০৯:১৬ পি.এম
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পূর্বে বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে এ সম্পর্কে কিছুই জানানো হয়নি দেশটির কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পরেও বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়নি।
এই বিষয়ে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের শ্রমকল্যাণ উইং ১৮ অক্টোবর তারিখে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে, যেখানে তথ্যটি উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে জানানো হয়েছে, ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির ভিত্তিতে দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যমে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশিত হয়।
আরও পড়ুন: ডিসেম্বরে হাসিনার ফেরার গুঞ্জন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির নাম নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তার। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সৌদি গণমাধ্যমে প্রকাশিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির অনুযায়ী, তাদের মৃত্যুদণ্ড মক্কা অঞ্চলে কার্যকর করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে মসজিদের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করা। কনস্যুলেটের চিঠিতে বলা হয়েছে, সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই দুই ব্যক্তির বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করা হয়নি।
চিঠিতে আরও জানানো হয়েছে, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন কারাগারে আটক বাংলাদেশিদের তথ্য চেয়ে জেদ্দা কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ করা হয়েছিল। ওই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ সেপ্টেম্বর একটি তালিকা পাওয়া যায়, যেখানে নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে তালিকায় তাদের শাস্তির বিষয়ে কোনো তথ্য ছিল না। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তারা সৌদি আরবের আল মাজাল নামক প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তালিকা অনুযায়ী, নজরুল ইসলামকে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে আটক করা হয়। পরদিন ব্যভিচারের অভিযোগে আটক হন সুইটি আক্তার। নজরুলকে জেদ্দা সংশোধনাগারে এবং সুইটিকে জেদ্দার নারী কারাগারে রাখা হয়েছিল। তবে তালিকায় তাদের সাজা সম্পর্কে কোনো তথ্য ছিল না বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কনস্যুলেটের চিঠিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধ কিংবা ব্যভিচারের অভিযোগে এর আগে কোনো বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নজির নেই। সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের কারাগারগুলোতে নৈতিকতাসংক্রান্ত মামলায় ৩০৬ জন বাংলাদেশি আটক রয়েছে। তাদের মধ্যে ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে সর্বনিম্ন সাজা এক মাসের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ সাজা ১৫ বছরের কারাদণ্ড।
আরও পড়ুন: সরকারের ব্যর্থতা বিরোধীদের ওপর চাপাবেন না: ডা. শফিকুর রহমান
চিঠিতে কনস্যুলেট জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির পরিবারের পক্ষ থেকে আইনগত সহায়তা চেয়ে কোনো আবেদন করা হয়নি। এমনকি এ বিষয়ে কনস্যুলেটের সঙ্গে কোনো যোগাযোগও করা হয়নি। অন্যদিকে, সৌদি কর্তৃপক্ষও তাদের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা কিংবা কার্যকরের বিষয়ে কনস্যুলেটকে কোনো তথ্য জানায়নি।
মৃত্যুদণ্ডের রায়ের অনুলিপি ও মামলার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের জন্য সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় একটি কূটনৈতিক নোট পাঠানো হয়েছে বলে চিঠিতে জানানো হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন