১০:৫১ এম
পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে (পিওকে) বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যের ব্র্যাডফোর্ডে পাকিস্তান কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ করেছেন কাশ্মীরি অধিকারকর্মীরা। বিক্ষোভটি অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গলবার, যেখানে তারা পিওকেতে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ হল, পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমাতে নিরাপত্তা বাহিনী অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করছে। তাদের দাবি যে, রাওয়ালাকোট ও মিরপুরে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে কয়েকজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা মৌলিক অধিকার এবং বিভিন্ন দাবির পক্ষে আন্দোলন করতে ছিল। ব্র্যাডফোর্ডের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কাশ্মীরি সংগঠনগুলোর সদস্যরা বলছেন, পিওকের মানুষের মানবাধিকার রক্ষা করার জন্য এবং সেখানে চলমান দমন-পীড়নের অবসান ঘটানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন।
এই বিক্ষোভের সাথে সাথে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: কোনো অপশক্তিকে জাতীয় ঐক্য নষ্ট করতে দেওয়া যাবে না: রাষ্ট্রপতি
এদিকে, পিওকেতে টানা ৫২ দিন ধরে চলা আন্দোলনের ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলো’র মধ্যে রয়েছে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মুক্তি, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং অন্যান্য দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন। সোমবার যৌথ আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) ও প্রশাসনের মধ্যে আলোচনা হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি।
এরপর সংগঠনটি কর্তৃপক্ষকে ২৭ জুলাই দুপুর ১টা পর্যন্ত সময় প্রদান করে। ওই সময়ের মধ্যে দাবিগুলো মেনে নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি না করার ক্ষেত্রে রাওয়ালাকোট থেকে মুজাফফরাবাদ পর্যন্ত পদযাত্রা শুরু করার ঘোষণা দেয় তারা।
নির্ধারিত সময়ে সমঝোতা না হওয়ার পর হাজারো মানুষ রাওয়ালাকোটে জড়ো হন এবং মুজাফফরাবাদের উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু করেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এ সময় তাদের বাধা দিতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়। আন্দোলনের সাথে যুক্ত প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যায় সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন নিহত এবং প্রায় দুই ডজন মানুষ আহত হন। তবে এই হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আন্দোলনের অন্যতম নেতা ইমতিয়াজ আসলাম এক ভিডিও বার্তায় বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে। তিনি দাবি করেন, নিহতদের মধ্যে আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ওমর নাজিরের ছোট ভাই উসমান নাজিরও রয়েছেন। এছাড়াও খাইগালা, কোটলি, তাত্তাপানি, বানজা-বাসপুর, ছোটা গালা, হাভেলিসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারাও নিহত হয়েছেন। তার দাবি, নিহতদের মধ্যে দুইজন বেলুচ আন্দোলনকারীও ছিলেন। জেএএসি জানায়, ৫ জুন থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত আন্দোলন চলাকালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭ জনে পৌঁছেছে। সংগঠনটি নিহতদের ‘শহীদ’ হিসেবে উল্লেখ করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে এই সংখ্যাও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
আরও পড়ুন: রাশিয়া ও চীনের প্রধানমন্ত্রী সেন্ট পিটার্সবার্গে বৈঠকে মিলিত
আন্দোলনের নেতাদের অভিযোগ, পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থায় কারচুপির মাধ্যমে জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছেনা। তাদের দাবি, রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন করতে গ্রেপ্তার, ভয়ভীতি এবং ব্যাপক নিরাপত্তা মোতায়েন করা হচ্ছে। রাওয়ালাকোটের ঘটনার পর অস্থিরতা মিরপুরেও ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়েছে, নতুন করে শুরু হওয়া বিক্ষোভেও নিরাপত্তা বাহিনী বেসামরিক মানুষের ওপর গুলি চালিয়েছে। কয়েকটি প্রতিবেদনে কয়েকজন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর কথাও বলা হয়েছে। তবে এই তথ্যও এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি ঘিরে পিওকেতে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। একই সাথে ব্র্যাডফোর্ডের বিক্ষোভ থেকে আন্দোলনকারীরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন