ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ছয় মাসে একবারও রাজনৈতিক নিপীড়ন হয়নি : মাহদী আমিন


ছয় মাসে একবারও রাজনৈতিক নিপীড়ন হয়নি : মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, গত ছয় মাসে বাকস্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন ও মানবাধিকারে সর্বোচ্চ মানদণ্ড স্থাপন করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, এখানে একটি বারের জন্যও কখনো কোনো রাজনৈতিক নিপীড়নের ঘটনা ঘটে নি।

মাহদী আমিন আরও বলেছেন, অনেক সময় বাকস্বাধীনতা সীমালঙ্ঘন করেছে। তিনি বলেছেন, আমরা দেখেছি কীভাবে উস্কানি দেওয়া হয়েছে এবং উশোভন আচরণ করা হয়েছে। তবে, সরকারের সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সহনশীলতার মাধ্যমে -যেভাবে জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন- সেটিকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছে জনগণের সরকার।

সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে, রাজধানীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় তিনি এই বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও কৃষি উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, গত ছয় মাসে বিশেষভাবে চোখে পড়ার মতো বিষয় হলো, নির্বাচনী ইশতেহারকে ধারণ করে প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য সরকার কাজ করছে। এই ছয় মাসে সুদৃঢ় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সরকারী কার্যক্রমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি জানান, গত ছয় মাসে জনগণের দিকে থেকে সরকারকে অভূতপূর্ব জনসমর্থন দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর যেখানেই গমন হয়েছে, সেখানেই জনগণের ঢল নেমে এসেছে অজস্র গণসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে।

বর্তমান সরকার জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে ধারণ করে দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা নিয়ে এগিয়ে চলেছে।

আরও পড়ুন: কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আগামীকাল বৃষ্টি হবে কি না জানবেন কৃষকরা: প্রধানমন্ত্রী

তিনি বলেন, আজকের সরকারের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এই ফ্যাসিবাদ বিরোধী দেড় দশকের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে গুম-খুন হামলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন পেরিয়ে সব গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতৃত্বে রাজপথে ছিল। সেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় প্রতিটি শ্রেণী ও পেশার মানুষ এবং গণতন্ত্রকামী প্রতিটি রাজনৈতিক দল এক হয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছিল। এই ধারাবাহিকতায় একজন সদা-সতর্ক জনগণের আকাঙ্ক্ষা হলো একটি বাংলাদেশ গঠন করা, যেখানে মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা এবং আইনের অনুশাসন নিশ্চিত থাকবে।

আমরা ঠিক সেটিই সরকারের কার্যক্রমে দেখেছি। মাহদী আমিন বলেন, গত ছয় মাসে আমরা বাকস্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন ও মানবাধিকারে সর্বোচ্চ মানদণ্ড স্থাপন হয়েছে প্রত্যক্ষ করেছি, যেখানে একটি বারের জন্যও কোনো রাজনৈতিক নিপীড়ন হয়নি। তবে, অনেক সময় বাকস্বাধীনতা সীমালঙ্ঘন করেছে এবং আমরা দেখেছি, উস্কানি ও উশোভন আচরণ করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সহনশীলতার মাধ্যমেই -যেভাবে জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন- সেটিকে ধারণ করে জনগণের সরকার এগিয়ে চলেছে।

তিনি বলেন, আমরা দেখেছি, অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও স্বতস্ফূর্ত সংসদ যেখানে সংসদ সদস্যরা একে অপরের আলোচনা করেছেন এবং সমালোচনা করেছেন। তারা যৌক্তিকভাবে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, সরকার গঠনের পর দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন সংসদের প্রথম অধিবেশনে শতাধিক অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে, যা জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে।

আরও পড়ুন: দেশের ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৫.০৭ মেগাওয়াট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লালপুরে ইয়াবা সরবরাহকালে গ্রেপ্তার ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:১৮ পি.এম


লালপুরে ইয়াবা সরবরাহকালে গ্রেপ্তার ২

নাটোরের লালপুরে ইয়াবাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছেন ওয়ালিয়া পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। এসময়, তাদের কাছ থেকে ৭০ পিস অবৈধ ইয়াবা ট্যাবলেট, একটি মোটরসাইকেল ও দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা ১২টার সময় তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে, বলে জানিয়েছেন পুলিশ।

রবিবার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৪৫ মিনিটে লালপুর থানাধীন ওয়ালিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নি.) মো. মনোয়ার জাহানের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স কদিমচিলান থেকে চাঁদপুর বাজারগামী পুকুরপাড় ঘাটচিলান এলাকায় চেকপোস্ট পরিচালনা করে। এসময় কাচু মিস্ত্রির জমির পাশে পাকা সড়কে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন—বড়াইগ্রাম উপজেলার মাঝগ্রাম উত্তরপাড়া (বক্কুর মোড়) এলাকার মো. নাঈম খাঁ (২২) এবং গুরুদাসপুর উপজেলার কান্দাইল এলাকার মো. আতিকুর রহমান আসিফ (২০)।

পুলিশ জানায়, তাদের কাছ থেকে ৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল এবং যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মাদক নির্মূলে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে পুলিশ।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভগ্নস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে সরকার গঠন করেছি: রিজভী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:২০ পি.এম


ভগ্নস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে সরকার গঠন করেছি: রিজভী

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, ‘আমরা একটি ভগ্নস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে সরকার গঠন করেছি। চারদিকে ছিল অরাজকতা, নৈরাজ্যের এক ধূসর পরিবেশ।

কে কখন গুম হয়ে যাবে, কে কখন অদৃশ্য হবে—তার কোনো ইয়ত্তা ছিল না।’

সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে বিচারবহির্ভূত হত্যা লেগেই ছিল।

সরকারের ভিন্নমত পোষণ করলেই খাল, নদী বা পুকুর ধারে প্রতিদিন লাশ পাওয়া যেত। একজন সাবেক এমপিকে নৌকার মধ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই নৈরাজ্যের ঘন অন্ধকারের মধ্যে ব্যাপক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা ৫ আগস্টের পরিবর্তন পেয়েছি।’

অপর এক অংশে, তিনি আরো বলেন, অর্থনৈতিক দুরবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮৫০ কোটি টাকা উধাও হয়ে ফিলিপাইনের ক্যাসিনোতে চলে গেল।

সোনালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক—একটার পর একটা ব্যাংক লোপাট হয়ে গেল। মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা লুটপাট ও মেগা দুর্নীতি হয়েছে। আমরা রূপকথার যেসব গল্প শুনেছি, বিগত আমলে সেগুলোই ছিল অত্যন্ত বাস্তব ও সত্য।’

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসে সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ক্ষমতা গ্রহণের দ্বিতীয় দিন থেকেই তিনি তার কর্মযজ্ঞ শুরু করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণসহ নানাবিধ কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তিনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন অব্যাহত রেখেছেন। দুর্যোগ ও আন্তর্জাতিক নানা ঘটনাপ্রবাহ উন্নয়নের গতিতে কিছুটা বাধা সৃষ্টি করলেও সরকার তা অতিক্রম করে জনগণের স্বস্তি ও কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইসলাম খান, জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক সচিব ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কোরীয় যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক অবসানে দ:কোরিয়ার প্রস্তাবে নীরব উ:কোরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:২২ পি.এম


কোরীয় যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক অবসানে দ:কোরিয়ার প্রস্তাবে নীরব উ:কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের কোরীয় যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবে উত্তর কোরিয়া এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এই অবস্থার মধ্যে দুই দেশের সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

রবিবার দক্ষিণ কোরিয়ার সেনারা সতর্কতামূলকভাবে উত্তর কোরিয়ার কয়েকজন সেনার দিকে গুলি ছুড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু সময়ের জন্য উত্তর কোরিয়ার সেনারা দুই দেশের সীমান্তের নির্ধারিত সামরিক সীমারেখা অতিক্রম করে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবেশ করেছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী বলেছে, পূর্বাঞ্চলীয় অসামরিকীকৃত এলাকা বা ডিমিলিটারাইজড জোনে (ডিএমজেড) এই ঘটনা ঘটেছে। যখন উত্তর কোরিয়ার একাধিক সেনা নির্ধারিত সামরিক সীমারেখা পেরিয়ে দক্ষিণের দিকে এগিয়ে যায়, তখন দক্ষিণ কোরিয়ার সেনারা সতর্কবার্তা দেয় এবং পরবর্তীতে সতর্কতামূলকভাবে গুলি ছোঁড়ে।

গুলির শব্দ ও সতর্কবার্তা শুনে উত্তর কোরিয়ার সেনারা দ্রুত সীমারেখার পাশে ফিরে যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক কর্মকর্তাদের ধারণা, ওই সেনারা নিয়মিত টহল দিচ্ছিলেন। চলতি বছরে সামরিক সীমারেখা অতিক্রম করে গুলি চালানোর এটিই প্রথম ঘটনা। এর আগে ২০২৫ সালে সীমান্ত এলাকায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির সময়ও উত্তর কোরিয়ার সেনারা সামান্য সময়ের জন্য সামরিক সীমারেখা অতিক্রম করেছিলেন।

সীমান্তে এই সামরিক উত্তেজনার পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন শান্তি প্রস্তাবে উত্তর কোরিয়া নীরব অবস্থানে রয়েছে। শনিবার, জাপানের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে কোরিয়ার মুক্তির ৮১তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং দুই কোরিয়ার মধ্যে আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেছেন, ১৯৫৩ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরিবর্তে একটি স্থায়ী শান্তি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি, লি উত্তরের সঙ্গে দক্ষিণের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্যেও গুরুত্ব দেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দুই কোরিয়া ‘শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও পারস্পরিক উন্নতির’ জন্য মুখোমুখি হতে পারবে। তবে রবিবার সকাল পর্যন্ত, উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলো এই বক্তব্যের বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন বা প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে দেখা যায়নি। দেশের মূল সরকারি সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি ও রোদং সিনমুনে এ বিষয়ে কিছুই হয়নি।

ইয়োনহাপের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব সংবাদমাধ্যমে জাপানের মুক্তির বার্ষিকী উপলক্ষে উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ অনেক আয়োজনের খবরের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাবেক নেতা কিম ইল সুং ও কিম জং ইলের স্মৃতিসৌধে আনুগত্য প্রকাশের খবরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধ কোনো আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তির মাধ্যমে শেষ হয়নি। যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে ১৯৫৩ সালে যুদ্ধ থামানো হয়। ফলে, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া এখনো যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। দুই দেশকে পৃথক করে রেখেছে ২৫০ কিমি দীর্ঘ কঠোরভাবে সুরক্ষিত সীমান্ত। এটি বিশ্বের অন্যতম সামরিকীকৃত সীমান্ত হিসেবে পরিচিত।

দীর্ঘ সময় ধরে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়ে বাধা হয়ে রয়েছে সীমান্তের সামরিক উত্তেজনা, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া। কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক প্রস্তুতি বৃদ্ধি পাওয়ার সময়, সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পিয়ংইয়ং নিয়মিতভাবে এই যৌথ মহড়ার বিরুদ্ধে আপত্তি জানায়। উত্তর কোরিয়ার দাবি, এসব মহড়া তাদের মোকাবেলায় সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির লক্ষণ। অপর দিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছেন, এসব মহড়া তাদের প্রতিরক্ষামূলক ক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্যই পরিচালিত হয়।

উত্তর কোরিয়া নিয়মিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের কিছু পরমাণবিক অস্ত্র বহনের সক্ষমতা আছে। সিউল ও টোকিও এসব ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাকে উত্তর কোরিয়ার শক্তি প্রদর্শন ও ভয় দেখানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

২০২২ সালে, উত্তর কোরিয়া নিজেকে একটি পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেছে। সেই সঙ্গে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে নিজেদের পারমাণবিক ও সামরিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মুক্তির বার্ষিকী উপলক্ষে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কও আরো দৃঢ় করছে উত্তর কোরিয়া। শনিবার, রাশিয়ার ‘পাল্লাদা’ জাহাজ বন্ধুত্বপূর্ণ সফরে উত্তর কোরিয়ার ওনসান বন্দরে পৌঁছেছে।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার করেছেন। মুক্তির বার্ষিকী উপলক্ষে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে তিনি একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী রবিবার চ্যানেল নিউজ এশিয়া এই তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সমর্থন দিতে উত্তর কোরিয়া সেনা ও অস্ত্র পাঠানো শুরু করার পর পিয়ংইয়ং ও মস্কোর সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ১৯৫০-এর দশকের কোরীয় যুদ্ধের পর কোনও বিদেশি যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার এই সামরিক অংশগ্রহণকে সবচেয়ে বড় মনে করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রফতানি বাড়াতে মাছ উৎপাদনে মান নিশ্চিতের আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:২৫ পি.এম


রফতানি বাড়াতে মাছ উৎপাদনে মান নিশ্চিতের আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, বিশ্বে এখন খাদ্যের অভাবের চেয়ে নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্যের চাহিদাই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশেও নিরাপদ ও গুণগত মানসম্পন্ন মাছ উৎপাদন নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য মৎস্য উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায়ে মান নিয়ন্ত্রণ ও নির্ধারিত মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করে রফতানি বাড়াতে হবে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) আয়োজিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে 'স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে মৎস্যসম্পদ: বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ করণীয়' শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘মাছ বর্তমানে কী সমস্যায় আছে, আগামী দিনে কী সম্ভাবনা রয়েছে, মানুষের চাহিদা ও আন্তর্জাতিক বাজারে মানসম্মত মাছের চাহিদা-এসব বিষয়কে সামনে রেখে আমাদের করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করতে পারলে দ্রুত এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।’

মন্ত্রী আরও বলেন, মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে হলে মাছের জন্য পর্যাপ্ত অভয়াশ্রম নিশ্চিত করতে হবে। সরকার এরই মধ্যে এ বিষয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে এবং মাছ সংরক্ষণে কাজ শুরু করেছে। কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ও সার ব্যবহারসহ বিভিন্ন পরিবেশগত চাপ মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন ও প্রজননকে বাধাগ্রস্ত করছে। এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পরিবেশসম্মত ও আধুনিক উৎপাদন পদ্ধতির দিকে যেতে হবে। সীমিত জায়গায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অধিক মাছ উৎপাদনের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের মৎস্যপণ্যের সম্ভাবনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের মিঠাপানির মাছের বড় বাজার রয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করছেন। তাদের চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে রফতানি বাড়ানো সম্ভব। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে হলে শুধু বাংলাদেশিরা যে মাছ খায় তা নয়, যে দেশে মাছ রফতানি করা হবে সে দেশের মানুষের পছন্দ ও চাহিদা অনুযায়ী মাছ উৎপাদনের দিকে নজর দিতে হবে।

চিংড়ি, কাঁকড়া, কুচিয়া সহ অন্যান্য জলজ প্রাণীর রফতানি সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ক্ষেত্রে উৎপাদনের পাশাপাশি পোনা ও প্রজনন ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে পোনা উৎপাদন ও লালন-পালন করা গেলে এ খাতে উৎপাদন ও রফতানি বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব।

মৎস্য উৎপাদনে গুণগত মান, নিরাপদ খাদ্য, পরিবেশ সুরক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদার মধ্যে সমন্বয় ঘটানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী, গবেষক ও পেশাজীবীদের কার্যকর পরামর্শ সরকারকে সহযোগিতা করবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, মাছের উৎপাদন বাড়াতে হলে মাছের বেড়ে ওঠা ও প্রজননের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। নদী-নালা দখল, নাব্যতা সংকট ও শিল্পকারখানার বর্জ্যে পানিদূষণের কারণে মাছের স্বাভাবিক বিচরণ ও প্রজননক্ষেত্র বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মাছের আবাসস্থল ফিরিয়ে আনতে নদী ও খালের নাব্যতা বজায় রাখা এবং নদীর সঙ্গে খালের সংযোগ পুনঃস্থাপন জরুরি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা ও খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আবার খাল ও নদী পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় খননকাজ হয়েছে। প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী পুনঃখননের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মাছের প্রজনন ও বিচরণের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হবে।

মাছ চাষে অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অপ্রয়নীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে একদিকে খামারিরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে খাদ্যনিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছে। এ বিষয়ে খামারিদের সচেতন করতে জেলাভিত্তিক সেমিনার ও কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%