০১:২২ পি.এম
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের কোরীয় যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবে উত্তর কোরিয়া এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এই অবস্থার মধ্যে দুই দেশের সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
রবিবার দক্ষিণ কোরিয়ার সেনারা সতর্কতামূলকভাবে উত্তর কোরিয়ার কয়েকজন সেনার দিকে গুলি ছুড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু সময়ের জন্য উত্তর কোরিয়ার সেনারা দুই দেশের সীমান্তের নির্ধারিত সামরিক সীমারেখা অতিক্রম করে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবেশ করেছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী বলেছে, পূর্বাঞ্চলীয় অসামরিকীকৃত এলাকা বা ডিমিলিটারাইজড জোনে (ডিএমজেড) এই ঘটনা ঘটেছে। যখন উত্তর কোরিয়ার একাধিক সেনা নির্ধারিত সামরিক সীমারেখা পেরিয়ে দক্ষিণের দিকে এগিয়ে যায়, তখন দক্ষিণ কোরিয়ার সেনারা সতর্কবার্তা দেয় এবং পরবর্তীতে সতর্কতামূলকভাবে গুলি ছোঁড়ে।
গুলির শব্দ ও সতর্কবার্তা শুনে উত্তর কোরিয়ার সেনারা দ্রুত সীমারেখার পাশে ফিরে যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক কর্মকর্তাদের ধারণা, ওই সেনারা নিয়মিত টহল দিচ্ছিলেন। চলতি বছরে সামরিক সীমারেখা অতিক্রম করে গুলি চালানোর এটিই প্রথম ঘটনা। এর আগে ২০২৫ সালে সীমান্ত এলাকায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির সময়ও উত্তর কোরিয়ার সেনারা সামান্য সময়ের জন্য সামরিক সীমারেখা অতিক্রম করেছিলেন।
আরও পড়ুন: ভারতের একক বৃহত্তম তেল শোধনাগার পরিদর্শনে রুবিও, কিন্তু কেন?
সীমান্তে এই সামরিক উত্তেজনার পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন শান্তি প্রস্তাবে উত্তর কোরিয়া নীরব অবস্থানে রয়েছে। শনিবার, জাপানের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে কোরিয়ার মুক্তির ৮১তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং দুই কোরিয়ার মধ্যে আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেছেন, ১৯৫৩ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরিবর্তে একটি স্থায়ী শান্তি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি, লি উত্তরের সঙ্গে দক্ষিণের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্যেও গুরুত্ব দেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দুই কোরিয়া ‘শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও পারস্পরিক উন্নতির’ জন্য মুখোমুখি হতে পারবে। তবে রবিবার সকাল পর্যন্ত, উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলো এই বক্তব্যের বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন বা প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে দেখা যায়নি। দেশের মূল সরকারি সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি ও রোদং সিনমুনে এ বিষয়ে কিছুই হয়নি।
ইয়োনহাপের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব সংবাদমাধ্যমে জাপানের মুক্তির বার্ষিকী উপলক্ষে উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ অনেক আয়োজনের খবরের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাবেক নেতা কিম ইল সুং ও কিম জং ইলের স্মৃতিসৌধে আনুগত্য প্রকাশের খবরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধ কোনো আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তির মাধ্যমে শেষ হয়নি। যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে ১৯৫৩ সালে যুদ্ধ থামানো হয়। ফলে, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া এখনো যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। দুই দেশকে পৃথক করে রেখেছে ২৫০ কিমি দীর্ঘ কঠোরভাবে সুরক্ষিত সীমান্ত। এটি বিশ্বের অন্যতম সামরিকীকৃত সীমান্ত হিসেবে পরিচিত।
দীর্ঘ সময় ধরে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়ে বাধা হয়ে রয়েছে সীমান্তের সামরিক উত্তেজনা, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া। কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক প্রস্তুতি বৃদ্ধি পাওয়ার সময়, সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পিয়ংইয়ং নিয়মিতভাবে এই যৌথ মহড়ার বিরুদ্ধে আপত্তি জানায়। উত্তর কোরিয়ার দাবি, এসব মহড়া তাদের মোকাবেলায় সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির লক্ষণ। অপর দিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছেন, এসব মহড়া তাদের প্রতিরক্ষামূলক ক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্যই পরিচালিত হয়।
আরও পড়ুন: থাইল্যান্ডের ই-ভিসার আবেদন ৩ দিন বন্ধ, জানা গেল কারণ
উত্তর কোরিয়া নিয়মিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের কিছু পরমাণবিক অস্ত্র বহনের সক্ষমতা আছে। সিউল ও টোকিও এসব ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাকে উত্তর কোরিয়ার শক্তি প্রদর্শন ও ভয় দেখানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
২০২২ সালে, উত্তর কোরিয়া নিজেকে একটি পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেছে। সেই সঙ্গে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে নিজেদের পারমাণবিক ও সামরিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মুক্তির বার্ষিকী উপলক্ষে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কও আরো দৃঢ় করছে উত্তর কোরিয়া। শনিবার, রাশিয়ার ‘পাল্লাদা’ জাহাজ বন্ধুত্বপূর্ণ সফরে উত্তর কোরিয়ার ওনসান বন্দরে পৌঁছেছে।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার করেছেন। মুক্তির বার্ষিকী উপলক্ষে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে তিনি একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী রবিবার চ্যানেল নিউজ এশিয়া এই তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সমর্থন দিতে উত্তর কোরিয়া সেনা ও অস্ত্র পাঠানো শুরু করার পর পিয়ংইয়ং ও মস্কোর সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ১৯৫০-এর দশকের কোরীয় যুদ্ধের পর কোনও বিদেশি যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার এই সামরিক অংশগ্রহণকে সবচেয়ে বড় মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: সাত মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল চীনের তিব্বত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন