মুবাশশির আলম রাহুল, জামালপুর প্রতিনিধি
১২:৫৩ এম
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলা শাহজাতপুর গ্রামে ভেজাল সরিষার তেল উৎপাদনকারী একটি কারখানায় যৌথ অভিযান চালিয়ে মালিককে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ অভিযান চলাকালীন, কারখানায় মজুত থাকা প্রায় ১ হাজার ৮০০ লিটার ভেজাল তেল ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি, কারখানাটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাতুল আরার নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে অংশ নেন জেলা জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শরীফুল ইসলাম।
অভিযানে কারখানার মালিক মো. আলিম উদ্দিনকে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে, কারখানায় মজুত থাকা প্রায় ১ হাজার ৮০০ লিটার ভেজাল তেল মাটিতে ফেলে ধ্বংস করা হয়। ভবিষ্যতে যাতে কারখানাটি পুনরায় চালু করতে না পারে, সে জন্য বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান মিশিয়ে ভেজাল তেল তৈরি করে যেটি ‘জোড়া ষাঁড় মার্কা খাঁটি সরিষার তেল’ নামে বাজারজাত করা হচ্ছিল। অভিযানের সময় নমুনা পরীক্ষায় কথিত সরিষার তেলে সরিষার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
জেলা জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, “জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিন্নাতুল আরা বলেন, “জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। কোনোভাবেই ভেজাল খাদ্য উৎপাদনকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি বরিশালে বলেছেন, সাংবাদিকতা পেশা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, তথ্যের অবাধ প্রবাহের এই সময়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ খুঁজে বের করে জনগণের সামনে তুলে ধরা সাংবাদিকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজকে প্রতিনিয়ত আয়নার সামনে দাঁড় করায় গণমাধ্যম। এ কারণে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাকে টিকিয়ে রাখা রাষ্ট্র, সমাজ ও মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ব।
সোমবার (২৭ জুলাই) বরিশাল সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত একটি মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত কল্যাণ, নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম আরও বেগবান করার লক্ষ্যে এসব কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সাংবাদিকদের পৃষ্ঠপোষকতার জন্য এখনো শক্তিশালী কোনো কাঠামো গড়ে ওঠেনি। অথচ, এ পেশার অস্তিত্ব ছাড়া একটি সভ্য সমাজ কল্পনা করা যায় না। বর্তমান সরকারের সময়ে সাংবাদিকরা অনেক বেশি চাপমুক্ত পরিবেশে কাজ করতে পারছেন এবং এজন্য সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের কল্যাণে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। গণমাধ্যমের কল্যাণ মানেই দেশের কল্যাণ। সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য কাওছার হোসেন খোন্দকার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহজাহান সাজু এবং বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আযাদ আলাউদ্দীন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন দৈনিক ইনকিলাবের বিশেষ প্রতিনিধি নাছিম উল আলম, বরিশাল প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদ এবং ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের সভাপতি আক্কাস শিকদার। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন দৈনিক বর্তমান-এর ব্যুরো চিফ মো. মামুন-অর-রশিদ। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান হীরা।
মতবিনিময় সভায় বরিশাল বিভাগের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সুবিধা সম্প্রসারণ, চিকিৎসা সহায়তা, আর্থিক অনুদান, দক্ষতা উন্নয়নসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন। এসব পরামর্শ বাস্তবায়নযোগ্য উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। এরপর বরিশাল, ঝালকাঠী ও পটুয়াখালী জেলার ৪৯ জন সাংবাদিকের মাঝে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কাউনিয়া থানা পুলিশ বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে ৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৬টার সময় বরিশাল নগরীর কাউনিয়া থানাধীন ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রোকেয়া আজিম সড়ক এলাকার মো. সেলিম শরীফের মুদি দোকানের সামনের পাকা রাস্তার ওপর পুলিশের অভিযান পরিচালিত হয়।
এ অভিযানে গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছে নগরীর গাউয়াসার এলাকার মো. হুমায়ুন কবিরের ছেলে মো. রুম্মান হাওলাদার (২২) এবং ভাটিখানা এলাকার মো. মনু হাওলাদারের ছেলে মো. নিশাত হাওলাদার (৩৪)।
পুলিশ জানায়, কাউনিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল মামুন ও এসআই জ্যোতির্ময় হালদারের নেতৃত্বে একটি পুলিশদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় তাদের দেহ তল্লাশি করে অবৈধ ৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
বিএমপি মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে কাউনিয়া থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের পাশাপাশি পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৮ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারের নামে জাল ডিও পত্র তৈরি ও ব্যবহার করে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওন মজুমদার সুমনকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে গতকাল সোমবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওন মজুমদার সুমনকে সংযুক্তির জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এর আগে, জাতীয় সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর, দাপ্তরিক প্যাড, সরকারি লোগো ও স্মারক নম্বর জাল করে ডিও পত্র তৈরি এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে দাখিল করে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করার ঘটনার ওপর তাদের নজর রয়েছে। সচিবালয় স্পষ্টভাবে জানায়, ওই পত্রটি জাতীয় সংসদ কর্তৃক ইস্যুকৃত নয় এবং এর সঙ্গে সংসদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
জাতীয় সংসদ সচিবালয় এছাড়া জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সংসদের নামে প্রাপ্ত কোনো ডিও বা সরকারি পত্রের সত্যতা যাচাই করে গ্রহণ করার জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপিকে রাজনীতি থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ছিল, এ দাবি করেছেন বিএনপি নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তবে, তিনি একই সঙ্গে জানান যে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি তার ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা রয়েছে।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত ন্যায়ভিত্তিক বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে বিভাজন নয়, ঐক্য শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ বিষয়গুলো জানান।
রাশেদ খান আরও দাবি করেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকতে চাননি। তার মতে, আওয়ামী লীগ যদি রাজনৈতিকভাবে বিলীন হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে বিএনপিকেও রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিয়ে জামায়াত ও এনসিপিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা ছিল।
তিনি বলেন, সরকারে তাদেরও কয়েকজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ছিল এবং সেই সূত্রে তিনি বিভিন্ন তথ্য পেয়ে আসছেন।
রাশেদ খান পরবর্তীতে মন্তব্য করেন, অনেকে মনে করেন যে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্বেচ্ছায় নির্বাচন দিয়েছেন। কিন্তু তার বক্তব্য হলো, তিনি নির্বাচনের জন্য বাধ্য হয়েছেন এবং আন্দোলনের মাধ্যমে নির্বাচন আদায় করা হয়েছে।
এছাড়া, তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি নির্বাচন চায়নি এবং তাদের বক্তব্য ছিল, ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হবে না।
বৃহৎ নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের হুমকি দেওয়া অন্যায় বলেও মন্তব্য করেছেন রাশেদ খান। তিনি জানান, বিএনপি সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। এজন্য গণঅভ্যুত্থানের হুমকি দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ