১১:৩৫ পি.এম
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর অগ্রণী ব্যাংক শাখা থেকে গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় শ্রীনগর থানা পুলিশ সাবেক দুই ম্যানেজারসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে সহযোগিতা ও মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন—অগ্রণী ব্যাংক শ্রীনগর শাখার সাময়িক বরখাস্ত কর্মকর্তা (ক্যাশ) মো. জিন্নাহ হোসেন, সাবেক ব্যবস্থাপক ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার রেজাউল হক, সাবেক ব্যবস্থাপক ও প্রিন্সিপাল অফিসার মো. শরীফ উদ্দীন, নিরাপত্তা প্রহরী রঞ্জু আহম্মেদ এবং সাময়িক বরখাস্ত নিরাপত্তা প্রহরী আব্দুল হাই। এই ঘটনায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা ছয়জনে পৌঁছেছে।
আরও পড়ুন: চাঁদপুরে যুবকের লুঙ্গির গোছায় মিলল ওয়ান শুটার গান
এর আগে একই ঘটনায় জালিয়াতির মূল হোতা হিসেবে ওই শাখার রেমিট্যান্স কর্মকর্তা মো. শরীফুজ্জামান সোহাগকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সোহাগ ২২ সেপ্টেম্বর থেকে আত্মগোপনে থাকার পর গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকার মিরপুরের মধ্য পাইকপাড়ায় তার বোনের বাসা থেকে গ্রেফতার হন। গ্রেফতারকালে তার কাছ থেকে নগদ ১ লাখ ৪৫ হাজার ২০০ টাকা, তিনটি মুঠোফোন, চেকবই, দুটি এটিএম কার্ড ও একটি লকারের চাবি উদ্ধার করা হয়েছিল।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, দায়িত্ব পালনকালে শরীফুজ্জামান সোহাগ গ্রাহকদের টাকা জমা নেওয়ার রসিদ দিলেও তা হিসাবে জমা করতেন না। এছাড়া অনেক গ্রাহকের অজান্তেই তাদের হিসাব থেকে বড় অঙ্কের টাকা তুলে নেওয়া হতো। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে শাখায় গ্রাহকদের ভিড় বাড়তে থাকে।
২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৩০০ গ্রাহক লিখিত অভিযোগ জমা দেন, যাতে আত্মসাৎ হওয়া আমানতের দাবি ২৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। ঘটনার প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা শুরু করে এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে সাময়িক বরখাস্ত করে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) ছায়া তদন্তে নামে। মূল অভিযুক্ত শরীফুজ্জামানকে ইতোমধ্যে দুদকের মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে।
দুদক প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহাথীর মুহাম্মদ সামী জানান, গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে এবং আত্মসাতের সঙ্গে প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা মেলায় শ্রীনগর থানা পুলিশের সহায়তায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
আরও পড়ুন: চাকরিতে ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি আইনমন্ত্রীর
শ্রীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিল্টন দত্ত পাঁচজনকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। গ্রাহকদের খোয়া যাওয়া অর্থ ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নিরীক্ষা ও আইনি তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন