সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:০১ পি.এম
ভারতে কারাভোগ শেষে পাচার হওয়া দুই বাংলাদেশি তরুণী বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভারতীয় পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এ সময় বিএসএফ ও বিজিবি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ফেরত আসা তরুণীদের মধ্যে ঝর্ণা আক্তার এবং রিমা খাতুন রয়েছেন। এই দুই তরুণীর বয়স যথাক্রমে ১৯ ও ২০ বছর এবং তারা ময়মনসিংহ ও খুলনা জেলার বাসিন্দা।
ঝর্ণা আক্তার জানান, তারা দুই বছর আগে দালালের খপ্পড়ে পড়ে সাতক্ষীরা সীমান্তপথ দিয়ে অবৈধভাবে ভারতের মহারাষ্ট্রে গিয়েছিলেন, যেখানে তারা একটি বিউটি পার্লারে কাজ করতেন। পরে তাদের পুলিশ আটক করে আদালতে পাঠায়। অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আদালত তাদের এক বছরের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠায়। কারাভোগ শেষে, ভারতের মন্ডুয়া গার্লস হোম নামে একটি সংস্থা তাদের শেল্টার হোমে রাখে।
ভারত সরকারের দেওয়া বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে এবং উভয় দেশের দূতাবাসের সহযোগিতায় সোমবার সন্ধ্যায় তারা দেশে ফেরেন।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি সাইফুর রহমান জানান, ভারত ফেরত দুই তরুণীকে ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার তাদের গ্রহণ করে নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তাঁতের খটখট শব্দের মধ্যে সুতোয় সুতোয় নকশা ফুটে উঠছে। দক্ষ হাতের নিপুণ কারুকাজের মাধ্যমে ধীরে ধীরে জামদানি শাড়ির সৌন্দর্য প্রকাশ পাচ্ছে। নেত্রকোনার কলমাকান্দার প্রত্যন্ত রংছাতি ইউনিয়নের বাতানিয়াপাড়ায় বর্তমানে এই তাঁতের ছন্দে নতুন সম্ভাবনার গল্প বোনা হচ্ছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাতানিয়াপাড়ার জামদানি শাড়ি তৈরির কারখানায় গিয়ে কর্মচাঞ্চল্য প্রত্যক্ষ করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি। কারখানার অভ্যন্তরে প্রবেশ করে তিনি জামদানি তৈরির বিভিন্ন ধাপ পরিদর্শন করেন। কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে তিনি তাঁদের কাজ, উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন বাস্তবতার বিষয়ে জানতে চান।
একটি জামদানি শাড়ি তৈরি করা কেবল সুতো ও তাঁতের কাজ নয়; এর পেছনে রয়েছে কারিগরের দীর্ঘ সময়ের শ্রম, ধৈর্য এবং দক্ষতা। একটি নকশা ফুটিয়ে তুলতে তাঁতিদের একাগ্রতা ও সূক্ষ্ম কাজের প্রয়োজন হয়। বাতানিয়াপাড়ার কারিগরদের হাতে ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি যেন নতুন ঠিকানা খুঁজে পেয়েছে।
এই প্রত্যন্ত এলাকায় জামদানি তৈরির উদ্যোগটি শুধুমাত্র একটি কারখানা নয়; এটি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান এবং আত্মনির্ভরতার সম্ভাবনাও তৈরি করছে। বিশেষ করে দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নারীদেরও এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন নকশা তৈরি এবং পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ করা গেলে এই ছোট উদ্যোগটি বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় রূপ নিতে পারে।
তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি বাস্তবতার নানা চ্যালেঞ্জও রয়েছে। কাঁচামালের মূল্য, দক্ষ কারিগর ধরে রাখা, উৎপাদন খরচ এবং বাজারজাতকরণ-সবকিছু মিলিয়ে টিকে থাকা সহজ নয়। স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ, সহজ অর্থায়ন, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং দেশের বিভিন্ন বাজারে পণ্য পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করা গেলে এ শিল্প আরও এগিয়ে যেতে পারে।
ডেপুটি স্পিকারের কারখানা পরিদর্শন স্থানীয়দের কাছে কেবল একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির আগমন নয়; এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকার একটি সম্ভাবনাময় হস্তশিল্পের দিকও সামনে এসেছে। বাতানিয়াপাড়ার তাঁতের ছন্দে যদি প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও বাজারের সংযোগ যুক্ত হয়, তাহলে এখানকার জামদানি একদিন কলমাকান্দার পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠতে পারে-এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এন. এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামছুজ্জামান আসিফ, কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা, রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান পাঠান বাবুল, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ আর নাজিম, রংছাতি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রুকন পাঠানসহ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বাতানিয়াপাড়ার তাঁতের প্রতিটি টানে তাই শুধু একটি শাড়ি তৈরি হচ্ছে না; বোনা হচ্ছে শ্রম, দক্ষতা এবং সম্ভাবনার এক নতুন গল্প।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেরপুরের নকলা উপজেলার চরঅষ্টধর ইউনিয়নের নারায়নখোলা এলাকায় একদল উদ্যমী তরুণের উদ্যোগে নিয়মিত আয়োজন করা হচ্ছে ব্যতিক্রমধর্মী সাপ্তাহিক বুদ্ধিবৃত্তিক আড্ডা। গল্পের ছলে বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ায় এ আয়োজন শিক্ষিত সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দৃষ্টি কাড়ছে।
এমন একটি সুন্দর দিন কাটলো রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর)। এদিন বিকেলে নারায়নখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত আড্ডার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘মুক্তিযুদ্ধ ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে চরঅষ্টধরের ভূমিকা’। আলোচনায় স্থানীয় ইতিহাসের পাশাপাশি স্বাধীনতা সংগ্রাম, শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে প্রতিবন্ধকতা এবং উত্তরণে করণীয় নিয়েও মতবিনিময় হয়।
শেরপুর জজকোর্টের স্টাফ ফখরুল আমিন সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন নারায়নখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম জাকারিয়া, প্রভাষক তারেক আহসান ও প্রভাষক আরিফ আল হাসান বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহজাহান, ব্যাংক কর্মকর্তা রাকিব রনি এবং আমন্ত্রিত অন্যান্য অংশগ্রহণকারীরা। প্রশ্নোত্তর ও মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন এবং নতুন তথ্য জানার সুযোগ পান।
আয়োজকরা জানান, প্রতি সপ্তাহে দুই থেকে তিনজন শিক্ষক, গবেষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা বা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তাঁরা নির্ধারিত বিষয়ে আলোচনা করেন, আর উপস্থিতরা প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে বিষয়গুলো নিয়ে গভীরভাবে জানার সুযোগ পান।
আয়োজকদের আশা, জ্ঞানপিপাসু তরুণদের এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন মফস্বলে জ্ঞানচর্চার একটি অনুকরণীয় মডেল হয়ে উঠবে। তাঁদের ভাষায়, ‘ছোট ছোট উদ্যোগই একদিন বড় পরিবর্তনের পথ তৈরি করে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যবসায়ী পর্যায়ে (বিটুবি) বৈঠক আয়োজন এবং বাণিজ্য মেলায় পারস্পরিক অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে ঢাকা ও ইসলামাবাদ।
এই উদ্দেশ্যে, দুই দেশের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
আজ সোমবার রাজধানীতে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) কার্যালয়ে সংগঠনটির সভাপতি কামরান টি. রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
পাকিস্তান হাইকমিশনের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে, ওষুধ, তাজা ফলমূল ও শাকসবজি, পাট, অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম এবং সিরামিকসহ বিভিন্ন খাতে দুই দেশের বাণিজ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এছাড়া, পাকিস্তানের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির প্রশংসা করে, এই খাতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাবনাও আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে, পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলের বাণিজ্য ও শিল্প চেম্বারের সঙ্গে এমসিসিআইয়ের যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এছাড়া, উভয় দেশের বাণিজ্য মেলায় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের পারস্পরিক অংশগ্রহণের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।
এ সময়, পাকিস্তানের হাইকমিশনার আগামী ২৩ থেকে ২৬ নভেম্বর করাচিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দেশটির অন্যতম প্রধান খাদ্য ও কৃষিপণ্য প্রদর্শনী ‘ফুডঅ্যাগ ২০২৬’-এ অংশ নিতে এমসিসিআই নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠকে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়ে দুই পক্ষের আগ্রহের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ