প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশি বন্ধুর বিয়েতে অংশ নিতে মালয়েশিয়া থেকে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে এসে স্থানীয় মানুষের আন্তরিকতা, গ্রামীণ পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধতার কথা জানিয়েছেন চার মালয়েশীয় নাগরিক।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তারা শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখীপুর থানার চরভাগা ইউনিয়নের মৃধাকান্দি গ্রামে বন্ধু নাজমুল মৃধার বাড়িতে যান। এরপর সেখান থেকে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে কনের বাড়িতে চলে যান।
এর আগে মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান সি সিমার এন্টারপ্রাইজের মালিকসহ চার মালয়েশীয় নাগরিক।
জানা গেছে, মৃধাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা নাজমুল মৃধা প্রায় ১৬ বছর আগে জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। দীর্ঘদিন কাজ করার পর গত ১০ বছর ধরে তিনি সি সিমার এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে যুক্ত আছেন। কর্মদক্ষতা, সততা ও ভালো আচরণের কারণে প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও সহকর্মীদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
সম্প্রতি দেশে ফিরে একই গ্রামের জান্নাত আক্তারের সঙ্গে তার বিয়ের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়। রোববার অনুষ্ঠিত ওই বিয়েতে মালয়েশিয়ার বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আমন্ত্রণ জানান নাজমুল। সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে চার মালয়েশীয় নাগরিক বাংলাদেশে এসে অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
মালয়েশীয় নাগরিক ইসমাঈল বলেন, "বন্ধু নাজমুল যখন আমাকে তার বিয়েতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানায়, তখনই রাজি হয়ে যাই। তার কাছ থেকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে অনেক কিছু শুনেছি। তাই তার বিয়েতে সরাসরি অংশ নেওয়ার আগ্রহ ছিল। এই সফরের মাধ্যমে আমাদের বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।"
আরেক মালয়েশীয় নাগরিক জেসু বলেন, "নাজমুলের পরিবারের সদস্যরা ফুল দিয়ে আমাদের বরণ করে নিয়েছেন। তাদের আন্তরিক আতিথেয়তা এবং বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করেছে। দেশে ফিরে গেলেও আবার বাংলাদেশে আসতে চাই।"
বন্ধুদের আগমনে উচ্ছ্বসিত নাজমুল মৃধা বলেন, "প্রবাসজীবনে সততা, কর্মদক্ষতা ও ভালো আচরণ থাকলে মানুষের আস্থা অর্জন করা যায়। মালয়েশিয়ায় যাদের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে, তাদের মধ্যে সি সিমার এন্টারপ্রাইজের মালিক অন্যতম। বর্তমানে আমরা একসঙ্গে ব্যবসাও করছি। আমার বিয়েতে তারা এসেছেন, এটি আমার জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয়।"
তিনি আরও বলেন, "প্রবাসে যারা আছেন, তারা যেন সব সময় সততা ও আদর্শের সঙ্গে কাজ করেন। আমাদের নীতি-আদর্শ ভালো হলে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করা সম্ভব। এতে বাংলাদেশের মানুষেরই লাভ হবে।"
কনে জান্নাত আক্তার বলেন, "তারা আমাদের বিয়েতে এসেছেন দেখে খুব ভালো লাগছে। গ্রামের মানুষও তাদের দেখতে ও কথা বলতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বিদেশি অতিথিরা আমাদের বিয়েতে আসায় আমাদের আনন্দ আরও বেড়ে গেছে।"
এদিকে চার মালয়েশীয় নাগরিকের উপস্থিতি ঘিরে বিয়ের অনুষ্ঠানে স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল দেখা যায়। তাদের একনজর দেখতে ও ছবি তুলতে নাজমুলের বাড়িতে ভিড় করেন আশপাশের অনেক মানুষ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন