সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:০৬ পি.এম
নেপাল সোমবার ভয়াবহ বন্যায় নিহতদের স্মরণে জাতীয় শোক পালন করছে। গত ২৬ আগস্ট হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ, বরফ ও শিলার বিশাল অংশ ধসে পড়ার পর সৃষ্ট আকস্মিক বন্যার ১৩তম দিনে এই শোক পালন করা হচ্ছে। সর্বশেষ পুলিশি হিসাবে, দুর্যোগে ১ হাজার ৩৪২ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ৯৯২ জন।
নিখোঁজের সংখ্যা নিয়ে নেপালের সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রবিবারের হিসাবে প্রায় ৫ হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ, একই ব্যক্তির নামে থাকা একাধিক তালিকা বাদ দেওয়া এবং নতুন তথ্য যুক্ত হওয়ার কারণে সংখ্যায় পরিবর্তন হচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সোমবার সরকারি দপ্তর এবং বিদেশে নেপালের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মৃত্যুর ১৩তম দিনকে শোক ও প্রয়াতদের স্মরণের গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে গণ্য করা হয়।
দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর দীর্ঘ সুড়ঙ্গে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে জোর দেওয়া হচ্ছে। নেপালের সেনাবাহিনীর সঙ্গে ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ দলও বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করছে। মালয়েশিয়া থেকে ১১ সদস্যের একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দলও নয়টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোন নিয়ে নেপালে পৌঁছেছে।
এদিকে কয়েকটি সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনাও আশার সঞ্চার করেছে। আপার ত্রিশূলী-১ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে প্রায় ২২৫ মিটার ভেতর থেকে ১০ দিন পর চীনা নাগরিক লু হাইতাওকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এর আগের দিন আপার ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্পের আরেকটি সুড়ঙ্গ থেকে দুই নেপালি শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছিল।
নুয়াকোটের বেত্রাবতীতে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ৬৪ বছর বয়সী চান্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠাকেও জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরিবার তাকে মৃত ভেবে শোকের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছিল। পরে উদ্ধারকারীরা তাঁর ডাক শুনে প্রায় ৪৫ মিনিটের অভিযানে তাঁকে বের করে হাসপাতালে পাঠান।
বন্যায় প্রায় ৭ হাজার ৫৭০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩২ হাজার ৯৩৩। এছাড়া ৫৫ কিলোমিটার সড়ক, ৩৭টি সেতু ও ৬৮টি ঝুলন্ত সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৩টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও দুটি সঞ্চালন লাইন। এতে প্রায় ৭৮৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রভাবিত হয়েছে।
রাসুয়াসহ দুর্গত অনেক এলাকায় এখনো যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। পুরো ক্ষয়ক্ষতির চিত্র জানতে নেপাল সরকার দুর্যোগ-পরবর্তী মূল্যায়ন চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র:
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মেক্সিকোর একটি গ্রামে ধর্মীয় উৎসব চলাকালীন সময়ে আতশবাজির বিস্ফোরণের ফলে দেয়াল ধসে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৬০ জনেরও বেশি। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে মধ্য মেক্সিকোর তেমাসকালসিংগো পৌরসভার সান্তা মারিয়া কানচেসদা এলাকার দে লা লুজ গির্জার পাশে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, উৎসবটি স্থানীয় রীতি অনুযায়ী এক ধর্মীয় সন্ত (প্যাট্রন সেন্ট) এর সম্মানে আয়োজন করা হয়েছিল। আতশবাজির প্রদর্শনী দেখার জন্য সেখানে শত শত মানুষ জমায়েত হয়েছিলেন। বিস্ফোরণের ফলে দেয়াল ধসে পড়া কাঠামোর নিচে বেশ কিছু মানুষ আটকা পড়ে যান। এই দুর্ঘটনায় অনেকের প্রাণহানি ঘটে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে বিস্ফোরণের পরের দৃশ্য দেখা যায়, যেখানে ধোঁয়া ও ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে বহু মানুষ জীবিতদের সন্ধানে কাজ করছেন। পৌরসভার ডায়োসিস (ধর্মপ্রদেশ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, "যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের পরিবার ও প্রিয়জন এবং যারা আহত হয়েছেন তাদের সবার জন্য আমরা প্রার্থনায় শামিল হচ্ছি।" মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, বিস্ফোরণের কারণ এখনও জানা যায়নি এবং এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
মেক্সিকোতে অতীতে আতশবাজি সংক্রান্ত দুর্ঘটনা প্রাণঘাতী ঘটনার সৃষ্টি করেছে। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে মেক্সিকো সিটির উত্তরে তুলতেপেক শহরের একটি আতশবাজির কারখানায় বিস্ফোরণে ২৪ জন নিহত হন। এর দুই বছর আগে একই শহরের একটি বাজারে আতশবাজির আরেকটি বিস্ফোরণে ৪২ জনের প্রাণহানি ঘটে।
সূত্র: আলজাজিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে নতুনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাজুস এ তথ্য প্রকাশ করে। নতুন দাম কার্যকর হয়েছে সেদিন সকাল ১০টা থেকে। আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে নির্ধারিত দাম অনুযায়ী বিক্রি শুরু হবে স্বর্ণের।
বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম কমানোর কারণে এই দাম হ্রাস করা হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনার দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১০০ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২৪ হাজার ৫৯০ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের মূল্য ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৬৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫২২ টাকা।
বাজুস আরও জানায়, নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের মধ্যে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না। তবে গহনার নকশা ও ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি যুক্ত হবে।
এছাড়া, ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে স্বর্ণ ও রুপার গহনা বিনিময় বা বেচাকেনার ক্ষেত্রে বাজুসের পূর্বের নিয়ম বহাল থাকবে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত দেশের সকল জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্য কার্যকর থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেশার টাকা না দেওয়ায় বৃদ্ধ বাবা-মাকে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বাবার পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ছেলের নির্যাতনের ভয়ে বাড়িতে থাকতেও আতঙ্কে রয়েছেন বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের সালতা গ্রামের বৃদ্ধ দম্পতি আনোয়ার আকন ও ফাতেমা বেগম।
অভিযোগকারী পরিবারের ভাষ্য, তাদের একমাত্র ছেলে হামিদ আকন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। নেশার জন্য টাকা না দিলে প্রায়ই বাবা-মায়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান তিনি। ছেলের অত্যাচারে অসহায় হয়ে পড়েছেন বৃদ্ধ দম্পতি।
সম্প্রতি খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের কনক ফার্মেসির সামনে আনোয়ার আকনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। পরিবারের দাবি, শাহজাহান আকন, নবী হোসেন ও তাঁর ছেলে—এই তিনজন মিলে সেখানে আনোয়ারকে মারধর করেন। এতে তাঁর কোমরের হাড়ে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গৌরনদীর আশোকাঠি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বৃদ্ধ আনোয়ার আকন বলেন, “আমার ছেলে কয়েকবার নেশা করার জন্য টাকা চেয়েছে। আমি টাকা দিতে চাইনি। তাকে বলেছি, গাঁজা-মদ খেয়ে রাতে বাড়িতে ফেরো—শিক্ষিত ছেলে হয়ে এসব করা কি ঠিক? তখন আমার ছেলে বলে, বেশি কথা বললে আমার পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলবে।”
বৃদ্ধা ফাতেমা বেগম বলেন, “ছেলেকে নেশা করতে নিষেধ করায় সে আমাকে বারবার মারধর করে। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বাড়িতে থাকতে পারছি না। আমরা আইনের সহায়তা চাই।”
স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসক কনক দত্ত বলেন, “আমার দোকানের সামনেই ওই বৃদ্ধ দম্পতিকে মারধর করা হয়েছে। পরে আমরা তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দিই এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যেতে বলি।”
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, “আমার সামনেই আনোয়ার আকনকে তাঁর ছেলে মারধর করেছে। পরে আমরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাই।”
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হামিদ আকন। তাঁর দাবি, তিনি বাবা-মাকে মারধর করেননি।
এ ঘটনায় গৌরনদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী দম্পতি। গৌরনদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিখ হাসান রাসেল বলেন, “আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ছেলেকে কোলে-পিঠে করে বড় করা বাবা-মা আজ তাঁরই ভয়ে ঘরছাড়া হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে পড়েছেন—এ ঘটনায় এলাকায়ও ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, নেশার ছোবলে অসহায় হয়ে পড়া এই বৃদ্ধ দম্পতি কি শেষ পর্যন্ত আইনি সুরক্ষা পাবেন? আর কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে হামিদ কি ফিরে আসবেন স্বাভাবিক জীবনে—এখন সেটিই দেখার বিষয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা ৩০০ এর বেশি হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এই লড়াইয়ে দুই পক্ষের যোদ্ধাদের পাশাপাশি অনেক বেসামরিক নাগরিকও প্রাণ হারিয়েছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপির সামরিক ও চিকিৎসা সূত্রের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় হোদেইদা এলাকায় সংঘর্ষের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। লোহিত সাগরের উপকূল এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালির নিকটবর্তী সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোর দিকে হুথি বাহিনী বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে।
সরকারি কর্মকর্তারা এএফপিকে জানিয়েছেন, শনিবার বিকেল থেকে রোববার ভোরের মধ্যে তাদের ৮৪ জন সেনা নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, হুথিদের সামরিক সূত্র জানায়, এই সময়ের মধ্যে তাদের ৫৭ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
তীব্র লড়াইয়ের ফলে বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগও বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা ওসিএইচএ জানিয়েছে, তাইজের মাকবানাহ ও জাবাল হাবাশি এলাকায় ব্যাপক গোলাবর্ষণ এবং সংঘর্ষের কারণে প্রায় ১৭৯০টি পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ