ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এ কেমন সু-খবর! ফকিরহাটে শব্দদূষণের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ


এ কেমন সু-খবর! ফকিরহাটে শব্দদূষণের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

‘সু-খবর, সু-খবর, সু-খবর...’। প্রতিদিন ফকিরহাট উপজেলার বাসিন্দাদের ঘুম ভাঙে মাইকের উচ্চ শব্দে। কখনো বেসরকারি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার সুখবর, কখনো ভর্তি কোচিং, দোকান, হোটেল ও শোরুম উদ্বোধনের প্রচার। এ ছাড়া বিভিন্ন পণ্যের অফার, কম দামে ডিম-মুরগিসহ বিভিন্ন পণ্যের প্রচারে চলছে মাইকিং। সকাল থেকে সন্ধ্যা, কোথাও আবার রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে মাইকিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এলাকার মানুষ।

প্রতিদিন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রচারের নামে শব্দদূষণের কারণে বিপাকে পড়েছেন রোগী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। ‘সু-খবরের’ নামে শব্দদূষণের চাপ ক্রমশ বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ভোর হলেই বিভিন্ন স্থানে মাইকিং শুরু হয়ে যায়। বিশেষ করে বেসরকারি ক্লিনিকে ডাক্তারদের প্রচার, কোচিং সেন্টারের ভর্তি ও ভ্রাম্যমাণ দোকানে পণ্যের বিজ্ঞাপনে উচ্চ শব্দে মাইক বাজানো হয়। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে এবং অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষও দুর্ভোগে পড়ছেন।

আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে টাঙ্গুয়ার হাওরে বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত

জানা গেছে, এই উপজেলায় প্রায় ১৫টি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা আসেন। রোগীদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাইকিংয়ের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তি জানান, মাইকিংয়ের জন্য তাদের দৈনিক ১ হাজার টাকা দেওয়া হয়। সকাল ৭টা থেকে রাত পর্যন্ত ভ্যান ও ইজিবাইকে একাধিক মাইক লাগিয়ে তারা প্রচার করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন কোচিং সেন্টার ও শোরুমের প্রচারেও উচ্চ শব্দে মাইকিং চলে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তানভির হাসান অনিক বলেন, সাধারণত মানুষের শ্রবণের জন্য শব্দের ৪৫ ডেসিবেল হচ্ছে সহনীয় মাত্রা। তবে এটি ৬৫ থেকে ৭০ ডেসিবেল অতিক্রম করলে তা ক্ষতিকর এবং ১৩০ ডেসিবেল হলে স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি হারানোর ভয় থাকে।

ফকিরহাট উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রতিনিয়ত যে হারে মাইকিং করা হয়, তাতে শব্দের মাত্রা প্রায়ই ৭০ ডেসিবেলের উপরে থাকে, যা শিশুদের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

আরও পড়ুন: ফেনীতে যুবদলের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসা নিলেন ১০০-এরও বেশি নারী-পুরুষ

১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালের সামনে মাইকিংয়ের শব্দ ৫৫ সেকেন্ড ধরে মোবাইলের সাউন্ড মিটার অ্যাপের মাধ্যমে রেকর্ড করা হয়। এতে গড় শব্দমাত্রা পাওয়া যায় ৭৮ দশমিক ১ ডেসিবেল এবং সর্বোচ্চ ১০২ দশমিক ৫ ডেসিবেল।

শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী হাসপাতাল, ক্লিনিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চারপাশের ১০০ মিটার পর্যন্ত এলাকা ‘নীরব এলাকা’ হিসেবে চিহ্নিত। এসব এলাকায় দিনের সর্বোচ্চ শব্দমাত্রা ৫০ এবং রাতে ৪০ ডেসিবেল নির্ধারণ করা হয়েছে। জনপরিসরে মাইক, লাউডস্পিকার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিমালায় বিধিনিষেধ ও শাস্তির বিধান রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রোকনুজ জামান বলেন, শব্দদূষণ রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ইতোমধ্যে লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রোগী আকৃষ্ট করতে কোনো চিকিৎসক বা ক্লিনিক মাইকিংয়ের মাধ্যমে শব্দদূষণ করতে পারবে না। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। শব্দদূষণে ভুক্তভোগী কোনো নাগরিক অভিযোগ করলে প্রচলিত আইনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: রাজশাহী নগরীতে চোরাই ল্যাপটপ ও একডজন মোবাইল ফোন সহ গ্রেফতার ২

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরিরামপুরে দুর্গম চরাঞ্চলে পদ্মার ভয়াল থাবা, পূর্বপুরুষের শেষ চিহ্নও রক্ষা হচ্ছে না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:২১ পি.এম


হরিরামপুরে দুর্গম চরাঞ্চলে পদ্মার ভয়াল থাবা, পূর্বপুরুষের শেষ চিহ্নও রক্ষা হচ্ছে না

পদ্মা ও যমুনা নদীর অববাহিকায় পানির স্তরের বৃদ্ধি ঘটার ফলে মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের দুর্গম চরাঞ্চলে ভয়াবহ নদী ভাঙ্গনের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে প্রতিদিন বসত বাড়ি এবং জমিজমা বিলীন হয়ে যাচ্ছে, ফলে হরিরামপুরের মানচিত্র ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। অনেক স্থানে পূর্বপুরুষের শেষ চিহ্ন কবরগুলোও পদ্মার পেটে চলে যাচ্ছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে হরিরামপুরের কয়েক হাজার পরিবার।

এ বিষয়ে জানা যায়, এই উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে নয়টি ইউনিয়ন পদ্মা ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। এর মধ্যে আশির দশক থেকে আজিমনগর, সুতালড়ি ও লেছড়াগঞ্জ তিনটি ইউনিয়ন সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়ে গেছে। নব্বই দশকের শেষ দিকে তিনটি ইউনিয়ন পুনরায় জেগে উঠলে সেখানে জনবসতি গড়ে ওঠে এবং কৃষি বিপ্লব শুরু হয়। প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার বিভিন্ন ফসল উৎপাদন হয় এই চরমচলের তিনটি ইউনিয়নে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ না করার কারণে প্রতিবছর এই চরাঞ্চলে ভয়াবহ ভাঙ্গনে ফসলি জমি পদ্মার পেটে চলে যাচ্ছে। লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের হরিহরদিয়া এলাকার কবির মোল্লার ছেলে জীবন মোল্লা জানান, “বাড়িঘর, জমিজমার সাথে এবার আমাদের পূর্বপুরুষের কবরটিও পদ্মা নদীর পেটে চলে গেল। চরাঞ্চলের পদ্মার তীব্র ভাঙনে বসতভিটা ও ফসলি জমির পাশাপাশি এবার বিলীন হয়েছে আমার পিতামহ (বাবার দাদা) মাঈন উদ্দীন মোল্লার কবরও।” তিনি আরও বলেন, “দেড় যুগ ধরে যে কবরটি তাঁর বাবা, চাচা ও দাদার কাছে ছিল স্মৃতি ও আবেগের জায়গা, নদীভাঙনে সেটিও এখন আর নেই।”

স্থানীয়দের দাবি, বিগত ৪-৫ বছর ধরে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে দুই হাজারের মতো বসতবাড়ি এবং হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি। তারা জানান, হরিহরদিয়া, সেলিমপুর, জয়পুর ও হালুয়াঘাটসহ আশপাশের এলাকায় ভাঙনে এ বছর শতাধিক বাড়িঘর বিলীন হয়েছে। গত ৪-৫ বছরে চরাঞ্চলের লেছড়াগঞ্জ, সুতালড়ি ও আজিমনগর ইউনিয়নে আজিমনগর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪ তলা ভবন, হাতিঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কয়েকটি স্কুল ও বাজারসহ হাজার হাজার বাড়িঘর পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে।

হরিহরদিয়া এলাকার হরিহরদিয়া কিন্ডারগার্টেনের কর্ণধার রাজিব হোসেন বলেন, “সেলিমপুর গতবছর শেষ করেছে পদ্মা। এবার বর্ষায় জয়পুরে ১৫০টির মতো বাড়ি নদীতে চলে গেছে। মানুষ ঘরবাড়ি সরিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। যারা আগে জমিজমার মালিক ছিলেন, এখন তাদের অনেকেরই থাকার জায়গা নেই।” তিনি আরও জানান, লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের পাশাপাশি ফরিদপুর সদরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নেও ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে।

হালুয়াঘাট এলাকার বাসিন্দা ফারুক হোসেন বলেন, “আমাদের ঘরবাড়ি ও জমি কয়েক বছর আগে নদীতে গেছে। এখন আবার হালুয়াহাট এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। হরিণাঘাট এলাকায় গত বছরও ভয়াবহ ভাঙন ছিল। এ বছরও শুরু হয়েছে। চরাঞ্চলে পদ্মা ভাঙন ঠেকাতে কেউ কাজ করে না।”

আজিমনগর ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামের বাসিন্দা নাসির উদ্দীন জানান, কয়েক বছরে আজিমনগর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ৪ তলা ভবনসহ তেঘাটা আশ্রম প্রকল্প বিলীন হয়ে গেছে।

লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ড সদস্য মোতালেব হোসেন বলেন, “লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ভাঙতেছে। দ্রুত বস্তা ফেলা না হলে চর থাকবেনা। খাদ্য মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা মহোদয় বিমান মন্ত্রী থাকাকালে লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের সেলিমপুর- হরিহরদিয়া ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ে ডিও লেটার দিয়েছিলেন। কিন্তু এখনো এ বিষয়ে কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি বলে শুনলাম।”

লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, “চরের মানুষ অসহায়। লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নসহ চরাঞ্চল পদ্মা ভাঙনে প্রায় শেষ হয়ে গেছে। এখন আর তেমন কিছুই নেই। ভাঙন ঠেকাতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, নটাখোলা পুলিশ ফাঁড়ি ও নটাখোলা আফরোজা উচ্চ বিদ্যালয়ও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে গুরুত্বপূর্ণ এসব স্থাপনাও নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।”

স্থানীয়রা বলছেন, চরাঞ্চলে কয়েক বছর ধরে ভাঙন অব্যাহত থাকলেও নদীতীর রক্ষায় স্থায়ী বা অস্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছরই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এতে বসতভিটা ও কৃষিজমি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন চরাঞ্চলের মানুষ।

মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান ইনকিলাবকে জানান, চরাঞ্চলের ভাঙ্গনের বিষয়টি শুনে আজ (সোমবার) মানিকগঞ্জ-২ আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত ও উপজেলা প্রশাসনসহ চরাঞ্চলের লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নে ভাঙন কবলিত এলাকা ফিজিবিলিটি স্টাডি করতে যাচ্ছি। পরিদর্শন শেষে বিস্তারিত আপনাকে জানাতে পারবো।” তিনি আরও জানান, এ ছাড়াও হরিরামপুরের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙ্গন রোধে আপদকালীন প্রকল্পে একাধিকবার জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। তবে আগামী বছরের মধ্যে এই হরিরামপুরে ১২ কিলোমিটার এরিয়া নিয়ে স্থায়ী বেরিবাঁধেরও একটা প্রক্রিয়া চলছে।

উল্লেখ্য, ৫০ দশক থেকে এ উপজেলায় অনবদ্য পদ্মা ভাঙ্গন দেখা দেয়। এর ফলে দিনে দিনে এ উপজেলার ভৌগলিক অবস্থান অনেকটাই ছোট হয়ে আসছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চন্দ্রগঞ্জ ইউপির চেয়ারম্যানের মৃত্যুতে এক মাস ধরে পদ শূন্য, দুর্ভোগে সেবাপ্রত্যাশীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:২২ পি.এম


চন্দ্রগঞ্জ ইউপির চেয়ারম্যানের মৃত্যুতে এক মাস ধরে পদ শূন্য, দুর্ভোগে সেবাপ্রত্যাশীরা

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিনের মৃত্যুতে গত এক মাস ধরে ওই পদটি শূন্য অবস্থায় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি সম্পন্ন হয়নি। প্যানেল চেয়ারম্যান গঠন নিয়েও সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে পরিষদে আসা সেবাগ্রহীতারা দুর্ভোগে পড়েছেন।

অভিযোগ উঠেছে যে, পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল হান্নান, যিনি চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক, তার পক্ষে বিএনপির সদস্যরা অন্যান্য ইউপি সদস্যদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এই কারণে প্যানেল চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য কেউ রাজি হচ্ছেন না। রাজনৈতিক চাপের কারণে সবাই এখন বিএনপিপন্থি ইউপি সদস্যকে সমর্থন দিচ্ছেন। তবুও প্যানেল চেয়ারম্যান গঠন না হওয়ায় ইউনিয়নবাসী ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই ইউপি সদস্য জানিয়েছেন, চেয়ারম্যানের পদ শূন্য থাকার কারণে ইউনিয়নবাসী পরিষদে এসে বিভিন্ন সেবা পাচ্ছেন না। জনদুর্ভোগ কমানোর জন্য দ্রুত প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচনও আটকে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে।

তথ্য অনুসন্ধান করে জানা গেছে, চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন ১৪ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর এক মাস পরেও প্রশাসক নিয়োগ হয়নি। নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবা নিতে আসা সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ শূন্য হলে প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের বিধান রয়েছে। কিন্তু সাবেক তিনজন প্যানেল চেয়ারম্যানের কেউই দায়িত্ব নিতে রাজি হচ্ছেন না। সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যানরা হলেন শফিকুল ইসলাম শিপন খলিফা, সালাহ উদ্দিন ও হাসিনা আক্তার। শিপন খলিফা চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সালাহ উদ্দিন ও হাসিনা আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। রাজনৈতিক চাপের কারণে তারা প্যানেলের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নন।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম, সালাহ উদ্দিন ও হাসিনা আক্তার কেউই অভিযোগ করেননি। প্যানেল চেয়ারম্যান নিয়ে অনীহায় রাজনৈতিক চাপ রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তারা কোনো মন্তব্য করেননি।

ইউপি সদস্য আব্দুল হান্নান বলেন, "আমি প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চাই। প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) আশরাফুল বারীসহ একটি বৈঠকে অন্যান্য ইউপি সদস্যরা আমাকে সমর্থন জানিয়েছেন। আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমাকে দায়িত্ব দেবেন।" তিনি আরও বলেন, "অন্য সদস্যরা আওয়ামী সমর্থিত ও ফ্যাসিস্টের দোসর। তাদের আর সুযোগ দেওয়া যাবে না।"

ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) আশরাফুল বারী বলেন, "একটি বৈঠকে হান্নানকে অন্যরা সমর্থন দিয়েছেন বলে শুনেছি। তবে এটি সম্পূর্ণ তাদের বিষয়।"

চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা জানান, "প্রশাসক নিয়োগ ও প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচন জেলা প্রশাসক দেবেন। জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলা প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশা করছি।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার করের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:২২ পি.এম


ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার করের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে— এমন রায় স্থগিত করার জন্য আবেদন করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) চেম্বার আদালতে এই আবেদনটি দাখিল করা হয়।

ড. ইউনূসের আইনজীবী খাজা তানভীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষ থেকে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করা হয়েছে। সোমবারই চেম্বার আদালতে এই আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে।

 

এর আগে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে নির্দেশ দেন। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ রায় প্রদান করে। আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, আগামী ৩ অর্থবছরের মধ্যে গ্রামীণ কল্যাণকে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গত ৪ অক্টোবর হাইকোর্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে এনবিআর কর্তৃক দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা দেওয়ার রায় স্বপ্রণোদিতভাবে প্রত্যাহার করে নেন। বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের বেঞ্চ এ রায় প্রত্যাহার করে। সেই সঙ্গে প্রধান বিচারপতির কাছে মামলার নথি পাঠানো হয়। পরে নতুন বেঞ্চে মামলাটি পাঠানো হয়।

পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭— এই করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রদেয় কর দাবি নিয়ে ড. ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি ২০১৭ সালে পৃথক দু’টি রিট করে। এরপর প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করে। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার নতুন বেঞ্চ রুলটি খারিজ করে। পাশাপাশি রিট খারিজ হওয়ায় আয়কর বাবদ গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে ওই অর্থ আদায় করতে এনবিআর সক্ষম হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৯ অক্টোবর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাপ্পা মজুমদারের একক কনসার্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:২৬ পি.এম


৯ অক্টোবর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাপ্পা মজুমদারের একক কনসার্ট

বাপ্পা মজুমদার তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে শ্রোতাদের সুর ও গায়কীর মায়াজালে মুগ্ধ করে রেখেছেন। যদিও তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য গান উপহার দিয়েছেন, একক কনসার্টের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। এবার প্রায় আড়াই বছর পর বড় পরিসরে একক কনসার্ট নিয়ে ফিরছেন এই নন্দিত শিল্পী।

‘মুনলাইট মেলোডিজ’ শীর্ষক কনসার্টটি আগামী ৯ অক্টোবর রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টার প্রকাশ করে নিজেই কনসার্টের ঘোষণা দিয়েছেন বাপ্পা মজুমদার। তিনি ভক্তদের তারিখটি মনে রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

কনসার্টটির আয়োজন করছে ম্যাভিক্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তবে বর্তমানে টিকিট বিক্রি শুরু হয়নি। শিগগিরই টিকিট বিক্রি শুরু হবে, তখনই জানা যাবে টিকিটের মূল্য, আসন বিন্যাস ও অন্যান্য নিয়ম-শর্ত।

বাপ্পা মজুমদারের একক কনসার্টের খবর প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গে ভক্তদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। শিল্পীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টের মন্তব্যের ঘরে অনেকেই আনন্দ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ ইতোমধ্যে কনসার্টে উপস্থিত থাকার আগ্রহও জানিয়েছেন।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বাপ্পা মজুমদার ২০২২ সালে প্রথম একক কনসার্ট করেন। এরপর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি দ্বিতীয় একক শো করেন। গত বছরের জুলাইতেও একটি একক কনসার্টে গান পরিবেশন করেন বাপ্পা, তবে সেটি ছিল তুলনামূলক ছোট পরিসরে।

এবার বড় আয়োজনের একক কনসার্টে বাপ্পা মজুমদার তাঁর জনপ্রিয় গানগুলো নিয়ে শ্রোতাদের সামনে হাজির হবেন। তিন দশকের বেশি সময় ধরে সংগীতচর্চা করা এই শিল্পী এখনো নিয়মিত নতুন গান প্রকাশ করছেন। পাশাপাশি কনসার্ট ও নানা ধরনের ইনস্ট্রুমেন্টাল পরিবেশনার মাধ্যমে শ্রোতাদের সঙ্গে তাঁর সখ্যও ধরে রেখেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%