ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

৬ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দিলেন আন্দোলনকারীরা, স্থগিত অবস্থান কর্মসূচি


৬ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দিলেন আন্দোলনকারীরা, স্থগিত অবস্থান কর্মসূচি

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) নিয়মিত কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি ‘স্বয়ংসম্পূর্ণ চাকরি-বিধিমালা’ (সার্ভিস রুলস) বাস্তবায়নে আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হলে কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি তাদের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, যাত্রীভোগান্তির কথা বিবেচনা করে ডিএমটিসিএল ভবনের সামনে চলমান অবস্থান কর্মসূচি আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) ডিএমটিসিএলের নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিক থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৩ সালে ডিএমটিসিএল প্রতিষ্ঠার পরে এক যুগ অতিক্রম হলেও প্রায় ৯০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য কোনো স্বতন্ত্র চাকরি-বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়নি। শৃঙ্খলা বিধান এবং চাকরির নিরাপত্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকার ফলে প্রশাসনে অনিশ্চয়তা, বৈষম্য এবং অস্বচ্ছতা সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন: পতেঙ্গায় শিশু সোহাগ হত্যা: ইমাম হোসেনের মৃত্যুদণ্ড

এর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পড়ছে মেট্রোরেলের অপারেশন এবং মেইনটেন্যান্স কর্মকাণ্ডে।

কর্মচারীরা জানিয়েছেন, আন্দোলনের ফলে প্রতিষ্ঠানের ৭৩তম বোর্ড সভায় সার্ভিস রুলস অনুমোদন দিয়েছে। কম্পানি আইনে পরিচালিত এই স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বোর্ডের কর্তৃত্বাধীন সার্ভিস রুলস বাস্তবায়নে পূর্ণ এখতিয়ার থাকা সত্ত্বেও, অনর্থক সময়ক্ষেপণের জন্য প্রস্তাবটি অর্থ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে মতামতের জন্য পাঠানো হয়। অনুমোদন হওয়ার প্রায় সাত মাস পরে এবং একাধিক স্মারকলিপি দেওয়ার পরেও তেমন দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কর্তৃপক্ষের অব্যাহত উদাসীনতার কারণে গত ২৮ জুলাই থেকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রেখে উত্তরা দিয়াবাড়ির মেট্রো রেল ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে থাকে কর্মচারীরা। তবে, গত ৩০ জুলাইয়ের নির্ধারিত বোর্ড সভাটি অনিবার্য কারণে স্থগিত হওয়ায় এবং সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার কথা মাথায় রেখে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে।

কর্মচারীরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ৬ আগস্টের মধ্যে সার্ভিস রুলস কার্যকর না হলে সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একযোগে কঠোর কর্মসূচি নিতে বাধ্য হবেন। যদি এর ফলে যেকোনো ধরনের জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়, তবে তার সম্পূর্ণ দায় বর্তাবে ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষের ওপর।

আরও পড়ুন: আ.লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য চেয়েছে সংসদীয় কমিটি

যাত্রীসেবা সচল রাখার পাশাপাশি কর্মীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে পরবর্তী বোর্ড সভায় কর্তৃপক্ষ ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে বলেই আন্দোলনকারীরা আশা প্রকাশ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেপ্টেম্বরের ফিফা উইন্ডোতে খেলতে নামবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:১৩ পি.এম


সেপ্টেম্বরের ফিফা উইন্ডোতে খেলতে নামবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল চলতি বছরের সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক বিরতিতে প্রীতি ম্যাচ খেলার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে। সদ্যসমাপ্ত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পর এটাই হবে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মাঠে নামার প্রথম সুযোগ।

ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডোটি আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ১৬ দিন স্থায়ী হবে। এই দীর্ঘ বিরতির সময় কোচ লিওনেল স্কালোনি সর্বোচ্চ ৪টি প্রীতি ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা দেখছেন।

তবে প্রাথমিকভাবে ২টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এরপর নভেম্বরে ২০২৬ সালের ফুটবল ক্যালেন্ডার শেষ করতে আরো ২টি প্রীতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা রয়েছে আলবিসেলেস্তেদের।

আর্জেন্টিনা ২০৩০ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক তিন দেশের মধ্যে একটি। তাই ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া ল্যাটিন আমেরিকার মূল বাছাইপর্বের বৈতরণী পার করতে হবে না তাদের। আর্জেন্টিনা ইতিমধ্যেই স্বাগতিক হিসেবে মূল পর্বে খেলার টিকিট নিশ্চিত করে রেখেছে।

বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত থাকায় দলের যথাযথ প্রস্তুতির জন্য কনমেবল এবং ইউরোপীয় ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা (উয়েফা) যৌথভাবে এক নেশনস লিগ ধাঁচের টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। এর ফলে আর্জেন্টিনা ইউরোপের শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৫ বছর পর ১০০ টাকার পাওনা শোধ, সততায় মুগ্ধ আখাউড়াবাসী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শরীফ উদ্দিন (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:১৬ পি.এম


১৫ বছর পর ১০০ টাকার পাওনা শোধ, সততায় মুগ্ধ আখাউড়াবাসী

প্রায় ১৫ বছর আগে লেনদেনের সময় অসাবধানতাবশত ১০০ টাকা কম পরিশোধ করেছিলেন শমসের আলী। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই পাওনার কথা তিনি ভুলে যাননি। অবশেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা থেকে আখাউড়ায় এসে তিনি পাওনাদারের হাতে সেই ১০০ টাকা তুলে দিয়ে সততার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে সদর উপজেলার মজলিশপুর থেকে আখাউড়া পৌর এলাকার খড়মপুরে এসে খাদেম এয়ার সার্ভিসের স্বত্বাধিকারী এম. এন. এইচ. খাদেম দুলালের হাতে ১০০ টাকা পরিশোধ করেন শমসের আলী। শমসের আলী জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে বিদেশে লোক পাঠানো সংক্রান্ত একটি লেনদেনের সময় তিনি ভুলবশত ১০০ টাকা কম দিয়েছিলেন। বিষয়টি তিনি দীর্ঘদিন ধরে মনে রেখেছিলেন। তার বিশ্বাস, অল্প বা বেশি, অন্যের পাওনা পরিশোধ করা একজন মানুষের নৈতিক দায়িত্ব।

পরে জানতে পারেন, দুলাল খাদেম শুক্রবার গ্রামের বাড়িতে আসবেন। তাই সুযোগ পেয়ে তিনি নিজেই পাওনা শোধ করতে চলে আসেন। এম. এন. এইচ. খাদেম দুলাল বলেন, এত বছর আগের ওই লেনদেনের বিষয়টি তার মনেও ছিল না। শমসের আলী এসে ১০০ টাকা ফেরত দেওয়ায় তিনি বিস্মিত হন। পরে সেই টাকা আবারও শমসের আলীর হাতে ফিরিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, "এটি দিয়ে কিছু খেয়ে নিন। আপনার এই সততা আমাকে সত্যিই মুগ্ধ করেছে।"

শমসের আলীর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ স্থানীয়দের কাছেও ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। তাদের মতে, বর্তমান সময়ে যেখানে অনেকেই বড় অঙ্কের পাওনাও অস্বীকার করেন, সেখানে ১৫ বছর পর মাত্র ১০০ টাকার পাওনা পরিশোধ করতে এত দূর থেকে ছুটে আসা সততা, নৈতিকতা ও দায়বদ্ধতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান বিরোধী সৌদি জোটে বাংলাদেশ! মুসলিম শক্তি ধ্বংসের মাস্টারপ্লান?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এম এ সাঈদ

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:১৭ পি.এম


ইরান বিরোধী সৌদি জোটে বাংলাদেশ! মুসলিম শক্তি ধ্বংসের মাস্টারপ্লান?



ইরানকে এক সপ্তাহে যুদ্ধ করে ইরানকে ধ্বংস করতে আসা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যখন চার মাসের যুদ্ধেও ইরানকে পরাজিত করতে পারেনি কিংবা হরমুজ প্রণালী নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেনি। নতুন করে বন্ধ হতে যাওয়া লোহিত সাগরে বাব-আল মান্দেব প্রণালীও একপ্রকার বন্ধ হওয়ার পথে। সেই ইরান কে সামরিক শক্তি দিয়ে ধ্বংস করা তো দূরের কথা, তাদের নিজেদের যুদ্ধ করার সক্ষমতা কিংবা অস্ত্রভাণ্ডারে আর কয়দিন যুদ্ধ করা যাবে এমন বিষয় নিয়েও যখন প্রশ্ন উঠছে, এমন সময় ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের নেতৃত্বে মুসলিম নেতৃত্বাধীন একটি জোট গঠন কতটা যুক্তি সঙ্গত তা প্রশ্নের দাবি রাখে। 

 
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি আবারও এক নতুন মোড়ে দাঁড়িয়ে গেছে কি। এমন এক সময়ে সৌদি আরবের নেতৃত্বে ইরানবিরোধী একটি নতুন আঞ্চলিক জোটের আলোচনা সামনে এসেছে, যখন অঞ্চলটি দীর্ঘ চার মাসের ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে অবতীর্ণ হয়েছে। যা দীর্ঘ সংঘাত, অবিশ্বাস ও বিশ্ব পরাশক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা তথা স্নায়ু যুদ্ধের ভার বহন করছে। প্রশ্ন উঠছে—এই উদ্যোগ কি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক সামরিক মেরুকরণের সূচনা, নাকি এটি বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের আরেকটি অধ্যায়? আর যদি বাংলাদেশের মতো শান্তিপ্রিয় রাষ্ট্রও এমন কোনো জোটের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়, তবে তার সম্ভাব্য রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাগত প্রভাব কী হতে পারে?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে তাদের সর্বোচ্চ সামরিক শক্তি প্রয়োগ করার পরও কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে পারেনি। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এক সপ্তাহের ব্যবধানে ইরানের শক্তি-সামর্থ্য গুড়িয়ে দিয়ে জয় লাভের চেষ্টায় যুদ্ধ শুরু করেছিল সেখানে চার মাস ধরে চলা মারাত্মক প্রাণঘাতী যুদ্ধের এই পর্যায়ে এসে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে গোটা বিশ্বের গণমাধ্যমগুলো বলছে বিশ্ব পরাশক্তি হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজছে কারণ তাদের সামরিক শক্তির দুর্বলতা প্রকাশ পাচ্ছে। খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম এমন কথা স্বীকার করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ সরঞ্জাম এন্টিসেপ্টর মিসাইল সর্বাধুনিক টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় শেষের দিকে। এ কারণে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে চেষ্টা করা যুক্তরাষ্ট্রই যুদ্ধে ক্ষান্ত দিয়েছে কয়েকদিন থেকে, এর মধ্যে ইরানি হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক স্টিল্থ ফাইটার জেট থেকে শুরু করে কোটি কোটি ডলার মূল্যের সামরিক ড্রোন, ড্রোন ঘাঁটি, বিমান ঘাঁটি, অস্ত্র গুদাম থেকে শুরু করে সবকিছুই তছনছ করে দিয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে যা স্যাটেলাইট চিত্রের মাধ্যমে প্রমাণিত সেখানে এই মুসলিম রাষ্ট্র গুলো কেন একটি নতুন জোট গঠন করতে যাচ্ছে যা ইরান বিরোধী? ইরান যখন সেখানে একাই বিশ্ব পরাশক্তিকে  নাকানি চুবানি খাইয়েছে সেখানে এই জোট গঠন কতটা যৌক্তিক? পরোক্ষভাবে ইরানকে সহায়তাকারী রাশিয়া, চীন কিংবা উত্তর কোরিয়ার প্রসঙ্গটি যেহেতু প্রকাশ্য নয় তারপরেও ওপেন সিক্রেট একটা বিষয় যে, রাষ্ট্রগুলোর মধ্যপ্রাচ্যের এই অঞ্চলে তাদের রাজনৈতিক সামরিক ও কৌশলগত ভূ রাজনৈতিক স্বার্থ থাকায় এখানে এই রাষ্ট্রগুলো ইরানকে যেকোন ভাবে সাহায্য করছে এবং হয়তো ভবিষ্যতেও করবে। যদি তেমনটি হয় তাহলে ইরান বিরোধী জোটে গিয়ে মুসলিম অপর উদীয়মান শক্তি গুলো কি নিজেরা নিজেদের ধ্বংস ডেকে আনবে?

এমন একটি প্রেক্ষাপটে, যদি নতুন করে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর একটি অংশকে ইরানবিরোধী অবস্থানে সংগঠিত করার চেষ্টা হয়ে থাকে, তবে সেটিকে কেবল একটি আঞ্চলিক উদ্যোগ হিসেবে দেখার সুযোগ সীমিত। বরং এটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে না তার গ্যারান্টি কে দেবে? যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইল কৌশলী সমর্থন দিয়ে দূর থেকে বসে দেখবে যে এক মুসলিম রাষ্ট্রকে ধ্বংস করতে আরো চৌদ্দটি মুসলিম রাষ্ট্র একত্রিত হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের সাথে না পেরে ওঠার পরবর্তী আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও কৌশলগত সমীকরণের অংশ বলেই মনে হতে পারে।

প্রশ্ন হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম রাষ্ট্রগুলো কিংবা এই জোটে নাম লেখানো রাষ্ট্রগুলো ইরানের সাথে মুসলিম দেশ হিসেবে যখন আলোচনার টেবিলে বসে পারস্পরিক আস্থা ও সমঝোতার পথ খোঁজার সুযোগ ছিল, তখন কেন নতুন বিভাজনের রাজনীতি? তবে কি মুসলিমরা শেষ পর্যন্ত নিজেরাই নিজেদের ধ্বংস ডেকে আনবে? কারণ ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের অপরাজেয় অবস্থা এমনটা মনে করিয়ে দেয় যে সেখানে ইরান ঐশ্বরিকভাবে সৃষ্টিকর্তা কতৃক প্রদত্ত কোন সহায়তা পাচ্ছে, তা না হলে দীর্ঘ প্রায় অর্ধশতক ধরে একটি নিষেধাজ্ঞা পীড়িত দেশ পরাশক্তির বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করা সহজ কথা নয়-এটি আধ্যাত্মিক জ্ঞানের সমন্বয় ছাড়া অনুভব করা কঠিন ।

সেই পরিস্থিতিতে মুসলিম বিশ্বের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যকে আরও গভীর করে এমন কোনো ইরান বিরোধী জোট গঠন কিংবা এর উদ্যোগ কি শেষ পর্যন্ত মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকেই মুখোমুখি সংঘাতে ঠেলে দেবে নাতো? ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, অভ্যন্তরীণ বিভক্তির সুযোগই বাইরের শক্তির কৌশলগত সুবিধাকে আরও সুদৃঢ় করে। এর মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিশ্বের উদীয়মান মুসলিম শক্তিগুলোকে আর নতুন করে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ধ্বংস করতে হবে না। এই সুযোগে নিজেরাই নিজেরা যুদ্ধ করে ধ্বংসর দিকে ধাবিত হবে এমন কূটনৈতিক কৌশল থেকে হয়তো এই জোট গঠনে ইন্ধন দিচ্ছে। বিষয়টি মুসলিম রাষ্ট্রগুলো যদি এখনই বুঝতে না পারে তাহলে তাদের ভবিষ্যৎ কি হবে একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই নির্ধারণ করতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরাশক্তি বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন নিজের অবস্থানকে দুর্বল মনে করে কিংবা আধিপত্য বজায় রাখতে গিয়ে কোথাও হামলা করে প্রত্যাশিত ফল অর্জনে ব্যর্থ হয়, তবে পরবর্তী ধাপে আঞ্চলিক মিত্রদের সামনে এনে সংঘাতের নতুন রূপ দেওয়ার চেষ্টা অস্বাভাবিক কিছু নয়। সে দৃষ্টিকোণ থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন সম্ভাব্য এই জোটকে কেউ কেউ মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে ধ্বংস করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবেও ব্যাখ্যা করছেন। এই ব্যাখ্যা সঠিক কি না, তা সময়ই বলে দেবে; তবে এমন প্রশ্ন উত্থাপনের যথেষ্ট রাজনৈতিক ভিত্তি রয়েছে।

এই জোট গড়ার লক্ষ্যে প্রাথমিক বৈঠকে চল্লিশের বেশি (৪৩টি) রাষ্ট্রের অংশগ্রহণের খবর থাকলেও শেষ পর্যন্ত সীমিত সংখ্যক (১৪টি) দেশের নাম আলোচনায় এসেছে তার মধ্যে বাংলাদেশের নামটিও উঠে এসেছে। এটিও ইঙ্গিত দেয় যে বিষয়টি নিয়ে মুসলিম বিশ্বের মধ্যেই বেশিরভাগ মুসলিম রাষ্ট্র মিলে একক অবস্থান গড়ে ওঠেনি। যেমন মধ্যপ্রাচ্যেরই সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও ইরাক এই জোটে অংশগ্রহণ করেনি।

অন্যদিকে, ইরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্যের প্রশ্নে চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার অবস্থানও মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। তারা সরাসরি নিজেদের অবস্থানকে ঠিক রাখতে যেহেতু ইরানকে সমর্থন দিচ্ছে ফলে ইরান বিরোধী কোনো নতুন সামরিক জোটের রাজনৈতিক বা সামরিক কার্যকারিতা যে ভবিষ্যতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে আরেকটি নতুন ফ্রন্ট খুলে নিজেরা নিজেরাই ধ্বংস হবে কিনা বা তার ভবিষ্যৎ কতটা সুখকর হবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—যে কোনো নতুন সামরিক মেরুকরণ সংঘাতের পরিধি বাড়ানোর ঝুঁকি বহন করে। একটি আঞ্চলিক সংঘাত খুব সহজেই বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপ নিতে পারে। আর মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা যদি আরও বিস্তৃত হয়, তার অভিঘাত শুধু ওই অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; জ্বালানি বাজার, বৈশ্বিক বাণিজ্য, সমুদ্রপথ এবং এশিয়ার সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও এর প্রভাব অনুভব করবে।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভৌগোলিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ার একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ বরাবরই ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের চেষ্টা করেছে। এমন একটি সময়ে, যখন দেশ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে, তখন কোনো আন্তর্জাতিক সামরিক জোটে সম্পৃক্ত হওয়ার প্রশ্নে অত্যন্ত সতর্ক, সুদূরপ্রসারী ও বাস্তবভিত্তিক মূল্যায়ন অপরিহার্য।

বাংলাদেশের দীর্ঘদিন থেকে যেমন ভাবে চলে এসেছে, যে রাষ্ট্রের রাষ্ট্রনীতি হওয়া উচিত—যুদ্ধ নয়, শান্তির পক্ষে অবস্থান; মেরুকরণ নয়, সংলাপের পক্ষে ভূমিকা; সংঘাত নয়, কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান। কারণ যুদ্ধের আগুন কখনো সীমান্ত মানে না। একবার দাবানল ছড়িয়ে পড়লে তার তাপ থেকে নিরাপদ থাকে না কোনো অঞ্চল, কোনো অর্থনীতি, এমনকি কোনো নিরপেক্ষ রাষ্ট্রও।

সুতরাং, হতে পারে এটা বিশ্ব পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু থেকে পরবর্তী চার মাস ধরে ক্রমাগত ইরানের কাছে পরাজয় থেকে সরে আসার রাস্তা তৈরি করা। যাতে ইরানের বিরুদ্ধে তাদের পালিত সৌদি সহ অন্যান্য মুসলিম বা অন্যরাষ্ট্রগুলো মিলে এমন একটি যুদ্ধ ক্ষেত্র তৈরি করবে যাতে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইল ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে সরে যেতে পারে এবং তার পরিবর্তে মুসলিম উদীয়মান শক্তি গুলো নিজেরা নিজেরাই যুদ্ধ করে ধ্বংস হয়ে যাবে। সম্ভাব্য এমন যে কোনো সামরিক জোটে অংশগ্রহণের আগে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের উচিত বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করা। মুহূর্তের রাজনৈতিক হিসাব নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থই হওয়া উচিত সিদ্ধান্তের একমাত্র মানদণ্ড। কারণ ভুল কৌশলগত সিদ্ধান্তের মূল্য একটি রাষ্ট্রকে বহু বছর ধরে বহন করতে হতে পারে এমন কথা বাংলাদেশের বর্তমান স্পর্শকাতর রাজনৈতিক অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বলা মনে হয় অমূলক হবে না।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুলিশিংয়ের মতো চ্যালেঞ্জিং দায়িত্বে দেহ-মনের সুস্থতা জরুরি: আইজিপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:১৯ পি.এম


পুলিশিংয়ের মতো চ্যালেঞ্জিং দায়িত্বে দেহ-মনের সুস্থতা জরুরি: আইজিপি

মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলাধুলায় পুলিশের সাফল্য রয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ ক্রীড়া ক্ষেত্রেও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখতে চায়।

আমরা সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চাই।

আজ শুক্রবার বিকালে ঢাকার পূর্বাচলে নবনির্মিত বাংলাদেশ পুলিশ ফুটবল গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ পুলিশ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ (আইজিপি কাপ)-২০২৫ প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলায় পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি।

পুলিশিংয়ের মতো চ্যালেঞ্জিং দায়িত্ব পালনের জন্য দেহ-মনের সুস্থতা প্রয়োজন জানিয়ে আইজিপি বলেন, নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চা একজন পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব পালনে আরো বেশি কর্মক্ষম এবং সক্ষম করে তোলে।

এ সময় আইজিপি প্রতিযোগিতায় উভয় দলের খেলোয়ারদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, নিষ্ঠার সঙ্গে নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেদেরকে সেরা খেলোয়াড় হিসেবে তৈরি করতে হবে।

এ সময় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার ও বাংলাদেশ পুলিশ ফুটবল ক্লাবের সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার ও বাংলাদেশ পুলিশ ফুটবল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামীমা পারভীন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত আইজি, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা।

পুলিশ বলছে, ফাইনাল খেলা সিলেট রেঞ্জ ফুটবল দল এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জ ফুটবল দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। উভয় দল অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করে।

তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপूर्ण প্রতিযোগিতায় সিলেট রেঞ্জ চট্টগ্রাম রেঞ্জকে ১-০ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। প্রতিযোগিতায় সিলেট রেঞ্জের জীবন ম্যান অব দ্য ম্যাচ ও আমিরুল ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট হয়েছেন।

আইজিপি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে ট্রফি ও পুরস্কার বিতরণ করেন।

এর আগে আইজিপি পিওএইচএস-১ আবাসিক এলাকায় গ্রিন মার্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে মার্টটি নির্মিত হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%