ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘ভার্চুয়াল অটিজম’ কী? অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারে শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা


‘ভার্চুয়াল অটিজম’ কী? অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারে শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা

বর্তমান সময়ে শিশুদের মধ্যে মোবাইল ফোনের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বিষয়টির ফলে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দেন যে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের কারণে শিশুদের মধ্যে সাময়িক ভুলে যাওয়া, মনোযোগের ঘাটতি এবং সামাজিক আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তনের মতো নানা উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই উপসর্গগুলোকে ‘ভার্চুয়াল অটিজম’ বলা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় মোবাইল, ট্যাবলেট বা টেলিভিশনের স্ক্রিনের সামনে কাটানো শিশুদের মানসিক, সামাজিক ও ভাষাগত বিকাশে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এ বিষয়ে স্পিচ থেরাপিস্ট ড. ফাইজা জানাচ্ছেন, ভার্চুয়াল অটিজমের লক্ষণগুলো সাধারণ অটিজমের সঙ্গে অনেকটাই মিলে যায়। এর সাধারণ কিছু লক্ষণ হলো—

আরও পড়ুন: ডিকশনারি ডটকমের বর্ষসেরা শব্দ ‘ম্যাক্সিং’, জনপ্রিয় হলো কিভাবে

সামাজিক বিচ্ছিন্নতা: শিশুরা চারপাশের পরিবেশের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে নিজেরা গুটিয়ে নেয় এবং ধীরে ধীরে নিজেদের এক জগতে মগ্ন করে।

যোগাযোগ ও ভাষার সমস্যা: শিশুদের কথা বলায় জড়তা বা বিলম্ব দেখা দেয় এবং অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা কমে যায়।

আচরণগত পরিবর্তন: শিশুরা খিটখিটে মেজাজের হয়ে পড়ে এবং তাদের আচরণে একগুঁয়েমি বা জেদি ভাব প্রকাশ পায়।

মনোযোগের অভাব: কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে দীর্ঘক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখতে তারা চরম সমস্যার সম্মুখীন হন।

আরও পড়ুন: প্রেম খুঁজতে ফিনল্যান্ডে বিনা খরচে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন কারা?

শিশু বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুল জব্বার শিশুদের এই অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমকে একটি ‘উদ্বেগজনক সমস্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, ২ থেকে ৫ বছর বয়সি শিশুদের অভিভাবকরা যেন অত্যন্ত সতর্ক থাকেন। এই বয়সের শিশুরা স্ক্রিনে কী দেখছে, তা অবশ্যই তাদের বয়সোপযোগী এবং শিক্ষণীয় হতে হবে। চিকিৎসকদের মতে, এই সমস্যাটি মূলত পরিবেশগত এবং অতিরিক্ত প্রযুক্তি-নির্ভরতার কারণে সৃষ্টি হচ্ছে। তাই সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নিলে এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

ভার্চুয়াল অটিজমের হাত থেকে শিশুদের রক্ষা করতে বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের বেশ কিছু জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে—

স্ক্রিন টাইম সীমিত করা: মোবাইল ফোন, টেলিভিশন এবং ভার্চুয়াল গেমসের ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও সীমিত করতে হবে।

গুণগত সময় কাটানো: অভিভাবকদের উচিত শিশুদের ভার্চুয়াল জগতের ওপরে ছেড়ে না দিয়ে নিজেদের সঙ্গে বেশি সময় কাটানো এবং সরাসরি কথা বলা।

আরও পড়ুন: ইলন মাস্কের সাফল্য নিয়ে ৮টি অনুপ্রেরণামূলক উক্তি

মাঠের খেলাধুলায় উৎসাহ: মোবাইল গেমসের বিকল্প হিসেবে শিশুদের ঘরের বাইরের কার্যকলাপ এবং শারীরিক খেলাধুলায় অভ্যস্ত করতে হবে।

সূত্র: সামা টিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারি মেকআপের বদলে এখন ট্রেন্ডে ‘গ্লাস স্কিন’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৩২ এম


ভারি মেকআপের বদলে এখন ট্রেন্ডে ‘গ্লাস স্কিন’

 

কিছু বছর আগে গ্লাস স্কিন নিয়ে প্রচুর উন্মাদনা দেখা গিয়েছিল। কিন্তু পরে বিভিন্ন ধরনে স্কিন ট্রিটমেন্ট, অ্যাকটিভ ইনগ্রিডিয়েন্ট এবং ম্যাট লুকের জনপ্রিয়তা কারণে এ ট্রেন্ড কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিল। তবে সম্প্রতি আবারও বিউটি বিশেষজ্ঞ এবং স্কিন কেয়ারপ্রেমীদের মধ্যে গ্লাস স্কিন হাইড্রেশনের চাহিদা বাড়ছে।

এখন গ্লাস স্কিনের ধারণা মূলত কোরিয়ান বিউটি ট্রেন্ড থেকে জনপ্রিয় হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হল এমন ত্বক তৈরী করা, যা স্বচ্ছ, মসৃণ এবং ভেতর থেকে উজ্জ্বল দেখায়। এবং এই লক্ষ্যে এখন ইতিমধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে হাইড্রেশন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ ও উজ্জ্বল ত্বকের ভিত্তি হচ্ছে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা। শুষ্কতা, রুক্ষ ভাব ও ক্লান্ত চেহারা অনেকাংশেই কমতে পারে। তাই এখন শুধু দাগ বা ব্রণের চিকিৎসাই নয়, বরং ত্বকের আর্দ্রতাকে বজায় রাখার দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গ্লাস স্কিন পাওয়ার জন্য বিভিন্ন ভারি প্রোডাক্ট ব্যবহার করাই শেষ কথা নয়।

বরং, ক্লিনজি, হালকা হাইড্রেটিং টোনার, সিরাম ও ময়েশ্চারাইজারের সঠিক ব্যবহারই এই ট্রেন্ডের প্রধান চাবিকাঠি। এর সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং ভাল ঘুমও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ত্বকের স্বাস্থ্য অনেকাংশেই নির্ভর করে জীবনযাপনের ওপর।

ঋতু পরিবর্তনের সময়ে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা খুবই জরুরি। তাই গ্লাস স্কিন ট্রেন্ড এখন শুধুমাত্র সৌন্দর্য নয়, বরং এটি একটি সুস্থ ত্বকের প্রতীক হিসেবেও দেখা হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রত্যেকের ত্বক আলাদা; তাই কোনো ট্রেন্ড অন্ধভাবে অনুসরণ না করে নিজের ত্বকের প্রয়োজন বুঝে স্কিন কেয়ার রুটিন তৈরী করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

কারণ প্রকৃত সৌন্দর্য লুকিয়ে রয়েছে সুস্থ ও যত্নে রাখা ত্বকের মধ্যেই। বিউটি ট্রেন্ড বদলালেও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল, উজ্জ্বল ও হাইড্রেটেড ত্বকের আকর্ষণ কখনো কমে না। এবং এরই ফলস্বরূপ নতুন প্রজন্মের কাছে আবারও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে গ্লাস স্কিন হাইড্রেশনের ধারণা। সৌন্দর্যের এই নতুন অধ্যায়ে মেকআপের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ত্বকের স্বাভাবিক জেল্লা এবং আর্দ্রতা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফুড পয়জনিং কতটা ঝুঁকিপূর্ণ? শরীরে এর প্রভাব কতটা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৩৩ এম


ফুড পয়জনিং কতটা ঝুঁকিপূর্ণ? শরীরে এর প্রভাব কতটা

ফুড পয়জনিং কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে তা বোঝা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে এর কী প্রভাব ফেলে, সেটাও জানতে হবে।

এটি খাবারে বিষক্রিয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী হচ্ছে খাবার সংরক্ষণে অসতর্কতা। রান্না করা খাবার যদি দীর্ঘ সময় ধরে ঘরের তাপমাত্রায় রাখা হয়, অপরিষ্কার বাসনপত্র ব্যবহার করা হয়, রান্নার আগে হাত না ধোয়া হয় অথবা কাঁচা ও রান্না করা খাবার একসঙ্গে রাখা হয়, তাহলে এসব কারণে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। বিশেষ করে গরম ও আর্দ্র আবহতায় ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবিস্তার করে।

সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের ভিওয়ান্ডিতে ঘটে যাওয়া একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। একটি স্থানীয় ফাস্টফুড আউটলেট থেকে সাওয়ারমা ও পিৎজা খাওয়ার পর অন্তত ৮৮ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। তাদের অধিকাংশেরই পেটব্যথা, বমি বা বমি ভাব এবং ডায়ারিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছে। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট খাবারের দোকানটি সিল করে দিয়েছে প্রশাসন এবং খাবারের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আক্রান্তদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে চিকিৎসকরা বলছেন, ফুড পয়জনিং বা খাবারে বিষক্রিয়া কখনো কখনো সাধারণ খারাপের মতো মনে হলেও তা অন্তত তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর হতে পারে। খাবারে থাকা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, পরজীবী অথবা তাদের তৈরি টক্সিন শরীরে প্রবেশ করলে খুব দ্রুত তার উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কখনো কখনো কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। আবার কিছু ক্ষেত্রে কয়েক দিন পরেও এর লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে।

ফুড পয়জনিং কী ধরনের জটিল সমস্যা তৈরি করতে পারে? চিকিৎসকদের মতে, ফুড পয়জনিং দ্রুত জটিল আকার নিতে পারে। কারণ বমি ও ডায়ারিয়ার ফলে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও প্রয়োজনীয় খনিজ বেরিয়ে যায়। এতে ডিহাইড্রেশন, দুর্বলতা, রক্তচাপ কমে যাওয়া ইত্যাদি হতে পারে। এমনকি গুরুতর ক্ষেত্রে কিডনির সমস্যাও দেখা দিতে পারে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের জন্য ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

কেন ফুড পয়জনিং হয়? এই প্রশ্নের উত্তরে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে চিকিৎসকরা কয়েকটি সাধারণ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। বাইরে খাবার খাওয়ার আগে দোকানের পরিচ্ছন্নতা লক্ষ্য করা জরুরি। সম্ভব হলে সদ্য প্রস্তুত ও গরম খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। দীর্ঘক্ষণ বাইরে বা খোলা রাখা খাবার এড়িয়ে চলুন।

ফল ও শাকসবজি অবশ্যই ভালো করে ধোয়ে খান এবং সবসময় নিরাপদ পানীয় পানি পান করুন। খাবার তৈরি বা পরিবেশনের আগে ও পরে হাত ধোয়ার অভ্যাসটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফুড পয়জনিং প্রতিরোধে দামি কোনো ব্যবস্থার প্রয়োজন নেই। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে পরিচ্ছন্নতা, সঠিক খাদ্য সংরক্ষণ এবং নিরাপদ খাদ্যাভ্যাসই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাশির সময় বুকে ব্যথা, সাধারণ সমস্যা নাকি গুরুতর রোগের ইঙ্গিত?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৩৫ এম


কাশির সময় বুকে ব্যথা, সাধারণ সমস্যা নাকি গুরুতর রোগের ইঙ্গিত?

কাশির সময় বুকে ব্যথা অনুভবের অভিজ্ঞতা আমাদের প্রায় সকলেরই দেখা দেয়। বুকের ব্যথার অনুভূতি স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মনে ভয় সৃষ্টি করে। এই অস্বস্তি হালকা থেকে তীব্র হতে পারে এবং বুকের যে কোন এক বা উভয় পাশেই অনুভূত হতে পারে।

তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কাশির সময় বুকে ব্যথার কারণ, এর সহজ প্রতিকার এবং কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি, এই বিষয়গুলো জানা থাকলে আপনি আপনার স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এই নির্দেশিকায় বিষয়গুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

কাশির সময় বুকে ব্যথা আসলে কেমন হয়ে থাকে?

কাশির কারণে বুকে ব্যথার ধরন ব্যক্তিভেদে ভিন্নতা দেখা দিতে পারে। কারো ক্ষেত্রে এটি হঠাৎ করে এবং তীব্রভাবে অনুভূত হয়, আবার কারো ক্ষেত্রে এটি একটানা মৃদু ব্যথার মতো মনে হতে পারে। এটি নির্দিষ্ট একটি জায়গায় থাকতে পারে, আবার পুরো বুকে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

যদি কার্যত কাশি ক্রমাগত থাকে, তবে বুকে চাপ বা ভারি অনুভূতি হতে পারে। বিশেষ করে, আপনার যদি শুষ্ক কাশি (যেখানে কফের বদলে শুধুই বাতাস বেরিয়ে আসে) অথবা দীর্ঘস্থায়ী কাশি থাকে, তবে বুক ও পিঠে তীব্র ব্যথা শুরু হতে পারে।

কাশির কারণে বুকে ব্যথার সাধারণভাবে কিছু লক্ষণ দেখা যায়—

• পেশিতে ব্যথা এবং সাধারণ শরীরব্যথা।

• ক্লান্তি এবং শারীরিক দুর্বলতা।

• কাশির সাথে কফ বা শ্লেষ্মা বের হওয়া।

• শ্বাস নিতে বা গিলতে অসুবিধা অনুভব করা।

• বুকে টানটান ভাব বা আড়ষ্টতা।

কাশির সময় বুকে ব্যথার সাধারণ কারণ

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাশির সময় বুকে ব্যথা সাধারণ কারণসমূহ দ্বারা হয়ে থাকে। যেমন—

পেশিতে টান: তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী কাশির কারণে বুক, পিঠ এবং পেটের পেশী ক্লান্ত হয়ে গেলে ব্যথা অনুভূত হতে পারে।

তীব্র ব্রঙ্কাইটিস: এটি বুকের ঠান্ডা হিসাবেও পরিচিত। ব্রঙ্কিয়াল টিউবে প্রদাহের ফলে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়।

নিউমোনিয়া: ফুসফুসের সংক্রমণ এর কারণে কাশির সময় বুকে তীব্র ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এর সঙ্গে সাধারণত জ্বর, কাঁপুনি এবং পেশীতে ব্যথা সহ আসে।

প্লুরিসি: ফুসফুসকে আবৃত করে রাখা প্লুরাল টিস্যুতে প্রদাহ হলে কাশির সময় বুকে ব্যথা শুরু হয়।

জিইআরডি (GERD): পাকস্থলীর অ্যাসিড যদি ক্ষুদ্রান্ত্রে উঠে আসে, তবে এটি বুকে জ্বালাপোড়া অথবা ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে, যা কাশির সঙ্গে তীব্র হয়ে থাকে।

যেসব ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজন

কিছু গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে কাশিতে বুকে ব্যথা ঘটতে পারে, যেখানে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।

হার্ট ফেইলিওর: যদি ক্রমাগত কাশির সঙ্গে গোলাপি রঙের কফ বের হয়, তবে এটি ফুসফুসে তরল জমার ইঙ্গিত দেয়।

পালমোনারি এম্বোলিজম: ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধলে এতে বুকে ব্যথা ও কাশির সঙ্গে রক্তযুক্ত কফ বের হতে পারে।

পেরিকার্ডাইটিস: হৃৎপিণ্ডের প্রতিরক্ষামূলক আবরণে প্রদাহ হয়। এর সঙ্গে জ্বর ও কাঁপুনি থাকতে পারে।

নিউমোথোরাক্স: ফুসফুস চুপসে গেলে বুকে বা কাঁধে তীব্র আঘাতের মতো ব্যথা অনুভূত হতে পারে, যা শ্বাস-প্রশ্বাস বা কাশির সঙ্গে বাড়তে থাকে।

কাশির সময় বুকে ব্যথার চিকিৎসা ও প্রতিকার

কাশির কারণে বুকে ব্যথার চিকিৎসায় সাধারণ ঘরোয়া উপায় বা চিকিৎসকের পরামর্শ, দুটোর মাঝে যে কোন একটি প্রয়োজন হতে পারে।

কার্যকরী ঘরোয়া প্রতিকার

মধু এবং গরম পানি: এই মিশ্রণটি শ্বাসনালির অস্বস্তি দূর করতে এবং কাশি কমাতে সহায়তা করে।

গরম পানির ভাপ: যে জমে থাকা কফ তরল করে এবং শ্বাসকষ্ট উপশমে এটি কার্যকরী।

পর্যাপ্ত তরল পান: শরীরকে আর্দ্র রাখতে প্রচুর পানি, মধু মেশানো গরম চা এবং লেবুপানি পান করুন।

হিউমিডিফায়ার ব্যবহার: ঘরের বাতাসের আর্দ্রতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শুষ্ক কাশি ও নাকের অস্বস্তি হ্রাসে সহায়তা করে।

আদা চা: এটি গলার প্রদাহকে কমিয়ে স্বস্তি প্রদান করে।

লবণ-পানির গার্গল: গলার জ্বালা ও কাশির প্রকোপ কমানোর জন্য এটি কার্যকর।

তুলসী পাতা: তুলসী পাতার প্রদাহ-বিরোধী ও জীবাণুনাশক গুণ ব্রঙ্কাইটিস এবং কাশি উপশমে সহায়তা করে।

রসুনের সাপ্লিমেন্ট: শ্বাসযন্ত্রের উপরের অংশের সংক্রমণের ক্ষেত্রে রসুনের বিশেষ কার্যকারিতা রয়েছে।

চিকিৎসকের দেওয়া চিকিৎসা

যদি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ ঘটতে থাকে, তবে চিকিৎসক অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা দিতে পারেন। পরিস্থিতি গুরুতর হলে হাসপাতালে ভর্তি করে শিরায় স্যালাইন, পরিপূরক অক্সিজেন, নেবুলাইজার বা কর্টিকোস্টেরয়েডের মাধ্যমে চিকিৎসা প্রদান করা হতে পারে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

কাশির সঙ্গে যদি বুকে ব্যথা হয়, তবে সবসময় ঘাবড়ানোর প্রয়োজন নেই, কিন্তু নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

• বুকে যদি ব্যথা বাম হাত, ঘাড় বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়ে।

• কাশির সঙ্গে রক্ত বা রক্তযুক্ত কফ বের হয়।

• মারাত্মক শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি ঘটে।

• হঠাৎ অতিরিক্ত দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা ক্লান্তি অনুভূত হয়।

• বমি বমি ভাব, অতিরিক্ত ঘাম বা বমি হয়।

• শরীরের তাপমাত্রা ১০০.৪° ফারেনহাইট (৩৮° সেলসিয়াস) এর বেশি হলে।

কাশির সময় বুকে ব্যথা হলে চিন্তিত হওয়া খুব স্বাভাবিক। তবে আশার কথা হলো যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি সাধারণ সর্দি-কাশি অথবা হালকা সংক্রমণের ফলে হয়ে থাকে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, গরম পানীয় বা মধু খাওয়ার মতো তাত্ত্বিক ঘরোয়া টোটকাতেই এটি সেরে যায়। নিজের শরীরের প্রতি সজাগ থাকুন। কিন্তু যদি শ্বাস নেওয়ার কষ্ট হয়, কাশির সাথে রক্ত যায় বা যদি ব্যথা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে, তবে দেরি না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চিনি খেলে কি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে? যা বলছেন চিকিৎসক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৩৭ এম


চিনি খেলে কি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে? যা বলছেন চিকিৎসক

 

চিনি সরাসরি ক্যানসার সৃষ্টি করে না। সব সক্রিয় কোষের বেঁচে থাকার জন্য গ্লুকোজের প্রয়োজন হয়। ক্যানসার কোষ সাধারণ কোষের মতো গ্লুকোজ ব্যবহার করে থাকে, তবে এটি মানে নয় যে, চিনি খেলেই ক্যানসার হবে। তবে অতিরিক্ত চিনি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার এবং প্রক্রিয়াজাত পানীয় শরীরে ক্যালোরির পরিমাণ বাড়িয়ে ওজন বৃদ্ধি করে, যা স্তন, কোলন, পাকস্থলী ও অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের একটি বড় ঝুঁকি। এ ছাড়া রক্তে উচ্চ সুগার লেভেল ক্যানসার কোষের বিস্তার ও বেঁচে থাকার জন্য পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

কিন্তু চিনি বন্ধ করলেই ক্যানসার ভালো হয় না। অনেকে মনে করেন, ডায়েট থেকে চিনি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার মাধ্যমে ক্যানসার কোষগুলোকে অনাহারে মেরে ফেলা যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা এই ধারণাকে খণ্ডন করেছেন। কারণ গ্লুকোজের অভাব হলে ক্যানসার কোষগুলো প্রোটিন ও ফ্যাট থেকে বিকল্প শক্তি সংগ্রহ করে নিজেদের বৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, ক্যানসার ও অন্যান্য ক্রনিক রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকা উচিত অতিরিক্ত মিষ্টি, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং কৃত্রিম চিনিযুক্ত পানীয় থেকে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, নারীর দৈনিক ২৫ গ্রাম এবং পুরুষের দৈনিক ৩৬ গ্রামের বেশি 'অ্যাডেড সুগার' গ্রহণ করা উচিত নয়।

বর্তমান সময়ে সুস্থ থাকতে অনেকে চিনি খাওয়া বাদ দিচ্ছেন। সামাজিক মাধ্যমে ‘নো সুগার’ ট্রেন্ড জনপ্রিয়। চিকিৎসকরাও এ বিষয়ে সচেতন করছেন। তবে সামাজিক মাধ্যমে অনেকে বলেন, চিকি থেকে ক্যানসার হতে পারে। কেক, পেস্ট্রি, চকলেট থেকে শুরু করে গুড়-মিষ্টি সব কিছুকেই অনেকে ক্যানসারের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।

এ বিষয়ে ভারতীয় অনকোলজিস্ট ডা. বর্তিকা বিশ্বানি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এ ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। চিনি সরাসরি ক্যানসার সৃষ্টি করে এর বৈজ্ঞানিক কোনো প্রমাণ নেই। সম্প্রতি একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এখনো পর্যন্ত এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে, চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়ার কারণে সরাসরি ক্যানসার হয়। তিনি যোগ করেন, আমি ক্যানসার বিশেষজ্ঞ হয়েও বলতে পারি না যে, চকলেট বা কেক খেলে ভবিষ্যতে ক্যানসার হবেই।

ডা. বিশ্বানি আরো বলেন, শরীরের প্রতিটি সক্রিয় কোষ, মস্তিষ্ক, কিডনি বা অন্ত্র শক্তির জন্য গ্লুকোজ ব্যবহার করে থাকে। তাই চিনি একেবারে বাদ দিলে শরীর প্রয়োজনীয় শক্তির অভাবে আক্রান্ত হতে পারে। দীর্ঘ সময় চিনি বা কার্বোহাইড্রেট একেবারে বন্ধ করলে শরীর শক্তির জন্য পেশি টিস্যু ভাঙতে শুরু করতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ক্যানসার কোষ দ্রুত বাড়ে বলেই তারা বেশি শক্তি ব্যবহার করে। তবে এর মানে এই নয় যে, চিনি বন্ধ করলে ক্যানসার কোষ মারা যাবে বা উপবাস ক্যানসারের চিকিৎসা হতে পারে।

তিনি বলেন, সমস্যা চিনি নয়, সমস্যা হলো— এটি অতিরিক্ত খাওয়া। বেশি চিনি, স্থূলতা বা মেটাবলিক রোগ ভবিষ্যতে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে শুধু এই কারণে ফল, শস্য বা ঘরের খাবার বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। অল্প মিষ্টি বা স্বাভাবিক খাবার খাওয়া সমস্যা নয়, বরং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই একমাত্র আসল ঝুঁকি। ক্যানসারের ঝুঁকি কোনো একটি খাবার থেকে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%