ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে আর্জেন্টাইন ফুটবলারের পরিবারের খোঁজ মিলছে না


ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে আর্জেন্টাইন ফুটবলারের পরিবারের খোঁজ মিলছে না

ভেনেজুয়েলায় ঘটে যাওয়া শক্তিশালী দুইটি ভূমিকম্পের ফলে নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১৮৮ জনে পৌঁছেছে। উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পর সেটি কত হবে, তা সময়ের সাথে জানা যাবে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস আশঙ্কা করছে, প্রাণহানি ১০ হাজারেরও বেশি হতে পারে।

ভূমিকম্পে নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সেখানে ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ হওয়ার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইসরাইলে নির্বাচন: ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, চূড়ান্ত ফলাফল দুই দিনে আসবে

বৃহত্তর প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনার প্রেক্ষিতে নিজের পরিবারকে খুঁজতে গিয়েছে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লুকাস ত্রেহো।

তিনি সামাজিক মাধ্যমে হৃদয়স্পর্শী একটি বার্তা দিয়েছেন যাতে তার স্ত্রী এবং দুই সন্তানের খোঁজ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, 'প্লায়া গ্রান্দেতে আমাদের ভবনটিও ধসে পড়েছে। আমার পরিবারের কোনো খোঁজ জানি না। দয়া করে তাদের জন্য প্রার্থনা করুন এবং কেউ দেখে থাকলে তথ্য দিয়ে সহায়তা করুন। আমি বিশ্বাস করতে চাই, ঘটনার সময় তারা ভবনের ভেতরে ছিল না।'

ত্রেহো আর্জেন্টিনার কর্ডোবায় জন্ম নিয়েছেন, এবং বর্তমানে তিনি ভেনেজুয়েলার দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব স্পোর্ট মারিতিমো লা গুয়াইরায় খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই তিনি কিছু বছর ধরে ভেনেজুয়েলায় বাস করছেন। তিনি সঙ্গী ইয়ানিনা মারানেল্লা এবং দুই সন্তান—অ্যারন ও আইনহোয়াকে নিয়ে প্লায়া গ্রান্দের একটি ভবনে থাকতেন।

বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে কারাকাসের প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে, কারাকাস থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।

আরও পড়ুন: কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার দাপট, ৩৩০ রান করে ১ রানের লিড

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাশির সময় তীব্র মাথাব্যথা? অবহেলা ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৫৭ এম


কাশির সময় তীব্র মাথাব্যথা? অবহেলা ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ

 

সাধারণত কাশির কারণে গলা বা বুকে সাময়িক অস্বস্তি হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যদি প্রতিবার কাশির সঙ্গে মাথায় তীব্র ঝটকা বা ব্যথা অনুভূত হয়? আপাতদৃষ্টিতে বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হলেও, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় কাশি, হাঁচি, হাসা বা অতিরিক্ত শারীরিক কসরতের সময় মাথাব্যথা হওয়াকে ‘কফ হেডেক’ বা কফজনিত মাথাব্যথা বলা হয়।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই মাথাব্যথা সাময়িক এবং ক্ষতিকারক নয়। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, কখনো কখনো এটি শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা অত্যন্ত গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার পূর্বলক্ষণ হতে পারে।

ভারতের বসন্ত কুঞ্জের ফোর্টিস হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের পরিচালক ড. মনোজ শর্মা বলেন, কাশি দিলে যদি নিয়মিত মাথাব্যথা হয়, তবে তা অবহেলা করা উচিত নয়—বিশেষ করে যখন ব্যথা তীব্র হয় অথবা সঙ্গে অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেয়।

কফজনিত মাথাব্যথা আসলে কি?

কাশি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বা মাথার ভেতরের চাপ বাড়িয়ে দেয় এমন কোনো কাজ (যেমন: হাঁচি দেওয়া, উচ্চস্বরে হাসা, সামনের দিকে ঝুঁকে পড়া বা মলত্যাগের সময় চাপ দেওয়া) করার ঠিক পরপরই যে মাথাব্যথা শুরু হয়, তাকে কাফ হেডেক বলা হয়।

ড. শর্মা ব্যাখ্যা করেন, ‘কফজনিত মাথাব্যথা মূলত দুই প্রকার। প্রথমটি হলো প্রাইমারি কফ হেডেক, যা সাধারণত ক্ষতিকারক নয়। কাশি বা অতিরিক্ত চাপের কারণে মাথার খুলির ভেতরে হঠাৎ রক্ত ও তরলের চাপ বেড়ে যাওয়ার ফলে এই ব্যথা হয়। এটি মাত্র কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যে স্থায়ী হতে পারে।’ এই ব্যথা যদিও অত্যন্ত তীব্র বা হঠাৎ ফেটে পড়ার মতো অনুভূতি তৈরি করে, তবে সাধারণভাবে এর পেছনে কোনো গুরুতর রোগ থাকে না।

ব্যথার পেছনের মূল কারণ:

যখন কোনো ব্যক্তি জোরে কাশি দেন, তখন বুক এবং পেটের ভেতরের চাপ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এই আকস্মিক চাপ মাথার খুলির ভেতরের রক্তপ্রবাহ এবং তরল গতিবিদ্যার ওপর সাময়িক প্রভাব ফেলে। এর ফলে হঠাৎ করে মাথায় তীব্র, ধারালো বা ছুরিকাঘাতের মতো ব্যথা অনুভূত হয়। আনন্দের কথা, এই ব্যথা কয়েক মিনিটের মধ্যে নিজে থেকেই সেরে যায় এবং এজন্য দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না।

কখন এটি গুরুতর রূপ নিতে পারে?

সব কাশির মাথাব্যথা কিন্তু নিরীহ নয়। চিকিৎসকরা প্রাইমারি মাথাব্যথার পাশাপাশি সেকেন্ডারি কফ হেডেককে আলাদাভাবে চিহ্নিত করেন, যা শরীরের অন্য কোনো সুনির্দিষ্ট রোগের কারণে ঘটে থাকে।

ড. শর্মা বলেন, ‘সেকেন্ডারি কফ হেডেকের পেছনে মস্তিষ্ক বা এর চারপাশের কাঠামোগত সমস্যা দায়ী থাকতে পারে। যেমন—সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড (মস্তিষ্কের তরল) প্রবাহে বাধা, মস্তিষ্কের গঠনে কোনো ত্রুটি কিংবা বিরল ক্ষেত্রে ব্রেন টিউমার।’

এই ধরনের রোগীদের মধ্যে কাশি মূলত মূল রোগটিকে সামনে নিয়ে আসার একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে, কাশি নিজে ব্যথার মূল কারণ নয়।

যেসব উপসর্গ দেখলে অবিলম্বে সতর্ক হবেন:

সেকেন্ডারি কফ হেডেক সাধারণত প্রাইমারি হেডেকের তুলনায় অনেক বেশি তীব্র হয়ে থাকে এবং দীর্ঘ সময় স্থায়ী হতে পারে। এর সঙ্গে কিছু স্নায়বিক বা নিউরোলজিক্যাল উপসর্গ দেখা দেয়, যা বিপদের লক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত:

মাথা ঘোরানো

হাঁটতে সমস্যা হওয়া বা শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে না পারা

দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হওয়া বা দ্বৈত দৃষ্টি

হাত বা পায়ে দুর্বলতা অনুভব করা

শরীরে অবশ ভাব বা সুই ফোটার মতো অনুভূতি

অনবরত বমি হওয়া

মানসিক বিভ্রান্তি বা হ্যালুসিনেশন

হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া

উপরের যেকোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিৎ।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

কাশি দেওয়ার পর মাঝেমধ্যে হালকা মাথাব্যথা হওয়া উদ্বেগের কারণ না হলেও ড. শর্মার মতে নিচের পরিস্থিতিগুলোতে অবিলম্বে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি:

১. জীবনে প্রথমবার কাশির সঙ্গে এমন মাথাব্যথা হলে।

২. ব্যথা যদি অত্যন্ত তীব্র হয় এবং দিন দিন বাড়তে থাকে।

৩. মাথাব্যথা যদি কয়েক মিনিটের চেয়ে বেশি সময় স্থায়ী হয়।

৪. ব্যথার সঙ্গে যদি জ্বর থাকে।

৫. বিভ্রান্তি বা অজ্ঞান হওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে।

৬. চোখের দৃষ্টিতে সমস্যা দেখা দিলে।

চিকিৎসক প্রথমে রোগীর পূর্ববর্তী স্বাস্থ্য ইতিহাস এবং লক্ষণগুলো পর্যালোচনা করবেন। কোনো সন্দেহজনক লক্ষণ পাওয়া গেলে, ড. শর্মার ভাষ্য অনুযায়ী, মস্তিষ্কের কোনো কাঠামোগত ত্রুটি বা তরল প্রবাহের সমস্যা আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে এমআরআই বা সিটি স্ক্যান করার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।

চিকিৎসা:

প্রাইমারি কফ হেডেকের ক্ষেত্রে: লক্ষণ ও ব্যথার তীব্রতা কমানোর জন্য নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ ব্যবহার করা হয়। অনেক সময় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যা নিজেই ঠিক হয়ে যায়।

সেকেন্ডারি কাফ হেডেকের ক্ষেত্রে: এর চিকিৎসা পুরোপুরি নির্ভর করে মূল রোগটি কী, তার ওপর। রোগ নির্ণয়ের পর ব্যক্তিগত ওষুধ, বিশেষায়িত নিউরোলজিক্যাল কেয়ার কিংবা প্রয়োজনভেদে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের শেষ পরামর্শ:

কাশি দিলেই মাথায় ব্যথা হওয়া কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়। বিশেষ করে এটি যদি নতুন শুরু হয় এবং তীব্র হয়, তবে ঘরে বসে নিজে নিজে ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার মাধ্যমে সম্ভাব্য বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব এবং এতে মানসিক স্বস্তিও ফেরে।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দীর্ঘক্ষণ বসে থাকায় পায়ে ব্যথা ও ফোলা? সমাধান দেবে এই ব্যায়াম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৫৯ এম


দীর্ঘক্ষণ বসে থাকায় পায়ে ব্যথা ও ফোলা? সমাধান দেবে এই ব্যায়াম

দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করার ফলে পায়ে ব্যথা, পায়ের পাতা ফুলে যাওয়া এবং গোড়ালিতে অস্বস্তির সমস্যায় ভুগছেন অনেকেই। বিশেষ করে ৪০ বছরের বেশি বয়সিদের মধ্যে এ ধরনের সমস্যা বেশি দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পায়ে ব্যথা, ফোলা কিংবা ঘন ঘন কালশিটে পড়া কখনো কখনো জটিল রোগের পূর্বলক্ষণ হতে পারে। তাই এসব সমস্যাকে অবহেলা না করে প্রয়োজনীয় যত্ন নেওয়া জরুরি।

পায়ের ব্যথা কমাতে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে চিকিৎসকরা নিয়মিত ব্যায়ামের পরামর্শ দিচ্ছেন। এর মধ্যে একটি সহজ ব্যায়াম হলো ‘অ্যাঙ্কল বেন্ডিং’, যা চেয়ারে বসে করা সম্ভব। অফিসে কাজের ফাঁকেও এই ব্যায়াম অনুশীলন করা যায়।

মাত্র কয়েক ধাপে এই ব্যায়ামটি করা সম্ভব। প্রথমে চেয়ারে সোজা হয়ে বসতে হবে, মাথা, ঘাড় ও পিঠ সোজা রাখতে হবে। এরপর দুই পা সামনে প্রসারিত করে শ্বাস নিতে নিতে গোড়ালি মাটিতে রেখে পায়ের আঙুল ওপরে তুলতে হবে। এরপর শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে গোড়ালি তুলে পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিতে হবে। এইভাবে দুই ধাপ পর্যায়ক্রমে ৫ থেকে ৭ বার করতে হবে এবং প্রতিটি অবস্থানে কয়েক সেকেন্ড স্থির থাকতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত অ্যাঙ্কল বেন্ডিং করলে হাঁটুর ব্যথা কমতে পারে, কাফ মাসলের যন্ত্রণা দূর হয় এবং সায়াটিকার ব্যথাতেও উপকার মেলে। আর দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা ব্যক্তিদের পায়ে রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয় এবং পেশির শক্তি বৃদ্ধি পায়। হাই হিল জুতা পরার কারণে গোড়ালিতে ব্যথা হলেও এই ব্যায়াম সহায়ক হতে পারে।

যাদের হাঁটুতে অস্ত্রোপচার হয়েছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ব্যায়াম করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, নিয়মিত অনুশীলন পায়ের নানা সমস্যা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নতুন এআই প্রযুক্তি, সাফল্য অক্সফোর্ডের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

০৫:০০ এম


উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নতুন এআই প্রযুক্তি, সাফল্য অক্সফোর্ডের

বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ১৩০ কোটিরও বেশি মানুষ উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনে ভুগছেন। হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি বিকল হওয়া এবং অকাল মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ এটি। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে অভিহিত করা হয়, কারণ এটি কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতি করতে পারে।

সাধারণত রক্তচাপ মেপে এই রোগ নির্ণয় করা হলেও তা শরীরের ভেতরে ইতোমধ্যেই ঘটে যাওয়া ক্ষতির প্রকৃত রূপ প্রকাশ করতে পারে না। এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের গবেষকরা ‘হাইপ্রিভেন্ট’ নামের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। এই প্রযুক্তি উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে সক্ষম।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ইনোভেশনসের তথ্যমতে, ‘হাইপ্রিভেন্ট’ প্ল্যাটফর্মটি একটি অভিনব কম্পিউটেশনাল ফ্রেমওয়ার্ক ব্যবহার করে এবং এটি এআই, কন্ট্রাস্টিভ লার্নিং এবং বিভিন্ন অঙ্গের ক্লিনিকাল ও ইমেজিং ডেটার সমন্বয়ে কাজ করে।

এটি কেবল রক্তচাপের রিডিংয়ের ওপর নির্ভর না করে, বরং বিভিন্ন অঙ্গের ডেটা বিশ্লেষণ করে রোগের তীব্রতার ধরন এবং এর গতিপ্রকৃতি মানচিত্রের মতো ফুটিয়ে তোলে। সুস্থ এবং উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত উভয় শ্রেণির মানুষের ডেটা দিয়ে এই এআই-কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, ফলে এটি নিখুঁতভাবে রোগীর শারীরিক ক্ষতির ধরন বিশ্লেষণ করতে পারে।

গবেষকদের মতে, একই রক্তচাপের রিডিং থাকা দুজন রোগীর অভ্যন্তরীণ অঙ্গের ক্ষতি এবং ভবিষ্যতের কার্ডিওভাসকুলার ঝুঁকির মাত্রা সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে। ‘হাইপ্রিভেন্ট’ ঠিক এই সূক্ষ্ম পার্থক্যটিই ধরে ফেলে।

দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ রক্তচাপ শরীরের রক্তনালী এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর মারাত্মক ক্ষতি করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি ৮ লাখ মানুষ উচ্চ রক্তচাপজনিত কারণে মারা যান।

বিশেষজ্ঞরা উচ্চ রক্তচাপজনিত অঙ্গের ক্ষতি বা এইচএমওডি-কে চিহ্নিত করাকে খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন, যেগুলোর মধ্যে রয়েছে হার্টের পেশি পুরু হয়ে যাওয়া, কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাস, ধমনী শক্ত হয়ে যাওয়া, মস্তিষ্কের সূক্ষ্ম রক্তনালীর ক্ষতি, এবং চোখের রেটিনার সমস্যা। ‘জার্নাল অব হিউম্যান হাইপারটেনশন’-এ প্রকাশিত গবেষণা বলছে, এই অঙ্গগুলোর ক্ষতিই যেহেতু রোগীর ভবিষ্যৎ হার্ট অ্যাটাক বা মৃত্যুর সবচেয়ে বড় পূর্বাভাস, সাধারণ পরীক্ষায় এই ক্ষতিগুলো ধরা পড়ে না। এখন এই এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে আগেভাগেই ধরা সম্ভব।

অক্সফোর্ডের এই উদ্যোগটি মূলত কার্ডিওভাসকুলার চিকিৎসায় এআই ব্যবহারের একটি ধারাবাহিক অংশ। এর আগে ২০২৪ সালে অক্সফোর্ডের র্যাডক্লিফ ডিপার্টমেন্ট অব মেডিসিনের গবেষকরা একটি এআই সিস্টেম তৈরি করেছিলেন যা নিয়মিত কার্ডিয়াক সিটি স্ক্যান বিশ্লেষণ করে ১০ বছর আগেই হার্ট অ্যাটাক ও হার্ট ফেইলিউরের পূর্বাভাস দিতে সক্ষম। সম্প্রতি আরেকটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গবেষকরা উপসর্গ দেখা দেওয়ার অন্তত ৫ বছর আগেই ৮৬ শতাংশ নির্ভুলতায় হার্ট ফেইলিউরের পূর্বাভাস দিতে পেরেছেন।

ভবিষ্যতের ক্লিনিকাল ট্রায়ালে সফল হলে ‘হাইপ্রিভেন্ট’ রোগীদের জন্য বেশ কিছু বড় সুবিধা নিয়ে আসবে। তাতে দ্রুত রোগ নির্ণয়, ব্যক্তিগতকৃত চিকিৎসা, এবং নতুন ওষুধ তৈরির প্রক্রিয়া সহজ হবে।

তবে প্রযুক্তিটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হলেও, এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সাধারণ চিকিৎসায় নিয়মিত ব্যবহারের আগে বিভিন্ন জাতি ও অঞ্চলের মানুষের ওপর এর ব্যাপক পরীক্ষা প্রয়োজন। এই এআই সিস্টেমটি যেন কোনো সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে পারে এবং বিদ্যমান চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে সহজে খাপ খাইয়ে নিতে পারে, তা নিশ্চিত করার পরই এটি বিশ্বজুড়ে ব্যবহারের অনুমোদন পাবে।

সবশেষে, অক্সফোর্ডের ‘হাইপ্রিভেন্ট’ প্ল্যাটফর্মটি উচ্চ রক্তচাপের সুপ্ত শারীরিক প্রভাবগুলো বোঝার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক। চিকিৎসা বিজ্ঞান যেভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে আপন করে নিচ্ছে, তা নিশ্চিতভাবেই উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের জীবন বাঁচাতে এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতের ওপর উচ্চ রক্তচাপের চাপ কমাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চুইংগাম চিবোলে কি সত্যিই মুখের চর্বি কমে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৪৭ এম


চুইংগাম চিবোলে কি সত্যিই মুখের চর্বি কমে?

মুখের গঠন আরও আকর্ষণীয় করতে বা জওলাইন স্পষ্ট দেখানোর উদ্দেশ্যে অনেকেই নিয়মিত চুইংগাম চাবান। যাদের মধ্যে এই বিশ্বাস রয়েছে যে, এতে মুখের অতিরিক্ত মেদ কমে যায় এবং মুখ আরও চিকন দেখায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এই বিষয় সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দেন এবং তারা বলেন, এই ধারণার পক্ষে তেমন কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

অর্থোপেডিক সার্জন ও ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এটি সম্পর্কে বলেন। দীর্ঘ সময় ধরে চুইংগাম চাবানোর প্রভাব মুখের চর্বির ওপর নয়, বরং চোয়ালের পেশি ও জয়েন্টের ওপর বেশি পড়ে।

চোয়ালের দুই পাশে টেম্পোরোম্যান্ডিবুলার (টিএম) জয়েন্ট আমাদের কথা বলা, খাবার চিবানো এবং মুখ নড়াচড়া করার কাজের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মাঝে মাঝে চুইংগাম চাবানো সাধারণত ক্ষতিকর নয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে একই কাজ করতে থাকলে চোয়ালের জয়েন্ট ও আশপাশের পেশিগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। এর ফলে এক ধরনের পুনরাবৃত্ত চাপজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অতিরিক্ত চুইংগাম চাবানোর কারণে চোয়ালে ক্লিক বা টিকটিক শব্দ হওয়া, জয়েন্টে অস্বস্তি বা শক্তভাব অনুভব করা, কানের পাশ কিংবা কপালে মাথাব্যথা এবং খাবার চাবানোর সময় ব্যথা হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

মুখের মেদ কমানোর বিষয়ে চিকিৎসকরা বলেন, চুইংগাম চাবানোর ফলে চোয়ালের পেশি কিছুটা সক্রিয় বা শক্তিশালী হতে পারে, কিন্তু এর মাধ্যমে মুখের চর্বি কমানো সম্ভব নয়। শরীরের নির্দিষ্ট কোনো অংশের মেদ শুধুমাত্র সেই অংশ বেশি ব্যবহার করলেই কমে যায়—এমন ধারণা সঠিক নয়। ফলে চুইংগাম চিবিয়ে মুখ চিকন করার দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থিত নয়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, চোয়ালের জয়েন্টকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়া উচিত। তাই মাঝে মাঝে চুইংগাম খাওয়া যেতে পারে, তবে দীর্ঘ সময় ধরে চাবানোর অভ্যাস এড়িয়ে চলাই ভালো। মুখের সৌন্দর্য বাড়াতে বা দ্রুত জওলাইন তৈরি করতে অতিরিক্ত চুইংগামের ওপর নির্ভর না করে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও সুষম খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করাই বেশি কার্যকর। অতিরিক্ত চাবানোর ফলে বরং চোয়ালে ব্যথা ও অন্যান্য অস্বস্তি তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%