প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিনের মৃত্যুতে গত এক মাস ধরে ওই পদটি শূন্য অবস্থায় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি সম্পন্ন হয়নি। প্যানেল চেয়ারম্যান গঠন নিয়েও সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে পরিষদে আসা সেবাগ্রহীতারা দুর্ভোগে পড়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে যে, পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল হান্নান, যিনি চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক, তার পক্ষে বিএনপির সদস্যরা অন্যান্য ইউপি সদস্যদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এই কারণে প্যানেল চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য কেউ রাজি হচ্ছেন না। রাজনৈতিক চাপের কারণে সবাই এখন বিএনপিপন্থি ইউপি সদস্যকে সমর্থন দিচ্ছেন। তবুও প্যানেল চেয়ারম্যান গঠন না হওয়ায় ইউনিয়নবাসী ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই ইউপি সদস্য জানিয়েছেন, চেয়ারম্যানের পদ শূন্য থাকার কারণে ইউনিয়নবাসী পরিষদে এসে বিভিন্ন সেবা পাচ্ছেন না। জনদুর্ভোগ কমানোর জন্য দ্রুত প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচনও আটকে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে।
তথ্য অনুসন্ধান করে জানা গেছে, চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন ১৪ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর এক মাস পরেও প্রশাসক নিয়োগ হয়নি। নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবা নিতে আসা সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ শূন্য হলে প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের বিধান রয়েছে। কিন্তু সাবেক তিনজন প্যানেল চেয়ারম্যানের কেউই দায়িত্ব নিতে রাজি হচ্ছেন না। সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যানরা হলেন শফিকুল ইসলাম শিপন খলিফা, সালাহ উদ্দিন ও হাসিনা আক্তার। শিপন খলিফা চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সালাহ উদ্দিন ও হাসিনা আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। রাজনৈতিক চাপের কারণে তারা প্যানেলের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নন।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম, সালাহ উদ্দিন ও হাসিনা আক্তার কেউই অভিযোগ করেননি। প্যানেল চেয়ারম্যান নিয়ে অনীহায় রাজনৈতিক চাপ রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তারা কোনো মন্তব্য করেননি।
ইউপি সদস্য আব্দুল হান্নান বলেন, "আমি প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চাই। প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) আশরাফুল বারীসহ একটি বৈঠকে অন্যান্য ইউপি সদস্যরা আমাকে সমর্থন জানিয়েছেন। আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমাকে দায়িত্ব দেবেন।" তিনি আরও বলেন, "অন্য সদস্যরা আওয়ামী সমর্থিত ও ফ্যাসিস্টের দোসর। তাদের আর সুযোগ দেওয়া যাবে না।"
ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) আশরাফুল বারী বলেন, "একটি বৈঠকে হান্নানকে অন্যরা সমর্থন দিয়েছেন বলে শুনেছি। তবে এটি সম্পূর্ণ তাদের বিষয়।"
চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা জানান, "প্রশাসক নিয়োগ ও প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচন জেলা প্রশাসক দেবেন। জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলা প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশা করছি।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন