শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৫৯ পি.এম
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সফলতার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তিনি উল্লেখ করেন, “ঐক্যতেই শক্তি। একটি লাঠি সবাই ভেঙে ফেলতে পারে, কিন্তু দশটি লাঠি একসঙ্গে বাঁধা থাকলে তা ভাঙা কঠিন। ঠিক তেমনি আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো শক্তিই আমাদের দুর্বল করতে পারবে না।”
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর কুঁচদহ ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং দলকে আরও সুসংগঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে।
সভায় ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, শুধু মঞ্চে উপস্থিত নেতাকর্মীদের নিয়ে কাজ করলে হবে না। সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে যেতে হবে। বিশেষ করে যেসব মা-বোন এখনও দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন, তাদের আস্থা অর্জন করতে হবে। মানুষের সঙ্গে ভালোভাবে কথা বলা, আচরণ ও ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের মন জয় করতে পারলে জনগণও পাশে থাকবে।
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আরও বলেন, নিজেদের মধ্যে বিভেদ ও দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়লে জনগণের কাছে আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা কমে যাবে। তাই নিজেদের ভুল-ত্রুটি সংশোধন করে মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়াতে হবে। মানুষের বিপদের সময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে তারাও প্রয়োজনের সময়ে পাশে থাকবে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, আদিবাসী, হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান কিংবা সাঁওতাল—পরিচয় ভিন্ন হলেও আমরা সবাই মানুষ। সবার রক্তের রং একই। তাই সমাজে কোনো ধরনের ভেদাভেদ, হিংসা বা বিদ্বেষ থাকা উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, “আমরা কেন অন্যের জায়গা দখল করব কিংবা একে অপরের প্রতি হিংসা পোষণ করব? সবাইকে পারস্পরিক সম্মান, সহমর্মিতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণ এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।”
মতবিনিময় সভায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লোহিত সাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাবেল-মানদেব প্রণালির নিকটবর্তী অঞ্চলে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষে অন্তত সাতজন হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে এক শীর্ষ কমান্ডারও রয়েছেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেন সরকারের পক্ষ থেকে বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানায়, এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইয়েমেনের তথ্য উপমন্ত্রী আবদুলবাসিত আল-কায়েদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি বার্তা প্রকাশ করে জানান, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কাহবুব ফ্রন্টে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষটি সংঘটিত হয়। সংঘর্ষে হুথি বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার ফিরাক মহসিন আল-আসার এবং তাঁর সঙ্গে থাকা ছয়জন সহযোগী প্রাণ হারান।
এই ঘটনার পর হুথি কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। তবে গোষ্ঠীটির অনুসারী কর্মী ও সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের এই শীর্ষ সামরিক নেতার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে শোক প্রকাশ করেছেন। যদিও তাঁরা কখন বা কী পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
কাহবুব এলাকা পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত এবং এখান থেকে বাবেল-মানদেব প্রণালিটি স্পষ্ট দেখা যায়। আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এই পথটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে সরকারি বাহিনী ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে।
২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানাসহ বিভিন্ন এলাকা দখল করে নেওয়ার পর থেকেই ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ চলছে, যা মাঝে কিছুদিন শান্ত থাকলেও সম্প্রতি আবারও চরম আকার ধারণ করেছে।
সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের নান্দাইলে এক গৃহবধূকে তার প্রথম স্বামী শরীফ মিয়া আটক করেছেন। রুবিনা আক্তার নামের ওই গৃহবধূর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি প্রথম স্বামীকে তালাক না দিয়ে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ২টার দিকে নান্দাইল উপজেলা হাসপাতাল সংলগ্ন রিতা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে সিংরইল ইউনিয়নের উদংমধুপুর গ্রামের শরীফ মিয়ার সঙ্গে রুবিনা আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। শরীফ নরসিংদীতে বাবুর্চির চাকরি করে স্ত্রীর পড়াশোনা ও অন্যান্য খরচ বহন করতেন। পারিবারিক অশান্তির সুযোগ নিয়ে রুবিনা প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন রেখে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার প্রবাসী হাফেজ আবু হানিফকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন।
শরীফ লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে উকিল নোটিশ পাঠালেও রুবিনা তা অস্বীকার করেন। শনিবার, রুবিনা তার নতুন স্বামীকে নিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে গেলে প্রথম স্বামী শরীফ তাদের আটক করেন।
শরীফ মিয়ার অভিযোগ, “চাকরির উপার্জিত সব টাকা রুবিনাকে দিয়েছি। সে তালাক না দিয়েই গোপনে প্রতারণামূলক বিয়ে করেছে। আমি টাকা উদ্ধার ও ন্যায়বিচার চাই।”
অন্যদিকে, রুবিনা ও তার বাবা আব্দুল কাইয়ূম অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, শরীফকে কোর্ট এফিডেভিটের মাধ্যমে তালাক দেওয়া হয়েছে; কাগজ না পৌঁছানোর দায় তাদের নয়।
নান্দাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজহারুল ইসলাম জানান, আইনশৃঙ্খলার যাতে অবনতি না ঘটে, সেজন্য তাদের থানায় আনা হয়েছিল। এটি একটি পারিবারিক বিষয় হওয়ায় মেয়েকে তার বাবার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার তিতাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে সম্পর্কিত হামলার মামলায় পুলিশ তিন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি রয়েছেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে পৃথক স্থান থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন, তিতাস উপজেলা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি একেএম কামরুল হাসান তুষার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাওন মিয়া এবং আওয়ামী লীগ কর্মী আবুল হোসেন।
তিতাস থানার ওসি মো. মমিরুল হক গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, "তিনজনকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।" শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার একটি জনপ্রিয় সৈকতে হাঙরের মর্মান্তিক আক্রমণের ফলে ৬৩ বছর বয়সী সাঁতারু গ্রেগ ও'নিল (Greg O'Neill) প্রাণ হারিয়েছেন। শুক্রবার পার্থের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত সরেন্টো বিচে এই ঘটনা ঘটেছে, এবং এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এই ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ একটি অত্যন্ত বিরল পদক্ষেপ হিসেবে আক্রমণকারী গ্রেট হোয়াইট হাঙরটিকে চিহ্নিত করে মেরে ফেলার (Catch-and-kill) সরকারি নির্দেশ জারি করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার সময় দুজন ব্যক্তি সাগরে সাঁতার কাটছিলেন, কিন্তু কেবল একজনই তীরে ফিরে আসতে সক্ষম হন। স্থানীয় বাসিন্দা জ্যাকুই রাপাইচ জানান, তিনি পানির ওপর রক্তের দাগ দেখতে পান। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হাঙরটি আক্রমণ চালিয়ে ব্যক্তিটিকে পানির মধ্যে প্রচণ্ডভাবে আছাড় মারছিল। ঘটনার পরপরই প্রায় ২.৫ মিটার (৮ ফুট) দৈর্ঘ্যের একটি গ্রেট হোয়াইট হাঙরকে সেখানে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়।
নিহত গ্রেগ ও'নিলের পরিবার এক বিবৃতিতে গভীর শোক ও স্তম্ভিত প্রকাশ করে বলেছে, "গ্রেগ সমুদ্রকে অসম্ভব ভালোবাসতেন। তিনি একজন দারুণ ক্রীড়াপ্রেমী, দায়িত্বশীল ও প্রাণবন্ত মানুষ ছিলেন।"
ঘটনার পরপরই স্থানীয় সরকার রাজধানী পার্থসহ রাজ্যের একাধিক জনপ্রিয় সৈকত অন্তত রবিবার পর্যন্ত সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছে। উপকূলজুড়ে ড্রোন, বোট ও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে টহল জোরদার করা হয়েছে।
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার মৎস্যমন্ত্রী জ্যাকি জার্ভিস জানিয়েছেন, ওয়াটার পুলিশ সকালে হাঙরটিকে চিহ্নিত করার পর এই 'ব্যতিক্রমী নির্দেশ' দেওয়া হয়। গ্রেট হোয়াইট হাঙর অস্ট্রেলিয়ায় একটি সংরক্ষিত প্রজাতি হওয়ায় এই ধরনের নির্দেশ অত্যন্ত বিরল। গত এক দশকের মধ্যে এই রাজ্যে এটিই প্রথম হাঙর নিধনের সরকারি আদেশ।
চলতি সপ্তাহে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় এটি দ্বিতীয় হাঙরের আক্রমণ। এর আগে সোমবার জেরাল্ডটন উপকূলে একজন ৫৬ বছর বয়সী সার্ফার আক্রমণের শিকার হয়ে পা হারান। এ বছরজুড়ে অস্ট্রেলিয়ায় হাঙরের আক্রমণে মোট ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এই ঘটনাটি অস্ট্রেলিয়াজুড়ে সৈকত ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার বিতর্ককে আবারও উসকে দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ