ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাংলাদেশি ভেবে নিজ দেশের দুই নাগরিককে গুলি করে ফেলে গেল বিএসএফ


বাংলাদেশি ভেবে নিজ দেশের দুই নাগরিককে গুলি করে ফেলে গেল বিএসএফ

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গরু চোরাচালানের সময় দুই ভারতীয় নাগরিককে আটক করার পর বাংলাদেশ সীমান্তে গুলি করে ফেলে দিয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) মধ্যরাতে কুড়িগ্রামের দই খাওয়া সীমান্তে তাদের ফেলে দেওয়া হয়।

পরে আহত দুই ভারতীয় নাগরিককে তাদের বাংলাদেশি সহযোগীরা উদ্ধার করে রংপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখান থেকে ডিবি তাদের আটক করে। পরে পুলিশের হেফাজতে তারা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: নীলফামারীতে পরিবেশ দূষণের জন্য রাফি অটো রাইস মিলকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

গুলিবিদ্ধ দুজনের মধ্যে আব্দুল আলীম ও ইসমাইল হোসেন রয়েছেন। তারা ভারতের আসাম রাজ্যের সুখচর থানার দক্ষিণ সালমারা মাইনকার চর বড়বালু এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মজিদ মন্ডল ও মৃত আব্দুল করিম শেখের সন্তান। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আব্দুল আলীমের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

গুলিবিদ্ধ ইসমাইল হোসেন জানিয়েছেন, বিএসএফ তাদের বাংলাদেশি ভেবে ভারতীয় সীমান্তের অভ্যন্তরে আটক করে। পরে তারা বাংলাদেশ সীমান্তে নিয়ে এসে গুলি করে ফেলে রেখে চলে যায়।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানিয়েছেন, ভারতীয় দুই নাগরিককে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রহণ করবে।

কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ান ২২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহাবুব উল হক জানিয়েছেন, সীমান্তে গুলির কোনো ঘটনা ঘটেনি।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে এগিয়ে দেলাওয়ার আসন ধরে রাখার চ্যালেঞ্জে বিএনপি, জয়ের সম্ভাবনা দেখছে জামায়াত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাইকগাছায় প্রাণীর আক্রমণ বৃদ্ধি, দুই মাসে আক্রান্ত ৭৩৯ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫০ পি.এম


পাইকগাছায় প্রাণীর আক্রমণ বৃদ্ধি, দুই মাসে আক্রান্ত ৭৩৯ জন

খুলনার পাইকগাছায় কুকুর, বিড়াল এবং অন্যান্য প্রাণীর আক্রমণের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত দুই মাসে এসব প্রাণীর কামড় ও আঁচড়ে আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন ৭৩৯ জন। আগস্ট মাসে ৩৮৬ জন এবং সেপ্টেম্বরে ৩৫৩ জন ভ্যাকসিন নিয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে কুকুরের আক্রমণের শিকার হয়ে চিকিৎসা নিতে আসেন ৮১ জন। বিড়ালসহ অন্যান্য প্রাণীর আক্রমণের শিকার হন ৩০৫ জন। সব মিলিয়ে ওই মাসে প্রাণীর আক্রমণের ঘটনায় চিকিৎসা নেন ৩৮৬ জন। তাদের মধ্যে ক্যাটাগরি-১-এর রোগী ছিলেন ৩২ জন, ক্যাটাগরি-২-এর ৩২৫ জন এবং ক্যাটাগরি-৩-এর ২৯ জন।

আগস্টে এসব রোগীর মধ্যে প্রথম ডোজের ভ্যাকসিন নিয়েছিলেন ১৩২ জন, দ্বিতীয় ডোজ ১১০ জন এবং তৃতীয় ডোজ ১৪৪ জন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাব অনুযায়ী, ওই মাসে মোট ৩৮৬ জন ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন।

সেপ্টেম্বর মাসেও প্রাণীর আক্রমণের ঘটনা কমেনি। ওই মাসে কুকুরের আক্রমণের শিকার হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন ৩৭ জন। বিড়ালসহ অন্যান্য প্রাণীর আক্রমণের শিকার হন ৩১৬ জন। এ মাসে ক্যাটাগরি-১-এর রোগী ছিলেন ২ জন, ক্যাটাগরি-২-এর ৩৩৭ জন এবং ক্যাটাগরি-৩-এর ১৪ জন।

সেপ্টেম্বরে প্রথম ডোজের ভ্যাকসিন নিয়েছেন ১২০ জন, দ্বিতীয় ডোজ ১০৫ জন এবং তৃতীয় ডোজ ১২৮ জন। সব মিলিয়ে ওই মাসে ৩৫৩ জন ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন।

দুই মাসের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রথম ডোজ নিয়েছেন ২৫২ জন, দ্বিতীয় ডোজ ২১৫ জন এবং তৃতীয় ডোজ ২৭২ জন। অর্থাৎ তিন ধরনের ডোজ মিলিয়ে মোট ৭৩৯টি ভ্যাকসিন দেওয়ার তথ্য রয়েছে।

পাইকগাছা পৌরসভার স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল ইসলাম জানান, দিন দিন পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুর ও বিড়ালের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেকেই কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হচ্ছেন। এদের নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও পাড়া-মহল্লায় অবাধে ঘুরে বেড়ানো কুকুরের সংখ্যা অনেক জায়গায় বেড়েছে। একই সঙ্গে বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড় ও আঁচড়ের ঘটনাও ঘটছে। অনেকেই প্রথমে এসব ঘটনাকে তেমন গুরুত্ব দেন না। কেউ কেউ স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়ার পর পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন নিচ্ছেন।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানাচ্ছেন, কুকুর, বিড়াল বা অন্য কোনো স্তন্যপায়ী প্রাণীর কামড় কিংবা আঁচড়ে চামড়া কেটে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। আক্রান্ত হওয়ার পর দ্রুত ক্ষতস্থান সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নির্ধারিত সময়সূচি মেনে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নিতে হবে।

বিশেষ করে কুকুরের কামড়ের ক্ষেত্রে প্রাণীটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত কি না, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে হালকাভাবে না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। ক্ষত গভীর হলে, বেশি রক্তপাত হলে কিংবা মুখ, মাথা বা শরীরের সংবেদনশীল কোনো স্থানে কামড় বা আঁচড় লাগলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে ময়না বলেন, প্রাণীর আক্রমণের শিকার হলে জলাতঙ্ক প্রতিরোধে ভ্যাকসিন নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না। জনগণকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি পোষা প্রাণীদেরও ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

পাইকগাছা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পার্থ প্রতিম দেবনাথ জানান, জলাতঙ্ক প্রতিরোধে প্রাণীদের জন্য সরকার এখন কোনো ভ্যাকসিন তৈরি করে না। কেউ প্রাণীকে ভ্যাকসিন দিতে চাইলে বাইরে থেকে কিনে দিতে হবে। জলাতঙ্ক প্রতিরোধে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে জলাতঙ্কের ঝুঁকি, প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর করণীয় এবং ভ্যাকসিন নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত প্রচার বাড়ানো প্রয়োজন। তাদের মতে, এসব বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে প্রাণীর আক্রমণের ঘটনা আরও বাড়তে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এমজিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান এম গাজিউল হক মারা গেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫১ পি.এম


এমজিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান এম গাজিউল হক মারা গেছেন

এমজিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান এম গাজিউল হক মারা গেছেন। ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ১টা ১০ মিনিটে তার মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৯২ বছর।

এমজিএইচ গ্রুপের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে। জানাজার আয়োজন করা হয়েছে সোমবার মাগরিবের নামাজের পর রাজধানীর গুলশানের আজাদ মসজিদে।

১৯৩৪ সালে জন্মগ্রহণকারী এম গাজিউল হক স্বাধীনতার পূর্বে দেশের ব্যবসা ও নৌপরিবহন খাতে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশের নৌপরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং স্থানীয় ব্যবসা ও আন্তর্জাতিক কোম্পানির মধ্যে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে কাজ করেন।

চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে ১৯৫৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন তিনি। একই বছরে ব্রিটিশ কোম্পানি বার্ড অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডে কর্মজীবন শুরু করেন। প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করার পর ১৯৭৬ সালে তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালক হন। তখন প্রতিষ্ঠানটি বার্ডস বাংলাদেশ লিমিটেড নামে পরিচিত ছিল।

১৯৮০ সালে গাজিউল হক ওই প্রতিষ্ঠান ছেড়ে উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি চট্টগ্রামভিত্তিক নৌপরিবহন কোম্পানি অ্যাকোয়ামেরিন লিমিটেডে অংশীদার হিসেবে যোগ দেন।

এক দশক পর, তার অংশীদারের সঙ্গে মিলে কোপেনহেগেনভিত্তিক নৌপরিবহন প্রতিষ্ঠান মারস্ক লাইনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে মারস্ক বাংলাদেশ লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। নৌপরিবহনের পাশাপাশি ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং, আমদানি-রপ্তানি, বিপণন, ব্যাংকিং, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব ও যৌথ উদ্যোগসহ বিভিন্ন খাতে তার ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ছিল।

এম গাজিউল হক ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯৩ সালে তিনি ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে যোগ দেন এবং দীর্ঘ সময় ব্যাংকটির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০ থেকে ২০০৬ সাল এবং ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি দুই মেয়াদে ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন।

এমজিএইচ গ্রুপের সঙ্গেও তার দীর্ঘ সম্পর্ক ছিল। ১৯৯২ সালে তার ছেলে আনিস আহমেদ এমজিএইচ গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। বাবার নামের আদ্যক্ষর থেকে প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করা হয়। বাংলাদেশভিত্তিক একটি ব্যবসা হিসেবে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি পরে সিঙ্গাপুরভিত্তিক বহুজাতিক ব্যবসায়িক গ্রুপে পরিণত হয়।

বর্তমানে ২৬টি দেশে এমজিএইচ গ্রুপের কার্যক্রম রয়েছে এবং এতে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি মানুষ কাজ করেন। গ্রুপটির ব্যবসা লজিস্টিকস, এভিয়েশন, ভ্রমণ, ভোগ্যপণ্য, স্বাস্থ্যসেবা, মোবিলিটি, আতিথেয়তা, অর্থায়ন ও বিমাসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত। দীর্ঘ ব্যবসায়িক জীবনে এম গাজিউল হক সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপি-জামায়াতের প্রতি টিআইবির আহ্বান, দল ও অঙ্গসংগঠনকে নিয়ন্ত্রণ করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫১ পি.এম


বিএনপি-জামায়াতের প্রতি টিআইবির আহ্বান, দল ও অঙ্গসংগঠনকে নিয়ন্ত্রণ করুন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলা ও হত্যার হুমকির ঘটনায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি দাবি করেছে, হামলায় জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

টিআইবি বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃত্বের প্রতি দল ও অঙ্গসংগঠনকে নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়েছে।

আজ সোমবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি জানায়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর রাতে রাবিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ ওঠে, যার ফলে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের ব্যর্থতার কারণ উদ্‌ঘাটন এবং দায় নির্ধারণের দাবি করেছে টিআইবি। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, রাজনৈতিক চাপ বা অসহায়ত্বের কথা বলে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। রাজনৈতিক পরিচয় যেন অপরাধের সুরক্ষাকবচ না হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যেন দলীয় প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে দায়িত্ব পালন করতে পারে- তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের নিতে হবে।

এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মন্তব্য করেন, ‘হামলার শিকার গণমাধ্যমকর্মী ও শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হামলাকারীদের এবং তাদের সহযোগী ও পৃষ্ঠপোষকদের আইনি প্রক্রিয়ায় দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। আহতদের যথাযথ চিকিৎসা, গণমাধ্যমকর্মী ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানসহ পুলিশের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ জনগণের তথ্য জানার অধিকার খর্ব করে এবং ক্ষমতাবানদের জবাবদিহির সুযোগ সংকুচিত করে-এর প্রতিকার রাষ্ট্রকেই নিশ্চিত করতে হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অসহায়ত্ব ও পুলিশের পলায়নপর ব্যর্থতা প্রমাণ করে যে, ক্ষমতার লড়াইকেন্দ্রিক সমস্যার সমাধান শুধুমাত্র প্রত্যক্ষভাবে দোষীদের জবাবদিহির ওপর নির্ভর করে না, এমন মন্তব্য করেন ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে ক্ষমতাবান দলগুলোর আমূল সংস্কার ও আত্মশুদ্ধি ছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানের অভীষ্ট দূরে থাক, মুক্ত গণমাধ্যম, বাক্‌ ও ভিন্নমতের স্বাধীনতাসহ জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা ও সকল নাগরিকের সমঅধিকারের মতো মৌলিক অধিকারের অভীষ্ট অর্জন ক্রমাগত অধিকতর হুমকির সম্মুখীন হবে।’

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘কর্তৃত্বের সহিংস লড়াই বন্ধ এবং নিজ নিজ দল ও অঙ্গসংগঠনকে নিয়ন্ত্রণের মূল রাজনৈতিক দায় কি ক্ষমতাসীন বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এড়িয়ে যেতে পারে? তদন্ত কমিটি গঠন বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে লোকদেখানো দায়িত্ব শেষ না করে সহিংসতার প্রশ্রয় ও পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে হবে, অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত ও আচরণে গণতান্ত্রিক চর্চা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নিজেদের সংগঠনে এসব পরিবর্তন নিশ্চিত না করে রাজনৈতিক দলের প্রতি জনগণের আস্থা অর্জন করা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক নেতৃত্বকে উপলব্ধি করতে হবে, তারা তাদের নিজেদের দলের নেতাকর্মীদের আচরণের কারণে ক্রমাগত অধিকতর জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন।’

হামলা প্রতিরোধে প্রশাসনের ব্যর্থতাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক কর্তৃত্ব ক্ষয়ের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এ ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন একটি বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। উপাচার্য ও শিক্ষকদের পদত্যাগের দাবি, ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, দখলবাজি ও পেশিশক্তির প্রদর্শনসহ বিভিন্ন সময়ে সৃষ্ট অস্থিরতাও এই প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাকে সামনে এনেছে। শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার চাওয়া এবং শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানানোর অধিকার অবশ্যই সুরক্ষিত থাকতে হবে। উপাচার্য বা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত ও নিয়মতান্ত্রিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু পদত্যাগের দাবি আদায়ে দলীয় প্রভাব, ভয়ভীতি বা বলপ্রয়োগ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশ এমনভাবে অতিক্ষমতায়িত হবে যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায়িত্ব নিতে পারবে না এবং পুলিশও আইন প্রয়োগে ব্যর্থ হবেÑএ পরিস্থিতি চলতে দেওয়া যায় না। বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হবে আইন ও বিধি অনুযায়ী, দলীয় শক্তির দাপটে নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাল কাগজে ভোটার হতে যান যুবক, টেকনাফে ১৫ দিনের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫১ পি.এম


জাল কাগজে ভোটার হতে যান যুবক, টেকনাফে ১৫ দিনের কারাদণ্ড

কক্সবাজারের টেকনাফে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করার অপরাধে নুরুল আজিজ (২২) নামের এক যুবককে ১৫ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আতিকুর রহমান এই দণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত যুবক হোয়াইক্যং ইউনিয়নের দৈংগ্যাকাটা এলাকার মো. হাফেজের পুত্র।

উপজেলা নির্বাচন অফিসের সূত্রে জানা যায়, নুরুল আজিজ ভোটার হওয়ার জন্য আবেদনে নিজেকে দৈংগ্যাকাটা গ্রামের বাসিন্দা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বাবার নাম হিসেবে মো. রশিদ উল্লেখ করেন। তিনি নাগরিকত্ব ও চারিত্রিক সনদ এবং জন্মনিবন্ধনের কাগজপত্র জমা দেন। নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে কাগজপত্রে অসংগতি ধরা পড়লে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। যাচাই-বাছাইয়ের পর তার প্রকৃত বাবার নাম মো. হাফেজ নিশ্চিত হওয়া যায়। ফলে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে ভোটার হওয়ার চেষ্টা ধরা পড়ে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দীন আল আজাদ বলেন, ‘তিনি অন্য একজনকে বাবা পরিচয় দিয়ে নাগরিকত্ব সনদ ও জন্মনিবন্ধন তৈরি করে ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করেন। যাচাই করে জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। পরে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, ‘সনদ ও জন্মনিবন্ধন জালিয়াতির অভিযোগে তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, তিনি রোহিঙ্গা নাগরিক কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%