিয়া, প্রভাষক তারেক আহসান ও প্রভাষক আরিফ আল হাসান বক্তব্য রাখেন।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহজাহান, ব্যাংক কর্মকর্তা রাকিব রনি এবং আমন্ত্রিত অন্যান্য অংশগ্রহণকারীরা। প্রশ্নোত্তর ও মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন এবং নতুন তথ্য জানার সুযোগ পান।

আয়োজকরা জানান, প্রতি সপ্তাহে দুই থেকে তিনজন শিক্ষক, গবেষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা বা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তাঁরা নির্ধারিত বিষয়ে আলোচনা করেন, আর উপস্থিতরা প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে বিষয়গুলো নিয়ে গভীরভাবে জানার সুযোগ পান।

আয়োজকদের আশা, জ্ঞানপিপাসু তরুণদের এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন মফস্বলে জ্ঞানচর্চার একটি অনুকরণীয় মডেল হয়ে উঠবে। তাঁদের ভাষায়, ‘ছোট ছোট উদ্যোগই একদিন বড় পরিবর্তনের পথ তৈরি করে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%