শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:০৬ এম
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় ১০ বছরের এক বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে শহিদুল ইসলাম (৩৮) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। একই সঙ্গে, তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশও দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লালমনিরহাটের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিত্যানন্দ সরকার আসামির উপস্থিতিতে এই চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত শহিদুল ইসলাম লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার জামির বাড়ি গ্রামের নবিয়ার রহমানের ছেলে।
মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৪ আগস্ট শহিদুল ইসলাম হাতীবান্ধা উপজেলায় তার শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান। সেদিন দুপুরের দিকে শ্বশুরবাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগ নিয়ে তিনি প্রতিবেশী ১০ বছরের এক বাকপ্রতিবন্ধী শিশুটিকে মোবাইল ফোনে ছবি দেখানোর লোভ দেখিয়ে ঘরের ভেতরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন।
ঘটনার পর নির্যাতিত শিশুটি বিবস্ত্র অবস্থায় কাঁদতে কাঁদতে নিজ বাড়িতে ফিরে যায়। পরে সে হাত ও মুখ দিয়ে ইশারা-সংকেতের মাধ্যমে তার মায়ের কাছে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেয়। ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে হাতীবান্ধা থানায় শহিদুল ইসলামকে একমাত্র আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ও তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দীর্ঘ তদন্ত এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। মামলার দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "এই রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচার পেল।" পাশাপাশি, এ ধরনের অপরাধের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে এটি একটি কঠোর আইনি বার্তা। স্থানীয় সুধী সমাজও আদালত কর্তৃক দ্রুত এই রায় কার্যকর হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিরলের রাণীপুকুর ইউনিয়নের হালজায় ঝিনাইকুড়ি গ্রামের কড়া পাঠশালায় তিন দিন ব্যাপী হাঁস-মুরগী ও শুকর লালন পালন বিষয়ক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে।
এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে ভাবনা সামাজিক মানবিক বিকাশ। ঢাকা ও উইমেন্স চেম্বার এন্ড কমার্স ইন্ডাস্ট্রির সহযোগিতায় ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রবিবার প্রশিক্ষণের শুভ উদ্বোধন করেন ভাবনার নির্বাহী পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান।
প্রশিক্ষণে সহায়ক হিসেবে উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। জেলা ভেটেরেনারী অফিসার ড. আশিকা আকবর তৃষা প্রশিক্ষণের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বুধবার এক বার্তায় প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামে ঝুঁকিপূর্ণ কিশোরী ও গর্ভবতী নারীদের জন্য জরুরী সুরক্ষা সামগ্রি বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার সকালে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ও ঘোগাদহ ইউনিয়নে পৃথকভাবে ৫৪০ জন উপকারভোগীকে এসব সুরক্ষা সামগ্রি প্রদান করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এটিএম বেনজির রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারি প্রকৌশলী নিত্যানন্দ বর্মণ, ঘোগাদহ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক সরকার, মাল্টিজার ইন্টারন্যাশনাল’র প্রকল্প সমন্বয়কারী শহিদুল ইসলাম, এএফএডির নির্বাহী প্রধান সাইদা ইয়াসমিন, প্রকল্প সমন্বয়কারী রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
দাতা সংস্থা মাল্টিজার ইন্টারন্যাশনাল ও একশন ডাচল্যান্ড হিলফট’র আর্থিক সহযোগিতায় এবং স্থানীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এসোসিয়েশন ফর অল্টারনেটিভ ডেভেলপমেন্ট (এএফএডি) উদ্যোগে চরাঞ্চলে ও প্রত্যন্ত এলাকার নারী ও কিশোরীদের মাঝে এসব উপকরণ বিতরণ করা হয়। ডিগনিটি কিটে ১৩টি উপকরণের মধ্যে রয়েছে স্যানিটারী প্যাড, আন্ডার গার্মেন্টস, গামছা, সাবান, পেষ্ট, ব্রাশ, ব্যাগ, টর্সলাইট, স্যান্ডেল, চিড়ুনি, নেইল কাটার ও একটি বালতি।
ঘোগাদহ ইউনিয়নের দোবারিয়ার ভিটা গ্রামের কিশোরী পারভীন বেগম জানান, "এগুলো পেয়ে আমি খুব খুশি হয়েছি। কিছু জিনিষ পেয়েছি যেগুলো অনেক সময় আমরা কিনতেই পারি না।"
পাঁচগাছী মুসল্লীপাড়া গ্রামের সাজিরণ বেগম বলেন, "গ্রামের মানুষ এসব জিনিষ চাইলেও ব্যবহার করতে পারে না। এবার স্বামীকে বলবো এগুলো শেষ হয়ে গেলে সে যেন এরকম সেট কিনে দেয়। এগুলো যে আমাদের খুবই প্রয়োজনে লাগে সেটা তাদেরকে বোঝাবো।" কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান বলেন, নারীর মর্যাদা ও সুরক্ষার বিষয়টি এখন সার্বজনিন। ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে প্রত্যন্ত এলাকার নারীরা অনেকটা এগিয়ে এসেছে। তাদেরকে আরও সচেতন হতে হবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, প্রত্যন্ত এলাকার নারীদের পাশাপাশি পুরুষদেরকেও সচেতন হতে হবে। নারীদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে আর লজ্জ্বা নয়। সহযোগিতা সহমর্মিতা নিয়ে পুরুষদের পাশে থাকতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামে সার বিতরণে কৃষক ভোগান্তি ও বিশৃঙ্খলার কারণে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুনকে বদলি করা হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় তাঁকে ঝিনাইদহ জেলার বীজ প্রত্যয়ন অফিসার হিসেবে বদলি করেছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, "আমাকে ঝিনাইদহ বদলি করা হয়েছে। আমি দায়িত্ব হস্তান্তর করেছি।" কুড়িগ্রাম কৃষি বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কামরুল ইসলাম খান স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। মঙ্গলবার সকালে আদেশের অনুলিপি কুড়িগ্রামে পৌঁছায়।
জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, জেলায় সার বিতরণে একের পর এক বিশৃঙ্খলা ও কৃষক ভোগান্তির কারণে আব্দুল্লাহ আল মামুনকে শাস্তিমূলকভাবে বদলি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল্লাহ আল মামুনকে স্ট্যান্ড রিলিজের আদেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁকে ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকেলের মধ্যে বদলিকৃত কর্মস্থল ঝিনাইদহে যোগ দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য করা হবে।
তার স্থলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খামারবাড়ি, ঢাকার প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের উপপরিচালক আবু ফাত্তাহ মো. রওশন কবীরকে কুড়িগ্রামের উপপরিচালক হিসেবে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।
খামারবাড়ি কুড়িগ্রাম সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল্লাহ আল মামুন অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ) তানভীর আহমেদ সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে মঙ্গলবার কুড়িগ্রাম ত্যাগ করেছেন। কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, কৃষি বিভাগের উপপরিচালকের বদলির হয়েছে। আজ বুধবার নতুন উপপরিচালক পদে একজন কর্মকর্তা যোগদান করবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বুধবার বেলা ১১ টায় ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকায় 'সামাজিক সংগ্রাম পরিষদ' গাইবান্ধা জেলার উদ্যোগে গাইবান্ধায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন, আধুনিক হাসপাতালের দুর্নীতি, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা রোধ, নতুন ভবনের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু, পর্যাপ্ত ডাক্তার- নার্স নিয়োগ, হাম-ডেংগু প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণসহ প্রিপেইড মিটার বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন 'সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মইনুল ইসলাম রাজা' এবং পরিচালনা করেন সদস্য সচিব কাজী আবু রাহেন শফিউল্যা খোকন। বক্তব্য রাখেন সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের সদস্য ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ প্রনব চৌধুরী, জিয়াউল হক জনি, মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু, মোস্তফা মনিরুজ্জামান, এডভোকেট নিলুফার ইয়াসমিন শিল্পী, রেজাউল করিম জুয়েল, অবঃ সেনা সদস্য সেকেন্দার আলী, মানবাধিকার কর্মী রফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক নেয়ামুল আহসান পামেল, সাংবাদিক উজ্জ্বল কুমার চক্রবর্তী, আবু তাহের চৌধুরী, রেজাউল করিম রেজা, ছাত্রনেতা পরমানন্দ দাস প্রমুখ।
বক্তারা উল্লেখ করেন যে, গাইবান্ধা একটি কৃষিভিত্তিক এলাকা, যেখানে মানুষ হতদরিদ্র এবং নিম্ন আয়ের। তারা দারিদ্র্যের কারণে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গাইবান্ধা জেলায় বর্তমানে শুধুমাত্র একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বিদ্যমান। সেই সরকারি হাসপাতালটি নিজেই একটি রোগীর মত। গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল, যা জেলার সর্বোচ্চ হাসপাতাল, সেখানে পর্যাপ্ত ডাক্তার, নার্স এবং ঔষধের অভাব রয়েছে। বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ জনগণ ভালোভাবে সেবা পাচ্ছে না। জরুরি অবস্থায় রোগীদের রংপুর বা বগুড়ায় যেতে হয়, যা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং কষ্টসাধ্য। ফলে তারা উন্নত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এখানকার মানুষের দোড়গোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছানোর জন্য একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা অত্যন্ত প্রয়োজন। এই অঞ্চলের মানুষের বহুদিনের একটি স্বপ্ন হলো মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা। বক্তারা গাইবান্ধায় আধুনিক হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করার এবং নতুন ভবন চালু করার আহ্বান জানান। এছাড়া, ডেংগু ও হাম প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান। জনগণের জনদুর্ভোগ কমাতে অবিলম্বে প্রিপেইড মিটার অপসারণের দাবি জানানো হয়। শেষে গাইবান্ধায় মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ