সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:২২ পি.এম
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিনের মৃত্যুতে গত এক মাস ধরে ওই পদটি শূন্য অবস্থায় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি সম্পন্ন হয়নি। প্যানেল চেয়ারম্যান গঠন নিয়েও সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে পরিষদে আসা সেবাগ্রহীতারা দুর্ভোগে পড়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে যে, পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল হান্নান, যিনি চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক, তার পক্ষে বিএনপির সদস্যরা অন্যান্য ইউপি সদস্যদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এই কারণে প্যানেল চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য কেউ রাজি হচ্ছেন না। রাজনৈতিক চাপের কারণে সবাই এখন বিএনপিপন্থি ইউপি সদস্যকে সমর্থন দিচ্ছেন। তবুও প্যানেল চেয়ারম্যান গঠন না হওয়ায় ইউনিয়নবাসী ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই ইউপি সদস্য জানিয়েছেন, চেয়ারম্যানের পদ শূন্য থাকার কারণে ইউনিয়নবাসী পরিষদে এসে বিভিন্ন সেবা পাচ্ছেন না। জনদুর্ভোগ কমানোর জন্য দ্রুত প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচনও আটকে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে।
তথ্য অনুসন্ধান করে জানা গেছে, চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন ১৪ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর এক মাস পরেও প্রশাসক নিয়োগ হয়নি। নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবা নিতে আসা সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ শূন্য হলে প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের বিধান রয়েছে। কিন্তু সাবেক তিনজন প্যানেল চেয়ারম্যানের কেউই দায়িত্ব নিতে রাজি হচ্ছেন না। সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যানরা হলেন শফিকুল ইসলাম শিপন খলিফা, সালাহ উদ্দিন ও হাসিনা আক্তার। শিপন খলিফা চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সালাহ উদ্দিন ও হাসিনা আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। রাজনৈতিক চাপের কারণে তারা প্যানেলের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নন।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম, সালাহ উদ্দিন ও হাসিনা আক্তার কেউই অভিযোগ করেননি। প্যানেল চেয়ারম্যান নিয়ে অনীহায় রাজনৈতিক চাপ রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তারা কোনো মন্তব্য করেননি।
ইউপি সদস্য আব্দুল হান্নান বলেন, "আমি প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চাই। প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) আশরাফুল বারীসহ একটি বৈঠকে অন্যান্য ইউপি সদস্যরা আমাকে সমর্থন জানিয়েছেন। আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমাকে দায়িত্ব দেবেন।" তিনি আরও বলেন, "অন্য সদস্যরা আওয়ামী সমর্থিত ও ফ্যাসিস্টের দোসর। তাদের আর সুযোগ দেওয়া যাবে না।"
ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) আশরাফুল বারী বলেন, "একটি বৈঠকে হান্নানকে অন্যরা সমর্থন দিয়েছেন বলে শুনেছি। তবে এটি সম্পূর্ণ তাদের বিষয়।"
চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা জানান, "প্রশাসক নিয়োগ ও প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচন জেলা প্রশাসক দেবেন। জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলা প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশা করছি।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে— এমন রায় স্থগিত করার জন্য আবেদন করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) চেম্বার আদালতে এই আবেদনটি দাখিল করা হয়।
ড. ইউনূসের আইনজীবী খাজা তানভীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষ থেকে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করা হয়েছে। সোমবারই চেম্বার আদালতে এই আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে নির্দেশ দেন। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ রায় প্রদান করে। আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, আগামী ৩ অর্থবছরের মধ্যে গ্রামীণ কল্যাণকে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গত ৪ অক্টোবর হাইকোর্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে এনবিআর কর্তৃক দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা দেওয়ার রায় স্বপ্রণোদিতভাবে প্রত্যাহার করে নেন। বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের বেঞ্চ এ রায় প্রত্যাহার করে। সেই সঙ্গে প্রধান বিচারপতির কাছে মামলার নথি পাঠানো হয়। পরে নতুন বেঞ্চে মামলাটি পাঠানো হয়।
পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭— এই করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রদেয় কর দাবি নিয়ে ড. ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি ২০১৭ সালে পৃথক দু’টি রিট করে। এরপর প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করে। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার নতুন বেঞ্চ রুলটি খারিজ করে। পাশাপাশি রিট খারিজ হওয়ায় আয়কর বাবদ গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে ওই অর্থ আদায় করতে এনবিআর সক্ষম হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাপ্পা মজুমদার তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে শ্রোতাদের সুর ও গায়কীর মায়াজালে মুগ্ধ করে রেখেছেন। যদিও তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য গান উপহার দিয়েছেন, একক কনসার্টের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। এবার প্রায় আড়াই বছর পর বড় পরিসরে একক কনসার্ট নিয়ে ফিরছেন এই নন্দিত শিল্পী।
‘মুনলাইট মেলোডিজ’ শীর্ষক কনসার্টটি আগামী ৯ অক্টোবর রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টার প্রকাশ করে নিজেই কনসার্টের ঘোষণা দিয়েছেন বাপ্পা মজুমদার। তিনি ভক্তদের তারিখটি মনে রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
কনসার্টটির আয়োজন করছে ম্যাভিক্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তবে বর্তমানে টিকিট বিক্রি শুরু হয়নি। শিগগিরই টিকিট বিক্রি শুরু হবে, তখনই জানা যাবে টিকিটের মূল্য, আসন বিন্যাস ও অন্যান্য নিয়ম-শর্ত।
বাপ্পা মজুমদারের একক কনসার্টের খবর প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গে ভক্তদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। শিল্পীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টের মন্তব্যের ঘরে অনেকেই আনন্দ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ ইতোমধ্যে কনসার্টে উপস্থিত থাকার আগ্রহও জানিয়েছেন।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বাপ্পা মজুমদার ২০২২ সালে প্রথম একক কনসার্ট করেন। এরপর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি দ্বিতীয় একক শো করেন। গত বছরের জুলাইতেও একটি একক কনসার্টে গান পরিবেশন করেন বাপ্পা, তবে সেটি ছিল তুলনামূলক ছোট পরিসরে।
এবার বড় আয়োজনের একক কনসার্টে বাপ্পা মজুমদার তাঁর জনপ্রিয় গানগুলো নিয়ে শ্রোতাদের সামনে হাজির হবেন। তিন দশকের বেশি সময় ধরে সংগীতচর্চা করা এই শিল্পী এখনো নিয়মিত নতুন গান প্রকাশ করছেন। পাশাপাশি কনসার্ট ও নানা ধরনের ইনস্ট্রুমেন্টাল পরিবেশনার মাধ্যমে শ্রোতাদের সঙ্গে তাঁর সখ্যও ধরে রেখেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘ আট বছরের বিরতির পর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) পঞ্চম সমাবর্তন আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, আগামী ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে এই সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ সময় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি সাক্ষাৎকালে সমাবর্তন আয়োজনের বিষয়ে সম্মতি প্রদান করেছেন। নির্ধারিত তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগের গ্র্যাজুয়েটদের আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ প্রদান করা হবে।
উপাচার্য বলেন, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপ্রতির সঙ্গে দেখা করে আমরা ইবির ৫ম সমাবর্তনের বিষয়ে কথা বলেছি। তিনি এ ব্যাপারে আমাদেরকে সম্মতি দিয়েছেন।’
উল্লেখ্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে মোট চারবার সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ চতুর্থ সমাবর্তন ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর পঞ্চম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হওয়ার সংবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ঐতিহাসিক সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর দুটি ছবি ছিঁড়ে ফেলার পর, এবার সাঁটানো হয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসি দণ্ড কার্যকর হওয়া জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের একটি ছবি।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ছবিটি টাঙানো হয়। ডাকসুর সংগ্রহশালায় ছবিটির ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘১৯৮১ সালের ১ জানুয়ারি বায়তুল মোকাররমে ফিলিস্তিনের যুদ্ধে শহীদ দুই বাংলাদেশির জানাজার নামাজ পড়তে এলে উপস্থিত মুসল্লিরা তাকে জুতাপেটা করেন’।
ছবিটি সাঁটানোর কাজটি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী অর্ক বড়ুয়া। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
গোলাম আযমের ছবি সাঁটানোর বিষয়ে অর্ক বড়ুয়া মন্তব্য করেন, ‘বেসিক্যালি এখানে ডাকসু সংগ্রহশালা.. ইটস মিন্ট টু বি বাংলাদেশের জনগণের লড়াইয়ের বা বাংলাদেশের জনগণের ঐতিহাসিক ইতিহাসের আর্কাইভ।’
তিনি আরও বলেন, ‘সেই ঐতিহাসিক ইতিহাসের আর্কাইভের জায়গায় এই ছবিটি কেন রেখেছি? কারণ আমরা পরিষ্কার দেখছি যে আমাদের ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক, তিনি যখন এখানে জিন্নাহর ছবি লাগান, তখন তিনি বলেছেন যে তার ইচ্ছা হয়েছে বলে তিনি লাগাইছেন। তো আমার ইচ্ছা হয়েছে, তাই আমি গোলাম আযমের ছবি লাগাইছি।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ